Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

মানসশুভ্র সরকারের কয়েকটি কবিতা

বলয়

সারি সারি গাছেদের মধ্য দিয়ে পথ
ঝরা পাতারা ছড়িয়েছিটিয়ে উড়ছে
আমার সারা শরীরে শব্দের ক্ষত
নগ্ন হয়ে হাঁটছি পথ ধরে টলোমলো
খুঁজছি কোনও গাছের উদার দৃষ্টি
এ বার অন্তত গাছ হয়ে যাই
বদলে ফেলি নিজের নাম, রক্তের রং
শরীরে নিই কার্বন ডাইঅক্সাইড
অপেক্ষা, কোনও নরম ডানার প্রজাপতির
কোনও পরাগ মিলনের, যাতে আসুক এমন বীজ
যা ধারণ করে আমিও হয়ে উঠি
তোমার মতো গর্ভধারিণী জননী
কমে আসছে গাছের সংখ্যা, মমতার শাখা
অক্সিজেন প্রদানকারী মা’র তাজা বায়ু সেবনে
অক্ষয় হয় জীবন, তৈরি হয় ক্ষতিকর গ্যাসের বিরুদ্ধে বলয়…

***

চিরবসন্ত শহরের চিঠি

সবুজ, হলুদ আর গেরুয়া পাতা মোড়া
যে-শহরে তুমি থাকো
প্রাকৃতিক নিয়মেই সারা বছর সেখানে
বসন্তকে ঠেলে নেই গ্রীষ্মের অনধিকার প্রবেশ
শীত দূর থেকে বিদায় নেয় মৃদু হাসি নিয়ে
তাপমাত্রার হঠাৎ ঠান্ডা লাগলে
বসন্ত জিজ্ঞাসা করে অভিমানের কারণ
আছে কিছু গ্রীষ্মসাধকের গোপন মদত আর আঁতাঁত

চকোলেটের মতো হৃদয়কে রেখেছি চিরবসন্ত শহরে
তাপমাত্রার ওঠাপড়া চকোলেট সহ্য করতে পারে না
খুব শীতলতায় যেভাবে পাথুরে হয়
বা চরম তাপে গলে যায় মোমের মতো
সে হৃদয় শুধু সতেজ থাকে চিরবসন্তের শহরে

আঠারোশো কিলোমিটার দূরে থেকেও
আমি কখনও ঘামি, কখনও কেঁপে উঠি…

***

আগুন নিয়ে খেলা

বেশ কিছু বসন্তের উপবাসে থাকা শরীরে
ফুল ফুটতে গিয়েও ঝরে গেছে
শরীরও হয়নি সাধন মন্দির
দেবীর বেদি থেকে গেছে শূন্য
শরীর থেকে বহুবার বিদায় চেয়েছে
তার আত্মা, ইচ্ছার অদৃশ্য কঙ্কালরা

শূন্য মন্দিরে জ্বলে থাকে প্রদীপ
মাঝেমধ্যে তাতে ঢালো বেখেয়ালি তেল
শিখার আগুন নিয়ে খেলা আমি

ফুল নেই, দেবী নেই, অথচ আছে
তীব্র কটাক্ষ, সমালোচনা ও অঙ্গুলিহেলনমন্ত্র
অসামাজিক যুক্তিহীন নিষেধ, শক্তি প্রদর্শন

মঙ্গলদীপের শিখা ক্রমশ বিদ্রোহী
লেলিহান হয়ে পরিণত হতে চায় দাবানলে
আগুন নিয়ে যে খেলছে আমার ভিতর
পুড়িয়ে ছারখার করতে চায় শ্বাসরোধী সংস্কার

পবিত্র হওয়ার শর্ত সে বুঝেছে ওই শিখার ছোঁয়ায়…

চিত্রণ: ক্রিস্তিনা সাহা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + twelve =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »
রুহ

রুহের কবিতাগুচ্ছ

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

যুদ্ধ: বৈশ্বিক কসাইখানা, পুঁজির সংকট ও শ্রমের মুক্তি

অবিক্রীত পণ্যের পাহাড় যখন পুঁজির পুনরুৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন পুঁজিপতিরা তীব্র আতঙ্কে ভোগে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রতিযোগী পুঁজিপতির বাজার ও পণ্য ধ্বংস করতে চায়। আর এই ধ্বংসের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে তারা রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। অর্থাৎ, উদ্বৃত্ত পণ্য এবং অতিরিক্ত শ্রমকে ধ্বংস করে পুঁজির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই বুর্জোয়া যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। এই শোষণের প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে রাষ্ট্র একদল বুদ্ধিজীবী ও নীতিবিদ লালন করে, যারা কৃত্রিম ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’-এর আফিম খাইয়ে শ্রমিককে বিভ্রান্ত রাখে, যাতে তারা শোষক ও শোষিতের মধ্যকার মৌলিক শ্রেণি-পার্থক্য ভুলে যায়।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »
রাধাবল্লভ রায়

ধর্মযুদ্ধ

এই যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শতমুখে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, এই যে ফেসবুক জুড়ে বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে সম্মানীয় নেতা-মন্ত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, হিংসার প্রদর্শনী— এর প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে তাঁরা কি জানেন? পাড়ায় পাড়ায়, রকের আড্ডায়, ক্লাবের আড্ডায়— সর্বত্র বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্বোধ অসংযত উচ্চারণ কোন শিশুর হৃদয়ে কেমন ভাবে প্রোথিত হয় তাঁরা কি জানেন? ভেবে দেখেছেন কি এই বিদ্বেষিতার মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আগামী প্রজন্ম?

Read More »