Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

উত্তম মণ্ডলের বিশেষ নিবন্ধ

চর্যাপদে বাংলার ব্রাত্য জনজীবন

উ ত্ত ম  ম ণ্ড ল

খ্রিস্টীয় ১০০০ থেকে ১২০০ অব্দ পর্যন্ত সময়কালে বাংলা সাহিত্যে লৌকিক আটপৌরে ভাষার বদলে দেশীয় কথ্য ভাষায় লেখা ব্রাত্য বাঙালি জীবনের বারোমাস্যা নিয়ে চর্যাগানের দেখা মেলে।
পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (খ্রি: ১৮৫৩-১৯৩২) দুষ্প্রাপ্য বৌদ্ধ শাস্ত্রগ্রন্থের খোঁজে ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয়বার নেপাল ভ্রমণকালে নেপালের রাজদরবার থেকে একটি পুঁথিতে সংস্কৃত ব্যাখ্যা-সহ মূল চর্যাপদের সন্ধান পান:
‘১৯০৭ সালে আবার নেপালে গিয়া আমি কয়েকখানি পুথি দেখিতে পাইলাম। একখানির নাম ‘চর্য্যাচর্য্য-বিনিশ্চয়’, উহাতে কতকগুলি কীর্তনের গান আছে ও তাহার সংস্কৃত টীকা আছে। গানগুলি বৈষ্ণবদের কীর্তনের মত, গানের নাম ‘চর্য্যাপদ’। আর একখানি পুস্তক পাইলাম— তাহাও দোঁহাকোষ, গ্রন্থকারের নাম সরোরুহবজ্র, টীকাটি সংস্কৃতে; টীকাকারের নাম অদ্বয়বজ্র। আরও একখানি পুস্তক পাইলাম, তাহার নামও দোঁহাকোষ, গ্রন্থকারের নাম কৃষ্ণাচার্য্য, উহারও একটি সংস্কৃত টীকা আছে।… আমার বিশ্বাস, যাঁরা এই ভাষা লিখিয়াছেন, তাঁরা বাঙ্গালা ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক। অনেকে যে বাঙ্গালী ছিলেন, তাহার প্রমাণও পাওয়া গিয়াছে। যদিও অনেকের ভাষায় একটু একটু ব্যাকরণের প্রভেদ আছে, তথাপি সমস্তই বাঙ্গালা বলিয়া বোধ হয়।’
—বৌদ্ধগান ও দোহা, ১ম সং, মুখবন্ধ, পৃ: ৪-৬, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
তবে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রদত্ত পুঁথির নাম ‘চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়’ হলেও সে নাম পাওয়া যায় না। গ্রন্থের মঙ্গলাচরণ শ্লোকে পাওয়া যায় ‘আশ্চর্য্য চর্যাচয়ে’। আর নেপালের জাতীয় অভিলেখালয়ের তালিকায় রয়েছে ‘আশ্চর্য্য চর্য্যাচয়টীকা’।
এই পুঁথিতে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি চর্যাগান পাওয়া যায়। এই চর্যাগান বা চর্যাপদের কবি হিসেবে যাঁদের নাম পাওয়া যাচ্ছে, তাঁরা হলেন— লুই, সরহ, ভুসুকু, দারিক, মহিণ্ডা, আজদেব, কামলি, কাহ্ণ, ডোম্বী, শান্তি, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী ও বীণা। এছাড়া কুক্কুরীপাদ, ঢেণঢণ (ধেতন), চাটিল— এগুলি গুরুর নামে লিখেছেন তাঁদের শিষ্যরা।
কিন্তু বাংলার পুঁথি নেপালে গেল কীভাবে? এককথায় কারণটা শাসকের পালাবদল। পাল-চন্দ্র-বর্মণ-সেন রাজাদের আমলে অখণ্ড বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে যে সংস্কৃতিচর্চা চলছিল, খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দী নাগাদ তুর্কি আক্রমণে তা থেমে গেল। ধ্বংস হল সোমপুরী, ধর্মপাল প্রতিষ্ঠিত বিক্রমশীল, তাড়িবাড়ি, রামপাল প্রতিষ্ঠিত জাগন্দল, পাণ্ডুদাস প্রতিষ্ঠিত পাণ্ডুভূমি, নালন্দা প্রভৃতি বাংলা-বিহারের জ্ঞানচর্চার প্রাচীন মঠ, বিহার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। মঠের আবাসিক বৌদ্ধ ও জৈন পণ্ডিতরা বাস্তুচ্যুত হয়ে উদ্বাস্তু হয়ে শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিলেন নেপালে, কেউ কেউ তিরহূতে (মিথিলা)। বৌদ্ধ ও জৈন পণ্ডিতদের পাশাপাশি অনেক ব্রাহ্মণ পণ্ডিতও ছিলেন এই উদ্বাস্তু কবিদের দলে।
বৌদ্ধ তান্ত্রিক ও যোগীদের মাধ্যমে ভারতীয় ধর্মভাবনায় প্রবেশ করে গুরুর প্রতি অচলা ভক্তি ও আত্মসমর্পণের ধারা, যা দেখা যায় চর্যাগানে এবং তা পরবর্তীকালে প্রতিফলিত হয়েছিল বৈষ্ণবধর্মে। কয়েক শতাব্দী পরে বৌদ্ধ চর্যাগান জেগে উঠেছিল ‘রাগাত্মিকা পদ্ধতি’তে এবং যা পরবর্তীকালে বৈষ্ণব-তান্ত্রিক-যোগী মিশ্র সম্প্রদায় ‘বাউল’ নামে চিহ্নিত হয়ে যায়। তবে অধ্যাত্মমার্গের হলেও এসব গান ভদ্র সাহিত্যে ঠাঁই পায়নি, সমাজের ব্রাত্য জনগোষ্ঠীর মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল। রবীন্দ্রনাথও প্রথমদিকে বাউলগানের প্রতি আকৃষ্ট হলেও পরবর্তীকালে তা থেকে সরে এসেছিলেন।
আমরা জানি, গৌতম বুদ্ধের দেহবসানের পর বৌদ্ধরা দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিলেন— হীনযান ও মহাযান। ‘যান’ মানে পন্থা বা পথ। এর মধ্যে মহাযানী বৌদ্ধরাই বাংলায় তান্ত্রিক সাধনার প্রচলন করেন। তবে পাশাপাশি শৈব ও বৈষ্ণব তান্ত্রিকরাও ছিলেন সে-সময়।
এই তন্ত্রসাধনায় দু’ধরনের গুহ্য সাধনা প্রচলিত ছিল, একদল নারীসঙ্গ করেই সাধনা করতেন, অন্য দিকে, শৈব যোগীরা নারীসঙ্গ বিবর্জিত হয়ে কঠোর কৌমার্য পালন করতেন। সে-সময় পূর্ব ভারতে মহাযান বৌদ্ধ তান্ত্রিকদের ‘সহজযান’ নামে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ছিল, আর এই গোষ্ঠীর সাধকেরাই অধিকাংশ চর্যাগানের কবি। অধ্যাত্মলোকে জ্ঞানের প্রবীণতায় এইসব চর্যাগানের কবিরা ছিলেন আচার্যত্ব পদের অধিকারী এবং অন্য দিকে, অর্জন করেছিলেন ‘সিদ্ধি’ আর তাই তাঁদের পরিচয় ছিল ‘সিদ্ধাচার্য’। কয়েকজন ছিলেন ‘মহাযোগী’ ও ‘যোগেশ্বর’, আবার কেউ অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি থেকে বিধৌত হয়ে ‘অবধূত’। তন্ত্রের পরিভাষায় আমাদের শরীরে রয়েছে অবধূতিকা নাড়ি।
চর্যাগানগুলিতে দু’টি অর্থ আছে, একটি বাইরের, অন্যটি ভেতরের গুহ্য অর্থ। এ-রকম সদর-অন্দর অর্থবাহী ভাষাকে বলা হয়েছে ‘সন্ধ্যাবচন’, অর্থাৎ সংকেত ভাষা। প্রাচীন হেঁয়ালি ধারার অনুসরণে লেখা এই চর্যাগানে বাইরে সাহিত্য অনুশীলনের পরিচয় আছে, আর ভেতরে আছে গুরু-শিষ্যদের গোপন যোগসাধনার গভীর আত্মোপলব্ধির বিচিত্র আবেগ অনুভূতি অভিজ্ঞতার দুর্বোধ্য ইঙ্গিত। এ-সব সাধকদের ভাবনায় মানুষের শরীর-মন বিশ্বপ্রকৃতির ছাঁচে ঢালা এবং তা মানুষের দেহমনের (দেহভাণ্ড) অতি বৃহৎ প্রতিবিম্ব।
চর্যাপদের মরমী সাধক কবিরা দরিদ্র ব্রাত্য মানুষের জীবন থেকে সংগ্রহ করেছিলেন তাঁদের রূপক গানের উপাদান। এ-সবের মধ্যে রয়েছে মদের কারবার, হরিণ শিকার, পুল বাঁধা, লুঠপাট ও জলদস্যুতা, রাহাজানি, খেয়া পারাপার, অবৈধ প্রেম, কাঠ কাটা, তাঁত বোনা, হতভাগ্য যুবকের যুবতী স্ত্রীর দুঃখ, বিয়ের উৎসব, দাবা খেলা, গানের জলসা, ঘরে অগ্নিকাণ্ড প্রভৃতি বিষয়।
তখন গ্রামীণ সমাজ ছিল মূলত কৃষিভিত্তিক। বেশিরভাগ গ্রাম গড়ে উঠেছিল নদীর তীরে। নৌকো ছিল জলপথে যাতায়াতের বাহন। অভিজাতরা বাস করতেন গ্রামের মাঝে, আর ডোম, চণ্ডাল, শবরদের মতো ব্রাত্যজনেরা গ্রামের বাইরে। ত্রিতল (তইলা) বাড়ি ও কুঁড়েঘর (কুড়িয়া) দুই ছিল। বিত্তবান ও দু’বেলা আহার জুটত না— এমন বৈষম্য ছিল। যৌথ পরিবার ছিল। ধনীরা হাতি পুষত, গৃহপালিত পশু হিসেবে পোষা হত গাই-বলদ। চোর-ডাকাত ও অগ্নিকাণ্ডের ভয় ছিল। মাঠে ইঁদুরের উপদ্রপ ছিল। সর্পদংশনের ভীতি ছিল।
নগরবাসী নাগররা গ্রামের প্রান্তে ব্রাত্য জনগোষ্ঠীর নারীদের সঙ্গে মেলামেশা করত। অনেক চর্যাগানে পূর্ব ভারতের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলির ছবি ফুটে ওঠে।
নাটক অভিনীত হত। দাবা খেলা ছিল। জাদুখেলা ছিল। বারাঙ্গনা বৃত্তি ছিল।
বিয়েতে বরকে বাজনা বাজিয়ে শোভাযাত্রা করে নিয়ে যাওয়া হত। বাজনার মধ্যে ছিল করণ্ড, কশালা, লাউ দিয়ে তৈরি তারযন্ত্র, দুন্দুভি, মাদল, বীণা। যৌতুক প্রথার চল ছিল।
ডাঙায় সিংহ, হরিণ, শিয়াল, খরগোশ ছিল, জলে কুমির ছিল। কাক ছিল, ময়ূর ছিল।
পদ্ম ছিল, কার্পাস ছিল।
সুন্দরীরা প্রসাধনের কাজে আয়না ব্যবহার করত। কর্পূর সুবাসিত সুপারি ও তাম্বুল (পান) ছিল। মদ্যপান ছিল।
এ বিষয়ে এককথায় বলা যায়, এইসব চর্যাগানে সে-সময়কালের বাংলায় ব্রাত্য বাঙালি জনজীবনে যে অশিষ্ট জীবনযাত্রার পরিচয় পাওয়া যায়, পরবর্তীকালের সাহিত্যেও পাওয়া যায় না এমন ছবি। যেমন নীচে কাহ্নপাদ সে সময়ের এক ‘ইতর’ জীবনের ছবি এঁকেছেন, যেখানে এক ডোম নারীর সঙ্গে এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসীর অবৈধ প্রেমের স্বীকারোক্তি রয়েছে এভাবে:
তিনি ভুঅন মই বাহিঅ হেলেঁ।
হাঁউ সুতেলি মহাসুহ লীলে।।
কইসণি হালো ডোম্বী তোহোরি ভাভরিআলী।
অন্তে কুলিণজণ মাঝেঁ কাবালী।।
তঁই লো ডোম্বী সঅল বিটলিউ।
কাজ ণ কারণ সসহর টালিউ।।
কেহো কেহো তোহোরে বিরুয়া বোলই।
বিদুজণ লোঅ তোরেঁ কণ্ঠ ন মেলঈ।।
কাহ্নে গাই তু কামচণ্ডালী।
ডোংবিত আগলি নাহি ছিণালী।।

অর্থাৎ—
তিন ভুবন আমি হেলায় বেয়েছি।
আমি শুয়েছি মহাসুখ-নীড়ে।
ওলো ডোমনী, কেমন তোর ছেনালি—
একটেরে কুলীনেরা আর মাঝখানে কাবাড়ি।
তুই লো ডোমনী, সকল নোংরা করলি—
বিনা কাজে, বিনা কারণে বীর্য টলালি—
কেউ কেউ তোকে কুৎসিৎ বলে।
বিদ্বানজনেরা তোর কাছে মুখ খোলে না।
ডোমনীর বাড়া ছিনাল নেই।
(বঙ্গানুবাদ: সুকুমার সেন)

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট, তান্ত্রিকদের কাছে ডোমনীর কদর। এর কারণ আছে। শ্মশান ও শবদেহের সঙ্গে ডোমজাতির পেশাগত সম্পর্ক। ডোমরাই শবদেহ দাহ করে থাকেন। সে যুগে অন্যান্য জাতির মেয়েদের চেয়ে ডোমকন্যারা ছিলেন স্বাধীন। ঘরবন্দি না থেকে বাইরে তাঁদের ঘোরাফেরা বেশি ছিল। এটা তাঁদের সাহসিকতার পরিচয়। আর বৌদ্ধতান্ত্রিকের চর্যাগান রচনার পিছনে অনেকক্ষেত্রে তাঁরা প্রেরণাদাত্রীর ভূমিকা নিয়েছিলেন।
ডোমজাতির সঙ্গে বৌদ্ধ তান্ত্রিকদের এই সামাজিক মেলামেশা ও যোগাযোগের কারণেই পরবর্তীকালে বৌদ্ধজাত ধর্মঠাকুরের পুজোয় ডোম পুরোহিতের প্রাধান্য দেখা যায়। পরে ধর্মমঙ্গল কাব্যের কালু ডোম তাঁদের একটি যোদ্ধাজাতিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
চর্যাপদের কবিদের কাছে ছিল না জাতিভেদ। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও পরে প্রবোধচন্দ্র বাগচীর গবেষণায় বিষয়টি জানা যাচ্ছে, যেমন, সিদ্ধাচার্য ভুসুকু (৪৯নং পদ) বলছেন,
বাজণাব পাড়ী পঁউআ খালেঁ বাহিউ।
অদঅ বঙ্গালে ক্লেশ লুড়িও।।
আজি ভুসু বঙ্গালী ভইলী।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালী লেলী।।

অর্থাৎ—
পদ্মাখালে বজ্রনৌকা পাড়ি বহিতেছে। অদ্বয়-বঙ্গালে ক্লেশ লুটিয়া লইল। ভুসু, তুই আজ (যথার্থ) বঙ্গালী হইলি। চণ্ডালীকে তুই নিজ ঘরণী করিয়া লইয়াছিস।
(অনুবাদ: নীহাররঞ্জন রায়)

এ বিষয়ে ড. শহীদুল্লাহ মনে করেছেন, ভুসুকু তাঁর গুরু দীপংকর অতীশ শ্রীজ্ঞানের পাঁচ শিষ্যের অন্যতম এবং ‘এই বাঙ্গাল দেশেরই এক প্রাচীন কবি।’ নীহাররঞ্জন রায় বলছেন, ‘ভুসুকু বাঙ্গালী অর্থাৎ পূর্ব-দক্ষিণ বঙ্গবাসী ছিলেন।’ নীহাররঞ্জন রায় আরও বলছেন, ‘একাধিক চর্যাগীতির ইঙ্গিতে মনে হয় ডোম্ব ও চণ্ডাল অভিন্ন (১৮ ও ৪৭ সংখ্যক পদ); কিন্তু ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে ডোম ও চণ্ডাল উভয়ই অন্ত্যজ অস্পৃশ্য পর্যায়ভুক্ত, কিন্তু পৃথকভাবে উল্লিখিত।’
লুইপাদও বাঙালি ছিলেন বলে জানা যায়। এ বিষয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী জানান, লুই এবং অতীশ দীপংকরের যুক্ত নামে ‘অভিসময় বিভঙ্গ’ নামে একটি গ্রন্থ পাওয়া গেছে, যেখানে প্রথমেই রয়েছে লুইয়ের নাম। এ থেকে বলা যায়, অতীশ যখন খ্রিস্টীয় একাদশ শতকের দ্বিতীয় পাদে তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম সংস্কারে ব্যস্ত ছিলেন, তখন লুই খ্রিস্টীয় দশম শতকের প্রথমদিকেই চর্যাগান লিখেছিলেন। সে-সময় অর্থাৎ খ্রিস্টীয় দশম-একাদশ শতকে লুইয়ের নেতৃত্বেই গড়ে উঠেছিল বৌদ্ধ সহজিয়া গোষ্ঠী। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর অনুমান, লুই ছিলেন রাঢ় অঞ্চলের অধিবাসী। মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ ছিল সম্ভবত লুইয়ের অপর নাম। আর ক্ষেত্রসমীক্ষায় জানা গেছে, বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া এলাকার ষাট-পলসা গ্রামের ধর্মঠাকুরের ভক্তরা লুইপাদের নামে জয়ধ্বনি দেন। তবে কি লুইপাদ এই অঞ্চলের মানুষ?
আবার আরেকটি চর্যাগানে জনৈক শিষ্য তাঁর গুরু ঢেণঢণের ভনিতায় লিখছেন:
টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী।।
বেগ সংসার বড়হিল জাঅ।
দুহিল দুধু কি বেণ্টে ষামাঅ।।
বলদ বিআএল গবিআ বাঁঝে।
পিটা দুহিএ এ তিনা সাঁঝে।।
জো সো বুধী সৌধ নিবুধী।
জো সো চৌর সৌ দুষাধী।।
নিতে নিতে ষিআলা ষিহে ষম জুঝঅ।
ঢেণ্ঢণপাএর গীত বিরলেঁ বুঝঅ।।

অর্থাৎ—
বসতিতে আমার ঘর। কোনো পড়শি নেই।
হাঁড়িতে নেই ভাত। নিত্যই শয়নার্থী।
বেগে সংসার বয়ে যায় (অথবা বেঙে সে সাপ বয়ে নিয়ে যায়)।
দোয়া দুধ কি বাঁটে ঢোকে।
বলদ বিয়োল। গাই বাঁঝা।
কেঁড়ে (ভর্তি দুধ) দোয়া হয় তিন সন্ধ্যা।
সেই যে বুদ্ধি সেই নির্বুদ্ধি।
যে-সে চোর সে-ই পুলিশ।
নিতি নিতি শিয়াল সিংহের সঙ্গে যোঝে।
ঢেণ্ঢণ প্রভুর গীত কম লোকে বোঝে।
(অনুবাদ: সুকুমার সেন)

বৌদ্ধ চর্যাকবিদের মধ্যে প্রাচীনতম হলেন লুইপাদ। তিনি তাঁর রচিত চর্যাগানে খুব সাধারণ অভিজ্ঞতার বিবরণের ভেতর দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন পরম আধ্যাত্মিক সত্যের অবোধ্যতাকে, যেমন:
ভাব ন হোই অভাব ণ জাই।
আইস সংবোহেঁ কো পতিআই।।
লূই ভণই বট দুলর্কখ বিণাণা।
তিঅধাএ বিলসই উহ ণ ঠাণা।।
জাহের বান চিহ্ন রুব ণ জাণী।
সো কইসে আগম বেএঁ বখাণী।।
কাহেরে কিষভণি মই দিবি পিরিচ্ছা।
উদক চান্দ জিম সাচ ন মিছা।।
লূই ভণই মই ভাইব কীষ।
জা লই অচ্ছম তাহের উহ ণ দিস।।

অর্থাৎ—
উৎপাদও নেই অনুৎপাদও নেই,—
এমন উপদেশে কে প্রত্যয় করে।
লুই বলে, বেটা, বিজ্ঞান দুর্লক্ষ্য,—
ত্রিধাতুতে বিলাস করে, হদিশ নেই জানা।।—
যার বর্ণ চিহ্ন রূপ জানা নেই,
সে কি করে আগম-বেদে বর্ণিত হয়।
ওরে কাকে কি বলে আমি ভাষা দেব!
জলে চন্দ্র প্রতিবিম্বের মতো সত্যও নয়, মিথ্যাও নয়।
লুই বলে, কি আর আমি ভাবব।
যা নিয়ে আছি তার আভাসও যে মেলে না।।
(অনুবাদ: সুকুমার সেন)

এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চর্যাপদের কয়েকজন কবি ও তাঁদের অগ্রদূতরা লৌকিক অবহ্টঠ ভাষাতেও কিছু চর্যাগান রচনা করেছিলেন। ‘বজ্রগীতি’ নামে এ-সব গান বিভিন্ন তান্ত্রিক অনুষ্ঠানে গাওয়া হত। এগুলি ছিল মন্ত্রের মতো এবং সেজন্য এতে কবির নাম উল্লেখ নেই। যেমন, বজ্রদেবতা হেরুকের প্রতি প্রণয়িনী যোগিনীর আবেদন, যে আবেদন শুনে মনে হবে, এ যেন যুবকের প্রতি যুবতীর করুণ প্রেম নিবেদন। এখানে সেটি উল্লেখ করা হচ্ছে:
ওঠ করুণমন স্বামী। দেখ আমার পরিণাম।
হে শূন্যস্বভাব, মহাসুখযোগে কামধনু আস্বাদন কর।
তোমা বিনে মরি আমি। ওঠ তুমি হে বজ্র!
শূন্যস্বভাব ছাড়। শবরীর কাজ সিদ্ধ হোক।
হে সুরতনাথ, লোক নিমন্ত্রণ করে এনে শূন্য রয়েছ কেন?
আমি চণ্ডালী; বিজ্ঞ নই। তোমা বিনা দিশাহারা।
ইন্দ্রজাল ভাঙো তুমি। আমি জানি তোমার মন।
আমি ডোমনী, বিচ্ছেদকাতর। করুণা বিক্ষিপ্ত করো না।
(অনুবাদ: সুকুমার সেন)

এছাড়াও তান্ত্রিক এবং যোগী সাধকদের লেখা কিছু দ্বিপদী ও চতুষ্পদী বড় আকারের কবিতা আছে, যার নাম ‘দোহা’ আর এর সংকলন হল ‘দোহাকোষ’। মূলত এইসব দোহা রচিত হয়েছিল শিক্ষানবিশদের জন্য। যেমন—
‘সিদ্ধিবস্তু’ আমে আগে পড়েছি।
মাড় খেতে খেতে এমনিই (সব) ভুলে গেছি।
এতে একটি অক্ষর আমি (শেষ পর্যন্ত) জেনেছি।
কিন্তু, সখী, তার নাম (তো) জানি না।।
(অনুবাদ: সুকুমার সেন)

আবার, সরহের একটি রচনায় বাউলের ইঙ্গিত রয়েছে, যেমন:
স্কন্ধ-ভূত-আয়তন-ইন্দ্রিয় বিষয়ের বিষয়ের বিচার পরিত্যাগ করে
নব নব দোহার ছন্দে বলা হচ্ছে।
কোথাও কিছু গোপন করিনি।
পণ্ডিতেরা আমাকে ক্ষমা করুন।
এখানে আমি কপট করছি না।
গুরুর মুখে আমি যা শুনেছি সে অতি গোপন কথা।
বলি কেমনে।
পদ্ম ও বজ্র— এ দুয়ের মধ্যে যে স্থিত যে সুরতবিলাস,
কে তাতে আনন্দ না পায়, কার আশা তাতে পূর্ণ না হয়।।
(অনুবাদ: সুকুমার সেন)

Advertisement

এ তো গেল সাধনার গূঢ় কথা। এবার জনজীবনের দিকে দৃষ্টি ফেরানো যাক। যে জিনিসটি নিয়ে অতীত থেকে আজও মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়ে খ্যাতি-অখ্যাতি-কুখ্যাতি কুড়িয়েছে, সেই ‘মদ’ নামের তরল পানীয়টি সম্পর্কে চর্যাপদে এক আকর্ষণীয় বর্ণনা রয়েছে। একটি চর্যাগানে সে সময়ের শুঁড়িবাড়ির চিত্র আঁকা রয়েছে, যেমন:
এক সে শুণ্ডিনি দুই ঘরে সান্ধঅ।
চিঅণ বাকলঅ বারুণী বান্ধঅ।।

সহজে থির করী বারুণী সান্ধ
জেঁ অজরামের হোই দিঢ় কান্ধ।।

দশমি দুআরত চিহ্ন দেখাইআ
আইল গরাহক অপনে বহিআ।।

চউশঠী ঘড়িয়ে দেল পসরা।
পাইঠেল গরাহক নাহি নিসারা।।

এক ঘুড়লী সরুই নাল।
ভনন্তি বিরুআ থির করি চাল।।

অর্থাৎ—
এক শুঁড়ি রমণী দু’জনকে নিয়ে ঘরে ঢোকে। চিয়ান বাকড়, মানে মদ গাঁজানোর জিনিস দিয়ে মদ ফেনায়।
সহজে স্থির করলে মদ গেঁজে ওঠে দশমী দুয়ারে
চিহ্ন দেখে গ্রাহকরা নিজেই এসে হাজির হয়।
চৌষট্টি ঘড়ায় করে মদের পসরা দেওয়া আছে।
গ্রাহক ঘরে ঢুকলো।
কিন্তু শুঁড়িঘর থেকে বেরোলো না।
ছোট্ট একটা ঘড়া, সরু তার নল।
(চর্যাকবি) বিরুআ বলেন, স্থির হয়ে চালাও।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য হল, সে সময় চিহ্ন অর্থাৎ বিজ্ঞাপন হিসেবে শুঁড়িবাড়ির দরজায় সাদা কলসি বা সাদা পতাকা বসানো থাকত, যা দেখে রসিক ক্রেতারা আসত মদ্যমধুর সন্ধানে। আজও আসেন। যুগে যুগে চলে আসছে মদ্যপান।

এবার চর্যাপদের কবিদের জীবনের পিছনের দিকে একটু উঁকি দিতেই হচ্ছে। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের সাধন জীবনের সঙ্গে নেপথ্যে জড়িয়ে ছিলেন সমাজের অনামী ব্রাত্য ডাকিনী সাধিকারা।
পাল আমলে বৌদ্ধ চর্যাপদের সিদ্ধাচার্যদের সময়কালেই রাজ উদ্যোগে পূর্ব ভারতে তৈরি নালন্দা, ওদন্তপুরী, বিক্রমশীল, সোমপুরী বিহারে যখন জোরকদমে লেখাপড়া ও ধর্মচর্চা চলছে, তখন ‘ডাকিনী’ নামের এক শ্রেণির সাধিকারা শ্মশানে-মশানে, পথের ধারে, শুঁড়িখানায় বসে তন্ত্রসাধনা করে গিয়েছেন।
সে-সময় বৌদ্ধসংঘে থাকতে গেলে তাকে ঘর-সংসার ছেড়ে, নারীসঙ্গ ছেড়ে প্রবজ‍্যা নিয়ে ভিক্ষু হতে হত। বুদ্ধের পালিকা মা গৌতমীকে বৌদ্ধসংঘে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কারণে বৌদ্ধভিক্ষু আনন্দকে অনেক গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছিল তখন। তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এই ‘ডাকিনী’রা বৌদ্ধ সংঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। স্বতন্ত্র স্বাধীনভাবেই কোনও সংঘের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও নিজের উদ্যোগে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন তাঁরা।
তবুও প্রতিষ্ঠিত বৌদ্ধ সংঘারামের বাইরে থেকেও মোট ৮৪ জন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের মধ্যে ২০ জনের প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এইসব ব্রাত‍্য ডাকিনীরাই ছিলেন দীক্ষাদাত্রী। তন্ত্রসাধনার একটি বিশেষ দিক হল এই ডাক সাধনা। আর সেই ডাকসিদ্ধ বলেই তাঁরা ‘ডাকিনী’ নামে পরিচিতা ছিলেন।
গবেষক ব্রিফল্ট (R. Briffault: ‘The Mothers’)-এর তথ্য অনুসারে, পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ও ধর্মের প্রতিষ্ঠার সময়ে ডাইনি বলে যাদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, প্রাচীনতম মাতৃতান্ত্রিক সমাজ-ধর্মে তাঁদেরই ছিল একচেটিয়া অধিকার। আর এইসব মাতৃসাধিকারাই ছিলেন ‘ডাকিনী’।
এই ডাকিনীদের কাছে দীক্ষা নিতে গেলে শর্ত ছিল:
১) ভুলে যেতে হবে জাতপাত,
২) থাকতে হবে শ্মশানে-মশানে (বধ্যভূমি) যেখানে সেখানে,
৩) ভাল-মন্দর বিচার ছেড়ে দিয়ে খেতে হবে বাসি পচা খাবার,
৪) বুঝতে হবে, যে যা কাজ করছ, করো। আরও ভালভাবে করো। কারণ, এর মধ্যেই রয়েছে সত্যের ঠিকানা।

জানা যায়, বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য দিংকপাদ ও দারিকপাদের গুরু ছিলেন লুইপাদ। আর এই লুইপাদের দীক্ষাদাত্রী ছিলেন এক ডাকিনী। আবার তন্তিপাদ ও কাহ্নপাদের গুরু জালন্ধরপাদের দীক্ষাদাত্রীও ছিলেন এক ডাকিনী। এছাড়া সিদ্ধাচার্য মণিভদ্রর গুরু কুক্করীপাদের দীক্ষাদাত্রীও ছিলেন এক ডাকিনী।
ওড্ডিয়ানরাজ ইন্দ্রভূতির পুত্র ছিলেন সিদ্ধাচার্য পদ্মসম্ভব। তিব্বতরাজ ঠি-স্রোং-দে-চান (খ্রি: ৭৫৫-৭৯৭)-এর আমন্ত্রণে বৌদ্ধ আচার্য শান্ত রক্ষিত ও কমল শীলের সময় এই পদ্মসম্ভব তাঁর স্ত্রী মন্দরবাওকে নিয়ে তিব্বতে গিয়েছিলেন।
ওড্ডিয়ানরাজ ইন্দ্রভূতির বোন ছিলেন লক্ষ্মীংকরা। এই দুই ভাই-বোনের গুরু হলেন সিদ্ধাচার্য কম্বলপাদ। আবার আরেক সিদ্ধপুরুষ অচিন্ত্যপাদের গুরুও ছিলেন এই কম্বলপাদ। এই অচিন্ত্যপাদের ছিলেন তিন শিষ্য— সিদ্ধ গোরক্ষপাদ, সমুদপাদ ও চৌরঙ্গীপাদ। আর কম্বলপাদের দীক্ষাদাত্রী ছিলেন তাঁর নিজের মা এবং তিনি ছিলেন একজন ডাকিনী। বাইরের পরিচয়ে তিনি ছিলেন রাজরানি, কিন্তু রাজপ্রাসাদের বাইরে গোপনে ডাকিনী বিদ্যাচর্চা ছিল তাঁর আসল পরিচয়। নিজের পুত্রকে দীক্ষা দিয়ে রাজকাজ থেকে সরিয়ে তাকে সাধনপথে নিয়ে গিয়েছিলেন এই ডাকিনী রাজমাতা।
তাই বলা যায়, বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের অনেকের সাধনার মূলে ছিলেন এইসব অনামা ডাকিনীরা। সত্যিসত্যিই এইসব সাধিকাদের নামগুলি হারিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু তাঁদের সাধনায় আলোকিত হওয়া লুইপাদ, জালন্ধরপাদ, কুক্কুরীপাদের মতো সাধক কবিরা যে চর্যাগান লিখেছেন, তা আজও সে সময়ের মূল্যবান ইতিহাস।

তথ্যসূত্র:
১) বাঙ্গালীর ইতিহাস, আদি পর্ব : নীহাররঞ্জন রায়, দে’জ, সপ্তম সং, ফাল্গুন ১৪১৬, কলকাতা
২) বাংলার সাহিত্য-ইতিহাস : সুকুমার সেন, সাহিত্য অকাদেমি, অষ্টম মুদ্রণ, কলকাতা, ২০১৩
৩) চর্যাগীতিকোষ : নীলরতন সেন, সাহিত্যলোক, কলকাতা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ফেব্রয়ারি, ২০১০
৪) মদ্যপানের ইতিহাস : বাসুদেব মোশেল, মডেল পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, ২০০৪

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + three =

Recent Posts

উত্তম মণ্ডল

উত্তম মণ্ডলের বিশেষ নিবন্ধ

চর্যাপদে বাংলার ব্রাত্য জনজীবন উ ত্ত ম  ম ণ্ড ল খ্রিস্টীয় ১০০০ থেকে ১২০০ অব্দ পর্যন্ত সময়কালে বাংলা সাহিত্যে লৌকিক আটপৌরে ভাষার বদলে দেশীয় কথ্য

Read More »
রথীন চক্রবর্তী

ইউক্রেন ভ্রমণ: রথীন চক্রবর্তী

ইউক্রেনে প্রথম দু’টি রাত র থী ন  চ ক্র ব র্তী যাক, শেষপর্যন্ত ইউক্রেনের মাটিতে পা রাখা সম্ভব হল! ভিসা পাওয়ার জন্য কলকাতায় নিজের অফিস

Read More »
বিজন সাহা

রাশিয়া ভ্রমণ: বিজন সাহা

ভ্রমণবিহীন ভ্রমণকাহিনি বি জ ন  সা হা উত্তর গোলার্ধে বিশেষ করে রাশিয়ায় গ্রীষ্ম মানেই কোথাও বেরিয়ে পড়া। লোকজন সাধারণত দক্ষিণমুখী হয়। আমি নিজে পছন্দ করি

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর বিশেষ প্রতিবেদন

মহাকাশের ঈগল অলটিমিটার সু জি ত  ব সু চাঁদ যে পৃথিবীর একটি উপগ্রহ, তা আমরা সবাই জানি। আমরা অবশ্যই তার সৌন্দর্য উপভোগ করি কিন্তু বিজ্ঞানীদের

Read More »
সব্যসাচী সরকার

সব্যসাচী সরকারের বিশেষ প্রতিবেদন

সেই চক্রান্ত-ঘর স ব্য সা চী  স র কা র শ্রীপেরামবুদুরে গেলে, আপনি একটু থামবেন। হত্যার ইতিহাস যদি জানেন। দেশবাসী জানে। আপনিও জানেন। আপনি দুঃখ

Read More »
তরুণ সিংহ মহাপাত্র

তরুণ সিংহ মহাপাত্রের বিশেষ রচনা

‘দ্বিতীয় শ্রীক্ষেত্র’ বারিপদায় সুভদ্রার রথ টানেন মহিলারা ত রু ণ  সিং হ  ম হা পা ত্র বারিপদা ‘দ্বিতীয় শ্রীক্ষেত্র।’ বারিপদার রথযাত্রা ওড়িশার দ্বিতীয় বৃহত্তম। প্রাচীনত্ব,

Read More »