Search
Generic filters
Search
Generic filters

নিয়তি

স্টেশনের কাছে টোটো ছিল বেশ কয়েকটা। ট্রেন থেকে নেমে গেট পেরোতেই ছেঁকে ধরেছিল ওরা। কোথায় যাবেন, শুধোচ্ছিল বারবার। নিয়তি পাত্তা দেয়নি।

গ্রামটার নাম জানে, কিন্তু সে-গ্রামের ঠিক কোন জায়গাটাতে ও যাবে তা ওর অজানা। ঠিকঠাক না বলতে পারলে ওরা ওকে কোথায় নিয়ে যাবে! তার চেয়ে হেঁটে, লোককে জিজ্ঞেস করে করে যাওয়া ভাল।

মরুটিয়া গ্রামের রাস্তাটা কেবল শুধিয়েছিল এক দোকানিকে। তারপর সেই রাস্তা ধরেই হাঁটতে শুরু করেছিল। কিন্তু কতদূরে গ্রাম? হাঁটছে তো হাঁটছেই। ভাগ্যিস ছাতাটা সঙ্গে এনেছিল। নাহলে তো এত রোদে ওর টোটো ছাড়া গতি ছিল না!

এখনও চারদিকে শহরেরই ছোঁয়া। এই বিডিয়ো অফিস পার হল। এবার আবার থানা। গ্রামটা আসবে কখন কে জানে!

থানার কাছটাতে একটা লোক শশা বিক্রি করছিল। মরুটিয়া গ্রামটা কোনদিকে আবার জানার জন্য নিয়তি দাঁড়াল ওর কাছে।

লোকটা ভাবল, খরিদ্দার। কিনবে কিনা না শুধিয়েই বলল— ‘একটা পাঁচ, দুটো নিলে একটাকা কম।’

নিয়তি বলল— ‘মরুটিয়া গ্রামটা এই রাস্তাতেই তো? আর কতটা যেতে হবে?’

শশা বিক্রেতা লোকটা একটু নড়েচড়ে বসল। —‘মরুটিয়া এখন থেকেই শুরু। দেখছেন না থানার নাম? তবে গ্রামটা তো অনেকটা রাস্তা দিদি! যা রোদ, হেঁটে যাবেন কীভাবে? একটা টোটো নিয়ে নিন বরং।’

—‘দরকার নেই। হেঁটেই চলে যাব। হাঁটতে অসুবিধে হচ্ছে না। ছাতা আছে তো!’

—‘ওখানে যাবেন কাদের বাড়ি? আমিও তো মরুটিয়ারই লোক!’

একে বলাটা কি ঠিক হবে? আবার না বললেই বা কী ভাববে? —‘সাধন দাস।’ নিয়তি বলেই দিল নামটা।

—‘ও।’ কোনও ভাবান্তর দেখা গেল না শশাওলার চোখেমুখে। চেনে নাকি চেনে না? না চেনারই কথা অবশ্য। সাধন দাস খুব তো কেউকেটা কেউ নয়!

রাস্তা ধরে আবার হাঁটতে লাগল নিয়তি। পাকারাস্তার দু’ধারে ফাঁকা মাঠ। নিজের গ্রামের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। অনেকটা যাওয়ার পরে গ্রামটা পেল। রাস্তা একই। সে রাস্তা ধরে কিছুটা এগোতেই নজরে এল একটা ক্লাব। সেখানে লেখা, ‘মরুটিয়া যুব সংঘ’। মরুটিয়া গ্রামে ঢুকে পড়েই শুরু হয়েছে বুক জুড়ে আশা-আশঙ্কার দোলা।

ক্লাবের বারান্দায় কয়েকটা ছেলে আড্ডা দিচ্ছিল। —‘এই যে ভাইরা, সাধন দাসের বাড়িটা কোনদিকে একটু বলবে?’ শুধোয় নিয়তি।

একটা দাড়িওলা ছেলে জবাব দিল— ‘‘সোজা আরও কিছুটা যান। গিয়ে ডানদিকের রাস্তাটা ধরুন। একটা পোলট্রি ফার্ম পাবেন। সেখানে দেখবেন ‘বিল্টুর চায়ের দোকান’। ওখানে খোঁজ করুন। বলে দেবে।’’

‘বিল্টুর চায়ের দোকান’-এ নিয়তি পৌঁছে দেখল ওটা বন্ধ। কাছেই গরু চরাচ্ছিল একটা লোক। ও কি বলতে পারবে? জিজ্ঞেস করে দেখা যাক।

সাধন দাসের বাড়ির হদিশ জানতেই লোকটা একগাল হেসে বলল— ‘চলেই তো এসেছেন। ওই তো সামনের নিমগাছটার ডাইনে। কোত্থেকে আসছেন দিদি?’

—‘দিল্লি।’ বলে আর দাঁড়াল না নিয়তি। তবু শুনতে পেল লোকটার আপন মনে বলে চলা কথাগুলো— ‘দিল্লি কি এখানে? সাধনের বউয়ের কেউ হবে হয়তো!’

শেষ কথাটা কানে এসে লাগল নিয়তির। কিন্তু ঠিক বোধগম্য হল না।

ছ-ছ’টা মাস। কম সময় তো নয়! বাড়ির উদ্দেশে সেই যে লোকটা বেরল আর খোঁজ নেই। নিয়তি ফোন করেছে বার বার। কখনও শুধু রিং বেজে গেছে, কখনও ভেসে এসেছে সুইচ বন্ধ থাকার যান্ত্রিক ঘোষণা। লোকটার কিছু হল না তো! চিন্তা হয়েছে। আবার এ-ও মনে হয়েছে, খারাপ কিছু হলে তার খবর ঠিক এসে পৌঁছত কানে। মনে একটা অন্য কু-ডাক তখন থেকেই ডেকেছে। তাহলে কি…! গরু-চরানো লোকটার কথায় মনের সেই কু-ডাক আবার ডালপালা মেলে।

একটা মেয়ে এক্কা-দোক্কা খেলছে। নিয়তি ওকেই শুধোয়— ‘সাধন দাসের বাড়ি এটা?’

—‘বাবা তো বাড়ি নেই! কাজে গিয়েছে। মাকে ডাকব?’ মেয়েটা বাড়ির দিকে ছোটে। স্তব্ধ হয়ে ওখানেই বসে পড়ে নিয়তি।

***

—‘কীভাবে পরিচয় হল আপনার সঙ্গে?’ হাতে কলম নিয়ে নিয়তির দিকে তাকান থানার অফিসার ইনচার্জ।

—‘দিল্লিতে ও যে সোনার দোকানে কাজ করত তার পাশেই ছিল আমাদের পোশাক তৈরির কারখানা। আমি বাসে আসতাম। ও-ও তাই। দু’জনেই বাঙালি। আলাপ হয়ে গেল একদিন।’

—‘তারপর?’

—‘তারপর পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা। বলল, বিয়ে করবে। আমি বললাম, বাড়িতে জানাও তাহলে। ও বলল, দরকার নেই। ওখানে কেউ নেই। বাবা মারা গেছে ছোটবেলায়। আর মা কিছুদিন আগে। মা মারা যেতেই ভিটে দেখভালের দায়িত্ব এক দূর সম্পর্কের পিসির উপর চাপিয়ে ও চলে এসেছে দিল্লি।
দিল্লিতে আমিও গিয়েছি এক গ্রাম থেকেই। গ্রামে আমার বিয়ের ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের রাতে দেনাপাওনা নিয়ে ঝগড়া। বর চলে গেল। এরপর বাড়িতে কোণঠাসা হয়ে পড়লাম। কী করব? গ্রামের একজন দিদি দিল্লিতে কাজ করত। ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছিল। ধরলাম, ওর হাতেপায়ে। ওই দিদির সঙ্গেই এরপর দিল্লি যাই। প্রথমে কাজ লোকের বাড়ি, পরে পোশাক তৈরির কারখানায়।
ওর কথামত, ওর গ্রামে ভিটে ছাড়া কিছু ছিল না। আর আমার সবাই থেকেও কেউ নেই। কাজেই বিয়েতে কাউকে জানাবার কিছু ছিল না। আমরা বিয়ে করলাম। বস্তিতে আমার ঘরটা ভাল। ও ওখানেই উঠে এল। ছ’মাস বেশ সুখেই কাটল আমাদের। তারপর একদিন ও বলল, দেশে ভিটেটা পড়ে আছে। বিক্রি করে দিতে যাবে। আমি বললাম, বেশ যাও। কিন্তু গেল তো গেলই। তারপর আজ এসে দেখি এই।’

—‘লোকটা যে এতটা ফ্রড, আপনি একটুও বুঝতে পারেননি?’

—‘না, আসলে ভালবেসেছিলাম তো! জানেন, ওর কোথায় বাড়ি তা পর্যন্ত আমি জানতে চাইনি। ও নিজের থেকেই একদিন বলেছিল, ওর গ্রামের নাম, শিয়ালদহ থেকে কোন স্টেশনে নামতে হয় ইত্যাদি। মরুটিয়া নামটা আমার শোনা। আমার এক পিসির মেয়ের বিয়ে হয়েছে মরুটিয়া বলে একটা জায়গায়, শুনেছিলাম। পিসির মেয়েকে ওর বিয়ের আগে দেখেছিও একবার। কিন্তু ওই পর্যন্তই। পিসির সঙ্গে আমাদের তো তেমন যোগাযোগ ছিল না। তাই পিসির মেয়ের বিয়েতেও যাইনি। সেজন্য জানতামও না মরুটিয়া কোথায়, কার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ইত্যাদি। তবু মরুটিয়া নামটা শুনেছিলাম। তাই হয়তো মনে থেকে গিয়েছিল।’

—‘পিসির মেয়ের বিয়ে হয়েছে মরুটিয়াতে, কখনও বলেননি ওকে?’

—‘বলেছিলাম। উত্তরে ও বলেছিল, মরুটিয়া কি পশ্চিমবঙ্গে একটা আছে?’

—‘বুঝুন অবস্থা!’

—‘আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি সেই মরুটিয়াই…’ ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে নিয়তি।

—‘এখন দেখছেন তো, সামান্য পরিচয়ে সম্পর্কে জড়ানোর বিপদ! এইসব লোক এভাবেই নানা জায়গায় মেয়েদের প্রতারণা করে বেড়ায়। তবে ভাববেন না, জেলে ওকে পুরবই। আচ্ছা, দুজনের একসঙ্গের কোনও ছবি আছে?’

বিয়ের পরেই দুজনের ছবি তোলা হয়েছিল। তার একটা মানিব্যাগে বয়ে বেড়িয়েছে এতদিন। অফিসার ইনচার্জকে সেটাই বের করে দেয় নিয়তি।

***

—‘ছোটমা!’

স্টেশনের রাস্তা ধরে এগোতে গিয়ে হঠাৎ পিছুডাক।

নিয়তি তাকিয়ে দেখে হন্তদন্ত হয়ে আসছে মা-মেয়ে। নিয়তি হাঁটার গতি বাড়িয়ে দেয়।

—‘ছোটমা! একটু দাঁড়াও!’ কচি গলায় একটা আর্তি ভেসে আসে।

ওদের হাত থেকে বাঁচার জন্য টোটোয় উঠে বসবে কি? টোটোয় উঠে স্টেশনে গিয়ে ভিড়ে লুকিয়ে গেলে আর হয়তো ওকে খুঁজেই পাবে না ওরা! কিন্তু কচি গলায় ‘ছোটমা’ ওকে বিপদে ফেলে দেয়। সাতপাঁচ ভেবে একটু দাঁড়িয়েই যায় নিয়তি।

—‘এভাবে আমাদের ভাসিয়ে চলে যাস না বোন!’

রাগে নিয়তির চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। ‘শুধু নিজের ভেসে যাওয়াই দেখছিস? আমি যে ভেসে গেলাম, সেটা বুঝি কিছু নয়?’

কেঁদে ওঠে মা ও মেয়ে।

—‘কাঁদিস না। একই লোক দুটো মেয়েকে প্রতারণা করল, ওর একটা শাস্তি হওয়া দরকার!’

—‘ও জেলে গেলে আমাদের চলবে কী করে? একটু দয়া কর!’

এ সময় একটা শিমুলগাছের আড়ালে প্রতারকের অবয়ব দেখা যায়। নিয়তি কি ছুটে গিয়ে ওকে এলোপাথাড়ি মারতে লাগবে? তারপর কলার ধরে হিড়হিড় করে থানায় টেনে নিয়ে যাবে? বলবে, এই নিন আসামি?

—‘ছোটমা, বাবা কিন্তু তোমার জন্য লুকিয়ে কাঁদে। আমি একদিন ধরে ফেলে জিজ্ঞেস করেছিলাম। বাবা আমাকে বলেছিল তোমার কথা।’ কচি গলায় হঠাৎ ভিন্ন সুর।

এই ভিন্ন সুরে একটু কি টলে যায় নিয়তি? খুব দূরে তো নয়। ও দেখে কেমন আলুথালু চেয়ে আছে লোকটা! এমন অসহায় দৃষ্টির সামনে নিজেকে বড় বিব্রত লাগে নিয়তির।

কিন্তু মেয়েটা শিখিয়ে দেওয়া কথা বলছে না তো? লোকটার দিকে তাকিয়ে ওর কথা অবিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় না। তবু প্রতারণা প্রতারণাই। লোকটার দিক থেকে জোর করে চোখ ফিরিয়ে আবার শক্ত হয়ে যায়।

—‘বোন হয়ে দিদির এমন ক্ষতি করে যাস না তুই!’

ক্ষতির কথায় এবারে কিন্তু কেঁপে ওঠে নিয়তি। শেষ অবধি নিজের নামটাতেই বাজেভাবে উঠে বসেছে নাকি ও? নিজে যতই বঞ্চিত হোক, অন্যের ভাগ্য নিয়ে খেলায় আর তেমন জোর পায় না।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 9 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মহালয়া

এই চণ্ডীপাঠকে অভাবিত মাত্রা দিয়েছে কলকাতার আকাশবাণী কেন্দ্র। ১৯২৭ সালে স্থাপিত হওয়া এই বেতার প্রচারকেন্দ্র থেকে (তখন নাম ছিল ‘Indian State Broadcasting Service’) ১৯৩১-এর ১১-ই অক্টোবর সর্বপ্রথম মহালয়ার অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। স্তোত্রপাঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরিকল্পনা বাণীকুমার, প্রকৃত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। অচিরেই এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। অদ্যাপি, প্রায় শতবর্ষ হতে চলল, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পীর পরিবর্তন হয়েছে, মহালয়ার প্রাক্-সূর্যোদয়ে এখনও কী কলকাতা, কী কানপুর-ঢাকা-ম্যাসাচুসেটস-আগরতলা-আন্দামান-মেহেরপুর-টোকিওর বাঙালি এটা শুনতে ভোলেন না।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চিরজীবী বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »