Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

যদুনাথ মুখোপাধ্যায়ের বিশেষ নিবন্ধ

ক্যানসারের সত্যি-মিথ্যে

য দু না থ  মু খো পা ধ্যা য়

Never in the history of mankind so much untruths been told so often by so few to so many for so long at such a colossal fiscal, physical and psychic expense in the name of Curing CANCER.
(The Other Face of Cancer, 4th edition, 2025)

ইদানীং সদ্য অবসরপ্রাপ্ত কতিপয় ক্যান্সার চিকিৎসক ডাহা মিথ্যে সাফল্যের সাতকাহন লিখে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে দোষ চাপানোর প্রচারে নেমেছেন। তাঁদের বক্তব্য: ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যর্থতা সম্পর্কে গাদাগুচ্ছের ভুল ‘ধারণা’, ‘বিশ্বাস’ বা ‘সংস্কার’ নাকি এই সাধারণ মানুষেরাই ছড়াচ্ছেন। ভিত্তিহীন এবং অবশ্যই সর্বৈব মিথ্যা এহেন প্রচার প্রসঙ্গে আমরা পাঠকবন্ধুদের মুখোমুখি হব। আমরা স্বঘোষিত ‘সর্বজ্ঞ’দের হাস্যকর ‘গুল’গপ্পোগুলোর শবব্যবচ্ছেদ করে ক্যান্সার চিকিৎসকদের সচেতন মিথ্যা প্রচার অভিযানের উদাহরণগুলোকে কাণ্ডজ্ঞানের কষ্টিপাথরে, প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে পেশ করব। যাতে নিজেদের অভিজ্ঞতার নিরিখে আপনারা সত্যি-মিথ্যেগুলো যাচাই করতে পারেন। বিশেষ করে, আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার যূপকাষ্ঠে যাঁরা তিলে তিলে, দগ্ধে দগ্ধে মারা গেছেন এবং তাঁদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে সর্বস্বান্ত প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের কাছে আন্তরিক অনুরোধ, তাঁরা অন্তত তাঁদের অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথরে ক্যান্সার চিকিৎসার পরিণতি সম্পর্কে নিজেদের স্পষ্ট অভিমত শেয়ার করবেন। আজ সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রোগব্যাধি সম্পর্কে— বিশেষ করে বহুল প্রচারিত মারণরোগের আধুনিক ঢপের চিকিৎসা, অকেজো, অভব্য স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কে জনমত সংগঠিত করার মহত্ত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হোক এটাই কাম্য। প্রতিবাদ, জবাবদিহির আওয়াজ এক জনআন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করলেই জেগে ঘুমিয়ে থাকা আমাদের নিষ্কর্মা সরকার বাহাদুর যে পিছু হটতে বাধ্য হয়, যন্তর মন্তর প্রাঙ্গণের বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার সেই শিক্ষাটা সাধারণ মানুষকে মনে রাখতেই হবে। নান্য পন্থা। এই নিবন্ধে আমরা কেবল ক্যান্সার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মহোদয়দের প্রবচনের সার সংকলন প্রস্তুত করার মধ্যেই সীমিত থাকব।

পশ্চিমবঙ্গের বয়োজ্যেষ্ঠ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, যাঁরা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগে জুড়ে ছিলেন, তাঁদের হালের লেখাপত্তরে চোখ রাখলে অবাক হতে হয়। ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যর্থতা সম্পর্কে হতাশ হয়ে এঁদের কেউ কেউ তো ‘ক্যান্সার যাতে না হয়, তার জন্য খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইলের পরিবর্তনের’ ট্রেনিং দেওয়া শুরু করেছেন। রাঘববোয়াল ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা তো, ক্যান্সার চিকিৎসার স্বর্গভূমি আমেরিকায় ‘ক্যান্সার চিকিৎসা এড়িয়ে চলার পরামর্শই নয়, ক্যান্সার আছে কি না সেটা জানার জন্য কোনওরকম পরীক্ষানিরীক্ষা’ করানো থেকেই দূরে থাকার স্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছেন। সে প্রসঙ্গে পরে আসছি।
হলে কী-বা হয়। আমাদের বঙ্গীয় ক্যান্সার বিশারদরা ক্যান্সার-অজ্ঞ মানুষদের অজ্ঞতার কারণে ক্যান্সার এবং তার আধুনিক চিকিৎসা প্রগতি সম্পর্কে ঘোর অন্ধকারে থাকার কারণেই যে বেশ কিছু ভুল ‘ধারণা’, ‘বিশ্বাস’ এবং ‘সংস্কার’ পোষণ করেন, তা সবিস্তারে লেখেন বটে কিন্তু জোর দেন খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল বদলানোর। এঁরা এটাও বলেন যে, আমেরিকা-সহ বিভিন্ন উন্নত দেশের মানুষের মধ্যে ‘এমন সব আজগুবি ধারণা বিদ্যমান, যা শুনলে আতঙ্কিত হতে হয়। আমাদের দেশে যা অতি প্রকট।’ যেমন, ক্যান্সার ধরা পড়ার ভয়ে কুঁকড়ে যান তাঁরা। এঁদের নাকি বোঝানোই মুশকিল যে, ‘যদি সময়মতো চিকিৎসা করেন, তা হলে রোগী বহু বছর সুস্থ থাকেন।’ এদের বিশ্বাস নেই যে, ‘আর্লি ডিসকভারি, আর্লি রিকোভারি’র প্রধান শর্ত। মানুষ এটা জানেনই না যে, আজকাল ‘ক্যান্সার সনাক্ত করার প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য উন্নতি হয়েছে।’ কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপির অনেক নতুন নতুন ওষুধ, লক্ষ্যভেদী বা টার্গেটেড থেরাপি সাধারণ সুস্থ কোষের ক্ষতি না করে কেবলমাত্র ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করে।’ এঁরা মনে করেন, ‘শল্য চিকিৎসা, রেডিয়েশন নাকি আজকাল অনেক নিখুঁত হয়েছে।’ ক্যান্সারের ‘উপশমকারী চিকিৎসা (প্যালিয়েটিভ ট্রিটমেন্ট) সম্পর্কে এঁদের অজ্ঞতা দেখে আশ্চর্যচকিত হতে হয়। তা ছাপার যোগ্য বলে বিবেচিত হয় কীভাবে? ক্যান্সারের উপশমকারী চিকিৎসায় বিশ্বাসী একটি সংস্থা আদ্যন্ত অজ্ঞতায় ভরা সেই ধারণার প্রচারে নামে কোন বৈজ্ঞানিক, গ্রহণযোগ্য তর্কের ভিত্তিতে?
আমাদের একটি প্রবাদ— ‘যদির কথা নদীতে’কে মনে রেখে আগামী পর্বে আমরা বিস্তারিত ভাবে দেখাব— যদি, কিন্তু, হতে পারে, মনে হয়, হয়তো-বা ধরনের অসংখ্য অযৌক্তিক কুতর্কের, যাকে ইংরেজিতে ‘Gourdedness galore’ বলা হয়েছে ক্যান্সারের প্রবাদপ্রতিম, প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞ’দের পুস্তকে— সেই কুতর্কের বলে বলিয়ান বেশ কতিপয় ‘বিশিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসক’ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ‘ধারণা’, ‘বিশ্বাস’ বা ‘সংশয়’কে চিহ্নিত করে বাজিমাত করার অপচেষ্টা করছেন। হয় সচেতনভাবে নিজেদের পেশার ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য, নতুবা ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যর্থতার ভূরি ভূরি প্রামাণিক নথিপত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না-থাকার কারণে।

আসুন, ১৯৬০-এর মধ্যভাগ থেকে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যর্থতাকে আড়াল করার জন্য যে-সব কুযুক্তির অবতারণা চলে আসছে, তার নির্যাসটুকু বোঝার চেষ্টা করা যাক: Cancerologic literature thrives on guardedness galore by generously employing such Conjunctional defenses as provided, usually, perhaps, although and the like.’ এর সোজাসাপটা মানে হল— কেন ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যর্থ হল তার পক্ষে বেশ কিছু সংযোগমূলক আত্মপক্ষ (Conjunctional defenses) সাজিয়ে রাখা। যেমন— ক্যান্সারটা যথেষ্ট বেড়ে যাওয়া, বা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার জন্য কিছু করা গেল না। অনেক আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত ছিল। তা হলে ক্যান্সারটা সময়মতো ধরা পড়ত। এ-রকমই অসংখ্য দোষত্রুটির দায় রোগী এবং তাঁর আত্মীয়ের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার ভূরি ভূরি উদাহরণ প্রত্যেক ক্যান্সার রোগী এবং তাঁর পরিজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ক্যান্সার শল্যোপচারের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা আড়াল করতে Provided শব্দটা ঘুরিয়েফিরিয়ে কতভাবে ব্যবহার করা হয় তার নমুনা দেখুন: ‘Today, the patient with cancer of the stomach can look with helplessness toward a cure-provided the tumour is confined to the stomach, and provided the Surgeon is thoroughly competent to do whatever is necessary to remove all of it.’
বুঝুন ঠ্যালা। যকৃতের টিউমারটা অন্যত্র না ছড়িয়ে কেবলমাত্র সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকলেই হবে না, শল্যচিকিৎসককে যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে যাতে পুরো টিউমারটাকে নিকেশ করার জন্য যা কিছু করণীয় তা তার আয়ত্তে থাকে। ক্যান্সার রোগীর পক্ষে এর কিছুই তো জানার কথা নয়!
ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি স্বঘোষিত ‘বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ’ আমাদের জানিয়েছেন যে, ‘Early discovery, Early recovery’ মানে, যত দ্রুত ক্যান্সারটাকে শনাক্ত করা যাবে, তাঁর নিরাময় ততই সহজ হবে। ইনি খুব ভালভাবেই জানেন যে, ক্যান্সার কখনও ‘আর্লি’ বা দ্রুত ধরা পড়ে না, পড়বেও না। বিশ্বখ্যাত রথী-মহারথী পণ্ডিতন্মন্য থেকে নোবেল-বিজেতা বিজ্ঞানী, সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রেও কথাটা সমানভাবে সত্য। অসংখ্য নামী ক্যান্সার চিকিৎসকের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটে থাকে। শুরুতেই ক্যান্সারকে পাকড়াও করার ‘মিথ’টি জনমনে প্রোথিত করার এই সচেতন মিথ্যাচার নিয়ে বিস্তারিতভাবে চর্চা করা দরকার। কেননা, যে-সব ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের ক্যান্সার অজ্ঞ সাধারণ মানুষ মুখোমুখি হন, তাঁদের লিখিত বা মৌখিক বক্তব্যের সার কথা হল: Key to cure CANCER depends on it’s EARLY detection. কাব্য করে বলতে পারেন: শুরুতে যদি পড়ে ধরা, ক্যান্সারকে যাবেই মারা। আদ্যন্ত ভুল এই ধারণা কতটা ভিত্তিহীন, তা জানাবোঝা প্রতিটি মানুষ, বিশেষ করে ক্যান্সার আক্রান্ত পরিবারের প্রত্যেকের জানা দরকার।
★ বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালের একটি নিবন্ধের শিরোনাম দেখুন: Why Cancer Screening Never Been Saving Life. (6 January, 2016)। বুঝতে অসুবিধে নেই ক্যান্সার আছে কি না এটা জেনে কোনও লাভ নেই। ক্যান্সারটা শনাক্ত হলেও জীবন রক্ষা হবে না। এখানে Never শব্দটা লক্ষণীয়। ওই নিবন্ধে সুস্পষ্টভাবে ক্যান্সার রোগীদের প্রতি যত্নবান (Care giver)-দের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা অবশ্যই মনে রাখবেন যে, ক্যান্সারকে শুরুতে শনাক্ত করার পরিণতি ক্ষতিকর হতে বাধ্য… ‘the harms of Screening Cancer are certain, but the benefits in overall mortality are not.’
★ হালেই, Journal of American Medical Association (JAMA, 28th August, 2023) ২১,১১,৯৫৮ বা একুশ লক্ষ বারো হাজার ক্যান্সার রোগীর ওপর পরীক্ষার পরে কী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন নজর রাখুন: ‘Evidence dose not substantiate the claim that common Cancer Screening tests save lives by extending lifetime.’ বঙ্গীয় ক্যান্সার বিশারদরা সম্মিলিতভাবে এহেন বিশাল সংখ্যক ক্যান্সার রোগীদের এক ভগ্নাংশ ক্যান্সার রোগী ইতিমধ্যে নিশ্চয়ই দেখেননি।
★ বিশ্বখ্যাত আর এক মেডিক্যাল জার্নাল তো এই ‘আর্লি’ শব্দটা প্রয়োগকারীদেরই স্পষ্টভাবে মহামূর্খ বলে চিহ্নিত করেছেন। কেন, তা বোঝা মোটেই কঠিন না। আসলে, এঁরা ‘দ্রুত’ই ক্যান্সারটা শনাক্ত করার মানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বা খুবই ছোট্ট অবস্থায় আছে, এমন ক্যান্সার শনাক্ত করার অভিলাষী। আকারে যত ছোট বা ‘সাইজ অফ দ্য ক্যান্সার’ নিয়ে তাঁদের মাথাব্যথা। New England Journal of Medicine তাদের সম্পাদকীয়তে তীক্ষ্ণ বিদ্রুপ করে মন্তব্য করেছিলেন: ‘Early’ is an adjective of time, not of size, dissemination or clinical manifestation.’
পরের লাইনেই ওই সম্পাদকীয়তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, যুগপ্রাচীন ধারণাকে আঁকড়ে থেকে এখনও ‘আর্লি’কে খুব ছোট্ট, স্থানীয়ভাবেই সীমিত ইত্যাদি মনে করার হাস্যকর অজ্ঞতা রয়ে গিয়েছে। সাধারণত, প্রায় ৯৫% ক্যান্সার যথেষ্ট বেড়ে যাবার পরেই তার অস্তিত্বের জানান দেয়। তার আগে ক্যান্সার তার বাহককে বিন্দুমাত্র বিব্রত করে না। এটাই তার বৈশিষ্ট্য, তার স্বভাবধর্ম। কিছুক্ষণ আগে খবর পেলাম আমার অনুজপ্রতিম এক বন্ধুর স্ত্রীকে কলকাতার টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারে সমস্ত পরীক্ষানিরীক্ষার পরে শরীরের সর্বত্র ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার পর কিছুই করার নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক মাস আগেও নিত্য জিম যাওয়া ৫০-এর কম বয়সির ক্যান্সারটি ব্রেনে অনুপ্রবেশের মুখে। নিকটজনেরা মানসিকভাবে তৈরি যে রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু ‘মিরাক্যাল’ তো ঘটে, এই আশায় কেমোথেরাপি চিকিৎসার সাফল্যে আশাবাদী তাঁরা। এই মেয়েটিকে একমাস আগেও দিব্বি সুস্থ দেখেছি আমরা। খুব বেশি হলে মা দুর্গার সঙ্গে সে পাড়ি দেবে না-ফেরার দেশে। এখনও তাঁকে জানানো হয়নি। চিকিৎসকীয় ভাষায় একে উপসর্গহীন, শান্তশিষ্ট (Asymptomatic) ক্যান্সার বলে। অত্যন্ত দুঃখজনক এই ঘটনার উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হল ক্যান্সারকে একদম ছোট্ট থাকা অবস্থায় ধরার গালগল্প নিত্য মানুষকে শোনান ক্যান্সার চিকিৎসকরা। এমন ভূরি ভূরি প্রামাণিক উদাহরণের কথা আমাদের ওয়েবসাইট (cancerfundamentaltruth.in) আমরা বিশদে চর্চা করেছি। সেখানে এই ধরনের ঘটনার দীর্ঘ সূচি পেয়ে যাবেন আগ্রহীরা। এক ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ তাঁর বিশ্বচর্চিত পুস্তকে কৌতুক করে লিখেছেন: ‘টিউমারের সাইজ যত ছোট হবে সে ততই নবীন এই ধারণা অনুসারে তো মানবসমাজে বিদ্যমান বামনদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেঁটেখাটো, তার বয়স তত কম বলতে হবে! তিন ফুট উচ্চতার বামনের বয়স সত্তর হতে পারে, এটা কে না জানে?’

১৯৮০-র দশকের শেষ দিকেও আমেরিকা-সহ বিভিন্ন উন্নত দেশের চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণাকেন্দ্রে কর্পোরেট ফান্ডিং অত্যন্ত ঘেন্নার চোখে দেখা হত। ‘পচা নর্দমার জল’ বলে এর অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। কালক্রমে, স্থিতি এখন এই অবস্থায় পৌঁছেছে যে, এই ফান্ডিং ‘পবিত্র গঙ্গাজল’ হিসেবে মান্যতা পেয়েছে! শুধু তাই নয়, এখন কোনও গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বা ডিরেক্টর হবার প্রাক-শর্ত হল কে কত বেশি কর্পোরেট ফান্ডিং জোটাতে পারবেন। আরও যেটা জানা আবশ্যক তা হল, এই ফান্ডিংয়ের ফাঁদ কতটা বিস্তৃত। পাঠকদের জেনে রাখা দরকার যে, প্রতিটি ৫-তারা বা ৭-তারা প্রাইভেট ক্যান্সার হাসপাতালে এখন কর্পোরেট ফান্ডিংয়ের রমরমা। কোটি কোটি টাকার নিত্যনতুন প্রযুক্তিনির্ভর ঝাঁ-চকচকে এই হাসপাতালের চেন ধরে বিদেশি ফান্ডিং হু হু করে ঢুকছে। বিনিময়ে এঁরা বিদেশি মুদ্রায় মোটা অঙ্কের সুদ কামাচ্ছেন। এঁদের ফান্ডিং পেতে হলে আবশ্যিক দু’টি শর্ত পূরণ করতেই হবে।
★ অন্তত ৯০% শতাংশ বেড অকুপেন্সির ব্যবস্থা করতে হবে।
★ অনাবশ্যক সব থেকে মহার্ঘ টেস্ট করলেই হবে না। বিভিন্ন কোম্পানির একই কেমোথেরাপির মধ্যে সব থেকে দামি ওষুধটাই ব্যবহার করতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে এটা অন্যান্য ক্ষেত্রেও মেনে চলতে হবে। যেমন হার্টের চিকিৎসায় সব থেকে দামি স্টেন্ট, পেসমেকারের ব্যবহার করতে হবে। জানলে অবাক হবেন যে, উন্নত দেশের সেরা দেশ আমেরিকার ক্যান্সার বা হার্টের চিকিৎসকদের কম করে ৭৫% চিকিৎসক কিন্তু নিজের বা নিকটজনেদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা ঘোষিতভাবে ‘ভয়ানক ক্ষতিকারক’ বলে জেনারেল ফিজিশিয়ানদের শরণাপন্ন হন। সেই ১৯৮০-র দশক থেকে এই দস্তুর যথাবৎ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। উপরিল্লিখিত আমাদের ওয়েবসাইট থেকে দু’টি চমকপ্রদ তথ্য তুলে দিচ্ছি:
★ Journal of Clinical Oncology (January 1991) সম্পাদকীয় খুঁটিয়ে পড়ুন— Cancerologists are more scientific and rational when it comes to treating their own kith & kin, but quite irratic and irrational when they treat their patients with surgery, radio & chemotherapy. The medical schizophrenia of the doctor’s near-one’s being more precious than the general public is age-old, but the Oceanic mass of verifiable data has not prevented the Cancerologists from perpetrating a fraud on their unsuspecting patients.’
লক্ষ্য করুন, ক্যান্সার চিকিৎসকদের সুস্পষ্ট দ্বিচারিতার দিকে আঙুল উঁচিয়ে বিশিষ্ট মেডিক্যাল জার্নালের সম্পাদক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন যে, ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যর্থতা প্রসঙ্গে সমুদ্রসমান (ওশিয়ানিক) তথ্যসামগ্রী হাতের সামনে মজুত থাকা সত্ত্বেও এঁদের প্রতি পূর্ণত আস্থাশীল সাধারণ ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে নির্বিকারচিত্তে সেই বিষাক্ত চিকিৎসা করতে এঁরা বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেন না, যা তাঁরা নিজের স্বজনদের ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়াই কাম্য বলে মনে করেন। সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে নিয়ে যাওয়াই রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে হাইফাই ক্যান্সার হাসপাতালের।
★ জুন ২০০৭ সালে, বিখ্যাত লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস রীতিমতো ইমেল করে আমেরিকার ক্যান্সার চিকিৎসকদের কাছে জানতে চেয়েছিল যে, ক্যান্সার-কবলিত হলে কী করবেন তারা? উত্তরটা তুলে দিচ্ছি হুবহু: Over 75% of the Oncologists polled said that if they had Cancer, they would never use the same Chemotherapy they prescribe for their patients, because of the ineffectiveness of the therapy and It’s unacceptable degree of toxicity.’
সুস্পষ্টভাবে ইমেল করে আমেরিকার ৭৫ শতাংশেরও বেশি ক্যান্সার চিকিৎসক জানাচ্ছেন যে, প্রমুখ দু’টি কারণে তাঁরা প্রচলিত ক্যান্সার চিকিৎসা পরিহার করবেন। প্রথমত— তা অকার্যকরী এবং দ্বিতীয়ত— তার তীব্র বিষক্রিয়া। কী ভীষণ সেই বিষক্রিয়া এবং কতটা বিপর্যয়কারী সেই চিকিৎসা, বিখ্যাত ‘The Nature’ পত্রিকায় ১৯৯৮ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং ১৯ মার্চ সংখ্যায় সবিস্তারে তা উল্লেখ করেছে। রোমের রাজপথে কুড়ি হাজার ক্যান্সার চিকিৎসাপীড়িত মানুষ ক্যান্সারের প্রচলিত চিকিৎসা নিষিদ্ধ করার দাবিতে ইতালির সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছিলেন।

Advertisement

এ যাবৎ আমরা যা বলতে চেয়েছি, সেই বিষয়ে একটি প্রশ্নেরও সদুত্তর প্রথাগত ক্যান্সার চিকিৎসকদের কোনও লেখায় আমাদের চোখে পড়েনি। এই লেখার একদম শুরুতেই তাঁদের উচ্চকিত প্রতিটি দাবির সত্যতা যে ভিত্তিহীন, সেটা যে-কোনও এলাকার মানুষ সেই এলাকায় যে-কোনও ক্যান্সার আক্রান্তের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললেই জানতে পারবেন। যেমন:

★ ক্যান্সারটি যথেষ্ট দেরিতে ধরা পড়েছিল, নাকি একদম শুরুতে?
★ যদি শুরুতে, প্রাথমিক অবস্থাতেই ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছিল, তা হলে Early discovery, early recovery হয়েছিল কি?
★ ধরা যাক, হয়েছিল। কিন্তু তা পুনরায় অন্যত্র বা একই অঙ্গে আবারও দেখা দিয়েছিল কি? কতবার?
কেননা বহু ক্ষেত্রেই একাধিক বার, এমনকী ৭০ বার ক্যান্সারটি ফিরে ফিরে এসেছে, এ তো দূরদর্শনের অত্যন্ত লোকপ্রিয় শো ‘আঁখো দেখি’তে বিশিষ্ট অ্যাঙ্কর অরুণ শৌরির বোন নলিনী সিং কয়েকবার দেখিয়েছেন। লাং ক্যান্সার আক্রান্ত, নিউক্লিয়ার ফিজিস্ট অনুপ কুমারের চর্চিত বই ‘Joy of Cancer’-এর শুরুতেই বিভিন্ন ক্যান্সার রোগীকে হাসপাতালে তিনি বারবার, চারবার ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে পুনঃচিকিৎসা করাতে আসার বর্ণনা করেছেন (দ্রষ্টব্য: Rupa publication, New Delhi 2002/2005)। বইটি অন্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত ফ্রয়েড, তাঁর ওরাল ক্যান্সারের জন্য ১৬ বছরে ৩৫ বার অপারেশন করার ঝক্কি অসহ্য বোধ করে হাইডোজ মরফিন ইঞ্জেকশন নিয়ে মৃত্যুবরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আর একটি ক্যান্সার-অসত্য অধিকাংশ মানুষ খুব সহজেই মেনে নেন। ক্যান্সার যেহেতু একটা ঘটনা, তাই তার পেছনে কারণ তো থাকতেই হবে! একে ক্যান্সার রোগটির কারণতত্ত্ব বা Causality of Cancer বলেন স্বয়ম্ভু ক্যান্সার বিশারদরা! জেনে আশ্চর্যচকিত হবেন যে, সূর্যালোকিত আকাশ থেকে সমুদ্রের বেলাভূমি পর্যন্ত কিলবিলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে লক্ষাধিক এমনই সব ক্যান্সার সৃষ্টিকারী আমাদের চারপাশে। আপনি অবিবাহিতা, স্বভাবতই স্তন্যপানকারী সন্তানের মা নন। স্তন ক্যান্সারের বিপদ আপনার সামনে। আচ্ছা, বিবাহিতা হলে কি আপনি সুরক্ষিত? আজ্ঞে না। সেক্ষেত্রে পুরুষের বীর্যবাহিত হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস আপনার জরায়ুমুখের ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ হতেই পারে! ফ্রি সেক্স স্বীকৃতিপ্রাপ্ত উন্নত দেশের কথা একবার ভেবে দেখুন। জরায়ুমুখের ক্যান্সার-পীড়িতা মহিলারা এর জন্য কাকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন? অসংখ্য বয়ফ্রেন্ড, প্রাক্তন স্বামী, নাকি বর্তমান জীবনসঙ্গী?
ক্যান্সারের এই কারণতত্ত্বের অসারতা উচ্চমার্গীয় বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কেন ধোপে টেকে না, বার্টান্ড রাসেল তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। সেই তাত্ত্বিক বীক্ষার কথা পাশে রেখে সাদামাটা একটা গাণিতিক সূত্রর সাহায্য নেওয়া যাক। ধরা যাক ‘ক’ নামক ক্যান্সার সৃষ্টিকারীর জন্য ‘খ’ নামক ক্যান্সার হয়েছে। এর ফলে ক্যান্সার বিশারদ মহোদয়দের সামনে দুটি প্রশ্ন ধেয়ে আসবেই:
★ ‘ক’-এর সংস্পর্শ থেকে আজীবন দূরে থাকা মানুষ তা হলে ‘খ’ ক্যান্সারের শিকার কেন হন?
★ অন্য দিকে, আজীবন ‘ক’ আমার প্রথম প্রেম বিবেচনায় যিনি আজীবন পরমতৃপ্তি বোধ করে ইহলোকের মায়া কাটালেন, ‘খ’ ক্যান্সার তাঁকে রেয়াত করল কেন?
সহজ-সরল এই দুই ধরনের ঘটনার কথা আমরা সব্বাই জানি। জানি এই দুটি প্রশ্নেরই কোনও সদুত্তর আমাদের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের জানা নেই।
আমরা প্রত্যেকে এটা জানি, কিন্তু ভেবে দেখি না। রাসেলের মতে: মানুষ এক অদ্ভুত প্রাণী। সে মিথকে মেনে নিতে এক পায়ে খাড়া। কিন্তু ভাবনাচিন্তার ধার ধারে না। They’re ready to act but not think why?
সততার সঙ্গে ভেবে দেখলে দেখবেন, অন্ধভক্ত, অযৌক্তিক আচরণ এবং কুতর্কে বিশ্বাসী ‘যুক্তিবাদী’, ‘বিজ্ঞানবাদী’র সংখ্যা তথাকথিত প্রগতিশীল শিবিরে অনেক, অনেক গুণ বেশি। উদাহরণস্বরূপ, আঙুলে পাথর বসানো আংটিধারী ডাক্তারকে কুসংস্কারচ্ছন্ন বলতে এক পায়ে খাড়া ‘বিজ্ঞানবাদী’ কিন্তু দৈনিক অন্তত দুই প্যাকেট সিগারেট বা দুই পেগ হুইস্কি পান করা ক্যান্সার সার্জনকে ভুলেও প্রশ্ন করেন না— তিনি ভয়ানক ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বস্তুতে আসক্ত কেন? আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী, কর্মস্থলে বন্ধুদের যতজনকে আমরা সিগারেটের নেশায় বুঁদ দেখি, তাঁদের ক’জনের ফুসফুসের ক্যান্সার হতে দেখি আমরা? হাজারে একজন? জীবনে বিড়িসিগারেট স্পর্শ করেননি, এমন বহু মানুষেরও ফুসফুসের ক্যান্সার হয়, সে-কথাও আমাদের কিন্তু অজানা নয় মোটেই। শুধু কী তাই? ধর্মীয় বিশ্বাসে অটল শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ কখনও ধূমপান করেন না। কিন্তু সেই সম্প্রদায়ের মহিলাকে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত দেখে বিশিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসক ডক্টর আদবানি বিস্মিত! WHO বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট দেখুন:
★ সামাজিকভাবে ধূমপানে প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মহিলাদের ফুসফুসের ক্যান্সার হয় চীনে।
★ ব্যক্তিপ্রতি ধূমপানে সবচেয়ে অগ্রণী জাপানিদের ফুসফুসের ক্যান্সার হয় অনেক কম। এই বিশ্বে ৯০-১০০ বছর বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে জাপান এক নম্বরে কিন্তু।

বীরত্বব্যঞ্জক ক্যান্সার নিকেশকারী চিকিৎসা পদ্ধতির গঞ্জিকাসেবনে নেশাড়ুদের রকমসকম দেখে মনে হয়, ক্যান্সারকে নিশ্চিহ্ন করার ধর্মযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন তাঁরা। এর ফল কী হয়েছে? আমরা সে কথাই পাঠকদের জানাতে চেয়েছি। বীরত্বব্যঞ্জক চিকিৎসার এই মনোবৃত্তির বদলে মমত্ববোধ যতক্ষণ না আধুনিক চিকিৎসার বাহক হচ্ছে, ততদিন ক্যান্সারে মৃত্যুমিছিল থামার নয়। প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য উন্নতির ফলে অসুস্থতার চিহ্নমাত্র নেই ৬৫% মানুষকে একাধিক রোগে আক্রান্ত সাব্যস্ত করতে পারে। সে-বিষয়ে, গত দেড় দশকে অসংখ্য সাড়া জাগানো পুস্তকের সার হল— ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইন এসেন্স, আ ম্যাজিক্যাল হাউস’। মানুষ ঢুকছে, রোগী বেরুচ্ছে। আমেরিকায় মেডিক্যাল ছাত্রদের কথাবার্তায় ব্যঙ্গাত্মক দু’টি শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো: পেশেন্ট= প্রফিট এবং ডিজিজ= ডলার। বহু ক্যান্সার এবং করোনারির পেশেন্টকে এক বান্ডিল টেস্ট রিপোর্ট সঙ্গে নিয়ে মুহ্যমান অবস্থায় আমার দেখা সেরা চিকিৎসকের চেম্বার থেকে হাসতে হাসতে ফিরে যেতে দেখেছি। উনি রিপোর্ট স্পর্শ করতেন না। অসুখ মানে যেহেতু ‘সুখের অভাব’, তাই তিনি অন্তত এক ঘণ্টা খুঁটিনাটি জানতে চাইতেন, রোগীর সমস্যা বা কষ্ট গুলো ঠিক কী। একদম স্পেসিফিক। দেখেছি রোগী এবং তাঁর স্বজনরা অবাকবিস্ময়ে হতবাক হয়ে দেখতেন ডাক্তারবাবু তো রিপোর্ট ছুঁয়েও দেখলেন না! তাঁদের মনোদশা বুঝে মুচকি হেসে উনি বলতেন— ‘আমি তো আপনার অসুখের চিকিৎসা করতে চাই, রিপোর্টের চিকিৎসা নয়।’ সেই রোগীদের অনেকেই ভারত বা বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। আপনারা চান তো গুগলে Dr. Manu Kothari সার্চ করলে এইসব তারকাদের মুগ্ধতা এবং বারবার হাততালি দেবার উন্মাদনা প্রত্যক্ষ করতে পারেন। এই অধমের সাতজন্মের ঈর্ষণীয় পুণ্যফল হল ডক্টর মনু কোঠারির সঙ্গে প্রায় তিন দশকের ঘনিষ্ঠতা। এই বিরল প্রজাতির মানুষটির কাছে হতাশ, ভেঙে পড়া বহু মানুষকে পাঠিয়ে তরতাজা হয়ে ফিরে আসার স্মৃতি, আমি চাক্ষুষ দেখতে পাই। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর হাতে গড়া অসংখ্য ছাত্রছাত্রী দেশদুনিয়ার সর্বত্র আছেন। ফেসবুকে Dr. Manu Kothari Fan Club-এ তার ঝলক দেখে নিতে পারেন। আমাজন ইন্ডিয়ায় তাঁর চর্চিত বইগুলোর কথা জানতে পারেন।
জানি, বিজ্ঞাপননির্ভর মিডিয়াবাহিত প্রায় প্রাত্যহিক ‘ক্যান্সার-বধের ব্রহ্মাস্ত্র আবিষ্কার’-এর অমোঘ আকর্ষণ, শিক্ষিত মানুষকে আশাবাদী হবার প্রেরণা সঞ্চার করে। সেই ‘জ্ঞান’-এর বলে বলিয়ান মানুষের মনে স্বভাবতই দু’টি প্রশ্নকে জিইয়ে রাখে:
★ ক্যান্সার হলে চিকিৎসা করার দরকার নেই, এটাই কি আমরা বলতে চাইছি?
★ কিছু মানুষ তো ক্যান্সার চিকিৎসার পর দিব্বি সুস্থ, সক্রিয় আছেন?
অত্যন্ত মানবিক প্রশ্ন। বিষয়দু’টি নিয়ে কয়েকটি জরুরি কথা বলেই আমরা নিবন্ধের ইতি টানব।
প্রথমত— আমরা সুস্পষ্টভাবে বলব— হ্যাঁ, ক্যান্সার থেকে নিরাময় তো অবশ্যই দরকার। কিন্তু যেটা জানতে চাইব, তা হল নিরাময় মানে কী? এ পর্যন্ত আমরা যে-সমস্ত তথ্য, পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করেছি, তা কোনও বাজারি, বিজ্ঞাপননির্ভর প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে আহরিত নয়। বিশ্বখ্যাত সর্বমান্য এবং অকাট্য সূত্র থেকে তা উদ্ধৃত। সেই সূত্রেই আমরা নিরাময় শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ ঠিক কী বোঝায়, সে কথায় আসব। সাধারণভাবে নিরাময় বলতে রোগ থেকে মুক্তি বোঝায়। কেউ যখন বলেন— ‘কিছু মানুষ’ তো ক্যান্সার চিকিৎসার পর সুস্থ হন, তিনি ঠিকই বলেন। কয়েকশো বিশ্বখ্যাত রথী-মহারথী, নোবেলবিজেতার পুস্তক, পেপার উদ্ধৃত করে হেলায় প্রমাণ করা যায় যে, অচিকিৎসিত ক্যান্সার রোগী, চিকিৎসিতদেরদের তুলনায় বহুগুণ এবং দীর্ঘদিন বেশি বাঁচেন। দ্বিতীয়ত ‘কিছু মানুষ’ মানে আঙুলে গোনা গুটিকয়েক মানুষ। এলাকাভিত্তিক সার্ভে করলেই দেখা যাবে যে, এই ‘কিছু মানুষ’, মোট ক্যান্সার আক্রান্তের ৫-৭ শতাংশের বেশি হবে না। অন্য দিকে, নিরাময়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘কিওর’ শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ কিউরাশিও থেকে। এর মানে কিন্তু কিউরা, অর্থাৎ কেয়ার বা যত্ন নেওয়া। নিরাময়েরও অনেকগুলো প্রতিশব্দ আছে— নির্ব্যাধি, আরাম, রোগমোচন, স্বাচ্ছন্দ্য, স্বস্তি ইত্যাদি। হ্যাঁ, ক্যান্সার রোগীকে স্বস্তি দেওয়া জরুরি— যতটা সম্ভব, যত ভালভাবে সম্ভব আর যত বেশিদিন সম্ভব। রোগী কতটা আরামে থাকতে পারেন, স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারেন সেটা দেখাই চিকিৎসকের কর্তব্য। তাঁর হিতৈষণাই রোগীর জীবনীশক্তিকে উজ্জীবিত রাখার শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
ক্যান্সারের প্রচলিত চিকিৎসা নাকি ক্রমাগত উন্নতির শিখরে পৌঁছে গেছে, আমাদের বঙ্গীয় সরকারি ক্যান্সার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ মহোদয়রা প্রায়ই বলেন। যেটা এড়িয়ে যান তা হল— এই চিকিৎসার কথা ওঁরা আমেরিকা থেকে প্রচারিত অথবা ভারতীয় ৫-তারা বা ৭-তারা হাসপাতালের সতীর্থদের মুখে শুনেছেন। মাসিক ১০ লাখ থেকে ১.২৫ কোটি টাকার সেই চিকিৎসা তো সরকারি হাসপাতালে পাবার প্রশ্নই ওঠে না! অথচ সেই চিকিৎসাকে বিশ্বখ্যাত মেডিক্যাল জার্নালে সুস্পষ্টভাবে ‘ফ্রাড’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই বিষয়টা নিয়েও এঁরা টুঁ-শব্দটি করেন না। এঁদের কেউ কেউ তো সচেতনভাবে ক্যান্সার চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল বদলানোর ক্লাস নেন।

ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যর্থতাকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরার আমাদের কালাপাহাড়ি মনোভাব বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করার কোনও ইতিবাচক, প্রামাণিক নথিপত্র গত পাঁচ দশকে আমাদের চোখে পড়েনি। গত পাঁচ দশকে কয়েক হাজার ক্যান্সার রোগীকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসার বলি হতে দেখেছি। বেশ কিছু মানুষকে দুই-তিনবার ক্যান্সার চিকিৎসায় সাময়িকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছি। কিছু মানুষকে মহার্ঘ ক্যান্সার চিকিৎসার সাহায্য নিয়ে ‘লিভিং উইদাউট লাইফ’ অবস্থায় টিকে থাকতে বা অর্দ্ধমৃত অবস্থা দেখেছি। খুব সামান্য মানুষকে দীর্ঘকাল ক্যান্সার চিকিৎসার পর বেঁচে আছেন, তাও দেখে চলেছি। নিজের পরিবারের সদস্য-সহ বেশ কিছু মানুষকে আধুনিক চিকিৎসার ধারেকাছে না গিয়েও ২০-৩০ বছর বেঁচে থাকতে দেখেছি, দেখে চলেছি। আমাদের ওয়েবসাইটে যে-কেউ তা দেখে নিতে পারেন। লিভার ক্যান্সার আক্রান্ত বিশিষ্ট ভারতীয়-সহ বিখ্যাত মার্কিন কবি গিন্সবার্গের প্রায় পাঁচ দশকের ক্যান্সার সাহচর্যের বিবরণ সেখানে পেয়ে যাবেন।
একদম হালের ‍এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজনের ক্যান্সার কেস বিবরণ শোনাই, শুনুন। তিনি মহিলা। বয়স পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই। অসুস্থতার জন্য ব্লাড টেস্ট করে জানা গেল, হিমোগ্লোবিন সাতের নীচে। সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। পরিচিত বন্ধু-চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা করে জানালেন সঙ্গিন ব্লাড ক্যান্সার। কেমোথেরাপি দেওয়ার একদিন আগেই তিনি ইহলোকের মায়া কাটিয়ে বিদায় নিলেন। এই সঙ্গিন ক্যান্সারটির শুরু কবে? চিকিৎসকের মতে, কমপক্ষে বছর দশেক আগে তো বটেই। রোগী, তাঁর সংযুক্ত পরিবারের কেউ আভাস কেন পেলেন না? অন্তত দেড় দশক ধরে ক্যান্সারকে সঙ্গে নিয়ে উনি তো দিব্বি ছিলেন। ‘আর্লি ডিসকভারি, আর্লি রিকোভারি’ গপুড়ে বিশেষ-অজ্ঞদের অজ্ঞতা সত্যিই সীমাহীন।
বাস্তবিকতা হল, ক্যান্সার চিকিৎসকরা এই অপ্রিয় সত্যটুকু জানতেই দেন না যে, তাঁরা আদপেই ক্যান্সার নিরাময়কারী কোনও চিকিৎসা কখনও করেন না। করা সম্ভবও নয়। এঁরা নিজেরাও এ-ই সারসত্যটা জানেন কি না, সেটা তাঁদের লেখায়, ব্যবহারেও চোখে পড়ে না। কেউ কেউ অবশ্য অসাধারণ দক্ষতায়, সুললিত ভাষায় তা ব্যাখ্যা করেছেন। ‘ভালভাষা’তেই তাঁদের পাণ্ডিত্যপূর্ণ পুস্তক সম্পর্কে লিখেছি। দুর্ভাগ্যজনক হল এই যে, ক্যান্সার চিকিৎসায় সাফল্যের গুণ ব্যাখ্যানে মশগুলদের চোখে, ক্যান্সারের প্রচলিত চিকিৎসার দিকে আঙুল তোলার জন্য এঁরা ব্রাত্য। এমনকী সেইসব ভাগ্যবান, মুষ্টিমেয় ক্যান্সার চিকিৎসায় উপকৃতদেরও এটা জেনে রাখা দরকার যে, ক্যান্সারের অভিব্যক্তি বা ম্যানিফেস্টেশন (Manifestation) তাঁদের শরীরে পুনরায় দেখা দেয়নি। এ তাঁদের পরম সৌভাগ্য। ক্যান্সার বিজ্ঞানের প্রতীক পুরুষদের বিশ্বখ্যাত পুস্তকে, ক্যান্সার চিকিৎসকদের অবশ্যপঠনীয় পাঠ্যবইতে, প্রাজ্ঞ বিশারদরা বিষয়টা নিয়ে কম কিছু লেখেননি। সবচেয়ে মহার্ঘ আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার সারকথা হল— আমাদের শরীরে বিদ্যমান সাধারণ সুস্থ কোষ থেকেই ক্যান্সার কোষ জন্ম নেয়। কোষ বিজ্ঞানের জনক, নোবেল-বিজেতার কথায়— ‘ক্যান্সার কোষের ব্যাপারে আমি কী বলব, কেননা সুস্থ, সাধারণ কোষ সম্পর্কেই তো আমি কিছু জানি না।’ জেনে অবাক হবেন যে, ১২৫ বছর আগে বিলরথ (Billroth, T) লিখে গেছেন: ‘Surgery removes a tumour, but not the diathesis of cancer. Unfortunately it must be admitted that all Cancer surgery is in large measure palliative, given the occult spread of disease before treatment in a high percentage of cases.’
বাংলায় এর মানে হল— অপারেশন করে টিউমারটা তো সরিয়ে দেওয়াই যায় কিন্তু ক্যান্সারের প্রভাব এবং প্রবণতা থেকে তো রোগীকে মুক্ত করা যায় না। আর তাছাড়া বাকি স্বাভাবিক কোষগুলোর ক্যান্সার কোষে বদলে যাবার আশঙ্কা তো থেকেই যায়। যাকে ক্যান্সার বিজ্ঞানে ‘সুস্থ কোষগুলো, ক্যান্সার কোষ বাহিনীতে যোগদানের জন্য মুখিয়ে থাকা’র প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটা পরিতাপের বিষয় বটে কিন্তু বাস্তবিকতা হল অপারেশনের আগেই ক্যান্সার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকে, সেটা বোঝা যায় না। সুতরাং, শল্যোপচার নিরাময়কারী চিকিৎসা নয়। তার কাজ প্রশমন করা বা স্বস্তি দেওয়া মাত্র। কেমো বা রেডিওথেরাপির ভূমিকাও তাই। স্পষ্টভাবে বলা উচিত যে, নিরাময়ের কথা বলাটাই অবান্তর।
জেনে রাখুন, কোনও ভ্যাক্সিন বা কোনও রাসায়নিক অদ্যাবধি আবিষ্কৃত হয়নি, যা আমাদের শরীরের সুস্থ কোষ এবং ক্যান্সার কোয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। এই সেই কারণ, যে-জন্য ক্যান্সার ফিরে ফিরে আসে। আমরা সে-কথা আগেই বলেছি।
এই তাত্ত্বিক বীক্ষা প্রসঙ্গে কয়েক হাজার অকাট্য তথ্যসামগ্রী আমাদের ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন। জানি, খুঁতখুঁতানিটা থেকেই যাবে: সংখ্যায় অল্প হলেও কিছু মানুষ তো ক্যান্সারমুক্ত হয়ে সুস্থ হন? প্রশ্নটাকে নিয়ে বিশ্বখ্যাত ক্যান্সার বিশারদরা এতবার এতভাবে ব্যাখ্যা করলে কী হবে, আমাদের প্রজ্ঞাহীন কর্মবীর ক্যান্সার চিকিৎসকদের মাথায় তা প্রবেশ করে না।
তার সারার্থ হল:
★ ক্যান্সারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত লক্ষাধিক পদার্থের উপস্থিতি সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ তার দ্বারা প্রভাবিত কেন হন না?
★ ক্যান্সার কখনও কেন যথেষ্ট বেড়ে যাবার আগে ধরা দেয় না?
★ ক্যান্সার চিকিৎসায় উপকৃত মানুষের সংখ্যা এত নগণ্য কেন? এ প্রসঙ্গে ‘ভাগ্য’-এর দোহাই দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে বিশ্ববরেণ্য প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, নোবেল-বিজেতা বিজ্ঞানীদের নামের লিস্ট আমাদের ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন। এঁরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এহেন ভাগ্যবানদের নিজস্ব জৈবিক গঠন এবং তাঁরা যে ক্যান্সারটি বহন করছেন, তার জৈবিক বৈশিষ্ট্যর কারণেই কিছু মানুষ ক্যান্সারমুক্ত হন। চিকিৎসার অবদানকে বাড়িয়েচাড়িয়ে পেশ করার বিপদ হল, ওই একই চিকিৎসায় বা তার থেকেও ‘উন্নত’ চিকিৎসায় বিরাট সংখ্যক মানুষ মারা যান কেন? এর কোনও সদুত্তর কারও জানা নেই।
গভীরে গিয়ে ভেবে দেখলে বুঝতে অসুবিধে নেই যে, ক্যান্সার গবেষণার অভিমুখ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞ মহোদয়রা। যার সারকথা হল— ক্যান্সার নিরাময় করতে সক্ষম কোনও চিকিৎসা সুদূর ভবিষ্যতেও আবিষ্কৃত হবে না। কিন্তু এই মানবিক সমস্যার শিকারকে ক্যান্সারের কারণে উদ্ভূত অস্বস্তি থেকে, কষ্ট থেকে স্বাচ্ছন্দ্য বা আরাম পৌঁছনোর জন্য একমাত্র উপশমকারী (palliative) চিকিৎসা তো করতেই হবে। এই নিবন্ধে, ক্যান্সার এবং তার চিকিৎসা সম্পর্কে যাঁদের অজ্ঞতার পরাকাষ্ঠা নিয়ে আমরা চর্চা করেছি, তাঁরা যে উপশমকারী চিকিৎসা সম্পর্কে কিচ্ছুটি বোঝেন না, সেই বিষয়ে আমার লেখা বুকলেট— ‘আতঙ্ক নয়, যুদ্ধ নয়: ক্যানসারে বোঝাপড়াই শেষকথা’তে বিস্তারিত লিখেছি। আগ্রহী পাঠক তার পিডিএফ সংগ্রহ করতে পারেন।

ডা. মনু কোঠারির বক্তব্য শুনতে পারেন—

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + eight =

Recent Posts

যদুনাথ মুখোপাধ্যায়

যদুনাথ মুখোপাধ্যায়ের বিশেষ নিবন্ধ

গত পাঁচ দশকে কয়েক হাজার ক্যান্সার রোগীকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসার বলি হতে দেখেছি। বেশ কিছু মানুষকে দুই-তিনবার ক্যান্সার চিকিৎসায় সাময়িকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছি। কিছু মানুষকে মহার্ঘ ক্যান্সার চিকিৎসার সাহায্য নিয়ে ‘লিভিং উইদাউট লাইফ’ অবস্থায় টিকে থাকতে বা অর্দ্ধমৃত অবস্থা দেখেছি। খুব সামান্য মানুষকে দীর্ঘকাল ক্যান্সার চিকিৎসার পর বেঁচে আছেন, তাও দেখে চলেছি। নিজের পরিবারের সদস্য-সহ বেশ কিছু মানুষকে আধুনিক চিকিৎসার ধারেকাছে না গিয়েও ২০-৩০ বছর বেঁচে থাকতে দেখেছি, দেখে চলেছি।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

তন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের বিশেষ নিবন্ধ

ম্যাজিক রিয়ালিজম: বাস্তবতার ভেতরে জাদুর নিঃশব্দ আনাগোনা ত ন্ম য়  চ ট্টো পা ধ্যা য় বাস্তবতা কখনও কখনও বড্ড ক্লান্তিকর আর যুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ে। মানুষ

Read More »
উত্তম মণ্ডল

উত্তম মণ্ডলের বিশেষ নিবন্ধ

চর্যাপদে বাংলার ব্রাত্য জনজীবন উ ত্ত ম  ম ণ্ড ল খ্রিস্টীয় ১০০০ থেকে ১২০০ অব্দ পর্যন্ত সময়কালে বাংলা সাহিত্যে লৌকিক আটপৌরে ভাষার বদলে দেশীয় কথ্য

Read More »
রথীন চক্রবর্তী

ইউক্রেন ভ্রমণ: রথীন চক্রবর্তী

ইউক্রেনে প্রথম দু’টি রাত র থী ন  চ ক্র ব র্তী যাক, শেষপর্যন্ত ইউক্রেনের মাটিতে পা রাখা সম্ভব হল! ভিসা পাওয়ার জন্য কলকাতায় নিজের অফিস

Read More »
বিজন সাহা

রাশিয়া ভ্রমণ: বিজন সাহা

ভ্রমণবিহীন ভ্রমণকাহিনি বি জ ন  সা হা উত্তর গোলার্ধে বিশেষ করে রাশিয়ায় গ্রীষ্ম মানেই কোথাও বেরিয়ে পড়া। লোকজন সাধারণত দক্ষিণমুখী হয়। আমি নিজে পছন্দ করি

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর বিশেষ প্রতিবেদন

মহাকাশের ঈগল অলটিমিটার সু জি ত  ব সু চাঁদ যে পৃথিবীর একটি উপগ্রহ, তা আমরা সবাই জানি। আমরা অবশ্যই তার সৌন্দর্য উপভোগ করি কিন্তু বিজ্ঞানীদের

Read More »