Search
Generic filters
Search
Generic filters

কল্যাণ সেনগুপ্তের ছোটগল্প

ছিঁড়ে যায় নাড়ি

হেলিকপ্টার সার্ভিস কোম্পানির ক্যাপ্টেন কাপুর সবে আবুজার সশস্ত্র ডাকাতির অভিজ্ঞতাটা বলতে শুরু করেছেন ওদের পোর্ট হারকোর্টের ক্যান্টিনে বসে। এমন সময় দেবেন মৌলিকের ফোনটা বেজে উঠল। নিশ্চয়ই কলকাতা থেকে ফোন। দেবেনদার মুখটা গম্ভীর হল এবং উঠেও গেলেন। সুমিতা বৌদি, আর রজত একটু উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল। মিস্টার কাপুর তেমন কিছু জানেন না, তাই উনি মুখ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক’দিন আগে দেবেনদা কলকাতায় বাবাকে খুবই সিরিয়াস কন্ডিশনে রেখে ছুটি কাটিয়ে ফের পোর্ট হারকোর্টে এসেছেন। দেবেন মৌলিক আর রজত একই কোম্পানিতে চাকরি করেন। দেবেনদার কলকাতার বাড়িতে একমাত্র মা আর বাবা। তার মধ্যে এই রাত্রিবেলা ফোন কলকাতা থেকে। খাওয়া বন্ধ বৌদির আর রজতের। হলঘর থেকে বাইরে দেখা যাচ্ছে, উনি পায়চারি করছেন আর কথা বলছেন। মনে হল খুব বড় দুঃসংবাদ আসছে।
দেবেনদা ফোন করতে করতে ইশারায় ডাকলেন রজতকে। নিশ্চিত ওর বাবার কিছু একটা এসপার-ওসপার হয়েছে। হলঘর ছেড়ে বাইরে আসতে দেবেনদা অদ্ভুত আচরণ করলেন। ফোনটা ধরিয়ে দেন, ‘কথা বলো। তোমার বউ নীলিমা কথা বলছে।’
রজত ভাবে, এ কী! নীলিমা ফোন করছে? তা হলে কি নীলিমাই জানিয়েছে ওর বাবার খবর? আশ্চর্য।
ফোন নিয়ে কানে ধরতেই উল্টোদিকে নীলিমা ভেঙে পড়ে, ‘নীলিমা বলছি।’
উদ্বিগ্ন রজত বলে, ‘বলো বলো।’
উদ্গত কান্নাচাপা গলা ভেসে আসে, ‘মা, মা আর নেই।’
‘মানে?’ রজতের বুকে প্রবল ধাক্কা। আর্তনাদ গুমরে ওঠে, ‘কী বলছ তুমি? কার মা? কখন? কী করে?’
দেবেনদা রজতের পিঠে হাত রাখেন।
নীলিমা একটু দম নিয়ে বলে, ‘তোমার মা এইমাত্র চলে গেলেন।’ ফুঁপিয়ে কান্না বেরিয়ে আসে।
রজতের গলা জড়িয়ে আসে, ‘চলে গেলেন মানে কী? কোথায়?’ আর কথা বলতে পারে না।
ওদিকে আর-এক প্রতিবেশী ফোন করে বলেন, ‘রজত, দেবুদা বলছি। তোমার মা, মাসিমা কিছুক্ষণ আগে…।’ কথাগুলো অস্পষ্ট হয়ে যায় মাথায়।
মুহূর্তের মধ্যে মাথাটা টলে গেল। এটা কী করে সম্ভব? দিব্বি ছিল। শারীরিক কিছু অসুবিধা চলছিল, তবে তেমন কিছু নয়।
‘রাত্রিবেলা খেতে বসবার আগে বাথরুমে গেল। আর ফিরে এল না। ওখান থেকে অচৈতন্য অবস্থায় তুলে বিছানায় এনে রাখা হল। তখনও প্রাণটা ছিল। ডাক্তার ডাকা হল, কিন্তু তার আগেই চোখ চিরতরে বুজে গেল।’
কিছুই শুনতে পাচ্ছে না রজত। সকালবেলা কথা বলেছে। আর এখন এ কী সংবাদ? মাথাটা টলছে। মা চলে গেল অর্থ কী? শরীরে শক্তি যেন শূন্যতে ঠেকেছে। দেয়ালটা ধরে ধাতস্থ হতে সময় লাগল। চলে গেলেই হল? দেবেনদা পিঠে হাত রেখে দাঁড়িয়ে।
আবার নীলিমার ফোনে ফেরে রজত। জিজ্ঞাসা করে, ‘এখন ক’টা বাজে কলকাতায়?’
‘রাত সাড়ে এগারোটা। আত্মীয়স্বজন কেউ কেউ খবর পেয়েছে। এত রাতে আসছে ট্যাক্সি জোগাড় করে আসছে। ফ্ল্যাটের বাকি পড়শিরা খবর পেয়ে চলে এসেছে।’ পিছনে অনেক কণ্ঠস্বর।
ফোনের ওপারে নীলিমা তখনও ফোঁপাচ্ছে। রজতকে সময় নিতে হবে। বলল, ‘আমি বাইরে আছি। কোয়ার্টারে গিয়ে ফোন করছি।’
দেবেনদা বললেন ‘আমার ওখানে যাবে?’
সকালেই ফোনে কথা হয়েছে। রজতের কিছুই ভাল লাগছে না। একটু একা থাকতে পারলে ভাল হত। ক্যাপ্টেন কাপুর যখন জানলেন, তখন খাওয়ার ইচ্ছে সবারই চলে গেছে। যখন ফিরে এল কোয়ার্টার কম্পাউন্ডে, তখন সিকিউরিটির দুজন ছাড়া কেউ নেই, একদম নিস্তব্ধ চারিদিক। এতগুলো কোয়ার্টারের মানুষজন ঘুমে অচেতন। পৃথিবীর ওপর প্রান্তে টালিগঞ্জের এক ফ্ল্যাটবাড়িতে এখন প্রচুর চাপা গলায় আলোচনা। গাড়ি রেখে নিজের ঘরে ঢুকে বেশ কিছুক্ষণ একা বসে থাকার পর মনে হল, মা নেই এটা হতে পারে? দুম করে আমাকে না জানিয়ে কী করে মা যেতে পারে? এত কাণ্ডজ্ঞানহীন কী করে হতে পারল? কলকাতায় থাকাকালীন রজত কোথাও না বলে গেলে, ফিরতে রাত হলে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকত বারান্দায়। এলেই একপ্রস্থ রাগারাগি। এমনভাবে না বলে কেউ যায়? যদি যাও, তা হলে জানিয়ে যাও। লোক চিন্তা করে না? এবার? পাঁচটি সমুদ্র পেরিয়ে একাকী একটা বাসস্থানে মায়ের মৃত্যুর সংবাদ নিজের বুকের মধ্যে নিয়ে বসে থাকতে হবে। সারা শরীর জুড়ে ভীষণ রাগ হতে লাগল।
ছোট একটা ব্যাচেলর কোয়ার্টার। কোম্পানির সীমানার মধ্যেই। ঘরে ঢুকেই মনে হল কালকেই ফিরে যাবে পুরোপুরি। মাত্র চার মাস হল দ্বিতীয় বারের জন্যে এসেছে আফ্রিকার এই পোড়া দেশে। বাড়িতে একটা ফোন করতেই কয়েকশো টাকা বেরিয়ে যায়। প্রথমবার এসে কয়েক মাসের বেতন না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল। মা-ই বলেছিল, ঘুরে আয়, ডাকছে যখন। কয়েক বছরের ব্যাপার। প্রথমবার মাকে নিয়েও এসেছিল।
চিন্তার স্রোতটা ভেঙে গেল। কলকাতার ফোনে। নীলিমা ফোন করছে, ‘নীলুদা এসেছে, অশোকদা এসেছে।’ এখন ওখানে রাত আড়াইটে। নীলুদা ফোন ধরে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার কী মত? পিস হেভেন দেখব, না শ্মশানে নিয়ে যাব?’
সপ্তাহে রোজ ইন্ডিয়া আসার ফ্লাইট নেই। কেনিয়া এয়ারওয়েস ধরে যেতে যেতে আরও দু’দিন লাগবেই। রজত ভেবেচিন্তে বলে, ‘নীলুদা মুখাগ্নি কোরো। আজ রবিবার, পরের ফ্লাইট বুধবার। আমি বৃহস্পতিবার আসছি।’
‘ঠিক আছে। সেইমতো সকাল হলে বেরোব।’
ফোন রেখে দু’বার পায়চারি করে মুখে হাত রেখে বসে ভাবল রজত। টালিগঞ্জের বাড়িতে অনেক লোকজনের ভিড়। কিন্তু যার বাড়ি, তিনি তো চিরঘুমের দেশে।
একবার চেয়ার আরেকবার খাট, পরের বার খাবার টেবিলের সাথের চেয়ারে বসছে উঠছে রজত। কেমন একটা অস্বস্তি শরীরে।
রাত গভীর হচ্ছে। মা শুয়ে আছে কলকাতার বাড়িতে আর রজত কি করে বিছানায় গা এলাবে? এখন তো কত কাজ। হয়তো এক এক করে দাদাভাইরা ট্যাক্সি করে এসে হাজির হচ্ছে মাঝরাতে।
ধীরে ধীরে এদিকে ভোর হচ্ছে। ওদিকে অন্তিমযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। বৌদিরা সাজিয়ে দিয়েছে মাকে। নীলিমা শাড়ির আঁচলে মুখে গুঁজে এটাওটা এগিয়ে দিচ্ছে, আর গুমরে গুমরে কেঁদে যাচ্ছে। রাত্রে তিন-চারবার ফোন করতে হয়েছে। প্রিপেইড ফোন, আর ব্যালান্স নেই। কয়েকটা মেসেজ করা যাবে শুধু। এমন অসহায় কখনও লাগেনি। কিছুই করতে পারছে না রজত। শরীর যেন চলতে চাইছে না। সমস্ত রাত সোফা, চেয়ারে বসে থাকা আর পায়চারি। অসম্ভব অস্থিরতা শরীর জুড়ে।
মা চলে যাচ্ছে ঘর ছেড়ে চিরকালের মতো। চোখের সামনে একে একে সব সরে যাচ্ছে সেই ছোটবেলার দিনগুলো। প্রথম স্কুলে যাওয়া, মা রান্না করছে উবু হয়ে আর মার গলা ধরে ঝুলে ঝুলে ছড়া মুখস্থ করার দিনগুলো। স্কুলে পরীক্ষার দিন ঘুম থেকে ওঠার আগেই মাথায় হাত রেখে সূর্যের স্তব করার সেই আলতো ছোঁয়া। সেই চিত্তরঞ্জন দাশের মেয়ের একটা স্কুলে মার সাথে যাওয়া। হাত ধরে হাজরা মোড়ের ফুটপাত ধরে হরেকরকম মাটিতে বসা দোকানির কথা শুনতে শুনতে বাড়ি ফেরা।
সকাল হয়ে গেল। মার নশ্বর দেহটা পুড়ে গেল আগুনে। আরও দু’দিন কাটিয়ে দেশে ফিরল রজত। আশ্চর্য মনেই হল না মা নেই কোথাও।
নীলিমা, মুন্নি, ফ্ল্যাটবাড়ির সবাই ভেবেছিল, বাড়ি এসে ভেঙে পড়বে রজত। তেমন কিছু হল না। সবাই নিশ্চিন্ত হল কিছুটা। মানুষটা চাকরি সূত্রে দূরে আছে। বাড়িভর্তি লোকজন। মার ঘরে গেলে মনে হচ্ছিল, কে যেন নেই। ঠাকুরের সামনে আসনটা গুটিয়ে এক পাশে। যেন কোথাও বেড়াতে গেছে মা। মাঝে মাঝে মাসির বাড়ি গেলে একমাস পনেরোদিন থেকে আসত। রজত যন্ত্রের মতো চতুর্থীর কাজ, বাড়িভাড়া, ঠাকুরমশাইয়ের সাথে কথা বলা, বাজার করা, মার ছবি বাঁধাতে দেওয়া, আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা– এরকম হাজার কাজ একটার পর একটা করে গেল। মনটা কাজ করছিল না। মনে হচ্ছিল অন্য কারও কাজ করছে, সামনে মায়ের ছবি রেখে।
খারাপ লেগেছিল যখন ছুটি শেষে আবার ফিরে যেতে হয়েছিল। কারও মা ঈশ্বর নন, তবু সে ঈশ্বর দেখে। মায়ের মধ্যে ঈশ্বরের জন্ম হয়, যখন সন্তান আসে। কত কী করতে চায়, করে শুধু সন্তান আনন্দ পাবে বলে।
প্রতিবার মা কত রান্না লিখে দিত। নাড়ু দিয়ে দিত কৌটো করে। নিমকি, প্রজাপতি বিস্কুট, ওষুধ– এগুলো দিত নিয়ম করে।

দিন গেল, মাস গেল। বর্ষা শেষ করে শীত এল। সবাই একে একে একে ভুলে গেল। মায়ের কথা তেমন কেউ বলে না। মার ওপর অভিমানটা তীব্র হল আরও। এখন আর রবিবার করে ফোন আসে না। এখন ‘খোকন শরীর কেমন আছে’ কেউ জিজ্ঞাসা করে না। রাত্রিবেলা যখন পৃথিবী শান্ত হয়ে আসে, নির্জন পথে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয় ছেলেমানুষের মতো, মাকে কত দিন দেখিনি। কত কিছু প্রশ্ন জমে আছে বুকে। কতদিন গায়ে-মাথায় হাত ছুঁয়ে যায়নি। কাকে শোনাব রোজকার সুখদুঃখের মেলামেশার গল্প? অন্য দেশের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা?

বাৎসরিক কাজ শেষ। সবাই হলঘরে এদিক-ওদিক গল্প করছে। অন্য দিকে তৃতীয় ব্যাচ খাওয়া চলছে। ঠাকুরমশাই কিছু ফুল হাতে দিয়ে বললেন, ‘কাজ শেষ। মায়ের উদ্দেশে প্রণাম করে ফুলগুলো ওনার ছবির তলায় রাখুন আর মায়ের মুখ মনে করে আশীর্বাদ চান।
রজত যন্ত্রের মতো চলছিল এতক্ষল কিন্তু ফুলগুলো দু’হাতে নিয়ে ঠাকুরমশাইয়ের দিকে চেয়ে রইল। শুনছে না, কিছুই ভিতরে যাচ্ছে না। ঠাকুরমশাই তাড়াহুড়োতে অন্য দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘চোখ বুজে মায়ের মূর্তির কথা ভেবে ফুল অঞ্জলী দিন।
শেষ এক বছরে যা হয়নি, এখন তাই হল। রজতের মনে হল, না ও ফুল দেবে না। এতদিন ধরে মা তো ছিলই। মা আছে, রান্নাঘরে আছে, পুজোর ওখানে আছে। আছে, হয়তো কোথাও বেড়াতে গেছে। শেষ এক বছরে এই প্রথম ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। হাসি হাসি মুখের ছবির দিকে তাকিয়ে ভেসে গেল সব। সারা শরীর মুচড়ে উঠল। তা হলে কি মাকে এবার ছেড়ে দিতে হবে? এই ফুলগুলো পায়ের কাছে রাখলেই সব শেষ? বাকি সবাই অনেকদিন আগেই জেনেছে– চিনি কাকিমা, চিনি জেঠিমা, চিনি বৌদি চলে গেছে। রজত এসেছে কাজ করেছে, চলে গেছে। কিন্তু মনে মনে বিশ্বাস করেনি। একটি বছর চলে গেছে। মা আছে। সব সময় আছে। বরং সেই যে এল একবছর আগে, কিছু না বলে মায়ের হঠাৎ চলে যাবার অভিমানটা ভীষণভাবে এখনও ঘিরে আছে। দুঃখ ছিল না, বুকভরা অভিমান ছিল।
তাকিয়ে থেকে দু’চোখ দিয়ে এই প্রথম জল গড়িয়ে পড়ল। গলায় একটা ঘরঘর গোঙানি উঠেই নেমে গেল। গলা শুকিয়ে উঠল। জল বাধা মানছে না। তা হলে সত্যি আজ ছেড়ে দিতে হবে? বিশ্বাস করে নিতে হবে, মা সত্যিই নেই? বিশ্বচরাচরে কোথাও মা নেই। ঠাকুরমশাই পিঠে হাত রাখলেন। ফুলগুলো ছবির সামনে নামিয়ে রাখুন। আরও কিছুক্ষণ ফুলগুলো দু’হাতে নিয়ে চেয়ে রইল রজত। ফুলগুলো ফোটোর তলায় রাখতে গিয়ে ভাঙা অচেনা গলা বেরিয়ে এল শুধু– মা। এইবার সত্যি অনাথ হয়ে গেল। ভাই নেই বোন নেই, বাবা চলে গেছে বহুদিন। দু’হাত দিয়ে মুখ ঢাকলে রজত। হাত ভিজে যাচ্ছে। শরীর ফুলে ফুলে উঠছে। অনেক কষ্ট করে গলার স্বরকে চাপল। বউ নীলিমা দৌড়ে এল, ‘কী হল? কাজ শেষ হল? শরীর খারাপ লাগছে? চলো, তা হলে খেতে যাই। চারিদিকে হইহট্টগোল, এদিকে পড়ে থাকা মেয়ে আর বউ। আর চুপিসারে মায়ের সাথে বন্ধন শেষ হয়ে গেল। মা আর নেই, এই সত্যটা যেন চারিদিকে ঢাকঢোল নিয়ে লোকে প্রচার করছে। এই শব্দ সহ্য হচ্ছে না। একটু একা কোথাও বসতে পারলে ভাল হত। কিন্তু সবাই বসে আছে শেষ ব্যাচে খেতে বসার জন্য। মেয়ে এসে পিঠে হাত রাখল, ‘বাবা ওঠো, বাবা ওঠো।’
ওফ! কেউ জানল না এই প্রথম মা-হারা হল রজত। মা না থাকলে আর কেউ ছেলে থাকে না। নিরালম্ব মানুষ হয়ে যায়। তখন পরিচয় সে কারও পিতা। যে সম্পূর্ণ একা পৃথিবীর পথে। শেষ এক বছর তো রজতকে না বলে কোথাও যেন অজানা দেশে বেড়াতে গিয়েছিল। ফিরে এসে আজ যেন বিসর্জন হল। নাড়ি ছিঁড়ে গেল। ভাসতে ভাসতে চলে যাচ্ছে মায়ের সেই হাসি হাসি মুখ। ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। আর হাত বাড়ালেও ধরা যাবে না। ভিতরে একটা আর্তনাদ গুমরে ওঠে। মা, তুমি ভাল থেকো। আবার কবে দেখা হবে তোমার সঙ্গে?
রজত উঠে পড়লে আসন থেকে।

চিত্রণ: বাপ্পাদিত্য জানা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − nine =

Recent Posts

পবিত্র সরকার

পবিত্র সরকারের বিশেষ রচনা

বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষদের রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে একটু বেশি দুর্বলতা আছে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে যত কিছু, তাঁদের কাছেও তত কিছু তো বটেই, কিন্তু তারও চেয়ে অনেকটা বেশি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেনাপতি। বাহান্নর ভাষা-আন্দোলনের সময় থেকে, আয়ুব শাহি ফরমানে রেডিয়োতে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষেধ আর রবীন্দ্র-শতবার্ষিকীর ওপর ফতোয়া জারি থেকে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের এক মহাশক্তিধর যোদ্ধা, তাঁর সম্বন্ধে এঁরা তাই এত স্পর্শকাতর।

Read More »
মীরাতুন নাহার

মীরাতুন নাহারের প্রবন্ধ

হিন্দু-সাম্প্রদায়িকতা এবং মুসলমান-সাম্প্রদায়িকতা উভয়কেই তিনি যুক্তি ও তথ্যদ্বারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ধ্বংসাত্মক বলে বোঝাতে চেয়েছেন দেশবাসীকে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত দেশবাসীকে তিনি হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িকতার বিপদ সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যদিও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষ’ দেশবাসীর মন থেকে নিষ্কাশন করে দেশকে বিপন্মুক্ত করা।

Read More »
গৌতম ঘোষ

গৌতম ঘোষের প্রবন্ধ

চলচ্চিত্রের ধর্ম হল সময়কে ধরে রাখা, সময়ের স্মৃতিমালাকে ধরে রাখা। সেই পদ্ধতি, সেই প্রক্রিয়া কিন্তু চলতেই থাকবে। এখন আমাদের আরও মানবিক হতে হবে। চলচ্চিত্র যারা তৈরি করবেন তারা শুধুমাত্র সস্তার বিনোদন সরিয়ে রেখে একটু মানবিক ছবি করবেন। যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক, মানুষ ও সমাজের সম্পর্ক, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক থাকবে। যা আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্লাসিক সব সিনেমায় দেখেছি, সেই ভাবনায় ভাবতে হবে।

Read More »
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের বিশেষ নিবন্ধ

বস্তুত সুকান্ত কবিতার চাইতে বড়। তিনি এক প্রতীকচিহ্ন। সারা ভারতে যখন কবিকে ভাবা হয়েছে জনতার একজন প্রতিনিধি হিসেবে, তখন সুকান্তকেই ভাবা হয়েছে। তামিল বা হিন্দি সিনেমাতেও হয়েছে। যেমন রাজেশ খান্নার ‘অনুরোধ’ নামের ছবিটিতে যে কবিটি রাজেশের বন্ধু ছিলেন তার নাম সুকান্ত। অথবা অতদূরে কেন যাই, বাংলায় উত্তম-তনুজার ‘দেনা পাওনা’ ছবিতে উত্তম যে বন্ধুর চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন, তার নামও তো সুকান্ত। তিনিও তো ফুসফুসের রোগী।

Read More »
কালীকৃষ্ণ গুহ

কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতা

একটি রাত্রি কা লী কৃ ষ্ণ  গু হ প্রতিটি রাত্রিকেই নতুন মনে হয়— অচেনা লাগে। আজকের রাত্রিটা যেন চির-অচেনা যেন কিছু ঘটার ছিল যা ঘটেনি

Read More »
অভিজিৎ সিরাজ

অভিজিৎ সিরাজের ছোটগল্প

ফরেস্ট বাংলো অ ভি জি ৎ  সি রা জ শঙ্কর দত্তকে আমি শেষ দেখি আনন্দপুরে মাদুরদহের একটা স্কুল বাড়িতে। অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল সেদিন। বাড়ির

Read More »