Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

প্রদীপ ঘোষের দুটি কবিতা

লিপস্টিক ও অবুঝ মন

যাই যাই অগ্রহায়ণের এমন দিনে
কৃষকের গৃহস্থালিতে অন্য কবিতা লেখা—
.                                    হয়ে থাকে, আবহমানের
গোবরে নিকোনো পরিপাটি উঠোন
পাটাতনে ধানের আঁটি ঝেড়ে খড়বিচুলি,
.       কাঁকুরে মাটি না থাকে যেন নবান্নের ধানে।

আলো শৈত্যবাতাসের বিভাসে পাখির নিঝুম উড়াল
সোমত্তরা দিনে ভেসলিন রাতে বোরোলিন
জীবনের ওঠাপড়া তাতে কতটা সুরক্ষিত জানা নেই
                                     তবে যত্নে চকচকে ত্বক।
তেঁতুলপাতা ছুঁয়ে ঝিরিঝিরি আবছায়া সান্দ্র রোদ্দুর
    যেন কবিতার পঙ্‌ক্তি, আজানুলম্বিত লুব্ধক।

ভলিবলের কোর্টে সন্ধ্যা নামে ঝুপ্পুস। শীতের তেমনই
দিনে স্কুলমাঠে যাত্রাপালার তাঁবুতে
পাঁকাল পিচ্ছিল চিবুকে তিলের গরিমা উৎকট
                                       অদ্য শেষ রজনীর ঠোঁট
এখনও রয়ে গ্যাছে গালে, গাঢ় লাল অধরারঞ্জনী
কী ওম, কী ওম! বহুকাল পর আজো শীতের উলিকট।

দাতা অনুমিতা নাম না জানা ছেলেটি গ্রহীতা।
এসমস্ত গ্রামীণ দলিল লিপিবদ্ধ করা যায় কবিতায়?
পুকুর থেকে সম্ভাবনার ধোঁয়া ধোঁয়া উবে যাওয়া কুয়াশা
.                     আর জলের চিৎকারসমূহে মাছের সন্তরণ
ডাকবাক্সে শেষ চিঠি, প্রীতিভাজনেষু। তবু বনভোজন,
পিঠেপুলি, পায়েসের অপেক্ষায়; প্রাপকের অবুঝ মন।

*

উক্ত অগ্নি

জলতরঙ্গের টুং টাং টুং টাং টুং… ভৈরবী সকরুণ।

বাদ্য সমাপ্ত। স্তব্ধতার পরেও ক্ষণিকের—
নৈঃশব্দ্যের শব্দ-স্বরে তখনও উচ্চকিত আবেশ,
                                         আচ্ছন্নতা মন্দ্রিত।
ছোট ঢিল পুকুরে ডুবে গেল। তরঙ্গ থেকে তরঙ্গ,
অগণন, বৃত্তাকারে তরঙ্গায়িত। শরীর—
থেকে আত্মা বিমুক্তির পরেও বুঝিবা! হে তথাগত?

Advertisement

অভীপ্সায় উন্মুখ জীবন হয়তো শবরীর প্রতীক্ষা
সংকল্প তখনো স্বস্তিক-চিহ্নের অপারগ জলঘট
পড়ে রইল জল আর পল্লবে আকাঙ্ক্ষার মর্মর।

যেমন চকিত নির্ঘোষ বিজুরি! আলোর
ঝলকানির পরে অনুনাদ থাকে না যে কোনোই
কেবল অশ্রুত বাতাসের অকরুণ সংলাপ।
শুধুই নিরাবলম্ব নিকষ আগুনের প্রহ্লাদ শেষে
                  নৈঃশব্দ্যের তরিত্রাঙ্কন, নিরংশু…

চিক্কুরে ঝরে পড়েছে এস্ফোডেল ফুল, মন্দারের
পঙ্খুরী সুবাসসমূহ ব্যাপনে শতধায় উবে যাওয়া…

খেলা সাঙ্গ হেতু তুমি উহার বাশক্তি রহিত অধরে
অগ্নিসংযোগ করো। ধীমান আলোয় বৈতরণী
পারাপারে…
                            দিব্যান্ লোকান্ স্বঃ গচ্ছতু।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + eighteen =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর চারটি কবিতা

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »