
নিখিল সচানের হিন্দি কবিতার অনুবাদ
ওদের ভয় পেত না, শুধু মুসলমানদের ভয় পেত আমার এক বন্ধু প্রায়ই বলত বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বলতেই ভাল লাগে বলত, কখনও একা গেছ কোনও মুসলমান

ওদের ভয় পেত না, শুধু মুসলমানদের ভয় পেত আমার এক বন্ধু প্রায়ই বলত বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বলতেই ভাল লাগে বলত, কখনও একা গেছ কোনও মুসলমান

ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩। গ্রাম ছেড়ে খুব সহজেই শহরে পাড়ি দিতে পেরেছে যে বস্তুটি, তা হল তালপাটালি। এবং তালমিছরি। যতই ঝগড়া থাকুক সই দেখে নেবার সতর্কবার্তা কিংবা সই দেখে প্রতারিত না হবার সাবধানবাণী, এই তালমিছরিই সম্ভবত বলবার মতো তালের একমাত্র শহুরে প্রতিনিধি। লিখেছেন স্বপন নাগ।

India’s First Bengali Daily Magazine. অনেকেই জানেন বারাকপুর লাগোয়া একটি রেলস্টেশনের নাম পলতা। কিন্তু ফলতা? সেটি কী? বেশ, ফলতার কথা বাদ দিলাম, দমদম ক্যান্টনমেন্টে একটি অঞ্চলের নাম নলতা, তার মানে? এইসব গলতাগুলোর লুকনো গল্পগুলি বোধকরি চিরদিনই অশ্রুত থেকে যাবে। দমদম বলতেই প্রশ্ন জাগল, কী মানে দমদম কিংবা বজবজ নামদুটির? অর্থহীন হোক, তবু মানা যায়, এই পশ্চিমবঙ্গেই কিছু জায়গা আছে যেগুলোর নাম নিয়ে সংকুচিত থাকে সেখানকার বাসিন্দারা।

India’s First Bengali Daily Magazine. বাঙালির পদবিতে বৈচিত্র্যের অভাব নেই। সেখানে নাগ আছে, হাতি আছে, সিংহও আছে। পাখি আছে, শুনিনি; তবে পাখিরা কিন্তু আছে। মেটো-পেটো-খেটো যেমন আছে, ধর-বর-কর-হর-সর-ভড়ও বড় একটা কম নেই। এমনকি সামন্ত-সেনাপতিরাও হাজির। দাঁ-খাঁ-তা-দে-শী তবলার তালসম একাক্ষরী বাঙালি পদবিরও ঘাটতি নেই। একদিকে বাইন-গাইন-পাইন তো অন্যদিকে রাহা-লাহা-সাহা-নাহা… আহা! কত বাহারি পদবির ছড়াছড়ি!

India’s First Bengali Story Portal. বাবা, অত দূরে আমার বিয়ে দিয়ো না—/ আমার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে/ ঘরের ছাগলই না বেচে দিতে হয়!/ সে দেশেও বিয়ে দিয়ো না আমার/ যেখানে মানুষেরও আগে থাকে ঈশ্বর,/ জঙ্গল নেই নদী নেই পাহাড় নেই/ তেমন জায়গায় আমার বিয়ে ঠিক কোরো না।/ যেখানে রাস্তায় মোটরগাড়ি ছোটে/ মনের গতির চেয়েও দ্রুত/ সেখানে তো একেবারেই নয়!

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

মনু-পরাশর-বৃহস্পতি-কৌটিল্যদের অনুশাসন এসে নারী প্রগতির রাশ টেনে ধরল। নারীর শিক্ষালাভের ইতি ঘটল, অন্তঃপুরে বাস নির্দিষ্ট হল তাঁর জন্য। তাঁকে বাঁধা হল একের পর এক অনুশাসনে। বলা হল, স্বাধীনতা বলে কোনও পদার্থ থাকবে না তাঁর, ‘ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি’! কুমারী অবস্থায় পিতা-মাতার অধীন থাকবে সে, বিয়ের পর স্বামীর, বার্ধক্যে সন্তানের। ধাপে ধাপে তাঁর ওপর চাপানো হতে লাগল কঠিন, কঠিনতর, কঠিনতম শাস্তি।