Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

পার্টিতন্ত্র ও নানা ভ্রান্ত চেতনার কুপ্রভাব গেড়ে বসেছে: প্রদীপ বকশি

ভারতে সংসদীয় চত্বরে বামপন্থীদের বিপর্যয় (কোথাও কোথাও আঞ্চলিক/ খণ্ডিত সাফল্য সত্ত্বেও) কংগ্রেস থেকে শুরু করে অন্যান্য যে সব দল স্বাধীনতা আন্দোলনে শামিল ছিল, তাদের অনেকেই এতে উদ্বিগ্ন। তারা বামেদের উপস্থিতি বিনা সংসদীয় সংগ্রামকে মোটেই সুলক্ষণ মনে করছেন না। অন্যদিকে সরকারি বাম (প্রধানত সাবেক মার্ক্সবাদী) দলগুলি আত্মবীক্ষার কর্তব্য পালনে দায়সারা ভূমিকা নিচ্ছে। সরকারি মার্ক্সবাদী (লেনিনবাদী বলাই হয়তো ভাল) দলগুলির অবস্থা সারা দুনিয়ায় প্রায় শোচনীয়। বলা বাহুল্য, পার্টিতন্ত্রের বাইরে গণতন্ত্রপ্রেমী ও বামমনস্ক বুদ্ধিজীবীরাও তাই মনে করেন বলে আমাদের বিশ্বাস। প্রবীণ মার্ক্স-অনুসারী সাংবাদিক শঙ্কর রায় এ নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন রাখেন মার্ক্স-চর্চাবিদ প্রদীপ বকশি-র কাছে। প্রদীপ বকশি মার্ক্সের গণিতবিষয়ক পাণ্ডুলিপির ইংরেজি ও বাংলা অনুবাদক। উত্তরগুলি তাত্ত্বিক স্তরে হলেও তার ফলিত দিকটা আলোচিত হয়েছে। আমরা চাই এ নিয়ে চর্চা হোক। তাই সবিনয়ে আমরা এর সূত্রপাত করলাম।

সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির (অর্থাৎ, ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর) পরে, আর বিশেষ করে, ২০০৯ সালের পরে আমাদের দেশে ‘সরকারি’ মার্ক্সবাদীদের [অর্থাৎ, সিপিআই (এম), সিপিআই ও সিপিআই (এম-এল)-এর] নানা গোষ্ঠীর ও দলগুলির নেতা-নেত্রী, তাত্ত্বিক, কর্মী ও সমর্থকেরা একদা সদা-সমালোচিত (কখনও-সখনও ঘৃণিত) সোশ্যাল ডেমক্র্যাটদের এবং ‘বেসরকারি’ বামপন্থী দলগুলির নির্বাচনী সাফল্যে পুলকিত ও উল্লসিত হন। যাঁদের সংশোধনবাদী, সাম্রাজ্যবাদের ক্রীড়নক, শ্রেণি সমঝোতাবাদী ইত্যাদি বিশেষণে ভূষিত করা হত, তাঁদের রক্তিম অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হচ্ছে। করতেই পারেন। মার্ক্সের আমৃত্যু শিক্ষকপ্রতিম (মার্ক্সের ভাষায়: ‘মাই মাস্টার’) গেয়র্গ হ্বিলহেলম ফ্রিডরিখ হেগেল তো নিজেই বলেছিলেন, ‘এভরিথিং চেঞ্জেস এক্সেপ্টিং চেঞ্জ ইটসেলফ।’ কিন্তু এক্ষেত্রে প্রত্যাশিত হল আত্মসমালোচনা এবং প্রকাশ্যে। কেন শতাধিক বৎসরের অবস্থান ও সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলে একেবারে অন্যতর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হচ্ছে তার তো একটা ব্যাখ্যা দরকার, আর তা নিয়ে আলোচনা-প্রত্যালোচনা তো খুব জরুরি। এটা তো কোনও সাময়িক রণকৌশল হতে পারে না। নাকি এটা তাই?

এসব কথা ভেবেই আমাদের বন্ধু (ও আমার অনুজপ্রতিম) মার্ক্স-চর্চায় নিয়োজিত প্রদীপ বকশিকে তিনটে প্রশ্ন পাঠিয়েছিলাম। প্রদীপ তার উত্তর দিয়েছেন তত্ত্বগতভাবে, ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে।

প্রশ্নগুলো এই—

এক: লাতিন আমেরিকার ও ইওরোপের কয়েকটি দেশে তৃতীয় আন্তর্জাতিকের উত্তরাধিকার বর্জনকারী এবং, ভোটার-পসন্দ/ লোকপ্রিয়/ প্রজানুরঞ্জক প্রবীণ সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের ও তরুণতর আধুনিক বামপন্থীদের সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যে ও শাসক হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় বিগত তৃতীয় আন্তর্জাতিকের উত্তরাধিকার বহনকারী ‘সরকারি’ বামপন্থী পার্টিতন্ত্রী গোষ্ঠী ও দলগুলির ভূমিকা গৌণ, অনেক ক্ষেত্রে নেইও। এর কী ব্যাখ্যা?

দুই: একদা পার্টিতন্ত্রী লেনিনবাদী-স্তালিনবাদীরা সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের সাম্রাজ্যবাদের তল্পিবাহক বলতেন। তাঁদের এই কথার মধ্যে কি একপ্রকার আত্যন্তিকতা ছিল না, যা মার্ক্স-এর সময় ভাবা যেত না?

তিন: আজ কি লেনিনবাদী-স্তালিনবাদী সংক্রাম থেকে বেরিয়ে এসে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বন্ধুতার অবস্থান ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমালোচনা বাঞ্ছনীয় নয়? এখানে কাউটস্কির ও বার্নস্টাইনের প্রাসঙ্গিক অবদানের কথা ওঠা অনিবার্য নয় কি?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে গিয়ে প্রদীপ দু’জন প্রাচীন পূর্বাচার্য আর কয়েকজন অপেক্ষাকৃতভাবে আধুনিক গবেষকের প্রাসঙ্গিক বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

যে আধুনিক বই তিনটির কথা বলছেন সেগুলি হল: সুদীপ্ত কবিরাজ ও সুনীল খিলনানি সম্পাদিত ‘Civil Society: History and Possibilities’, হিরোশি উচিদা সম্পাদিত ‘Marx for the 21st Century’, আর নরবের্তো বব্বিও-র ‘Left and Right: The Significance of a Political Distinction’ (এটি একটি অনূদিত গ্রন্থ, মূল বইটি ইতালীয় ভাষায়)।

উত্তর:

প্রিয় শঙ্করদা,

ভূমিকা

এই প্রশ্নগুলি একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের নির্বাচনী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত উৎকণ্ঠা-প্রেরিত, কিন্তু বিংশ শতাব্দীর মার্ক্সবাদসমূহের মধ্যে প্রচলিত নানা মিথ্যা কথা, ভিত্তিহীন দ্বিধা, শঙ্কা, ও প্রত্যাশা হতে উৎসারিত ধারণাবর্গ ও শব্দবন্ধ ব্যবহার করে রচিত। আপনার, আমার ও আমাদের কালের অনেকের মধ্যে পরিব্যাপ্ত অতীত অভ্যাসের এই পিছুটানের সমালোচনা না করে বর্তমান শতাব্দীর নির্বাচনগুলির রাজনীতির আলোচনায় প্রবেশ করা যাবে না।

সেই কাজ শুরু করার জন্য প্রথমে, মার্ক্সবাদগুলি তৈরি হওয়ার আগের কালের, অর্থাৎ ঊনবিংশ শতাব্দীর পূর্বাচার্যদের— রাজনৈতিক নির্বাচনে নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার, নাগরিক সমাজ, রাষ্ট্র, মানব সমাজের ইতিহাসের বুর্জোয়া পর্ব, ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রূপ হিসেবে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র সম্পর্কে— কয়েকটি প্রাসঙ্গিক কিন্তু প্রায় অবহেলিত বাক্যের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

(ক): (”) Das Wahlrecht, der Kampf um die Aufhebung des Staats u. der bürgerlichen Gesellschaft. [ভোট দেওয়ার অধিকার, রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজ হতে উত্তরণের সংগ্রাম। (বাঁকা হরফগুলি মার্ক্সের)] —Karl Marx, Notizbuch aus den Jahren 1844-1847 [১৮৪৪-১৮৪৭ সালের একটি খাতা], MEGA IV/3 (1998): 11.

বিংশ শতাব্দীর মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী পার্টিতন্ত্রী মতাদর্শের প্রভাবে এই লাইনটির খণ্ডিত ও ভ্রান্ত ইংরেজি অনুবাদ:

(”) Suffrage, the fight for the abolition of the state and of bourgeois society. MECW 4 (1975): 666.

মন্তব্য:

প্রথমত, Aufhebung= উত্তরণ= একই সময়ে নেতি, বিলোপসাধন, বাতিল করা, স্থগিত করা, অনুমোদন, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন= Sublation= negation, abolition, cancelation, suspension, affirmation, preservation and elevation all at once; it is not a simple act of abolition; উত্তরণ কেবলমাত্র বিলোপসাধন নয়।

মানব সমাজে ও বাকি প্রকৃতিতে কোনও উত্তরণ, কোনও বিবর্তন বা কোনও বিপ্লব, উত্তরিত পূর্বাবস্থার নিছক বিলোপসাধন নয়। তবে তামাদি হয়ে যাওয়া নৈরাজ্যবাদী, মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী, স্তালিনবাদী, ত্রোৎস্কিবাদী, মাওবাদী, কাস্ত্রোবাদী ইত্যাদি ভ্রান্ত চেতনার কুপ্রভাবে সেই ভুল ধারণা আমাদের অনেকের চেতনায় বেশ গেড়ে বসেছে।

দ্বিতীয়ত, মার্ক্সের লেখায় bürgerlichen Gesellschaft শব্দযুগ্মটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: ১. নাগরিক সমাজ/ সভ্য সমাজ (দ্র. জার্মান মতাদর্শ) এবং, ২. বুর্জোয়া সমাজ (দ্র. ‘পুঁজি’ রচনা করার প্রস্তুতি পর্বের ১৮৫৭-৫৮ সালের পাণ্ডুলিপি)। উপরের ইংরেজি অনুবাদে তার দ্বিতীয় অর্থটি ধরা পড়েছে আর প্রথমটি বাদ পড়েছে।

এই শব্দবন্ধের মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী অনুবাদকেরা পুরনো কায়দার স্বৈরতন্ত্রী শাসনের ভক্ত। তাঁরা আধুনিক সভ্য নাগরিক সমাজ তৈরি করে সেখান থেকে সমাজতন্ত্রে/ সাম্যবাদে/ ভবিষ্যতের মানব সমাজে উত্তরণের বিষয়টিতে প্রবেশ করতে চাননি ও পারেননি।

এঁরা বিংশ শতাব্দীর রুশি, মোঙ্গোল, চিনা, উত্তর কোরীয় প্রভৃতি পার্টিতন্ত্রী স্বৈরশাসন প্রণালীগুলিকে সমাজতন্ত্র বলে চালিয়ে দেওয়ার অলীক কুনাট্যে আজীবন মতাদর্শগত তত্ত্ববেত্তার ভূমিকায় অভিনয় করে গেছেন।

নাগরিক সমাজ প্রসঙ্গে দ্র.: ওজ-সাল্জবার্গার ২০০১, ফেমিয়া ২০০১ এবং মিজুতা ২০০৬ (এই নিবন্ধগুলি কয়েকটি বইয়ের নানা অধ্যায়; বইগুলি এই চিঠির শেষে নির্দেশিত)।

(খ): “The bourgeois period of history has to create the material basis of the new world— on the one hand universal intercourse founded upon the mutual dependency of mankind, and the means of that intercourse; on the other hand the development of the productive powers of man and the transformation of material production into a scientific domination of natural agencies. Bourgeois industry and commerce create these material conditions of a new world inthe same way as geological revolutions have created the surface of the earth. When a great social revolution shall have mastered the results of the bourgeois epoch, the market of the world and the modern powers of production, and subjected them to the common control of the most advanced peoples, then only will human progress cease to resemble that hideous, pagan idol, who would not drink the nectar but from the skulls of the slain.” —Karl Marx, ‘The Future Results of British Rule in India’, New-York Daily Tribune, August 8, 1853; MECW 12 (1979): 222 [stress added].

[“ইতিহাসের বুর্জোয়া যুগটার দায়িত্ব নতুন জগতের বৈষয়িক ভিত্তি সৃষ্টি করা— একদিকে মানবজাতির পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বময় যোগাযোগ, এবং সে যোগাযোগের উপায়; অন্যদিকে মানুষের উৎপাদন শক্তির বিকাশ এবং প্রাকৃতিক শক্তিসমূহের ওপর বৈজ্ঞানিক আধিপত্যরূপে বৈষয়িক উৎপাদনের রূপান্তর। ভূতাত্ত্বিক <ভূপ্রাকৃতিক> বিপ্লবে যেমন পৃথিবীর উপরিতল গঠিত হয়েছে, তেমনই বুর্জোয়া শিল্প ও বাণিজ্যে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন জগতের এইসব বৈষয়িক সর্ত <শর্ত>। বুর্জোয়া যুগের ফলাফল, বিশ্বের বাজার এবং আধুনিক উৎপাদনশক্তিকে যখন এক মহান সামাজিক বিপ্লব কব্জা করে নেবে এবং সর্বোচ্চ প্রগতিসম্পন্ন জাতিগুলির জনগণের সাধারণ নিয়ন্ত্রণে সেগুলো টেনে আনবে, কেবল তখনই মানব-প্রগতিকে সেই বিকটাকৃতি আদিম দেবমূর্তির মতো দেখাবে না যে নিহতের মাথার খুলিতে ছাড়া সুধা পান করতে চায় না।” (গুরুত্ব আরোপিত)] —কার্ল মার্ক্স, ‘ভারতে বৃটিশ শাসনের ভবিষ্যৎ ফলাফল’, New-York Daily Tribune, August 8, 1853; কার্ল মার্কস/ ফ্রেডারিক এঙ্গেলস, রচনা-সংকলন, দ্বিতীয় খণ্ড, দ্বিতীয় অংশ (২০০০): ১৯; কলকাতা: ভারবি।

মন্তব্য:

ভোট দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজ হতে উত্তরণের সংগ্রাম, মানব সমাজের ইতিহাসের বুর্জোয়া পর্বটির ফলগুলিকে আয়ত্ত করার ও সেখান থেকে উত্তরণের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংগ্রাম। রাজনৈতিক উত্তরণের এই প্রক্রিয়া ভূবিদ্যায় পর্যালোচিত ভূস্তরগুলির ভূত্বক নির্মাণকারী আলোড়নের/ পরিবর্তনের/ বিপ্লবের মতই বক্ররৈখিক ও নানা অজানা সম্ভাবনায় পূর্ণ। এখানে অপেক্ষাকৃতভাবে বেশি শান্তিপূর্ণ ভোট/ নির্বাচন ও তুলনামূলকভাবে বেশি হিংসাত্মক যুদ্ধ, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাজকর্মের ভিন্ন ভিন্ন রূপ মাত্র। তাদের মধ্যে কোনও কোনওটি কখনও কখনও পুরোগামী: বিবর্তনমূলক বা বৈপ্লবিক, আর অন্যগুলি পশ্চাদগামী বা রক্ষণশীল/ প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে ও হতে পারে।

(গ): “Die höchste Staatsform, die demokratische Republik…Und endlich herrscht die besitzende Klasse direkt mittelst des allgemeinen Stimmrechts. Solange die unterdrückte Klasse, also in unserem Fall das Proletariat, noch nicht reif ist zu seiner Selbstbefreiung, solange wird sie, der Mehrzahl nach, die bestehende Gesellschaftsordnung als die einzig mögliche erkennen und politisch der Schwanz der Kapitalistenklasse, ihr äußerster linker Flügel sein. In dem Maß aber, worin sie ihrer Selbstemanzipation entgegenreift, in dem Maß konstituiert sie sich als eigne Partei, wählt ihre eignen Vertreter, nicht die der Kapitalisten. Das allgemeine Stimmrecht ist so der Gradmesser der Reife der Arbeiterklasse. Mehr kann und wird es nie sein im heutigen Staat; aber das genügt auch. An dem Tage, wo das Thermometer des allgemeinen Stimmrechts den Siedepunkt bei den Arbeitern anzeigt, wissen sie sowohl wie die Kapitalisten, woran sie sind.” [Betonung meins] —Friedrich Engels (1884), Der Ursprung der Familie, des Privateigentums und des Staats: Im Anschluß an Lewis H. Morgans Forschungen: 167-168; Hottingen-Zürich: Verlag der Schweizerischen Volksbuchhandlung; vierten ergänzten Auflage, Stuttgart 1892.

[“রাষ্ট্রের সর্বোচ্চরূপ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র… সর্বশেষে বিত্তশীল শ্রেণীশাসন করে সরাসরি সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে। যতদিন পর্যন্ত শোষিত শ্রেণী, অর্থাৎ আমাদের ক্ষেত্রে প্রলেতারিয়েত নিজের মুক্তির জন্য পরিণত না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এ শ্রেণীর বৃহৎ সংখ্যাধিকেরা বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকেই একমাত্র সম্ভবপর ব্যবস্থা বলে মেনে নেবে এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে পুঁজিপতি শ্রেণীর লেজুড়, এর চরম বামপন্থী অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু যে পরিমাণে এই শ্রেণী নিজের মুক্তির জন্য পরিণত হতে থাকে, সেই পরিমাণেই এরা নিজেদের পার্টিতে সংঘবদ্ধ হয় এবং পুঁজিপতিদের নির্বাচিত না করে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। সর্বজনীন ভোটাধিকার হল শ্রমিক শ্রেণীর পরিপক্কতার মাপকঠি। বর্তমান রাষ্ট্রে এর থেকে বেশি কিছু তা হতে পারে না, ও কদাচ হবে না, কিন্তু এটাই যথেষ্ট। যেদিন সর্বজনীন ভোটাধিকারের থার্মোমিটারে শ্রমিকদের মধ্যে স্ফুটনাঙ্ক দেখা যাবে সেদিন পুঁজিপতিদের মতো শ্রমিক শ্রেণীরও জানা থাকবে কী করতে হবে।” (গুরুত্ব আরোপিত)] —ফ্রেডারিক এঙ্গেলস, পরিবার, ব্যক্তিগতমালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি: লুই হে. মর্গানের গবেষণা অনুসরণে (প্রথম সং., হোট্টিঙ্গেন-জুরিখ ১৮৮৪; চতুর্থ পরিবর্ধিত সং., স্টুটগার্ট ১৮৯২), কার্ল মার্কস/ ফ্রেডারিক এঙ্গেলস, রচনা-সংকলন, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথম অংশ (১৯৫৯): ৩১৯-৩২০; কলকাতা: ধ্রুপদী।

মন্তব্য:

গুরুত্ব আরোপিত বাক্যগুলি ও বাক্যাংশগুলি নিয়ে চিন্তা করুন।

উত্তর

এক:

(ক) রাজনীতিতে বাম/ ডান প্রসঙ্গ:

প্রথম ফরাসি রাজনৈতিক বিপ্লবের Assemblée nationale-এর (১৭ জুন ১৭৮৯- ৩০ সেপ্টেম্বর ১৭৯১) কালপর্ব হতে শুরু করে আজ পর্যন্ত রাজনীতিতে পরিবর্তনকামী বামপন্থা আর রক্ষণশীল দক্ষিণপন্থা ধারাবাহিকভাবে বিরোধীপক্ষ ও শাসকপক্ষ হিসেবে জায়গা পাল্টাচ্ছে। তবে প্রায়ই কোনও চিন্তা না করেই সাবেক বামপন্থীরা রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তন বিরোধী, রক্ষণশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল শাসক হয়ে পড়লেও তাঁদের বামপন্থী বলা হয়। কাউকে বা কোনও গোষ্ঠীকে বামপন্থী শাসক বললে তা বিপরীতালঙ্কারের (oxymoron-এর) উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য। কূটনৈতিক ছলাকলার, রাজনৈতিক ভাষণের, প্রচারের ও সাংবাদিকতার বাগাড়ম্বরে এই বিপরীতালঙ্কারের প্রয়োগ কখনও কখনও কাজে দিতে পারে, তবে একটি বিজ্ঞান হিসেবে বিকাশমান রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্রের সমালোচনা-র আঙিনায় এই মিথ্যা কথার বর্জন অবশ্য কর্তব্য।

শাসক লেনিন, স্তালিন, মাও, কিম পরিবার, কাস্ত্রো ভ্রাতারা, পল পট… নাম্বুদিরিপাদ, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, পিনরাই বিজয়ন প্রমুখ ব্যক্তি কীভাবে নিজ নিজ সমাজে একই সময়ে নিজেরাই নিজেদের সরকারের বামপন্থী বিরোধীপক্ষ হিসেবে কাজ করেছেন বা করছেন তা আমি জানি না। আপনি কি জানেন? আধুনিক রাজনীতির বামপন্থা ও দক্ষিণপন্থা প্রসঙ্গে দ্র.: বব্বিয়ো ১৯৯৬ (উল্লেখপঞ্জিতে নির্দেশিত)।

(খ) চিলি, জার্মানি প্রভৃতি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নির্বাচনে নতুন শাসকদের সাফল্যে পার্টিতন্ত্রী মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদীদের ভূমিকা গৌণ হয়ে যাওয়ার বা না থাকার কারণ:

এঁরা সেখানকার ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক, মতাদর্শগত, রণনীতিগত ও রণকৌশলগত পদক্ষেপগুলি নিয়ে উঠতে পারেননি; আমাদের সিপিআই, সিপিআই (এম) ইত্যাদির মতো ধুঁকতে থাকা মরণাপন্ন অতীতপন্থী পার্টি হয়ে গেছেন।

আর সব যুদ্ধের মত নির্বাচনী যুদ্ধেও:

(১) লিঙ্গ, শ্রেণি, গোষ্ঠী, জাতপাত, নৃকুল ইত্যাদির অপেক্ষাকৃতভাবে দীর্ঘস্থায়ী স্বার্থের কাছে আবেদন;

(২) সাম্প্রদায়িকতাবাদ, জাতীয়তাবাদ, সাম্যবাদ, লিঙ্গ ও যৌনতা সংক্রান্ত বহুমাত্রিক আত্মপরিচয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নাগরিক অধিকারের দাবিগুলির প্রসার প্রভৃতি নতুন ভাবাদর্শের তুলনামূলকভাবে মাঝারি মেয়াদের আকর্ষণ বা টান;

(৩) কালবিশেষে এই দুই প্রভাবকে ছাপিয়ে ওঠা কোনও ক্ষণস্থায়ী কিন্তু আশু বিপদের বোধ (যেমন, খনি ও শিল্পের বিস্তারের কারণে দীর্ঘ কালের অভ্যস্ত বসতি থেকে উচ্ছেদ ও পরিবেশ প্রদূষণ, নিজ দেশের মাটিতে অন্য রাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, জার্মানিতে ও চিলিতে নাৎসিদের পুনরুত্থান); এবং,

(৪) কোনও পক্ষের পৃষ্ঠপোষক বৃহৎ শক্তির সামরিক পরাজয় (যেমন, ইউক্রাইনে, সিরিয়ায়, ইরাকে, ইয়েমেনে, ইরানে ও আফঘানিস্তানে সাম্প্রতিক মার্কিনি চক্রান্তের ও আগ্রাসনের পরাজয় ইত্যাদি)…, যুযধান পক্ষগুলির প্রতি ভোটারদের টান বা সমর্থন ও শেষমেশ ভোটযুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করে।

অতীতপন্থী মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী পার্টিগুলির নেতারা এই সব বিষয়ে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার পরীক্ষায় আপাতত প্রায় সব জায়গায় ও প্রায় সব বিষয়ে ফেল করেছেন।

দুই:

মার্ক্সের নজরে প্রত্যক্ষবাদীরা বিভ্রান্ত ও দূরকল্পী এবং নৈরাজ্যবাদীরা বেয়াড়া ও ঝগড়ুটে হলেও সহকর্মী ছিলেন। আর অধিকাংশ সমাজগণতন্ত্রী নেতা সুবিধাবাদী, মূঢ়মতি, মূর্খ ও কুলাঙ্গার হলেও (দ্র.: গোথা কর্মসূচির সমালোচনা ১৮৭৫) হয় বখাটে শরিক নয়তো নিজের বাড়িরই বখাটে ছেলেপুলে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী পার্টিতন্ত্রী শাসকদের ও তাঁদের সমর্থকদের তরফে সমাজগণতন্ত্রীদের সাম্রাজ্যবাদের তল্পিবাহক বলার মধ্যে ১৯১৭ সালের পর থেকে ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়ার কাল পর্যন্ত কোনও আত্যন্তিকতা ছিল না; শুধু ১৯১৭ সালে জারের গদি দখল করার পর থেকে তাঁদের নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী বাস্তবতা আড়াল করার নিদারুণ দায় ছিল। তাঁরা নিজেরা সাম্রাজ্যবাদী হিসেবে নিজেদের ‘বড়’/ ‘উঁচু’ জাতের আর অন্য সাম্রাজ্যবাদের তল্পিবাহকদের ‘ছোট’/ ‘নিচু’ জাতের মানুষ বলে গণ্য করতেন। আর আপনি নিশ্চয় জানেন যে, ‘ছোট জাতের লোকদের’ অবিরাম যাচ্ছেতাই গালাগালি করার অধিকারটা ‘বড় জাতের জাত কাছারির মুরুব্বিদের’ জন্য একটা জন্মসিদ্ধ অধিকার।

তিন:

এঙ্গেলসের মতই বার্নস্টাইন, কাউটস্কি, বেবেল, লিয়েবক্নেখট প্রমুখও মতাদর্শ হিসেবে জাত ও বিকশিত মার্ক্সবাদসমূহের অন্যতম আদি প্রস্তোতা, উদ্গাতা ও প্রতিহর্তা। আপনি জানেন যে এখন আমি মার্ক্সের লেখাজোখার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছি। পরে সময় পেলে বিভিন্ন বিষয়ে এই আদি মার্ক্সবাদীদের কাজের ও অবদানের পর্যালোচনা করতে পারি। এখন নয়।

মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী পার্টিতন্ত্রীদের পড়ানোর দায় আমি ১৯৯০ সালে ত্যাগ করেছি। তাঁদের রাজনৈতিক সহবত শিখিয়ে ভদ্র-সভ্য করে তোলার কোনও দায় আজ আমার নেই। অন্যদেরও এই পণ্ডশ্রম না করার পরামর্শ দেব।

উল্লেখপঞ্জি

ওজ-সাল্জবার্গার: Oz-Salzberger, Fania (2001), ‘Civil Society in the Scottish Enlightenment’, Chapter 4 in: Kaviraj and Khilnani (Eds.) 2001: 58-83.

কবিরাজ ও খিলনানি (সম্পা.): Kaviraj, Sudipta and Sunil Khilnani (Eds.) (2001), ‘Civil Society: History and Possibilities’, Cambridge, UK: Cambridge University Press.

ফেমিয়া: Femia, Joseph (2001), ‘Civil Society and the Marxist Tradition’, Chapter 7 in: Kaviraj and Khilnani (Eds.) 2001: 131-146.

বব্বিয়ো: Bobbio, Norberto (1996), ‘Left and Right: The Significance of a Political Distinction’, an Eng. tr. of: Destra e Sinistra: Ragioni e significati di una distinzione politica [Right and Left: Reasons and Meanings of a Political Distinction] (Rome 1994), Chicago: The University of Chicago Press.

মিজুতা: Mizuta, Hiroshi (2006), ‘The Japanese concept of civil society and Marx’s bürgerliche Gesellschaft’, Chapter 8 in: Hiroshi Uchida (Ed.) (2001), Marx for the 21st Century: 109-120, London and New York: Routledge.

ইতি,
প্রদীপ।

উপসংহার

তিনটে প্রশ্নের বাইরেও অনেক প্রশ্ন আছে আমার। প্রদীপের উত্তরগুলির সঙ্গে আমি প্রায় সর্বতোভাবে একমত। আমার মনে হয়, এ নিয়ে সবাই মুক্তচিত্তে (যা মার্ক্সীয় নীতি ও অভ্যাস) আলোচনা করে অভিমত জানান, চর্চা করুন। সেটা পার্টিতন্ত্রের চৌহদ্দির বাইরেই হোক। পার্টিগুলি কী করবে, তা আমাদের এক্তিয়ার ও অভিপ্রায়ের বাইরে। পরিশেষে বার্নস্টাইন প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এঙ্গেলস-এর ২৬ জুন ১৮৭৯ সালে বার্নস্টাইনকে একটি চিঠিতে সম্বোধন করছেন ‘প্রিয় কমরেড’ বলে। ডুরিং নিয়ে কী ভাবছেন, যুকুনফট-সম্পাদক হোখবার্গ নিয়ে আলোচনা করছেন, আবার বার্নস্টাইনের সঙ্গে ভাবনাগত পার্থক্যও অকপটে বলছেন। এটাই ছিল আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমিতিতে (প্রথম আন্তর্জাতিক) মার্ক্স-এঙ্গেলসের নীতি। (Marx Engels Collected Works, Vol 45, Letters 1874-79, Lawrence & Wishart 2010)।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Abul Barkat
Abul Barkat
2 years ago

A thought-provoking treatise.

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »