Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

রহিত ঘোষালের কবিতাগুচ্ছ

তরিকা

সব বলবেন না।
একে অপরের তিল গণনা গোপন অঞ্চলের,
হিসাব রাখুন জঠরের কাছে।
ঈশ্বর এবং আমার একটি বোঝাপড়া,
স্বাক্ষর দেবে বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচি।
বেশি বেশি ঘনিষ্ঠ হতে চাই!
যদিও এটি একটি ধারা প্রয়োগ,
তবু মানচিত্রে আঁকা সম্পর্ক
কিছুটা তরল ও কাঙাল হুরের হাতে বহতা নদী,
তার সকল-সুন্দর-হাস্যময়
দাহিকাশক্তি
আমায় বানাল মরমিয়া।

**

জাগ্রত শতাব্দী

বেআব্রু রিকশায় উঠে মাথায় সাদা ওড়না দিয়ে জারুল বালি ছিটকে পুরাতন হয়ে যাও।
মুক্তভাবে সাজিয়েছি উনবিংশ শতাব্দী, জাগ্রত আছি অপ্রত্যাশিত প্রতীক্ষাহত কালের গর্ভে।
ইদানীং অন্বেষণ হয়েছে চিরস্থায়ী নাগরিক।।

***

কর্ণিকা

এই ছোট ছোট জিনিসের প্রতি তোমার যত্ন,
আমি বুঝতে চাই,
ভিজে মাটিতে হাঁসের পায়ের ছাপ, শিশির বিন্দুর রং,
গাছের গলার কাছে সকালের রোদ,
আমি কখনওই দেখতে পাইনি ছোট ছোট নীরবতা,
হৃদয়ের অভ্যাস, তোমার নামের সম্মোহনী ক্ষমতা।
গোপন থেকে অতি-গোপনীয় সৌন্দর্য,
আভামণ্ডলের বেদনা, দশসহস্র সূক্ষ্ম একাকিত্ব, তৃণক্ষেত্রের প্রথম নর-নারীকে,
আমি বুঝতে চাই।

****

Advertisement

কর্নার সিট

পাকতে সময় লাগে না, অনেক কিছুই বেলতলা যাবার আগেই এমনি এমনি ন্যাড়া। আমিও বেঁকে বসি ভর সন্ধেবেলা।
কালাচাঁদপুরের বাসা বাড়ি হাঁপিয়ে উঠছে।
হাঁপিয়ে নামছে না?
এখন আর গরম কাল নেই গরম-আজ হয়ে গেছে। রিকশার প্যা-পু’তে গরম আরও বেড়ে যায়।
বাড়ছে বাড়ুক, গরম অনেকটা চুলের মতো, খোলাই থাকে? খোলাই রাখো?
তোমার ভেজা চুল আমাকে সিগন্যাল দেয়।
আমি ব্ল্যাকে দুটো টিকিট কেটে ফেলি একদম কর্নার সিট।

*****

লাবণ্যমুখী

সে-ই শুধু চেয়েছে আমায়,
খুঁজতে খুঁজতে চলে এসেছে
রেললাইন পেরিয়ে, চুম্বনের দাগ পেরিয়ে, স্পর্ধিত স্রোত পেরিয়ে আমাদের বরণী গ্রামে, যেখানে আমাদের
ললাট লজ্জাহীন কালো, নিত্যদিনের দীর্ণ অবসর,
এখানে আষাঢ় শ্রাবণ স্নানের মাস, অনুকম্পার প্রদীপ
বেহায়া চুলের মতো ডাইনি ছলনায় ভাসায়, ফসলের যুবতী-শরীর হয়ে যায় শীতলপাটি। আরও এনেছে চুড়ির
নিশ্বাস, বসনহীন নির্মাণ।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 13 =

Recent Posts

যদুনাথ মুখোপাধ্যায়

বিজ্ঞানমনস্কতা কারে কয়?

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর তিনটি কবিতা

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

Read More »