Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

শৌভিক আদকের কবিতা

চ্যাপলিন ও আমি

মেকআপ তুলতে তুলতে
চ্যাপলিন তাকাল আয়নার দিকে
যে মুখ কখনও কেউ দেখতে চায়নি
সে মুখ বারবার দেখেছে চ্যাপলিন

পৃথিবীতে আয়নার চেয়ে আপন কেউ নেই

সব হাসির গল্পেই
একটা গভীর কান্না লুকিয়ে থাকে
কিন্তু আমরা এতটাই অন্ধ যে
খালিচোখে তা দেখতে পাই না
চশমা পরতে হয় আমাদের

‘তোর সব ছবিতে দাঁত বেরিয়ে থাকে কেন?’
এমন প্রশ্নের জবাবে
চ্যাপলিনের হাতে ধরিয়ে দিলাম সাদা রং

গঙ্গার পাড়ে বসে
যখন মৃত্যুর কথা ভাবছিলাম
চ্যাপলিন এসে বসেছিল পাশে
বলেছিল—
পৃথিবীতে কোনও কিছুই স্থায়ী নয়
এমনকি তোমার দুঃখগুলোও

চ্যাপলিন
তার লাল ক্ষতগুলো
সাদা রঙে ঢেকে নিয়েছে বারবার

দর্শক আসনে বসে, আমি
সেই বন্দি ক্ষতগুলোর হাহাকার শুনেছি

ভাতের গন্ধের বর্ণনা করতে গিয়ে
চ্যাপলিনের লাঠি
বারবার স্লিপ খেয়েছে

আমি তারাভরা রাতে
দেখেছি বিদ্যুতের চমক

চ্যাপলিনের মুখে যারা সেলোটেপ এঁটে দিয়েছিল
তারা আসলে জানত না
চ্যাপলিনের সারা শরীরে
তারা ভাষা দিয়ে যাচ্ছে

নিঃস্ব হয়ে যাবার পর
চ্যাপলিন চেয়েছিল একটু কাঁদতে
ডিরেক্টর চেঁচিয়ে উঠল— ‘রিটেক! রিটেক!
একটু হাসি চাই চ্যাপলিন!’

দর্শকদের হাততালি বেজে উঠল কানে

চিত্রণ: মুনির হোসেন
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »