Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

চাতরায় নেতাজি: সংবাদ শীর্ষক, ‘অহিংস সংগ্রামে আত্মনিয়োগের আহ্বান’

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য ঋত্বিক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তিনিই একমাত্র নেতা, যিনি ভারতের সকল সম্প্রদায়, সকল প্রদেশ, সামরিক বাহিনী ও অসামরিক জনগণের উপরে সমান সম্মোহনী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশকে তিনি প্রকৃত অর্থে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। ভিনদেশে গিয়ে তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ গড়ে তোলার কাহিনি, সেই সাংগঠনিক ইতিবৃত্ত প্রায় অবিশ্বাস্য। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে পদচারণার পাশাপাশি দেশের দূর প্রান্তে, প্রত্যন্তেও একদিন পদচিহ্ন পড়েছিল তাঁর। ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটাতে সশস্ত্র সংগ্রামের লক্ষ্যে মহানিষ্ক্রমণের কয়েক মাস আগে নেতাজি ২৪ পরগনার এক অখ্যাত পল্লি, চাতরাতে উপস্থিত হয়েছিলেন, সংবর্ধিত হয়েছিলেন, এবং দৃপ্ত ভাষণে জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তাঁর সেই উপস্থিতি ও প্রদত্ত ভাষণ আজও অনেকের কাছে অজানা। দেশ স্বাধীন হওয়ার সাত বছর আগের এই প্রায় অপরিচিত, অথচ মূল্যবান স্থানীয় ইতিবৃত্তের ওপরে আলোকপাত করেছেন পলাশ মণ্ডল।

তৃতীয় পর্ব

সুভাষচন্দ্র বসুর চাতরার জনসভা সম্পর্কিত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনগুলি ছিল খুবই আকর্ষণীয়। প্রতিবেদনগুলির ‘হেডিং’ বা শিরোনামগুলিও কম আকর্ষণীয় ছিল না। এই সময়ের দৈনিক পত্রিকাগুলিতে আমরা একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। সেটি হল, গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের ক্ষেত্রে একাধিক হেডিং বা শিরোনামের ব্যবহার।

সুভাষচন্দ্রের চাতরার জনসভা সম্পর্কে আনন্দবাজার পত্রিকার সংবাদ শীর্ষক ছিল: ‘বিদেশির কৃপায় স্বরাজ আসিবে না’, ‘ভারতব্যাপী সংগ্রামের মধ্য দিয়া স্বরাজ অর্জন করিতে হইবে’, ‘দেশের বর্তমান দুরবস্থা ও প্রতিকার-উপায় সম্পর্কে সুভাষচন্দ্র’, ‘চাতরায় সংবর্ধনা-সভায় বক্তৃতা’, এবং ‘অহিংস সংগ্রামে আত্মনিয়োগের আহ্বান’। বসুমতী পত্রিকার শিরোনাম ছিল: ‘পঁয়ত্রিশ কোটি নরনারীর সংগ্রামেই ভারতবর্ষ স্বাধীন হইবে’, ‘দক্ষিণ চাতরা কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে সুভাষচন্দ্রের সংবর্ধনা’, এবং ‘সংবর্ধনার উত্তরে শ্রীযুত সুভাষচন্দ্র বসুর বক্তৃতা’। আর Hindustan Standard পত্রিকার headline ছিল: ‘Poverty In Land Of Milk and Honey’, ‘Sj. Bose Narrates Causes Of Economic Degeneration’, ‘United Movement For Swaraj: Urged’, এবং ‘Address At Huge Public Gathering At Chhatra’।

এর আগে Hindustan Standard পত্রিকায় আমরা সুভাষচন্দ্র বসুর চাতরার বক্তৃতার কিছু অংশ পড়েছি। এবার Hindustan Standard পত্রিকা থেকে সুভাষচন্দ্র বসুর চাতরার বক্তৃতার আরও কিছু অংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

Hindustan Standard পত্রিকায় প্রকাশিত সুভাষচন্দ্র বসুর বক্তৃতা—

If they thought that the poverty of the people of a country could be removed by providing the people with jobs in Government offices or mercantile firms, then they were gravely mistaken. Poverty of the people of a country could never be removed by such means. Then, why were they quarrelling over the service ratio question? How many people did they think could be absorbed in state services? No nation in the world had ever become great by devoting all its energy and attention to securing some jobs in state service. The inordinate hankering after jobs in Government offices and mercantile firms had reduced the Bengali Hindus to their present position. The speaker had always tried to emphasise that they had got to get rid of this mentality of running after jobs in Government offices and mercantile firms if they really wanted to bring about an improvement in the economic condition of the people. If they were serious about improving the economic and financial condition of the people, they must take to trade and commerce.

If, however, in spite of all this, their Mahommedan countrymen still wanted to have some of the jobs in the Government offices, why should the Hindus object to it? Their Mahommedan countrymen had been up till now educationally backward. If to-day with the progress of education in that community, the Mahommedans wanted some of the appointments in the Government services, the Hindus should not object to it. But the speaker would like to tell his Mahommedan countrymen that they would never hope to improve the economic condition of their community or of the country as a whole by running after jobs in Government offices and mercantile firms.

Only Remedy In Swaraj

Proceeding Sj. Bose said that the only way in which they could hope to remove the poverty of the people of this country was by achieving Swaraj. The struggle carried on for the last fifty years by the Indian National Congress for the attainment of Swaraj had now made many people realise the true significance of Swaraj. Swaraj meant the people’s Raj; Swaraj meant the establishment of a Raj in which all sections of the people, irrespective of caste, creed on community, would have equal rights and opportunities.

… Sj. Bose remarked, India would be able to win Swaraj.

Proceeding Sj. Bose said that they had no differences with the Congress Working Committee or Mahatma Gandhi. The only point on which difference of opinion existed between them and the Congress Working Committee and Mahatma Gandhi was that people of the speaker’s way of thinking advocated the immediate launching of a nation-wide struggle for winning Swaraj for India. Sj. Bose said that they had already started a struggle and he thought that this struggle should be converted into a nation-wide struggle for the attainment of Swaraj for India.

চাতরার ঐতিহাসিক জনসভায় হাজার হাজার মানুষ সুভাষচন্দ্র বসুকে দেখতে এসেছিলেন। হাজার হাজার মানুষ এসেছিলেন সেই মহামানবের মধুর কণ্ঠস্বর শুনতে। সেইসব সৌভাগ্যবান মানুষদের আজ আর খুব বেশি পাওয়া যায় না। তাঁদের অনেকেই চিরতরে হারিয়ে গিয়েছেন। এক-আধজনকে পাওয়া গেলেও তাঁদের কাছ থেকে খুব বেশি ঐতিহাসিক তথ্য আহরণ করা যায় না। বই এবং পত্রপত্রিকাতেও প্রত্যক্ষদর্শী মানুষদের স্মৃতিচারণামূলক লেখা আজকের দিনে সত্যিই দুর্লভ। তবুও কালের প্রাচীর পেরিয়ে যে এক-আধটি লেখা আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে, তার থেকে কিছু কিছু অংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

অধ্যাপক সন্তোষকুমার ঘোষের লেখা ‘প্রাক্-স্বাধীনতাকালে একটু প্রবোধ-দা প্রসঙ্গ’ প্রবন্ধে চাতরায় সুভাষচন্দ্র বসুর সংবর্ধনা-সভার একটি চিত্র পাওয়া যায়। সেই ছবিটিতে আমরা দেখতে পাই—

‘সুভাষচন্দ্র বসু চাতরার মদনাতলার হাটখোলায় ১৯৪০ সালে যে শেষ জনসভা করেন, প্রবোধ-দা তখন সাধারণ কর্মী থেকে কংগ্রেসের জেলা-স্তরের স্থানীয় নেতা। চাতরার ওই জনসভায় আমি ছিলাম। প্রবোধ-দাকে সুভাষচন্দ্র বসুর পাশে কর্তৃস্থানীয় নেতার মতো মঞ্চে বসতে দেখেছিলাম। চাতরার হরেন্দ্রনাথ রায়, পূর্ণচন্দ্র রায়, প্রবোধচন্দ্র মিশ্র প্রভৃতিরাও মঞ্চে ছিলেন, পরে তাঁদের নাম জেনেছিলাম ও চিনেছিলাম। সুভাষচন্দ্র তখন কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত হলেও এইসব অনুগামীরা তাঁর প্রভাব ও ব্যক্তিত্বের আকর্ষণ থেকে মুক্ত হতে পারেননি। রাজ্যে তখন দুটি সমান্তরাল কংগ্রেস কাজ করছিল। সুভাষের কংগ্রেস ছিল সবল, এবং তিনি ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠের নেতা।’

সন্তোষকুমার ঘোষের লেখায় ‘প্রবোধ-দা’ বলতে প্রবোধচন্দ্র মিত্রের কথা বলা হয়েছে। প্রবোধচন্দ্র মিত্র ছিলেন স্থানীয় কংগ্রেসের একজন বিশিষ্ট কর্মী। তিনি একসময়ে গোবরডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে একই গাড়িতে তিনি কলকাতা থেকে চাতরায় এসেছিলেন।

চাতরায় সুভাষচন্দ্র বসুর জনসভায় আর এক প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন প্রবোধচন্দ্র মিত্রের সুযোগ্য সন্তান তৃপ্তিকুমার মিত্র। তৃপ্তিকুমার মিত্র লিখেছেন—
‘১৯৪০ সাল হবে। … চাতরার রূপকার হরেন-দা এবং অন্যান্য কংগ্রেস কর্মীদের প্রচেষ্টায় চাতরায় সুভাষচন্দ্রকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়েছিল এক মহতী জনসভায়। আমার পিতৃদেব তখন বারাসাত মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি, গোবরডাঙা পৌরসভার প্রধান, স্কুলের সম্পাদক ইত্যাদি। কলকাতা থেকে সুভাষবাবুকে নিয়ে আসা, এবং সভা পরিচালনার ভার তাঁর উপর ন্যস্ত ছিল। সুভাষচন্দ্রকে সেই আমার প্রথম এবং শেষ চাক্ষুষ দর্শন। সেই অনিন্দ্যসুন্দর চেহারা, সুললিত কণ্ঠের সেই সুভাষিত ভাষণ— বাল্যকালের সেই মধুর স্মৃতি আমার জীবনের সকালবেলাকে বিমুগ্ধ করে রেখেছিল। সকলে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম তাঁর কথায়, তাঁর প্রেরণায়। সেদিন কিন্তু সেই ঐতিহাসিক সভায় আমাকে নিয়ে যাবার কেউ ছিল না গ্রামে, অপারগ এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ছাড়া গ্রামে কেউ ছিল না। দোর্দণ্ডপ্রতাপ আমার ঠাকুরদাকে (ডাক্তার সুরেশচন্দ্র মিত্র) রাজি করিয়ে পাড়ার সুরেন দাদু (প্রতিবন্ধী) তাঁর ছোট ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে আমাকে সভাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন। টগবগ করে ছোটা সেই ঘোড়া নয়, দুলকি-চালে চলা টাট্টু ঘোড়া। দুটি সওয়ার নিয়ে ঠিক সময়ে পৌঁছে দিল যমুনা নদীর উপর রেল-পুল দিয়ে। আমার শিশুমনে সে এক অবিস্মরণীয় আনন্দ। গাছপালার সবুজের আলিঙ্গন, সবুজের স্নিগ্ধ গন্ধ সারা গায়ে মেখে, মুক্ত নীল আকাশের নিচে যেন এক স্বপ্নময় জগতে আমি পাড়ি দিয়েছি। মনে হচ্ছিল, এ-যাত্রা শেষ না হলেই হত ভালো। মনের এই স্বপ্নময় বিহ্বলতা কাটতে না কাটতেই পৌঁছে গেলাম আর এক বিস্ময়কর লোকারণ্যে— সুভাষচন্দ্র বসুর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।’

সুভাষচন্দ্র বসুর চাতরার অনুষ্ঠানের আর একটি চিত্র পাওয়া যায় একই লেখক তৃপ্তিকুমার মিত্রের লেখা ‘সেই সময়, এই সময়’ বইয়ের একটি বিশেষ প্রবন্ধে। প্রবন্ধটির নাম ‘ভুলি নাই যাঁদের’। তৃপ্তিকুমার মিত্রের পূর্ব-উল্লিখিত প্রবন্ধটির কিছু কিছু অংশের সঙ্গে বর্তমান প্রবন্ধটির কিছু কিছু অংশের মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। পুনরাবৃত্তিও রয়েছে। আবার বর্তমান প্রবন্ধে কিছু কিছু বাড়তি— নতুন কথাও রয়েছে, তার গুরুত্বও কম নয়। ‘ভুলি নাই যাঁদের’ প্রবন্ধটির কিছু নির্বাচিত অংশ নিচে তুলে ধরা হল—

‘‘… ১৯৪০ সাল। তখন বোধহয় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। সকালে উঠেই দেখলাম, দলে দলে লোক চলেছে মছলন্দপুরের দিকে। জাতীয় নেতা, কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সুভাষচন্দ্র বসু আসছেন— আনন্দের মিছিল চলেছে তাঁকে দেখতে, তাঁর ভাষণ শুনতে। গ্রাম প্রায় ফাঁকা; বৃদ্ধ, শিশু এবং মহিলা ছাড়া গ্রামে কেউ নেই। আমাকে কেউ নিয়ে গেল না। ঠাকুরদালানের সিঁড়িতে বসে অঝোরে কাঁদছি। এমন সময় পল্লির প্রৌঢ় সুরেন-দাদা এসে আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন— ‘চল, আমার ঘোড়ায় করে তোমাকে নিয়ে যাব।’ সুরেন-দাদা প্রতিবন্ধী ছিলেন, তাই ঘোড়ায় করে তাঁকে ঘোরাফেরা করতে হত। অশক্ত পা দুটি নিয়ে তাঁর ঘোড়ায় চড়া দর্শনীয় ছিল। তিনিই আমাদের বাড়ি গিয়ে আমার ঠাকুর-দা (ডাক্তার সুরেশচন্দ্র মিত্র) ও আমার মায়ের অনুমতি নিয়ে এলেন। মছলন্দপুরের কাছেই দক্ষিণ চাতরায় গিয়ে দেখি বিরাট আয়োজন।

স্কুলের একজন শিক্ষক আমাকে দেখতে পেয়ে ছেলেমেয়েদের ‘গার্ড অব অনার’ লাইনের এক ধারে দাঁড় করিয়ে দিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই শুনলাম, জনদরদী দেশব্রতী নেতা সুভাষচন্দ্র আসছেন। কী বিপুল উদ্দীপনা সবার চোখে-মুখে! সহসা বিশাল জমায়েতের চাপে আমি ছিটকে রাস্তার উপর এসে পড়লাম— উঠে দাঁড়িয়ে দেখি, এক বড়সড় মোটর গাড়ি এসে থামল ঠিক আমাদের সামনে। কিছু না বুঝেই এক অনির্বচনীয় কৌতূহল নিয়ে গাড়ির পাদানিতে উঠে গাড়ির মধ্যে মুখ ঢুকিয়ে দিলাম। চমকে দেখি, এক অনিন্দ্যসুন্দর সুপুরুষের পাশে উপবিষ্ট স্বয়ং আমার পিতা! ওর চোখে অবাক বিস্ময়— আমি ভীত স্তম্ভিত! পিতা ছিলেন ঋজু দেহী, তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল জলদগম্ভীর। বেশ জোরে ধমকের সঙ্গেই বলে উঠলেন— ‘তুমি এখানে এলে কী করে?’ পাশে বসা সুপুরুষটি আর কেউ নন— স্বয়ং সুভাষচন্দ্র। বললেন— ‘এ কে?’ বলেই হাসতে লাগলেন। বাবা বললেন— ‘আমার ছেলে, দেখুন তো কার সঙ্গে কী করে এতদূর এল।’ চেঁচিয়ে ডেকে গৌরীশংকর কাকাকে বলে দিলেন— আমাকে সভামঞ্চের পাশে বসিয়ে রাখতে, এবং সভা-শেষে বাড়ি পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করতে। কয়েক মুহূর্তের ঘটনা। ভয় আনন্দ শিহরণ মিশিয়ে সে এক অনবদ্য অনুভূতি। চকিতে দেখা সুভাষচন্দ্রের সেই তেজোদীপ্ত অনিন্দ্যসুন্দর মুখখানি আজও আমি ভুলিনি। সুভাষ তো সু-ভাষ। কী বলিষ্ঠ অথচ কী সুমিষ্ট সেই কণ্ঠস্বর— মানুষকে মুহূর্তেই সম্মোহিত করে দেয়।’’

চাতরার ঐতিহাসিক জনসভায় উপস্থিত ছিলেন, এরকম দুজন মানুষের মুখ থেকে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা শুনবার সৌভাগ্য বর্তমান লেখকের হয়েছিল। এঁদের একজন হলেন প্রফুল্লকুমার রায় এবং অপরজন অসীম মজুমদার। প্রফুল্লকুমার রায় হলেন পূর্ণচন্দ্র রায় এবং হরেন্দ্রনাথ রায়ের ছোটভাই। প্রথমে প্রফুল্লকুমার রায়ের স্মৃতিচারণা তুলে ধরছি—

‘আমার তখন এগারো-বারো বছর বয়স। শোভাযাত্রা সহকারে সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আসা হয়েছিল। মছলন্দপুর থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়েছিল। তাঁর গাড়ি আস্তে আস্তে চলছিল। আমরা ছোটরা তাঁর গাড়ির পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছিলাম। … আমাদের এই বাড়িতেও সুভাষচন্দ্র বসু এসেছিলেন।”

অসীম মজুমদার গোবরডাঙা খাঁটুরা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক। তাঁর বাবা রাধিকারঞ্জন মজুমদারও ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। অসীমবাবু গোবরডাঙা পুরসভার প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধানও। চাতরার ঐতিহাসিক জনসভা প্রসঙ্গে তাঁর বয়ান নিম্নরূপ—

‘আমার তখন ছ’-সাত বছর বয়স। আর একজনের সঙ্গে তার সাইকেলে চড়ে চাতরাতে গিয়েছিলাম সুভাষ বসুকে দেখতে। তখন তো এখনকার মত ডায়াস ছিল না। খাট দিয়ে ডায়াস তৈরি করা হয়েছিল। খাটের ওপরে রাখা একটি চেয়ারের ওপরে দাঁড়িয়ে তিনি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। কী বলেছিলেন— তা মনে নেই। হ্যাজাকের আলোতে তিনি বক্তৃতা দিয়েছিলেন।’

।।। সমাপ্ত ।।।

চিত্র : গুগল

চাতরায় নেতাজি: সমস্বরে ‘ইনক্লাব জিন্দাবাদ’, ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি

চাতরায় নেতাজি: ‘হিন্দু-মুসলমান ভ্রাতৃবৃন্দ’ সম্ভাষণেই মোহিত জনতা

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: ভারতভাগ্যবিধাতা

5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »