Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ইরাজ জিয়াজির কবিতা

ই রা জ  জি য়া জি

অনুবাদ : শুভঙ্কর সাহা

শিশুর দল ও সূর্য

কখন এসে পৌঁছল ওরা ফুটপাতে, বসেও পড়ল? কীভাবে পার হয়ে এল অন্ধকার; বাড়ির, সিঁড়ির, সরু পথের?
কীভাবে পারল স্মৃতিগুলোকে পিছনে ফেলে দিতে ধাপে ধাপে
এবং ছেড়ে এল?
সকালবেলায়
তাঁতির দল, কাঠমিস্ত্রির দল, আর সারাইকারীরা
থেমে থেমে দেখল
কোনও বাড়ির কেউই চিনল না ওদের
মেয়েরা যারা বাজার করতে বেরিয়েছে, পেরিয়ে গেল তারপর
শিশুদের আর সূর্যের আলোর মধ্যে দিয়ে
সেই পুরোনো খড়ের দড়ির চেয়ারটা
হঠাৎ করেই কেমন যুবক হয়ে উঠল…

*

তেহরানের চিঠি

ডাকপিয়ন ফেলে গেছে
একটুকরো আকাশ, কিছু তারা আর কিছু শুভেচ্ছা অক্ষর
আমার তালুর ওপরে
বারবার ফিরে ফিরে এসেছে ৪৯ নম্বর বাড়িতে
দেখতে নদী এখনও জল ঢালে কি না
জানলার পিছনে বাসা-বাঁধা পাখিটা ঢালে কি না স্বর ঘরের মাঝখানে
আর যদি তুমি জানালাটা খোলো
দেখতে পাবে শুধুমাত্র দ্বিতীয় লাইন
একটা চিঠির কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম
তারা এসেছিল হত্যা আর আগুনের বিভীষিকা নিয়ে তারা ওই দ্বিতীয় লাইনটা মুছে দিয়েছিল
যা ওই ডাকপিয়ন লিখে দিয়েছিল খামের ওপর পশ্চিমের আন্দিজ পর্বতে তারপরে সব শান্ত…

*

ভাড়াবাড়িতে

ভাড়াবাড়িতে
তুমি তোমার কোটটা খুলে
ঝুলিয়ে রাখো জংধরা ধাতব হুকে
ক্লান্ত চামড়ার চটিতে পাদুটো গলিয়ে দাও
একটু থামো এবং তারপর
কাঠের চেয়ারের অপেক্ষার অবসান হয়
তুমি চোখ বন্ধ করো, খোলো
তুমি জানোও না কোন বাড়িতে তুমি বসে
কবিতা লিখছ ঝরে পড়া আসবাবের ওপর…

[১৯৪৯ সালে উত্তর ইরানের রাসত প্রদেশে জন্ম কবি ইরাজ জিয়াজির। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার ইস্পাহান শহরে চলে আসে এবং তিনি ‘জং ই ইস্পাহান’ নামে কবি-সাহিত্যিকদের এক বিখ্যাত গোষ্ঠীর সদস্য হন। ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। পরবর্তীতে তাঁর নির্বাচিত কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। এইমুহূর্তে ইরানের জনপ্রিয় কবিদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তাঁর লেখা মূল পার্সি কবিতার ইংরেজি অনুবাদ করেছেন আলিরেজা আবিজ।]

চিত্র: গুগল
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »