Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

মুখ্য পঞ্জিকা

ছোট ছোট পায়ে বরফ জমেছে ঘাসের গায়ে,
যেন শিশির নয়, শবাধার খুলে রাখা রিক্ত দিন
আমার রাত শেষ হয়ে উপচে পড়া ব্যথা চিনচিন্।
খুব ভোরে রাতের হিমঘর থেকে নতুন করে জন্ম
আকাশ গুটিয়ে নিল ইস্তেহার, মায়াবী আলো,
ঝুপঝুপ গাছেদের শান্ত মাথা উঁচিয়ে তাকাল।
ভুলে যাওয়া নামের মতো কিছু বেমক্কা আগন্তুক,
ইতিউতি কথাবার্তা, গুঞ্জনের ভাগী কানপাতলা
ভবঘুরে শুয়োপোকা মানুষ খোলস জন্ম শামুক।
ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো
খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,
ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম
দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।
গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে
কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।
ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,
খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

***

ইতি প্রমাদ

তুমি বলেছিলে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী,
এই দীর্ঘ এক যুগের শাসন ধর্মের মানচিত্র প্রমাণ করে
সিংহাসন সবসময়ই একটা উপদ্রুত এলাকা,
সেখানে লোভ আর প্রাপ্তির নেশা—
এক আকাশছোঁয়া দৈত্যের অট্টহাসি,
শুধু পেলেই এর আশ মেটে না, অধিক পাওয়ার নেশা,
শোষণ আর শাসনের উন্মত্ততা ক্রমবর্ধমান, আর মুক্তি?
ওটা রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিশ্রুতির মতো—
একমাত্র আমূল পরিবর্তনই অবশেষ উত্তর।
আসলে রাষ্ট্র অথবা রাজনৈতিক প্রবঞ্চক
দুর্ভাগ্যবশত সবসময়ই শাসনের সিংহাসনে কায়েম হয়।
তুমি আর তোমার শিক্ষা লালিত আদর্শ অতি বিস্বাদ
স্ট্র‍্যাটিজি যা ওই তথাকথিত রুপোর থালায় পরিবেশিত হয়ে আসছে।
জনতা, অজ্ঞ, অশিক্ষিত, অসাক্ষর…
ধম্মো আর মেয়েমানুষের মতো সহজলভ্যতে আসক্ত
ছেলেখেলা করতে করতে ভুলে যায়,
দেশ, শাসন, ইস্কুল বা মনের আলো
এসব প্রকৃত ভয়ংকর গভীর বিষয়।

5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

আবদুল্লাহ আল আমিন

মাহমুদ দারবিশের কবিতায় ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রাম

যুবা-তরুণ-বৃদ্ধ, বাঙালি, এশিয়ান, আফ্রিকান যারাই তাঁর কবিতা পড়েছেন, তারাই মুগ্ধ হয়েছে। তাঁর কবিতা কেবল ফিলিস্তিনি তথা আরব জাহানে জনপ্রিয় নয়, সারা বিশ্বের ভাবুক-রসিকদের তৃপ্ত করেছে তাঁর কবিতা। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক পঠিত নন্দিত কবিদের একজন।

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর কবিতা: কিছু কিছু পাপ

শৈবাল কে বলেছ তাকে, এ যে বিষম পাথরে/ সবুজ জমা, গুল্মলতা পায়ে জড়ায়, নাগিনী/ হিসিয়ে ফণা বিষের কণা উজাড় করো আদরে/ তরল হিম, নেশার ঝিম কাটে না তাতে, জাগিনি

Read More »
সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »