Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

কুহক

বাপের সঙ্গে বাধ্য মেয়ের মত পানের বরজের দিকেই যাচ্ছিল মালতি, হঠাৎ তার কানে ঢোকে সেই আশ্চর্য শব্দটা যেটা আজ ক’দিন হল তাকে জ্বালাচ্ছে। যেন কেউ দৌড়চ্ছে, বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে। শুধু শব্দ কেন, ছায়ার মত কী যে সরে সরে যায় গাছের আড়ালে, বাপের ভয়ে মালতি ভাল করে চাইতেই পারে না। অথচ তাদের সঙ্গে সঙ্গে সারা রাস্তা যায় সেই ছায়া, লুকোচুরি খেলে, যেন হাতছানি দিয়ে মালতিকে ডাকে। তার কল্পনায় সেই ছায়াকে কখনও দেখায় যেন ভালুকের মত, কখনও হলদে রঙের চিতাবাঘ। ঘন কালো লোমশ শরীরে পেছনের দু’পায়ে ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়, যেন একটা পান গাছের চেয়েও লম্বা সে। আবার কখনও গাছের ফাঁকফোকরে সোনালি রোদের শিখার মত চারপায়ে ছোটে আর লম্বা লেজখানা মাটিতে আছাড় পাড়ে। এই আছে, আবার এই নেইও।

সবর বারুইয়ের কিন্তু কোনও ভাবান্তর নেই, সে ঝুড়ি নিয়ে যেমন যাচ্ছিল তেমনই যায়। কিছু শোনেও না, দেখেও না। বরং মেয়ের উসখুসানি দেখে ভাবে ‘থাপরাইয়া দেওন লাগে। বয়স্থা মাইয়া, মাটির ওপর চক্ষু থাকা লাগে, তা না, খালি উলুকঝুলুক।’

বাপকে যমের থেকেও বেশি ডরায় মালতি। মা-মরা মেয়ে বলে সবর তাকে একটুকু রেয়াত করে না। মদ খেয়ে ঘরে এসে যদি দেখে পান থেকে চুন খসা, তাহলে মেয়ের মাথার মোটা বেণি পাকলে ধরে হাতে, চোখ ভাঁটার মত করে জিগায়, ‘এইডা হয় নাই ক্যান?’ ব্যাস, মালতির প্রাণটা যেন উড়ে গিয়ে বরজের ছাদে বসে। বসে বসে দেখতে থাকে শুকনো কাশের মরা শরীর দিয়ে তৈরি বরজের ছাদ, সেই ছাদ ছুঁয়ে ফেলা আঁকশির মত কচি সবুজ পানপাতা, বরজ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা সুপুরির গাছ আর কোনার পুকুরটা। বাপ যতবার থাপ্পড় মারে, পুকুরের কাদাজলে লাফিয়ে পড়া সোনা ব্যাঙের মত কেঁপে ওঠে মালতি, কিন্তু তেমন ব্যথা তার লাগে না। কারণ মনটা তখন সে নিয়ে গিয়ে ফেলতে পারে বরজের আশেপাশে।

মোদ্দা কথা, পানের বরজটি মেয়ের প্রাণ। কেন তা মেয়ে নিজেও জানে না। নামের পরে বারুই শুনে বোঝা যাচ্ছে বাপ তার পানচাষিই বটে, কিন্তু নিজের বরজ তাদের কস্মিনকালেও ছিল না। অন্যের বরজে জন খেটেই দিন কাবার। ভেঙে পড়া মাটির দাওয়া আর ফুটো ছাদের মাটির ঘর থেকে বাপ-মেয়ে রোজ সকালে পান্তা নিয়ে রওনা হয়, ফিরতে ফিরতে সুয্যি ঠাউর অস্তে বসেন।

পান বরজে কাজ কী কম! দু’সারি লতিয়ে ওঠা পানের সারির মধ্যে দু’ফুটের মত তফাত, সেখানে উড়েপুড়ে আসা লতাপাতা আবর্জনা পরিষ্কার করা, পান গাছের বাইতে পারার সুবিধের জন্য তাকে সরু বাঁশের গায়ে বেঁধে দেওয়া, গাছের গোড়ায় খোল দেওয়া, নতুন গাছ লাগাবার সময় নির্দিষ্ট তফাতে এক সাইজের গোল গর্ত করা, বরজে অনেক কাজ। গাছের গোড়া পুঁতে চারধারে ঝুরো মাটি দিয়ে সে গর্ত সবর বারুই বুজিয়ে দেয় নতুন করে লতা বসাবার সময়। ঝুরো মাটিতে নতুন গজানো নরম শেকড় হাত পা আর সরু সরু আঙুল নিশ্চিন্তে মেলার অবকাশ পায়। গাছ তরতর করে বাড়ে।

