লিপস্টিক ও অবুঝ মন
যাই যাই অগ্রহায়ণের এমন দিনে
কৃষকের গৃহস্থালিতে অন্য কবিতা লেখা—
. হয়ে থাকে, আবহমানের
গোবরে নিকোনো পরিপাটি উঠোন
পাটাতনে ধানের আঁটি ঝেড়ে খড়বিচুলি,
. কাঁকুরে মাটি না থাকে যেন নবান্নের ধানে।
আলো শৈত্যবাতাসের বিভাসে পাখির নিঝুম উড়াল
সোমত্তরা দিনে ভেসলিন রাতে বোরোলিন
জীবনের ওঠাপড়া তাতে কতটা সুরক্ষিত জানা নেই
. তবে যত্নে চকচকে ত্বক।
তেঁতুলপাতা ছুঁয়ে ঝিরিঝিরি আবছায়া সান্দ্র রোদ্দুর
. যেন কবিতার পঙ্ক্তি, আজানুলম্বিত লুব্ধক।
ভলিবলের কোর্টে সন্ধ্যা নামে ঝুপ্পুস। শীতের তেমনই
দিনে স্কুলমাঠে যাত্রাপালার তাঁবুতে
পাঁকাল পিচ্ছিল চিবুকে তিলের গরিমা উৎকট
. অদ্য শেষ রজনীর ঠোঁট
এখনও রয়ে গ্যাছে গালে, গাঢ় লাল অধরারঞ্জনী
কী ওম, কী ওম! বহুকাল পর আজো শীতের উলিকট।
দাতা অনুমিতা নাম না জানা ছেলেটি গ্রহীতা।
এসমস্ত গ্রামীণ দলিল লিপিবদ্ধ করা যায় কবিতায়?
পুকুর থেকে সম্ভাবনার ধোঁয়া ধোঁয়া উবে যাওয়া কুয়াশা
. আর জলের চিৎকারসমূহে মাছের সন্তরণ
ডাকবাক্সে শেষ চিঠি, প্রীতিভাজনেষু। তবু বনভোজন,
পিঠেপুলি, পায়েসের অপেক্ষায়; প্রাপকের অবুঝ মন।
*
উক্ত অগ্নি
জলতরঙ্গের টুং টাং টুং টাং টুং… ভৈরবী সকরুণ।
বাদ্য সমাপ্ত। স্তব্ধতার পরেও ক্ষণিকের—
নৈঃশব্দ্যের শব্দ-স্বরে তখনও উচ্চকিত আবেশ,
. আচ্ছন্নতা মন্দ্রিত।
ছোট ঢিল পুকুরে ডুবে গেল। তরঙ্গ থেকে তরঙ্গ,
অগণন, বৃত্তাকারে তরঙ্গায়িত। শরীর—
থেকে আত্মা বিমুক্তির পরেও বুঝিবা! হে তথাগত?
অভীপ্সায় উন্মুখ জীবন হয়তো শবরীর প্রতীক্ষা
সংকল্প তখনো স্বস্তিক-চিহ্নের অপারগ জলঘট
পড়ে রইল জল আর পল্লবে আকাঙ্ক্ষার মর্মর।
যেমন চকিত নির্ঘোষ বিজুরি! আলোর
ঝলকানির পরে অনুনাদ থাকে না যে কোনোই
কেবল অশ্রুত বাতাসের অকরুণ সংলাপ।
শুধুই নিরাবলম্ব নিকষ আগুনের প্রহ্লাদ শেষে
. নৈঃশব্দ্যের তরিত্রাঙ্কন, নিরংশু…
চিক্কুরে ঝরে পড়েছে এস্ফোডেল ফুল, মন্দারের
পঙ্খুরী সুবাসসমূহ ব্যাপনে শতধায় উবে যাওয়া…
খেলা সাঙ্গ হেতু তুমি উহার বাশক্তি রহিত অধরে
অগ্নিসংযোগ করো। ধীমান আলোয় বৈতরণী
পারাপারে…
. দিব্যান্ লোকান্ স্বঃ গচ্ছতু।