Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

‘সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মার্ক্স-পথ অপরিহার্য নয়’, বলার স্পর্ধা রাখতেন মার্ক্স-পণ্ডিত শঙ্কর রায়

আইনস্টাইনের জন্মের চুয়ান্ন বছর আগে ‘গালিভারস ট্রাভেলস’ নামক বইয়ে জোনাথন সুইফট বলেছিলেন “…দার্শনিকরা নাকি বলেন, এই পৃথিবীতে তুলনা না করলে কোনও কিছুই বড় বা ছোট নেই।…” একথা আমাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভালভাবেই খাপ খায়— যা ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দ্বারা ব্যাখ্যাত সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বের মাধ্যমে বেঁচে থাকে।

আমরা যারা একসময় অতি-উৎসাহী হয়ে বামপন্থী রাজনীতি করেছিলাম, তারা সমাজবিপ্লবের স্বার্থে রাজনৈতিক সংগ্রাম-বিহীন জীবনের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলি। আমাদের হৃদয়ের যাবতীয় তন্ত্রী সংগ্রামের কামনাতেই ব্যস্ত থাকে। যেখানে সংগঠন— যেখানে সংগ্রাম— যেখানে মতবাদিক বিতর্ক সেখানেই নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়ানো হয়ে ওঠে রাজনীতি-লীলার অন্তর্ভুক্ত। মৃত্যুর ভয়কে পরোয়া না করে, আমাদের সংগ্রাম একটি আকর্ষণীয় রং ধারণ করে। কিন্তু শেষে আমাদের সমস্ত উৎসাহ একটি মায়াময় সুখ দিয়ে নয়, বরং একটি দুঃখজনক মোড় দিয়ে শেষ হয়। আমি বলছি— ১৮৯৬ সাল পরবর্তী মার্ক্সবাদী আন্দোলনের কথা— যা আমাদেরকে সংগ্রামে ভেঙে পড়ার উদ্দীপনা দেয়। অনেকে ভেঙে পড়ে এবং সেই ধারা এখনও অব্যাহত আছে। কিন্তু, আমি দুজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিকে চিনি যাঁরা ভেঙে পড়েছেন— তবে আরও বেশি চমৎকার কাঠামোয়। যাঁরা মার্ক্সবাদী আন্দোলনের এই ভেঙে পড়াকে দেখেছেন কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুনর্নবীকরণ হিসেবে।

মার্ক্সীয় ভাবনার এই অন্যতম দুইজন দিকপালের মধ্যে একজন হলেন অধ্যাপক পরেশ চট্টোপাধ্যায়, যিনি কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগে পড়াতেন এবং অন্যজন মার্ক্স-পণ্ডিত শঙ্কর রায়, যিনি কলকাতার বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক। তাঁদের সঙ্গে আমি গত তিনবছর ধরে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছি কিন্তু তার চেয়ে বেশি সময় ধরে তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছি। একারণেই আমি আপেক্ষিকতার তত্ত্ব দিয়ে এখানে আলোচনাটা শুরু করেছিলাম— কারণ, পরেশদা এবং শঙ্করদা সম্পর্কে আমার বিচার তাঁদের ভেতরের অন্তর্নিহিত সত্ত্বার সত্যকে প্রকাশ করার বদলে বলতে হবে সেই সত্ত্বাদুটোকে আমি কীভাবে উপলব্ধি করেছি— সেটার প্রকাশ।

মার্ক্স-পণ্ডিত শঙ্কর রায়।

অধ্যাপক চট্টোপাধ্যায়ের চারটি বই ইন্টালেকচ্যুয়াল সার্কেলে প্রশংসার সঙ্গে গৃহীত হয়। অধ্যাপক চট্টোপাধ্যায়ের লেখাপত্র প্রস্তাব করে যে— বিশ্বব্যাপী বামপন্থী আন্দোলন বিপর্যয়ের পিছনে রয়েছে সুস্থ উদ্দীপনা। তিনি সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের অভিজ্ঞতাকে মার্ক্সের কাজের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক মনে করতেন। এবং মনে করতেন মার্ক্সবাদের বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় প্রমাণ করে যে মার্ক্সবাদ কতটা বিভ্রমের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং মার্ক্স আজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক— কেননা, মার্ক্সবাদ মার্ক্সের চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি ধারা যা লেনিনবাদের সংস্পর্শে এসে বিকশিত হয়েছে এবং ধারাটি ক্রমাগত বিপর্যস্ত হয়ে চলেছে। পরেশদা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আর্টিকেল প্রকাশ করতেন।

পরেশদার মতে: Bolshevized socialism— ultimately rooted in the Lassalle-Kautsky tradition of the Second International— are first, an amalgam of state and society where the state under the communist party rule— passing for a proletarian state— subordinates society and, secondly, the idea that ownership relations determine production relations and that the juridical abolition of a specific form of capitalist ownership, that is, private individual ownership of the means of production signifies the abolition of capitalism itself, even if its value and wage categories persist— explained away as mere “forms” without exploitative content.

চলতি বছরের জানুয়ারির ১৫ তারিখে কানাডার রয়্যাল ভিক হাসপাতালে ছিয়ানব্বই বছর বয়সে অধ্যাপক পরেশ চট্টোপাধ্যায় প্রয়াত হন। সম্প্রতি ভারতের ‘অনুষ্টুপ’ প্রকাশনা অধ্যাপক চট্টোপাধ্যায়ের নানান সময়ে লেখা প্রবন্ধগুলোকে একত্র করে একটি বই প্রকাশ করেন— যে বইয়ে মার্ক্স-পণ্ডিত শঙ্কর রায়ের লেখা মুখবন্ধ সংযোজিত হয়। প্রকাশের সাতদিন পর ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখে শঙ্করদা ৮২ বছর বয়সে কলকাতায় প্রয়াত হন। এর আগে তিনি কানাডার আরেকজন মার্ক্স-পণ্ডিত অধ্যাপক মার্সেলো মুস্তোর লেখা ‘Another Marx’ নামক বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন। তাছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় বই রিভিউ করা ও বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনার ক্ষেত্রে শঙ্করদার খ্যাতি ছিল। শঙ্করদার সঙ্গে অনলাইনে আমার দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডা হত। তিনি মনে করতেন— মার্ক্সকে মার্ক্সবাদীরা যথাযথভাবে পাঠ করেননি। কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে, আবার কখনও অজ্ঞতাবশত মার্ক্সকে বিকৃতির অভিযোগও তোলেন মার্ক্সবাদীদের বিরুদ্ধে। তিনি মনে করতেন, বলশেভিক বিপ্লব ছিল একটি অভ্যুত্থান, বিপ্লব নয়। দেড় বছর আগে আমাকে একথা বলতে গিয়ে শঙ্করদা উল্লেখ করেছিলেন— লেনিনের জীবদ্দশায় এক ওলন্দাজ মার্ক্স স্কলার ‘মার্ক হ্যানসেন’ একটি গ্রন্থের (A SHOW TRIAL UNDER LENIN – The Trial of the Socialist Revolutionaries, Moscow 1922 by MARC JANSEN Translated from the Dutch by Jean Sanders) ভূমিকায় লেখেন: “The Bolsheviks seized power in Russia in October 1917 by staging a coup d’etat, and then established a dictatorship. The new rulers suppressed all armed resistance in a bloody civil war, after which they made every effort to uproot and exterminate even peaceful political opposition of all kinds.
Even now it is impossible in the Soviet Union to subject these developments to critical historical study. The political opponents of the Soviet regime of the time are still regarded by official Soviet historiography as counter-revolutionaries and the measures taken against them are seen as completely justified”.

পরেশ চট্টোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে আমাকে একটি ই-মেলে লেখেন: ‘‘Allow me to drop a few lines. Show trials under Lenin (and Trotsky) years before Stalin appeared with power are not entirely unknown. Though officially suppressed, they have been described in some detail in Solzhenitsyn’s well known book The Gulag Archipelago. Of course it is easy to dismiss him as a ‘reactionary’ or ‘counter revolutionary’ writer. However we have the testimony of Roy Medvedev, a staunch Leninist, in the pages of New Left Review 1974, May-June where he wrote that though he himself was not in agreement with “some of the writer’s judgments and conclusions, it must be firmly stated that the main facts of his book, specially all the details of life and torments of those who were imprisoned, from the time of their arrest to that of their death (or in rare cases of their release) are perfectly correct. The number of errors is very small in a work of such weight”. I on my part should add that in every case that Solzhenitsyn cites, he gives exact reference (including Lenin whose particular works in Russian he cites). By the way, the fact that a single individual could impose a revolution on a whole society clearly shows how ill prepared the people concerned were for their own emancipation.”

লেনিনবাদের ঘোরতর বিরোধী মার্ক্স-পণ্ডিত শঙ্কর রায় একসময় সিপিআই-এর একটি শাখা (রাজ্য পরিষদের প্রত্যক্ষ শাখা) সম্পাদক ছিলেন, যদিও ওঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তেমন কৌতূহলোদ্দীপক ছিল না। বাংলা ১৩৭৬ সনের ফাল্গুনে লেনিন জন্মশতবর্ষে দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছায় ‘পরিচয়’ পত্রিকায় তরুণ শঙ্কর রায়ের একটি লেখা প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘লেনিনের মৃত্যুতে ভারতীয় পত্র-পত্রিকার প্রতিক্রিয়া’। আট পৃষ্ঠার লেখাটি ছিল অত্যন্ত বেশি উদ্ধৃতিপূর্ণ। সেই প্রবন্ধের শুরুতে তিনি লেখেন, “…মিত্রশক্তি বরাবর বলশেভিজম ও ইহার নেতার কলঙ্ক রটনা করিবার চেষ্টা করিয়াছে। লোকের চক্ষে লেনিনকে রক্তপিপাসু-নররাক্ষস বলিয়া প্রমাণ করিবার চেষ্টাও কম হয় নাই। ইহারা লেনিনকে বুঝাইতে চাহিয়াছে যে লেনিন মানবশত্রু এবং মিত্রশক্তিই একমাত্র মানবমিত্র। কিন্তু এত চেষ্টা করিয়াও এই মহামানবের অনিষ্ট মিত্রশক্তি করিতে পারে নাই। লেনিনের চরিত্রগুণ ও প্রতিভা-শিখায় সকল কলঙ্ক-কথা পুড়িয়া ছাই হইয়া গিয়াছে। লেনিন ছিলেন গরীবদের মানুষ, তাহাদের দুঃখ তিনি নিজের দুঃখের মতো অনুভব করিতেন, একজন মানুষ দুঃখী থাকিবেন এবং একই সময়ে অপরজন সুখী হইবেন— মহাপ্রাণ লেনিন ইহা কল্পনাও করিতে পারিতেন না। পৃথিবীর সকল দুঃখের ও সুখের বোঝার ভার সকল মানুষকে সমানভাবে বহন করিতে হইবে এই ছিল লেনিনের মত।…”

আমি এই লেখাটি খুঁজে পেয়ে শঙ্করদার সঙ্গে শেয়ার করি। এটা দেখে তিনি নিজের অতীতকে নিয়ে ঠাট্টা করেছিলেন এবং তারপর লিখেছেন, “হা হা হা। তোমার মত পড়ুয়া আমি খুব কম দেখেছি। তখন আমার ৩০ বছর বয়স। চিত্রকর রবীন্দ্রনাথ নিয়ে ১৯৬১-৬৪-তে আর-একটা লেখা বেরিয়েছিল ‘জয়শ্রী’ পত্রিকায়। সেই সময়েই অনেক বুদ্ধিজীবী তারিফ করেছিলেন। তখনও সম্পাদক লীলা রায় বেঁচে ছিলেন। প্রবন্ধটির কপি আমার কাছে নেই। সেটা আবার পড়ে দেখতে ইচ্ছে করে।”

মার্ক্স ভাবাদর্শের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং মার্ক্সের চিরসখা এঙ্গেলসও তা-ই। এর সাক্ষ্য মেলে ‘জর্মান আইডিওলজি’, ‘হলি ফ্যামিলি’, ‘ইকোনমিক অ্যান্ড ফিলোসোফিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস ১৮৪৪’, ‘ম্যানিফেস্টো অব দ্যা কমিউনিস্ট পার্টি’, ‘অ্যান্টি-ড্যুরিং’, ‘ডায়ালেক্টিক অব ন্যাচার’ সহ মার্ক্স-এঙ্গেলসদের আরও নানান লেখাজোখায়। এমনকি খোদ মার্ক্সই মার্ক্সবাদী ছিলেন না, যা এঙ্গেলসের একটি চিঠির এই অংশ থেকে জানা যায়— “…Nor have you any other source, i.e. other than Malon at second hand, for your reiterated assertion that in France ‘Marxism’ suffers from a marked lack of esteem. Now what is known as ‘Marxism’ in France is, indeed, an altogether peculiar product— so much so that Marx once said to Lafargue: ‘Ce qu’il y a de certain c’est que moi, je ne suis pas Marxiste.’ [If anything is certain, it is that I myself am not a Marxist]…”

—Letters of Frederick Engels To Eduard Bernstein In Zurich -London 2-3 Nov. 1882

Source: MECW Volume 46, p. 353; (First published: in full, in Marx Engels Archives, Moscow, 1924)

আদর্শবাদ সমসময়ই একটি অন্ধ প্রেরণা তৈরি করে। এটি নতুন অভিজ্ঞতাকে এমনভাবে বিশ্লেষণ করে— যাতে পূর্বের সিদ্ধান্ত অটল থাকে। আমরা যারা কমিউনিজমের সাহিত্য চর্চা করি তারা সংখ্যাল্প এবং এই সংখ্যাল্পদের অভিজ্ঞতা হল আদর্শচ্যুতির অভিজ্ঞতা। সমাজের আরও দশটি আদর্শকে মোকাবিলা করেই আমরা এখানে আছি। গুগল ও ChatGPT-র আবিষ্কার আমাদেরকে দেখায় যে, আজকের যুগে একজন মানুষ নতুন তথ্যকে কত সহজে গ্রহণ করতে পারে। অতএব নতুন নতুন তথ্য ও অভিজ্ঞতাকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আমরা প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করছি। সেই নতুন নতুন তথ্যগুলোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আমাদের তত্ত্বে আসছে ক্রমাগত পরিবর্তন। তাই কোনও আদর্শে স্থির থাকাটা আজ সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। আমরা কী করব— কেন করব সেটা বোঝার জন্য আমাদের ইতিহাস ও আমাদের প্রজাতির স্বরূপ বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ফিজিক্স, বায়োলজি ও সাইকোলজি জানা। কাজেই আদর্শবাদ নয়— প্রয়োজন আদর্শের স্খলন। দূরদর্শী শঙ্কর রায় তাই শেষ বয়সে লিখতে সাহস করেছিলেন, ‘সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মার্ক্স-পথ অপরিহার্য নয়’।

চিত্র: তীর্থঙ্কর মিত্র
5 3 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
মোহাম্মদ কাজী মামুন
মোহাম্মদ কাজী মামুন
1 year ago

মার্ক্সবাদের বিভ্রম নিয়ে লেখা। খুব ভাল লাগল।

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »