ওদের ভয় পেত না, শুধু মুসলমানদের ভয় পেত
আমার এক বন্ধু প্রায়ই বলত
বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বলতেই ভাল লাগে
বলত, কখনও একা গেছ কোনও মুসলমান মহল্লায়?
কখনও গিয়ে দেখো, ভয় লাগে!
ও মুসলমানদের খুব ভয় পেত।
অথচ শাহরুখ খান ওর খুব পছন্দের,
পছন্দ করত তার গালের টোল-পড়া
আর দিওয়ালিতে রিলিজ় হওয়া শাহরুখের ফিল্ম।
দিলীপকুমার যে ইউসুফ, জানত না সে,
তার ছবিও সে দেখত আবেগ ভরে।
দিলীপকুমারকে ভয় পেত না,
শুধু মুসলমানদের খুব ভয় পেত।
সে অপেক্ষা করত
বড়দিনে আমির খানের ছবি রিলিজ়ের,
আর ঈদে সলমন খানের।
ব্ল্যাকে হলেও টিকিট কাটত সে,
হলে বসে সিটি মেরে আনন্দও উপভোগ করত!
তাদের মোটেও ভয় পেত না,
শুধু মুসলমানদের খুব ভয় পেত।
আমার সঙ্গে সেও ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে,
বিজ্ঞানে তার বরাবরের আগ্রহ
বলত, আব্দুল কালামের মতো বিজ্ঞানী হতে চাই;
বাড়াতে চাই দেশের সম্মান।
তাকে সে ভয় পেত না
শুধু মুসলমানদের খুব ভয় পেত।
ক্রিকেট ছিল তার খুব পছন্দের খেলা—
বিশেষ করে মনসুর আলি খানের নবাবী ছক্কা
আর আজহারউদ্দিনের কব্জির মোচড়!
পাগল ছিল জাহির খান আর
ইরফান পাঠানের বোলিংয়ের।
বলত, ওরা সব জাদুকর, বুঝলে জাদুকর!
ওরা খেলে দিলে
কখনওই হারি না আমরা পাকিস্তানের কাছে।
তাদের থেকে ভয় ছিল না কোনও,
শুধু মুসলমানদের খুব ভয় পেত।
সে ছিল নার্গিস আর মধুবালার রূপে অন্ধ,
ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইটেই দেখতে চাইত ওদের,
পাগল ছিল ওয়াহিদা রহমানের হাসির
আর পারভীন বাবির প্রেমে!
ভয় ছিল না তাতেও,
শুধু মুসলমানদের সে খুব ভয় পেত।
কখনও উদাস হলে মন
ডুব দিত মুহম্মদ রফির গানে,
বলত, রফি সাহেবের গলায়
ভগবান আছেন ভগবান!
কান ছুঁয়ে নাম নিত রফির
আর নামের পরে সব সময় সাহেব!
যদি সে গান হত সাহিরের লেখা—
খুশিতে কাঁদতে ইচ্ছে হত তার।
তাদের থেকে কোনও ভয় ছিল না,
শুধু মুসলমানদের খুব ভয় পেত।
প্রতি বছর ছাব্বিশে জানুয়ারি
ইকবালের ‘সারে জহাঁ সে অচ্ছা’ সে গাইত,
বলত, কোনও কথা হবে না—
গানে যদি হয় বিসমিল্লাহ খানের সানাই
আর জাকির হোসেনের তবলা!
তাদের ভয় পেত না সে,
শুধু মুসলমানদের খুব ভয় পেত।
ও যখন প্রেম করত,
মেয়েটিকে গজ়ল শোনাত গালিবের,
পাঠাত ফৈজ় সাহেবের শের—
ধার করা শেরেই মেতে উঠত তার প্রেমিকা;
সেই প্রেমিকা আজ তার বউ।
সমস্ত শায়েরিদের থেকে তার কোনও ভয় ছিল না,
শুধু মুসলমানদের খুব ভয় পেত।
মিথ্যেবাদী ছিল আমার বন্ধু!
ছিল বড্ড বেশি সিধেসাদা,
না জেনেই মুসলমানদের খুব ভালবাসত।
তবু কেন যে বলত, মুসলমানদের ভয় পাই!
মুসলমানদের দেশে সে থাকত খুশিতে, ভালবেসেই;
অথচ মুসলমানদের কোন্ মহল্লায়
একা যেতে ভয় পেত সে, কে জানে!
আসলে, ভগবানের বানানো মুসলমানদের সে ভয় পেত না,
ভয় পেত হয়তো রাজনীতি খবরকাগজ আর ভোটের বানানো
সেই সব কাল্পনিক মুসলমানদের—
কল্পনায় যা সত্যিই ভয় পাবার মতোই!
অথচ সত্য কিন্তু ঈদের সিমুইয়ের চেয়েও মিষ্টি…
[মূল হিন্দি থেকে অনূদিত]
চিত্রণ: ক্রিস্তিনা সাহা
***
লেখক পরিচিতি

১৯৮৬ সালের ৪ঠা আগস্ট, উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুরে জন্ম নিখিল সচান-এর। কানপুরে বেড়ে ওঠা এবং পড়াশোনা। পড়াশোনায় মেধাবী নিখিল সচান পড়েছেন বেনারস আই.আই.টি. থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আই.আই.এম. কোঝিকোড় থেকে ম্যানেজমেন্ট। প্রকাশিত হয়েছে ‘নমক স্বাদানুসার’ ও ‘জিন্দগি আইস পাইস’ শিরোনামের দুটি লঘুকথার বই। প্রকাশিত হবার সাথে সাথেই বইদুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও ‘ইউপি ৬৫’ নামের উপন্যাসটিও পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়। মূলত গদ্যেই তাঁর দখল। তুলনায় কবিতা লেখেন কম। কমসংখ্যক কবিতার মধ্যে ‘ও উনসে নহী ডরতা থা, বস্ মুসলমানোঁ সে ডরতা থা’ একটি অন্যতম কবিতা, যেটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাঠকমহলে আশ্চর্য রকমের সাড়া ফেলে দেয়।