তবে সবচেয়ে বড় কাজ মালতির। মাটির কলসিতে করে পুকুর থেকে জল তুলে এনে পাঁচ আঙুল কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে জলের ফোঁটা ফেলতে হয় পান গাছের গোড়ায়। সে এক বিশেষ কায়দা। সবাই পারে না। সব আঙুলে হয় না। কচি ঢ্যাঁড়সের মত গোড়া মোটা, ডগা সরু আঙুল চাই, তবে পান গাছ তেষ্টার জল নেবে। পুরুষের ঢ্যাবঢেবে কড়াপড়া কোদালের মত হাতে অমন আঙুলও থাকে না, পান গাছ তাদের হাতে জলও খায় না। তবে মালিক পাম্প করে গাছে জল দেবার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ধোপে টেঁকেনি। এখানে কারেন্ট বড় কমজোরি। আদ্দেক সময় থাকে না, আদ্দেক সময় থাকলেও কুপি জ্বেলে দেখতে হয় আছে কিনা।

এইসব মাপটাপ নির্ভুল বোঝে-শোনে বলেই পানের বরজটা সর্বদা তার কলজের টুকরো মালতিকে আয় আয় বলে ডাকতে থাকে। মালতিও যাই বলে পা বাড়িয়েই আছে, কিন্তু বাদ সাধে গ্রাম থেকে বরজের দূরত্ব। ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া সরু রাস্তা, দু’পাশে গাছগাছালির উবুড় করা মাথায় দিনের বেলাতেই যেন আন্ধার! ভুতপ্রেতের ভয় আছে, দত্যিদানো, হিংস্র পশু, বদ মানুষ, কীসের ভয় নেই সেখানে! এই অঞ্চলের পুরনো রাজবাড়ি ঘেঁষা বরজ। কয়েক বিঘার ওপর। একলপ্তে এতটা জমি আর কোথায়ই বা পাওয়া যেত।

কিন্তু ঝামেলা করেছে পরিত্যক্ত রাজবাড়িটা। বিশাল প্রাসাদের দরজা-জানালা তো অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে, এখন কার্নিস থেকে শুরু করে থাম, সামনের বিশাল তোরণ সবই খসে খসে পড়ছে। সব কিছু গিলে খাওয়া অন্ধকারকে পেটের ভেতর জমিয়ে নিয়ে রাজবাড়ি একা দাঁড়িয়ে শীতে কাঁপে, গরমে ঘামে, বৃষ্টিতে ভেজে।

আশপাশের ধানখেত বা এই বরজে যারা খাটতে আসে, তারা জঙ্গল পার হয়েই আসে, কিন্তু ভুলেও জষ্টির দুপুরে তপ্ত মাথা ঠান্ডা করতে, মাঘের জাড় বা ঝড়বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে রাজবাড়িতে ঢোকে না। কীসের যে ভয়, গ্রামীণ মানুষগুলো ভাল করে বলতে পারে না, বোঝেও না। কিন্তু ভয় পায় আর কাজের সময়টুকু ছাড়া এ তল্লাটে আর এক মুহূর্তও তিষ্টোয় না।

তাই বরজে যাবার পথে কী না কী দেখে মালতি যখন চঞ্চল হয়ে উঠল, তখন তার মাথায় প্রথম এল রাজবাড়ির কথা। যা সে আবছা দেখছে, অথচ তার বাপ দেখছে না মোটেই, তার বাস ওই প্রাসাদের পেটের ভেতরের আন্ধারে নয় তো! পুকুর থেকে জল আনতে গিয়ে রাজবাড়ির ভাঙা চুড়ো নজরে আসে, মালতির হাত ভরে যায় লোমকাঁটায়। মনে হয় আলকুশি ঝোপের পেছনে কী যেন সাঁৎ করে সরে গেল। খেতে বসেছে, টুপ করে একটা পাথর গড়িয়ে এল তার পাতের দিকে। সারাক্ষণ কে যেন তাকে নজরে নজরে রাখছে।

Advertisement

নজরে রাখার মতই মেয়ে তো মালতি। শুধু চাঁপাকলির মত আঙুল নয়, তার শরীরের গড়নও বড় লক্ষ্মীমন্ত। কোমর ছাপানো চুল আর ভারী দুঃখী একজোড়া চোখ। ভরা বুকে আকছারই নজর আটকে বঁড়শিতে বেঁধা মাছের মত ছটফটায় বরজের অন্য খাটিয়েরা। লোকে বলে তার মায়ের মত হয়েছে সে অবিকল। সেই মা, যে নিজে পানচাষির মেয়ে ছিল বলে পান নিয়ে কত গল্পকথা জানত!

