Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি

বাংলা ও বাঙালি

জোরে বইছে উত্তুরে হাওয়া,
কিছু কথা, কিছু শব্দ আজ হারিয়ে যাচ্ছে নাকি?
বাজারের থলে আর মাছের আঁশের নীচে,
ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝি নীরবে প্রাচীন কথামালা।

পাড়ার কুকুরগুলো কনকনে শীতের রাতে
আজকাল আর ঘেউ ঘেউ করতে চায় না।
বুড়ো কুকুরের মেরুদণ্ড বেঁকে গেছে আজ, আর
ছানাপোনাগুলো কুঁই কুঁই করে বিজাতীয় সুরে।

বিশ্বভারতীর বিশ্বায়ন হয়ে গেছে আজকাল
বাউলের একতারা তুলছে নতুন সুর;
বাংলার হযবরল বদলেছে ভোল,
একুশের স্বপ্নগুলো আজ একুশে আইন হয়ে গেছে।
গঙ্গানিকা বেয়ে ভেসে চলেছে গলিত শবদেহ
মাড়াশাল্মলীর তলে পিতামহ রোজ কাঁদে।

***

এক আর্তি

আমি তার মৃত্যুর অপেক্ষা করছি
রুগ্নদেহ অসুস্থ বিকারগ্রস্থ
তার শরীর বলহীন
আমি এবং আরও কয়েকজন সজ্জন মিলে
তার চিকিৎসা করাতে করাতে
হতোদ্যম আজ
কত আর পাচন‌ গেলাব
কতবার সুই ফোটাব ওর দুর্বল শরীরে
আজকাল খোঁজখবর নেবার লোক কমে গেছে
তাই আজ ওকে শেষ বাঁচাবার
শেষ চেষ্টা করব আমরা
কোরামিন দেব, আইসিইউ-তে রাখব
শেষচেষ্টা তো করতে হবে বাংলা ভাষাকে বাঁচাবার।

***

বর্ণপরিচয়

বর্ণপরিচয় পড়তে পড়তে আমি
কয়েকটা শব্দে আটকে গেলাম,
মানে বুঝতে প্রচণ্ড অসুবিধা হচ্ছিল আমার
উল্টো করে দেখলাম এটা নুতন মুদ্রণ।
ষাট বছর আগের ছাপা কপি ছিল আমার দেরাজে
বের করে দেখলাম,
নিষ্ঠুরতা, ধর্মনিরপেক্ষ, মৌলবাদী
হিন্দুত্ব, হিজাব, দাড়ি, টিকি, তিলক,
এই শব্দগুলো ছাপা ছিল না কপিতে।

বীরসিংহের সিংহবিক্রম বীর ঈশ্বর হয়তো
এই শব্দগুলো জানতেন না, তাই লেখেননি।
কে বা কারা এই শব্দগুলো ঢোকাল কপিতে?
আজ এই নূতন বাংলা শব্দগুলো
আমাকে নূতন করে ভাবাচ্ছে।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
মোহাম্মদ কাজী মামুন
মোহাম্মদ কাজী মামুন
1 year ago

‘একুশের স্বপ্নগুলো আজ একুশে আইন হয়ে গেছে’/ ‘কতবার সুই ফোটাব ওর দুর্বল শরীরে’/ ‘মানে বুঝতে প্রচন্ড অসুবিধে হচ্ছিল আমার, উল্টো করে দেখলাম এটা নুতন মুদ্রণ’ …. বর্ণমালার দহন দারুণ ফুটেছে!

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »