স্ব প ন না গ
বাবাকে নিয়ে
১.
বাবাকে কখনও আমার ঈশ্বর মনে হয়নি
বরং
মনে হয়েছে এক নাবিকের মতো—
আমাদের সঙ্গে নিয়ে যে
দাঁড় টেনে চলেছে অবিরত।
নৌকো ফেলে দাঁড় ফেলে হঠাৎ
বাতাসহীন এক ঝড়ের রাতে চলে গেছে।
আমাদের নৌকো এখন মাঝনদীতে দুলছে…
২.
কিছু চাওয়ার ছিল না তার।
তিনটি পুকুর, উঠোনের ঝাঁকড়া কামিনী
ঠাকুরদালানের পেছনে সুপুরির সারি—
সব ছেড়ে ভেসে ভেসে এই পারে আসা!
এপার দিয়েছে তাকে দাঁড়াবার মাটি,
মাটিতে পা রেখে আমাদের বাবা
ডালপালামেলা গাছ হয়ে দাঁড়াল একদিন।
ব্যস্! শুধু গাছ হতে পেরেছিল, আর কিছু নয়!
ছায়া দেওয়া ছাড়া
আর কোনও যোগ্যতা ছিল না তার।
আর সবে পৃথিবীর ব্যর্থ মানুষ একজন…
৩.
বাবার মুখ আঁকতে বললে
শুধু মুখ এঁকে সবটুকু কিছুতেই ধরা যায় না।
ছবি আরও কিছু চায়—
দুটো হাত, শক্ত দুটো পা, আর
অপমানে ঝুঁকে আসা বাবার চওড়া পিঠ
ভিটেমাটি ছেড়ে আসার নিদারুণ অপমান
যে আমৃত্যু বয়ে বেড়িয়েছে সেই পিঠে…
৪.
একটা বটগাছের কাছে রোজ যাই
তার ছায়ায় শুকিয়ে নিই ক্লান্তির ঘাম।
একটা পুরনো ছাতা— বাহারি নয় সে
ঠাঁই হয়েছে তার পরিত্যক্ত জিনিসের স্তূপে।
মাথায় সুনীল শূন্যতার প্রশ্রয়ে
আমরা রোজ হেঁটে যাই নদীকিনারে…
বহতার কথা বলে নদী
ছায়ার আশ্বাসে কাঁপে বটের পাতা
শুধু বৃষ্টি এলে
মনে পড়ে জীর্ণ সেই ছাতাটির কথা…
বাবার কথা মনে পড়ে যায়!
°°°
চিত্রণ: দেবাশিস সাহা





