Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

গণতন্ত্রের শবসাধনা চলবে কতদিন

নিবন্ধ এটি নয়। কিছু সংশয়-প্রশ্ন-নৈরাশ্য-প্রকাশক কথা। সেই সঙ্গে হয়তো বা কিছু আশার আলো দেখানোর নিষ্ফল প্রয়াস।

দীর্ঘকালব্যাপী রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছে বা করে চলেছে যারা তাদের থেকে মুক্ত হওয়ার আর-একটি সুযোগ আসে ভোট বা নির্বাচনের মাধ্যমে। ভোটের দামামা বেজে ওঠে। সমগ্র দেশ জুড়ে তার দাপট শোনা যায়। ভোট ভিক্ষা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে যারা তারা ক্ষমতা রক্ষার নেশায় বেসামাল হয়ে পড়ছে দেখা যায়— কথায় ও আচরণে। তখন বিবিধ সংশয় দেশবাসীর মনের আকাশ জুড়ে কালো মেঘের মতো তোলপাড় করতে থাকে—

১. ভোটপ্রার্থী হয়ে জনগণের থেকে ক্ষমতা পাওয়ার এই প্রকার নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও কতদিন চলবে?

২. ব্রিটিশ শাসক প্রবর্তিত ও ব্যবহৃত নিয়ম-কানুন-আইন আজও চলছে যার ফলস্বরূপ অনুগত বিপুল জনতার রূপ প্রকটিত। ক্ষমতা নেতা ও আমলাদের হাতে। অথচ উল্টোটি হওয়ার কথা। গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতা থাকার কথা জনগণের কাছে। সেটি কবে আর হবে?

৩. দেশ চালাচ্ছে কারা? সংবিধান মেনে দেশনেতাদের সে কাজটি সেবকের মতো করার কথা। অথচ দেশবাসী দেখছে ক’জন শীর্ষস্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালী শিল্পপতি মিলে কর্পোরেট তন্ত্রকে গলার মালা করে গণতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে চলেছে যেন যুগ যুগ ধরে। কেন এমনটি ঘটতে পারল? গণতন্ত্রের শব বহন করা চলছে, চলবে?

৪. যেকোনও ব্যাপারে বিচার পাওয়া জনগণের অধিকার সেটি আজ দয়ার দানে পরিণত হয়েছে। কেন?

৫. সি. বি. আই. আজ হৃতগৌরব তদন্তকারী সংস্থা। দেশবাস সেই সংস্থার ওপর নির্ভরতা হারিয়েছে। সি. বি. আই. স্বাধীন সংগঠন হতে পারেনি আজও। কেন?

৬. সর্বধর্মসমন্বয়ের দেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি অচল হয়ে যাওয়ার কথা। অথচ বিজ্ঞান-প্রযুক্তির রমরমার সময়কালে রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মকে জুড়ে দেওয়ার সর্বপ্রকার কায়দা-কৌশল অবলম্বন করে ফায়দা লোটার চেষ্টায় নিরলস আজকের দেশনেতারা কীভাবে এটি সম্ভব হতে পারছে?

৭. সস্তায় জমি কিনে জমির চরিত্র বদল করে বিপুল মুনাফা নিয়ে বিক্রি করা চলছে অবাধে কৃষিপ্রধান দেশে কৃষিব্যবস্থার সমূহ সর্বনাশ ঘটিয়ে। কারা তারা? দেশপ্রেমিক দেশনেতারা! দেশপ্রেমিক তারা?

৮. দেশীয় সরকারের সঙ্গে কর্পোরেট মালিকদের গলাগলি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে সংসার চালকদের নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে। কেন?

৯. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া সরকারের অবশ্যকর্তব্য এবং অন্যদিকে দেশবাসীর সেই পরিষেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। বিনামূল্যে অবশ্যই অথচ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার পণ্যায়ণ সরকারের ধ্যানের বিষয় হয়ে পড়ছে যা সম্প্রতি প্রবর্তিত কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতিতে সুস্পষ্ট সত্যরূপে ধরা দিয়েছে। আর স্বাস্থ্য পরিষেবা? হায় দেশবাসী!

১০. নারীশক্তির উত্থান কেবল কাঙ্ক্ষিত নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে নারী-নিপীড়ন, যৌন হেনস্থা রাজনীতিকদের হাতে হাতিয়ার হিসেবে শোভা পাচ্ছে— ক্ষমতা লাভের অস্ত্র!

এতসব প্রশ্ন বর্তমান নাগরিক-লেখককে যন্ত্রণাদগ্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতায় পীড়িত করে। আরও কিছু ভাবনা গণতন্ত্রের শববাহকদের চিনিয়ে দিয়ে যন্ত্রণার উপশমে প্রবল বাধা হয়ে ওঠে। সেগুলো কেমন?

আমাদের দেশ গ্রামপ্রধান। গ্রামের উন্নয়ন মানে গ্রামকে শহর বানানো নয়। গ্রামবাসীদের গ্রাম নষ্ট করে বা নিঃস্ব করে দিয়ে শহরবাসী হওয়ার প্ররোচনা দেওয়ার পরিবর্তে গ্রামে উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ে দেওয়া আবশ্যক। তাতে রক্ষা পাবে একইসঙ্গে প্রকৃতিপ্রধান গ্রামের মৌলিকত্ব এবং বেঁচে থাকার উপকরণ ও আনন্দ। বিপরীত চিত্র আজ বাস্তব। সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার মতো দেশনেতা আজ দেশে নেই! ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থসাধনকেই তারা মোক্ষজ্ঞান করে আরাম-আয়েশের জীবন তৈরি করে ফেলেছে।

আসন্ন নির্বাচন কালে বিশেষভাবে ভাবাচ্ছে পিছিয়েপড়া দেশবাসীদের ভোটব্যাঙ্ক বানিয়ে তোলার মারাত্মক মনুষ্যত্বঘাতক প্রক্রিয়ার বাস্তবতা। সেই জনগোষ্ঠীর রেহাই নেই এই প্রক্রিয়ার শিকার হওয়ার বাস্তবতা থেকে। তারা তো জানেই না যে, তারাও দেশের গণতন্ত্রসাধক শক্তি!

এতগুলি অনর্থক কথা বলার পরে নাগরিকের প্রধান দায় ভুলে থাকলে চলে না। সমাধানসূত্র বলে দেওয়া বা দিশা দেখানোর দায় প্রতিটি নাগরিকের। বর্তমান নাগরিক লেখক তেমন কিছু সমাধান পন্থার কথা বলে নিবন্ধের মতো লেখাটি শেষ করতে চায়—

ক. রাজনীতিকে দেশপ্রেমের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করতে হবে যাতে ভাল মানুষরা রাজনীতিক হতে দ্বিধাবোধ করবে না।

খ. রাজনীতিকদের ধ্যানজ্ঞান হবে দেশবাসীর দুঃখ-দুর্দশা দূর করা। সর্বপ্রকার স্বার্থবোধ বিসর্জন দিতে পারলেই সেটি সম্ভব। অন্যথায় নয়।

গ. দলতন্ত্রের ঠুলি দেশবাসীর চোখে পরিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য এবং দেশোন্নয়নের জন্য প্রবল ক্ষতিসাধক কাজটি বর্জন করতে হবে প্রত্যেক দেশনেতাকে। বুঝতে হবে গণতন্ত্রের হত্যাকারী হল দলতন্ত্র। তাই তাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অর্থ গণতন্ত্রকে শবাধারে ঢুকিয়ে দেওয়া। সেই কাজটি অচিরে বন্ধ করতে হবে।

ঘ. বঞ্চিত শ্রেণিভুক্ত দেশবাসীদের অপরাধকর্মে হাতেখড়ি দিয়ে ভাগ্য ফেরানোর মন্ত্র শেখানোর কাজ বন্ধ করুক দেশনেতারা।

ঙ. গ্রাম-সমাজকে একই লক্ষ্যসাধনের জন্য নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। গ্রামবাসীরা হয়ে পড়ছে পরস্পরের দলশত্রু। খুনোখুনি। হানাহানি। শাস্তি উধাও অতঃপর। এই অপকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

চ. সংবিধান স্বীকৃত সাম্য-স্বাধীনতা-সৌভ্রাতৃত্বকে বিদায় করা হয়েছে দেশ থেকে। সেগুলি ফিরিয়ে আনা দেশনেতা ও দেশবাসী উভয়পক্ষের জন্যই পুণ্য কাজ।

ছ. দেশবাসীর মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া চলছে নানা ছলে তুমুল উদ্যোগ ও উৎসাহে। বন্ধ হোক এই অপকর্ম।

জ. সেই নাগরিক আন্দোলন প্রবল করতে হবে যা রাষ্ট্রকে ভয় পাইয়ে দেয়। উল্টে নাগরিকরাই রাষ্ট্রকে ভয় পাচ্ছে। এই চিত্র পাল্টাক।

যা বলা হল তার সারাংশ নয়, তার মূল সুরটুকু ধরে নেওয়া যাক শেষে। এখন ‘ভোটযুদ্ধ’ চলেছে বহু বছর ধরে স্বাধীন দেশে। দুর্জন-নির্ভর হিংসাশ্রয়ী রাজনীতি দলতন্ত্রকে ঘাতক বানিয়ে গণতন্ত্রের হত্যাযজ্ঞে সামিল হয়েছে। গণতন্ত্রের প্রাণস্বরূপ জনগণ আজ জালে আবদ্ধ— ভয়ের, লোভের ও আরও নানাবিধ জালে। গণতন্ত্রকে বাঁচাবে কে? নাগরিক সমাজ? তারাও, এককথায়, থরহরিকম্প! দেখা যাচ্ছে, দেশনেতারা গণতন্ত্রের শবসাধনায় নিমগ্ন দেশপ্রেমিকে পরিণত হয়েছে। তাদেরকে মোহান্ধতা থেকে মুক্ত করতে হবে। ডাক দিতে হবে— এসো আমরা সকলে মিলে দেশ বাঁচানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি! আমরা এক দেশের সন্তান। ভালবাসি দেশকে। যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে শব বানাতে চাইছে তাদের বলি— তোমরা ভ্রান্ত পথের পথিক!

এসো সকল দেশবাসী মিলে আমরা শক্তি নয়, ভালবাসার ভাষা ওদের শেখাই। নিজেরাও ভালবাসা দিয়ে ওদের ভুল বুঝিয়ে দিয়ে দেশ বাঁচানোর কাজে যার যতটুকু সাধ্য ততটুকুই করি! শবসাধনায় নয়, দেশপ্রেমের মন্ত্রে সকলে উদ্বুদ্ধ হই।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + eighteen =

Recent Posts

কাজী তানভীর হোসেন

চেতনার বিবর্তন ও ঈশ্বরের নৃবিজ্ঞান

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চন্দ্রাবতী: বঙ্গের প্রথম পদকর্ত্রী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

মহাজনী সভ্যতা

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ইসলাম

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি ‌বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের‌ সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়‌ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।

Read More »