Search
Generic filters
Search
Generic filters
পলাশ মণ্ডল

পলাশ মণ্ডল

পলাশ মণ্ডল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের স্নাতক। বিজ্ঞানের পাশাপাশি সাহিত্য এবং ইতিহাসেও সমান উৎসাহী তিনি। প্রধানত জীবনী, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি ও কবিতা লিখে থাকেন। প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘The Songs of Science', ‘মহাজীবনের স্মৃতিকথা', ‘চাতরার জনসভায় সুভাষচন্দ্র বসু’ এবং ‘আমার লেখা প্রবন্ধ’।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

অ্যাভন: বহিয়া চলেছে আগের মতন

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, ১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ পর্যন্ত শেকসপিয়রের জীবনযাপনের কোনও হদিশ মেলে না। কোনও রেকর্ডও নেই ওই সাত বছরের। এই দীর্ঘ কালপর্বের সবটাই অনুমান-নির্ভর। তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কেউ মনে করেন ওই সময় শেকসপিয়র বিশ্বভ্রমণ করেছেন, কেউ মনে করেন শিক্ষকতা করেছেন, কেউ মনে করেন আইন নিয়ে পড়েছেন, আবার কেউ মনে করেন তিনি একটি অভিনেতৃ সংঘে যোগ দিয়েছিলেন।

Read More »

আচার্য প্রমথনাথ বসু: ভারতে শিল্পবিকাশের ভগীরথ

তিনি ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং ব্রহ্মদেশ বা বর্তমান মায়ানমারেও বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ আবিষ্কার করেছিলেন। আজ আমরা ঝাড়খণ্ডের জামসেদপুরে যে ‘টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি’ দেখতে পাই, তা তাঁরই আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। মধ্যপ্রদেশের ভিলাই, ওড়িশার রৌরকেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরের কারখানাগুলিতে আজ যে কাঁচামাল আমদানি হয়, তাও তাঁর আবিষ্কৃত লৌহের আকরগুলি থেকেই প্রাপ্ত। সেদিনের ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ যা বর্তমানের ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পরিচিত, তারও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, প্রথম অধ্যক্ষ এবং পরিদর্শক ছিলেন প্রমথনাথ।

Read More »

সুনীতিকুমার: ভাষার নাড়িনক্ষত্র ছিল তাঁর নখদর্পণে

বিদ্যাচর্চাই ছিল তাঁর জীবনচর্যা। ভাষা-বিষয়ক তাঁর অন্তত ৯০০টি কাজের খোঁজ পেয়েছেন গবেষকরা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রদত্ত ‘ভাষাচার্য’ উপাধিটি তাঁর নামের সঙ্গেই সুপ্রযুক্ত। সুনীতিকুমার সারা পৃথিবী পরিভ্রমণ করেছেন, এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত অসংখ্য ভাষাতত্ত্ব সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন ভারতের সাংস্কৃতিক দূত। সারা জীবনে তিনি এত বেশি লিখেছেন, যা কার্যত মুখে বলে শেষ করা যায় না।

Read More »

হরিনাথ দে: ৩৪টি ভাষায় সুপণ্ডিত বেঁচেছিলেন মাত্র চৌত্রিশ বছর

স্বল্পায়ু জীবনে হরিনাথ দে ১৮টি ভাষায় এমএ পাশ করেছিলেন এবং ৩৪টি ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন। এরকম বিস্ময়কর প্রতিভা পৃথিবীর ইতিহাসে আর কেউ আছেন বলে জানা নেই। অথচ তিনি আজ বিস্মৃতির অতল গর্ভে তলিয়ে গিয়েছেন। বাঙালি সমাজ, ভারতীয় সমাজ এবং পৃথিবীর মানবসমাজ তাঁকে আজ একেবারেই ভুলে গিয়েছে। তাই তো তাঁর নামে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তাঁর মূর্তিও কোথাও চোখে পড়ে না।

Read More »

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: ভারতভাগ্যবিধাতা

সভাপতি হিসাবে সুভাষচন্দ্র বসু সর্বদা গান্ধিজি এবং তাঁর অনুগত কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছিলেন। তাই বলে তিনি তাঁর নিজের লক্ষ্য থেকে কখনও বিচ্যুত ছিলেন না। সেই লক্ষ্য হল, আসন্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সুযোগে ব্রিটিশ সরকারকে ছয় মাসের চরমপত্র দেওয়া, এবং ব্রিটিশ সরকার সেটি প্রত্যাখ্যান করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড আন্দোলন শুরু করা। সংগ্রামের মাধ্যমে ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য। তিনি ভারতের জাতীয় কংগ্রেসকেও এই নীতি গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু গান্ধিজি এবং তাঁর অনুগত দক্ষিণপন্থী কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ এই নীতির বিপক্ষে ছিলেন।

Read More »

চাতরায় নেতাজি: সংবাদ শীর্ষক, ‘অহিংস সংগ্রামে আত্মনিয়োগের আহ্বান’

সুভাষচন্দ্রের চাতরার জনসভা সম্পর্কে আনন্দবাজার পত্রিকার সংবাদ শীর্ষক ছিল: ‘বিদেশির কৃপায় স্বরাজ আসিবে না’, ‘ভারতব্যাপী সংগ্রামের মধ্য দিয়া স্বরাজ অর্জন করিতে হইবে’, ‘দেশের বর্তমান দুরবস্থা ও প্রতিকার-উপায় সম্পর্কে সুভাষচন্দ্র’, ‘চাতরায় সংবর্ধনা-সভায় বক্তৃতা’, এবং ‘অহিংস সংগ্রামে আত্মনিয়োগের আহ্বান’। বসুমতী পত্রিকার শিরোনাম ছিল: ‘পঁয়ত্রিশ কোটি নরনারীর সংগ্রামেই ভারতবর্ষ স্বাধীন হইবে’, ‘দক্ষিণ চাতরা কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে সুভাষচন্দ্রের সংবর্ধনা’, এবং ‘সংবর্ধনার উত্তরে শ্রীযুত সুভাষচন্দ্র বসুর বক্তৃতা’।

Read More »

চাতরায় নেতাজি: ‘হিন্দু-মুসলমান ভ্রাতৃবৃন্দ’ সম্ভাষণেই মোহিত জনতা

এক বছর আগে, ১৯৩৯ সালে তিনি কংগ্রেস সভাপতির পদ ত্যাগ করেছেন। এমন ঐতিহাসিক পটভূমিকায় সুভাষচন্দ্র বসুর চাতরায় আগমন। ইতিহাসের নায়ক যেন ইতিহাসের এক যুগ-সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। স্থান, দক্ষিণ চাতরা হাইস্কুলের সামনের মাঠ। বিপুল জয়ধ্বনির মধ্যে সুভাষচন্দ্র ভাষণ দিতে উঠলেন। শুরু করলেন ‘হিন্দু-মুসলমান ভ্রাতৃবৃন্দ’ সম্বোধন দিয়ে। সম্ভাষণেই মন্ত্রমুগ্ধের মত উৎকর্ণ হল উপস্থিত দশ হাজার জনতা।

Read More »

চাতরায় নেতাজি: সমস্বরে ‘ইনক্লাব জিন্দাবাদ’, ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি

ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটাতে সশস্ত্র সংগ্রামের লক্ষ্যে মহানিষ্ক্রমণের কয়েক মাস আগে নেতাজি ২৪ পরগনার এক অখ্যাত পল্লি, চাতরাতে উপস্থিত হয়েছিলেন, সংবর্ধিত হয়েছিলেন, এবং দৃপ্ত ভাষণে জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তাঁর সেই উপস্থিতি ও প্রদত্ত ভাষণ আজও অনেকের কাছে অজানা। দেশ স্বাধীন হওয়ার সাত বছর আগের এই প্রায় অপরিচিত, অথচ মূল্যবান স্থানীয় ইতিবৃত্তের ওপরে আলোকপাত করেছেন পলাশ মণ্ডল।

Read More »

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »

রুহের কবিতাগুচ্ছ

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

Read More »

যুদ্ধ: বৈশ্বিক কসাইখানা, পুঁজির সংকট ও শ্রমের মুক্তি

অবিক্রীত পণ্যের পাহাড় যখন পুঁজির পুনরুৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন পুঁজিপতিরা তীব্র আতঙ্কে ভোগে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রতিযোগী পুঁজিপতির বাজার ও পণ্য ধ্বংস করতে চায়। আর এই ধ্বংসের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে তারা রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। অর্থাৎ, উদ্বৃত্ত পণ্য এবং অতিরিক্ত শ্রমকে ধ্বংস করে পুঁজির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই বুর্জোয়া যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। এই শোষণের প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে রাষ্ট্র একদল বুদ্ধিজীবী ও নীতিবিদ লালন করে, যারা কৃত্রিম ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’-এর আফিম খাইয়ে শ্রমিককে বিভ্রান্ত রাখে, যাতে তারা শোষক ও শোষিতের মধ্যকার মৌলিক শ্রেণি-পার্থক্য ভুলে যায়।

Read More »

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »

ধর্মযুদ্ধ

এই যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শতমুখে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, এই যে ফেসবুক জুড়ে বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে সম্মানীয় নেতা-মন্ত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, হিংসার প্রদর্শনী— এর প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে তাঁরা কি জানেন? পাড়ায় পাড়ায়, রকের আড্ডায়, ক্লাবের আড্ডায়— সর্বত্র বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্বোধ অসংযত উচ্চারণ কোন শিশুর হৃদয়ে কেমন ভাবে প্রোথিত হয় তাঁরা কি জানেন? ভেবে দেখেছেন কি এই বিদ্বেষিতার মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আগামী প্রজন্ম?

Read More »