Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

রূপদর্শীর কলমের কেরামতি

রূপদর্শী হলেন স্বনামধন্য সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষের অভিন্ন-হৃদয় রসিক সত্তা। এই রূপদর্শী-সৃষ্ট অনন্য চরিত্র হল ‘ব্রজদা’— ব্রজরাজ কারফরমা। রূপদর্শী নিজেই জানিয়েছেন, ‘শ্রীরামকৃষ্ণের যেমন শ্রীম ব্রজদার তেমন’ রূপদর্শী। রূপদর্শী তাঁর কলমের কেরামতিতে ফুটিয়ে তুলেছেন ব্রজরাজের জীবনকাহিনি ও জীবনদর্শন হাস্যরসের ফোয়ারা ও বুদ্ধির ঝলকানির সমন্বয় সাধন করে। কেমন সেই সমন্বয়-প্রচেষ্টা তারই দু-চারটি নমুনা তুলে ধরা হল বর্তমান নিবন্ধে। তবে প্রথমেই ব্রজদার পরিচয়টুকু দেওয়া প্রয়োজন যেমনটি জানিয়েছেন রূপদর্শী এবং বলা বাহুল্য সেই পরিচিতির মাধ্যমে রূপদর্শীর ‘ব্রজদার গুল্প-সমগ্র’ নামক সৃষ্টিকর্মের শুরুতেই মিলেছে তাঁর কলমের কারসাজি— চমকপ্রদ নিঃসন্দেহে।

ব্রজদা হলেন তিনি যার পরামর্শে রবীন্দ্রনাথ নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন, অন্নদাশঙ্কর রায়কে তিনিই বাংলা শিখিয়েছিলেন, সত্যেন বোসকে আইনস্টাইনের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন… ইত্যাদি। সে ফিরিস্তি লম্বা না হলেও আক্কেল গুড়ুম করে দেওয়ার মত তো বটেই।

ব্রজদার ‘গুল্প’ কেমন? এবার সে কৌতূহল মেটানোর সামান্য প্রয়াস গ্রহণ করা যেতে পারে। ‘গুল্প’ কী? রূপদর্শী জানিয়েছেন, ব্রজদা বলেন— ‘গুল্প = গুল + গল্প অর্থাৎ ‘নির্ভেজাল সত্যি ঘটনা’।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘বাংলার শব্দভাণ্ডারে গুল্প ব্রজদার মোক্ষম দান। এবং মানেটাও তাঁরই।’

এবার রূপদর্শী কথিত ব্রজদার গুল্পগুলি থেকে কিছু নিদর্শন উপস্থাপন করা যেতে পারে। রূপদর্শীর বিবৃতি থেকে বেছে নেওয়া বিষয়ভিত্তিক কতিপয় বক্তব্য— অবশ্যই সেগুলো ব্রজদার।

বাঙালির দৌড়

ব্রজদার গুল্প শুরু হয়েছে বাঙালি নিয়ে। আবার শেষও করেছেন বাঙালির কথা বলেই। কী রকম?

ব্রজদা বলেন, বাঙালিরা ‘তেজি হিস্ট্রির বাচ্চা’ ছিল তাদের আমলে। ব্রিটিশরা দেশটা দখল করলেও বাঙালির তেজ দমন করতে পারেনি। ‘বৃটিশ তো ছার শক হূণ দল পাঠান মোগল’ কেউই তাদের সঙ্গে ‘এঁটে উঠতে’ পারেনি।

সেই ব্রজদাই গভীর দুঃখে শেষে বলেছেন, যে তিনি একদিন বাঙালির ছেলে ‘বিজয় সিংহকে লঙ্কা জয় করতে’ দেখেছেন সেই তাকেই বলতে হচ্ছে, বাঙালি সন্তান ‘চারদিক থেকে মার খেয়ে পালিয়ে বাড়ির দরজায় এসে নেড়িকুত্তার মত কেঁউ কেঁউ করছে’।

ব্রজরাজের এইপ্রকার আক্ষেপের কথা জানার পর মনে হচ্ছে, আজ তিনি থাকলে বলতেন— বঙ্গসন্তান আজ নিজ দেশ থেকে সবকিছু নিয়ে বিদেশে গিয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়ে নিজেদের আত্মসম্মান বিকিয়ে দিয়েও ভোগসর্বস্ব জীবন কাটিয়ে মজা লুটে চলেছে! স্বদেশের কথা ভুলেও ভাবার কোনও দায়বোধ তারা হারিয়ে বসে আছে! দুর্ভাগা বঙ্গজননী!

মেয়ে-চেনা

‘কনফার্মড ব্যাচেলর’ একজন মেয়েদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে শুরু করলে শুনতে পেলেন— আগে বিয়ে-থা করে তবে যেন তিনি এ বিষয়ে মতামত দেন। অন্য একজন বললেন, ‘বিয়ে করলেই যদি মেয়ে-চেনার সাবজেক্টে অনার্স পাওয়া যেত, তাহলে তো দুনিয়াটা বেহেস্ত হয়ে উঠত। মেয়েদের চেনা কি অতই সহজ!’ আর-একজন ফোড়ন কাটলেন, ওরা তো ‘বিচিত্ররূপিনী। ওদের ছদ্মবেশ উন্মোচন করা—’ পর্যন্ত বলতেই ব্রজদা বলে উঠলেন— ‘শিবেরও অসাধ্য, মানুষ তো কোন্ ছার।’

অতঃপর তিনি গোপন তথ্য ফাঁস করার মত বলে ফেললেন— সে ‘এক তুষারনারী’ যে তাকে ‘এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার খিড়কির দরজা দেখিয়ে দিয়েছিল’। তিনি সরস ভঙ্গিতে স্বীকার করে ফেললেন মেয়ে-চেনার কঠিন বাস্তবতা মেনে নিয়েও— ‘সে ভাই নারী অফ অল নারীজ’। তিনি জানালেন, যেবার তিনি ‘এভারেস্ট এক্সপিডিসনে’ যান সেবার ভাগ্যক্রমে তিনি সেই ‘তুষারনারীর’ দেখা পান। তার নাম দিয়েছিলেন তিনি আদর করে ‘পারু’ সে ‘পর্বতদুহিতা’ ছিল বলে। সেই কন্যা তাকে প্রথম দেখাতেই প্রশ্ন করেছিল: ‘পথিক, তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’

তাই সেই মেয়ের ভালবাসা পেয়েও তার কাছে ফিরে যেতে তিনি পারেননি, এভারেস্ট ডিঙোবার পরেও।

পাণ্ডিত্য-লক্ষণ

ব্রজদা কেমন এক বাক্যে পাণ্ডিত্যের লক্ষণ নির্ধারণ করে দিলেন— ‘দুটো কথাকে দু’শ কথা করা, পাণ্ডিত্য তো তাকেই বলে…।’

তারপর তিনি নিজেই তার পাণ্ডিত্য জাহির করে ফেললেন। কত কথাই বলে চললেন। বলে ফেললেন প্রাচীন ভারতের মহা মহা সব আবিষ্কারের কথা। সেই সঙ্গে নিজের অসামান্য সব কাণ্ডেরও রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন।

একবার তাকে ‘সাঁওতাল পরগনায় টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে পৌরাণিক যুগ পর্যন্ত পাইপ বসাতে হয়েছিল… সেই সময়’ তিনি ‘প্রাচীন ভারতীয় রকেটের একটা পার্টস’ পেয়েছিলেন। মেঘু (মেঘনাদ সাহা) দেখে বলেছিলেন, কয়েকজন ছাত্রকে তিনি গবেষণার কাজে লাগিয়ে দেবেন। কিন্তু হল না। ব্রজদার আক্ষেপ: ‘অকালে চলে গেল। নইলে দেখতিস এযুগেও আমরা বাঙ্গালীরাই রাশিয়ানদের আগে চন্দ্র সূর্যে পৌঁছে যেতুম।’

তিনি একবার কুয়ো খুঁড়তে খুঁড়তে উপনিষদের যুগ ছাড়াবেন এমন সময় কোদালের দুই কোপে দেখা মিলল— জল। একটু আগে বেতারের দেখা মেলার কথা বলছিলেন। সেকথা তুলতে তিনি বললেন— ‘তার না থাকাই তো বেতার থাকা। মুখ্যু কোথাকার’। তারপর দরজার পাল্লা বন্ধ হয়ে গেল। ‘ব্রজদা অদৃশ্য’ হয়ে গেলেন।

বাংলার বাঘ

একজন ব্রজদার কাছে হাতি মারার কৌশল শিখতে চাইলেন বাঘ মারা শেখার পর। তিনি তখন তাকে বললেন— কেবল পাহাড়ি বাঘ মেরেছ। বাংলার বাঘ তো দেখোনি। ‘একবার বাংলার বাঘকে ক্যালকাটা ইউনিভারসিটির ভাইস চ্যান্সেলর করে দেওয়া হয়েছিল, তার ঠ্যালায় অস্থির। বৃটিশ গভর্নমেন্টের বাপের নাম ভুলিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। তারপর থেকে বৃটিশরা বাঘেদের আর কখনও ভাইস চ্যান্সেলর হবার চান্স দিয়েছে বলে শুনিনি। তাই বলছি বাঘকে অত তুচ্ছ ভেব না।’

Advertisement

বাঘ ও ধোপানী

বাঘের কথা বলতে গিয়ে ব্রজদা একবার এক রয়েল বেঙ্গল টাইগার তাকে কীভাবে নাস্তানাবুদ করেছিল তার বর্ণনা দিয়ে বললেন— এই বাঘ তোদের ‘ব্রজদার ব্রজদা’। ‘বড় অদ্ভুত বাঘ। শুধু ধোপানী ধরে তাদের কেবল হাত দুখানি খেত।’

কেন? তার ব্যাখ্যা দিতে বললেন— ‘অম্বলের ব্যামো ছিল বোধ হয়’। ধোপানীরা সোডা দিয়ে কাপড় কাচে বলে তাদের হাতে সোডা বা ক্ষার লেগে থাকে সব সময়। তাই ধোপানী খেয়ে হয়তো সে ‘টেম্পরারি একটা রিলিফ পেত’। নয়তো এই বাঘেরা তো অকারণে কারওর ক্ষতি করে না। ভাল ভাল শিকারীদের বই পড়লে এসব জানা যায়।

পরিচালক ব্রজদার সাফল্য-রহস্য

ফিল্ম পরিচালক হিসেবে ব্রজদার কদর-রহস্য ব্যাখ্যা করলেন তিনি নিজেই। ‘কান, ভেনিস, বারলিনের’ দিকে তাকিয়ে তিনি ফিল্ম বানান। তার দৃষ্টি দেশ-কালের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। তিনি বলেন— ‘বেঁচে থাক আমার কান ফেসটিভ্যাল। কান টানলে মাথাও আসবে, এই বিশ্বাসটা আছে বলেই তো ছবি করতে নেমেছি।’ তিনি সদর্পে বলেন—

ফিল্মের ভাষা বুঝবার মত লোক এদেশে আছে ক’টা? ‘ওই তো যে-কটা কফি-হাউসে বসে, তারা ছাড়া আর সবাই তো কমারশিয়ালের খদ্দের!’

সত্যজিৎ রায় প্রসঙ্গ

ফিল্মের আলোচনাতে সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে কেন কিছু বলা হল না?— প্রশ্ন তুললেন একজন ব্রজদা-ভক্ত। অন্যজন উত্তরে জানালেন যে, তাঁর ফিল্ম সহজে বোঝা যায় বলে তাঁর প্রতি ‘ভক্তি চটে গিয়েছে’। তারপর বললেন, ‘হ্যাঁ ইমেজ উপলব্ধির জিনিস; ও ঠিক ব্যাখ্যা করে বোঝানো যায় না।’

ব্রজদা বলে উঠলেন, ‘কেন যাবে না, বুঝতে পারলেই বোঝানো যায়।’ তিনি বুঝিয়ে দিলেন তারপর একটিমাত্র বাক্যে— ‘এক কথায় ইমেজ হচ্ছে প্রকাণ্ড একটি অশ্বডিম্ব।’

তার এই কথায় ‘সমগ্র ঘরে ঝপ করে স্তব্ধতার একটি নিরেট পর্দা পড়ল।’

খবর-রিপোর্টার-স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

খবর সম্পর্কে মোক্ষম মন্তব্য করে ফেললেন ব্রজদা। তিনি বস্তুত জব্বর প্রশ্ন তুললেন— ‘খবর কি আদালতের জবানবন্দী যে, তার সত্য মিথ্যা যাচাই করতে হবে। হিজরের যেমন স্ত্রী-পুরুষ হয় না, খবরেরও তেমনি সত্য-মিথ্যা হয় না। তাই রিপোর্টাররা যা পাঠায় তাই খবর।’

রিপোর্টার কীভাবে খবর করবে? ব্রজদা তার অভ্যস্ত কায়দায় বলে দিলেন— যে ঘটনাটা দুদিন পরে ঘটবে তার রিপোর্ট লেখা হবে আজকে। অতএব কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কী রকম? রিপোর্ট আরম্ভ করতে হবে এভাবে: ‘বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত একটি নির্ভরযোগ্য গুজবে প্রকাশ—’। শুনতে শুনতে ভক্তদের চক্ষু চড়কগাছ। নির্ভরযোগ্য গুজব! এ আবার কেমন কথা! ব্রজদা তখন বুঝিয়ে দিলেন— ‘রিপোর্টের মধ্যে সব সময় ‘‘প্রকাশ’’, ‘‘আরও প্রকাশ’’, ‘‘নাকি’’ এসব যত পার ঢুকিয়ে’ দিতে হবে। অর্থাৎ ‘প্রকাশ’ না লিখে ভাল রিপোর্টাররা কিছু প্রকাশই করতে পারে না।

একথা বলার পর তিনি টিপ্পনী কাটলেন— ‘…তোদের ব্রজদা এমনি এমনিই এত বড় রিপোর্টার হয় নি।’

এরপর ব্রজদা তার বিদ্যে জাহির করতে স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট সম্পর্কে জানালেন— রিপোর্টারেরই বর্ধিত বা রাজ সংস্করণ হল স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট। কেউ যখন কলকাতায় কংগ্রেস কভার করবে তখন সে স্টাফ রিপোর্টার। আবার একই কাজে সে মালদায় গেলে তখন তাকে বলা হবে স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট। সরস ভঙ্গিতে ব্রজদা বলে উঠলেন— ‘রিপোর্টার যদি আমড়া তো স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট হল গে ফজলি আম…’।

সোসাইটি ফটোগ্রাফার বার্তা

ব্রজদা তার এক ভক্তকে বললেন, সে বিয়ে করেনি যখন, তখন সে নিশ্চয়ই সোসাইটি ফটোগ্রাফার ছিল! তাদের এমন কাজ করতে হয় যে, তাদের মেয়েদের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মায়। কী রকম? ব্রজদা জানালেন— এই ফটোগ্রাফারদের ‘যেই অমুক তারকা ‘‘বিশ্রামের অবসরে প্রিয় বাঁদরকে কলা খাওয়াইতেছেন, পাশে রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলী’’, কিংবা ‘…কোন বিলাসিনী নাইলন শাড়ীতে শরীরকে সরব করে ‘‘গৃহবধূর কর্তব্য করিতে রান্নাঘরে পুঁইশাক রন্ধনে ব্যস্ত’’ থাকেন, অমনি সেই মুহূর্তটিকে ‘‘ক্যামেরায়িত’’ করতে হামেশা সাটার টিপতে’ হয়।

ব্রজদা মন্তব্য ঝাড়েন— তখন ‘পরম রমণীয়রাও চরম হয়ে ওঠে’ তাদের কাছে। তিনি যোগ করেন যে, তারও নাকি ‘এমন চরম’ অবস্থা হয়েছিল।

বন্দে মাতরম্ মন্ত্রের শক্তি

বেঁচে থাকলে যে ছেলেরা পি ডি অ্যাক্টের আসামি হয়ে জেল খাটত তারা বন্দে মাতরম্ মন্ত্রের জোরে অমর শহিদ হয়ে গেছে। কত ছেলে লেখাপড়া ছেড়ে বন্দে মাতরম্ বলতে বলতে ‘ফাটকে’ গিয়ে ঢুকেছে। আবার যারা হয়তো ‘এমনিতে গোমুখ্যু হয়েই থাকত, কিন্তু স্রেফ এই মন্ত্রের জোরেই তাদের অনেকে দেশ স্বাধীন হবার পর এডুকেশন মিনিস্টার অব্দি হয়ে গেছে।’ ব্রজদা বলতে বলতে হাঁক ছাড়েন—

‘বন্দে মাতরমের কি সোজা এফেক্ট-রে!’

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

2 Responses

  1. বড় ভাল লাগল নিবন্ধটি। লেখিকা মীরাতুন নাহারকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 12 =

Recent Posts

মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ

জীবনচক্রের মহাকাব্য নবান্ন: শ্রম, প্রকৃতি ও নবজন্মের দ্বান্দ্বিকতা

নবান্ন। এটি কেবল একটি ঋতুভিত্তিক পার্বণ নয়; এটি সেই বৈদিক পূর্ব কাল থেকে ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (যা প্রাচীন পুথি ও পাল আমলের লোক-আচারে চিত্রিত) এই সুবিস্তীর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষের ‘অন্নময় ব্রহ্মের’ প্রতি নিবেদিত এক গভীর নান্দনিক অর্ঘ্য, যেখানে লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে শস্যের অধিষ্ঠাত্রী লোকদেবতার আহ্বানও লুকিয়ে থাকে। নবান্ন হল জীবন ও প্রকৃতির এক বিশাল মহাকাব্য, যা মানুষ, তার ধৈর্য, শ্রম এবং প্রকৃতির উদারতাকে এক মঞ্চে তুলে ধরে মানব-অস্তিত্বের শ্রম-মহিমা ঘোষণা করে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বুদ্ধদেব বসু: কালে কালান্তরে

বুদ্ধদেব বসুর অন্যতম অবদান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য (Comparative Literature) বিষয়টির প্রবর্তন। সারা ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়-মানে এ বিষয়ে পড়ানোর সূচনা তাঁর মাধ্যমেই হয়েছিল। এর ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। এর ফলে তিনি যে বেশ কয়েকজন সার্থক আন্তর্জাতিক সাহিত্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যিক তৈরি করেছিলেন তা-ই নয়, বিশ্বসাহিত্যের বহু ধ্রুপদী রচনা বাংলায় অনুবাদের মাধ্যমে তাঁরা বাংলা অনুবাদসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। অনুবাদকদের মধ্যে কয়েকজন হলেন নবনীতা দেবসেন, মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবীর রায়চৌধুরী প্রমুখ। এবং স্বয়ং বুদ্ধদেব।

Read More »
দেবময় ঘোষ

দেবময় ঘোষের ছোটগল্প

দরজায় আটকানো কাগজটার থেকে চোখ সরিয়ে নিল বিজয়া। ওসব আইনের বুলি তার মুখস্থ। নতুন করে আর শেখার কিছু নেই। এরপর, লিফটের দিকে না গিয়ে সে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে উঠে বসল গাড়িতে। চোখের সামনে পরপর ভেসে উঠছে স্মৃতির জলছবি। নিজের সুখের ঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ‘ডিফল্ট ইএমআই’-এর নোটিস পড়তে মনের জোর চাই। অনেক কষ্ট করে সে দৃশ্য দেখে নিচে নেমে আসতে হল বিজয়াকে।

Read More »
সব্যসাচী সরকার

তালিবানি কবিতাগুচ্ছ

তালিবান। জঙ্গিগোষ্ঠী বলেই দুনিয়াজোড়া ডাক। আফগানিস্তানের ঊষর মরুভূমি, সশস্ত্র যোদ্ধা চলেছে হননের উদ্দেশ্যে। মানে, স্বাধীন হতে… দিনান্তে তাঁদের কেউ কেউ কবিতা লিখতেন। ২০১২ সালে লন্ডনের প্রকাশনা C. Hurst & Co Publishers Ltd প্রথম সংকলন প্রকাশ করে ‘Poetry of the Taliban’। সেই সম্ভার থেকে নির্বাচিত তিনটি কবিতার অনুবাদ।

Read More »
নিখিল চিত্রকর

নিখিল চিত্রকরের কবিতাগুচ্ছ

দূর পাহাড়ের গায়ে ডানা মেলে/ বসে আছে একটুকরো মেঘ। বৈরাগী প্রজাপতি।/ সন্ন্যাস-মৌনতা ভেঙে যে পাহাড় একদিন/ অশ্রাব্য-মুখর হবে, ছল-কোলাহলে ভেসে যাবে তার/ ভার্জিন-ফুলগোছা, হয়তো বা কোনও খরস্রোতা/ শুকিয়ে শুকিয়ে হবে কাঠ,/ অনভিপ্রেত প্রত্যয়-অসদ্গতি!

Read More »
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

নগর জীবন ছবির মতন হয়তো

আরও উপযুক্ত, আরও আরও সাশ্রয়ী, এসবের টানে প্রযুক্তি গবেষণা এগিয়ে চলে। সময়ের উদ্বর্তনে পুরনো সে-সব আলোর অনেকেই আজ আর নেই। নিয়ন আলো কিন্তু যাই যাই করে আজও পুরোপুরি যেতে পারেনি। এই এলইডি আলোর দাপটের সময়কালেও।

Read More »