এখনও জোছনার ক্ষীর মাখামাখি রাতের বাতাসে মা-র গলার আভাস পায় মালতি, ‘পান পাতা সহজ পাতা না। দ্যাবতা আর অসুরের যুদ্ধে যখন সমুদ্রমন্থন হইল, তখন সুধার কলসি সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্য থিকা উইঠ্যা আইল বাসুকিরে দিয়া দড়ি টানাটানিতে। সেই কলসি দেইখ্যা হুড়াহুড়ি পইড়া গেল দুই দলে। তার ঠ্যালায় দুই এক ফোঁটা অমৃত ছিটকাইয়া গিয়া পড়ল পাতালে নাগরাজের বাসায়। সেইখানে নাগবল্লি নামে যে লতা গজাইল, হেই আমাগো পানের লতা। কত্ত যে রোগ সারে মা, মনের শোক দূরে যায় এই পাতার সেবনে, তা আর তরে কী কমু, মা।’

মনের শোক দূরে যায় কথাটা মনে পড়তে মালতি নড়েচড়ে বসে। তার মাতাল বাবা তাকে মারে, খেতে দেয় না, অকথ্য গালাগাল করে। এমন সন্দেহ বাতিকওয়ালা পুরুষ সে, অন্য কারও সামনে মেয়ে মাটি থেকে চোখ উপরে তুললেই তার মাথায় ভুত চাপে। মেয়ের অস্থানে-কুস্থানে লাথি মারতেও পা কাঁপে না। চুল টেনে মাটিতে শুইয়ে দেয়। মনের শোকে মালতি পাগল হয়ে যেতে যেতে ঘরে রাখা দু-একটা শুকনো পান পাতা চিবিয়ে নেয়, তারপর আবার ভাতে ভাত রাঁধে, ছেঁড়া কাঁথা রোদে দেয়। কে যে তাকে দেখে নোনা ঝোপের আড়াল থেকে, বরজ অব্দি সবটা রাস্তা দৌড়ে যায় তার সঙ্গে সঙ্গে, জানতে পারলে মালতি তার কাছেই চলে যেত। এইসব ভাবতে ভাবতে আনচান করা শরীর আর অবশ মন নিয়ে মালতি শুঁড়িখানা থেকে বাপের ফেরার অপেক্ষায় দাওয়ায় বসে থাকে মাঝরাত অব্দি।

কিন্তু সেদিন শেয়ালের ডাক শেষ হলে, টুপটাপ শিশির পড়ার আওয়াজ শুনতে শুনতে মালতি ভাবে ভোর হয়ে গেল, ছেঁড়া কাঁথা ভাঁজ করে সে বাইরে আসে। বাইরে এসে তার চোখে ধাঁধা লেগে যায়। কী জোৎস্না, কী জোৎস্না গাছের পাতায়, খোড়ো চালের ওপর, যেন হাটের গর্জন তেল মাখা দুর্গা প্রতিমার মত চকচক করছে চারধার। দাওয়ার সামনে নয়নতারা ফুল গাছে এ ডাল থেকে সে ডালে বোনা সূক্ষ্ম কারুকাজের মাকড়সার জালে শিশির বিন্দু আটকে রয়েছে, যেন গল্পে শোনা রানিমার সাতনরী হার।

এত সুন্দর কিছু কমই দেখেছে মালতি তার ছোট জীবনে। দরজার বাঁশ ধরে সে শুধু চেয়েই থাকে, গঞ্জের মাগীপাড়ায় রাত কাটাবার জন্যও বাপের ওপর যেন রাগ করতেও ভুলে যায়। প্রায়ই তো সে যায় সেখানে এবং ফিরে এসে একটুও লজ্জা না পেয়ে মেয়ের ওপর তম্বি করতে থাকে।

অবাক মেয়ে চাঁদ থেকে ঝরে পড়া সুধা চোখ দিয়ে চেটে নিতে থাকে, যতটুকু রাত বাকি আছে, এমন ঠেসান দিয়ে কাটিয়ে দেবে ঠিক করে ফেলে। তখনই নজর যায় সবেদা গাছের ছায়ার দিকে, ছাগল বাঁধার খুটোর ওপাশ থেকে কে যেন সরে গেল। একবার মনে হল অতিকায় কিছু, কালো রেশমে ঢাকা তার বিরাট শরীর। পরক্ষণেই ভাবল, না না, লাল-হলুদ মেশানো মহার্ঘ্য ত্বক আর সরু কোমরের কিছু যেন লাফ দিয়ে চলে গেল। আগুনের খণ্ডের মত তার দুই চোখ, মেয়েকে দেখে যেন একপলকের জন্য বড় কোমল হয়ে এসেছিল!

যেইই হোক না কেন সে, মালতির আর ভয় করছিল না। আকাশের দিকে তাকিয়ে সে দেখল ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের ফাঁকে যেন দোল খাচ্ছে পানলতার উজ্জ্বল রংধরা নতুন পাতার বাহার। কী যে গোলমাল হয়ে গেল মাথার ভেতর, ঠিক করে নিল এই শেষরাতেই রওনা হয়ে যাবে বরজের দিকে। মা তাকে বলেছিল এইরকম জোছনার রাতে শিশিরের আওয়াজের মধ্যে পুরুষ পাতারা আদর করে জড়িয়ে ধরে মেয়ে পাতাদের। দু’ধরনের পাতা সাপ্টে লেগে থাকে এ ওর সঙ্গে, যতক্ষণ আকাশে জোছনা থাকে ততক্ষণ। ভোরের প্রথম মোরগ ডাকের সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে যায় এই বাঁধন, দুই পাতা দুইদিকে এলিয়ে পড়লে দেখা যায় ডগা থেকে বেরিয়েছে নতুন কচি পাতা। ফনফনিয়ে বাড়ে তারা খোল খেয়ে; না জোছনায় লুকনো আদর খেয়ে কেউ জানে না। ওই সদ্য গজানো কচি পাতাটি যে খাবে মনের শোক কাকে বলে সে ভুলে যাবে।

ঘুমজড়ানো দুঃখী চোখে ঘরের ভেতর মাচার নিচে হাঁটু ভেঙে বসে থাকা ছাগলছানার লটপটে কানে চুমু খায় মালতি। বাইরে এসে দোর বাঁধে পাটের দড়িতে। কনুই থেকে দু’হাত ভেঙে মেঘের মত একরাশ চুল হাতখোঁপায় জড়িয়ে নেয়, তারপর হাঁটতে থাকে পানপাতার জোড়া লাগা দেখবে বলে। জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে পড়ে তার চেনা রাস্তায়, ডালপালা মাথায় ঝুঁকে পড়ে চুমু খায়। লতাপাতা পায়ে জড়িয়ে ধরে। মেয়ে বুঝতে পারে কে যেন রাস্তার ধারে গাছের আড়ালে চলে তার পায়ে পায়ে। সে অতিকায় না ক্ষিপ্র গতির, এসব ভাবেই না সে। তার পোষা ছাগলছানাটির মত তাকে অনুসরণ করে যে যাচ্ছে বনপথে, তার জন্য জীবনের সবচেয়ে আগ্রাসী চুমুটি ঠোঁটে চেপে রেখে পানপাতা হবে বলে, মনের শোক ভুলবে বলে বাতাসে দুলে দুলে বরজের দিকে ছুটতে থাকে মালতি বারুই।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

One Response

  1. আস্বাদিত তাই এমন গল্পের জন্য মন উচাটন। কী অনাবিল। কী নিটোল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 3 =

Recent Posts

গৌতম চক্রবর্তী

দুই হুজুরের গপ্পো

১৯৩০ সালের ১৪ জুলাই, আলবার্ট আইনস্টাইন বার্লিনের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে স্বাগত জানান ভারতীয় কবি, দার্শনিক ও সঙ্গীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তিনি ছিলেন প্রথম অ-ইউরোপীয় নোবেল বিজয়ী। তাঁদের এই সাক্ষাৎকারটি ইতিহাসের অন্যতম বুদ্ধিদীপ্ত ও মননশীল আলাপচারিতায় পরিণত হয়, যেখানে তাঁরা বিজ্ঞান ও ধর্মের চিরন্তন দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করেন। “সায়েন্স অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান ট্রাডিশন: হোয়েন আইনস্টাইন মেট টেগোর” গ্রন্থে এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের বিবরণ পাওয়া যায়। এই বইতে বিশ শতকের শুরুতে ভারতের বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিক চিন্তার মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আশা ভোসলে ও তাঁর বাংলা গান

সুদীর্ঘ আট দশক ধরে তিনি তাঁর সঙ্গীতের সুধায় ভরিয়ে দিয়েছেন কেবল ভারত বা এই উপমহাদেশকেই নয়, বিশ্বকে। পরিণত বয়সেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর, যেমন কয়েক বছর আগে হয়েছিল তাঁর স্বনামখ্যাত অগ্রজা লতা মঙ্গেশকরের। আশা ভোসলে তাঁর সমগ্র জীবনে বারো হাজার গান গেয়ে গিনেস বুকে স্থান পেয়েছেন। একদিকে ধ্রুপদী সঙ্গীত, অন্যদিকে লঘু, পপ, এমনকী চটুল গানেও তাঁর সমকক্ষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সমসাময়িক কিংবদন্তি শিল্পীদের মধ্যে এজন্য অনায়াসে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

স্প্যানিশ ছোটগল্প: পুতুল রানি

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

Read More »
যদুনাথ মুখোপাধ্যায়

বিজ্ঞানমনস্কতা কারে কয়?

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »