Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ঢাকায় বিবেকানন্দ: ১২৫ বছর পূর্তি

স্বামী বিবেকানন্দ (১২.০১.১৮৬৩-০৪.০৭.১৯০২) একজন ভারতীয় বৈদান্তিক সন্ন্যাসী। তাঁর অসংখ্য পরিচয়ের মধ্যে একটি হল, ভূপর্যটকরূপে বিশ্বের ব্যাপক অংশ ভ্রমণ করা। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, রাওয়ালপিন্ডি থেকে আসাম রাজ্য, সমগ্র নিজ দেশ পায়ে হেঁটে বেড়িয়েছেন। দু-দু’বার আমেরিকা গেছেন, চীন ও জাপান গেছেন, ইওরোপের বহু দেশ দেখেছেন। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকটা ঘোরা হয়েছিল তাঁর, মাত্র উনচল্লিশ বছরের আয়ুষ্কালে। রামমোহন-দ্বারকানাথ-রবীন্দ্রনাথ-কেশবচন্দ্র সেন-শিবনাথ শাস্ত্রীরাও গিয়েছেন। তবে তাঁরা ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের। সনাতনপন্থীদের ধর্মীয় যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেই বিধানকে যে তিনি মানেননি, এটাও তাঁর একটা সংস্কারহীনতা ও প্রগতিশীলতা।

আশ্চর্যের কথা, এহেন বিবেকানন্দের কিন্তু দীর্ঘদিন পূর্ববঙ্গ বা ঢাকায় আসা হয়নি, যদিও একাধিক লোককে তিনি ঢাকায় আসার আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণের গৃহী শিষ্য সাধু নাগ মহাশয়ের কাছেও তিনি প্রতিশ্রুত ছিলেন, তাঁর জন্মভূমি ঢাকায় তিনি যাবেন। গেলেন যখন, তখন নাগ মহাশয় আর জীবিত নেই।

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বাঙালি তথা সমগ্র উপমহাদেশের কাছেই তার শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি ঐতিহ্য আর রাজকীয়তার জন্য অতিখ্যাত। বাঙালি মনীষীদের কেউ-ই তাই ঢাকায় আসেননি, এমনটা হয়নি, তা সে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-শরৎচন্দ্রই হোন, বা গান্ধী-সুভাষচন্দ্র-ফজলুল হক। এসেছেন, সংবর্ধিত হয়েছেন, বক্তৃতা দিয়েছেন।

স্বামী বিবেকানন্দের ঢাকায় আগমন ও দু’সপ্তাহের মতো এখানে অবস্থান নিয়ে নানান জনের নানান লেখা রয়েছে, যার ফলে তাঁর ঢাকা-বাসের তথ্য বিস্তৃতভাবে উঠে আসে।এগুলোর মধ্যে রয়েছে মন্মথ গাঙ্গুলীর স্মৃতিকথা, আইনজীবী সতীশচন্দ্র রায়ের লেখা, বিপ্লবী বীর ও পরবর্তীকালে ‘অনুশীলন সমিতি’-র হোতা হেমচন্দ্র ঘোষের বর্ণনা, তৎকালীন ‘ঢাকাপ্রকাশ’ পত্রিকায় স্বামীজি-সংক্রান্ত খবরাখবর। তাছাড়া স্বামীজি এসময় ওলি বুলকে (১৮৫০-১৯১১, পুরো নাম সারা চ্যাপম্যান থর্প বুল। একাধারে স্বামীজির ‘ধীরা মাতা’ এবং শিষ্যা। তাঁর স্বামী নরওয়েজীয় বিশ্বখ্যাত পিয়ানোবাদক ওলি বুল।) লেখা চিঠিতে। মেরী হলকে লেখা তাঁর চিঠিতে আছে পূর্ববঙ্গ দর্শন নিয়ে তাঁর মুগ্ধতা ও উচ্ছ্বাস।

পরবর্তীকালে রামকৃষ্ণ মিশনের বর্তমান মঠাধ্যক্ষ স্বামী সম্পূর্ণানন্দজি হেমচন্দ্র ঘোষের সুদীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, যেখানে স্বামীজির ঢাকায় অবস্থানের দিনগুলির কথা বিশদভাবে উঠে এসেছে। সম্পূর্ণানন্দজিই বর্তমানে একমাত্র জীবিত ব্যক্তি, যিনি ঢাকায় অবস্থিত স্বামীজির নিত্য পার্শ্বচর হেমচন্দ্র ঘোষকে দেখেছেন, ও তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ দিন কথা বলে স্বামী বিবেকানন্দের ঢাকা-বাসের দিনগুলি সম্পর্কে অনুপুঙ্খ জেনে নিয়েছিলেন। তাঁর নেওয়া এই সাক্ষাৎকার ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় ধারাবাহিক পাঁচটি পর্বে প্রকাশিত হয়েছিল।

স্বামীজি ১৯০১-এর ১৮-ই মার্চ তারিখে বেলুড় মঠ থেকে ন’জন রামকৃষ্ণভক্ত সহ ট্রেনে ওঠেন। পরদিন সকালে গোয়ালন্দ পৌঁছে স্টিমারযোগে নারায়ণগঞ্জে যান। সেখান থেকে ট্রেনে ঢাকায় আসেন। এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য কিন্তু মাকে ঢাকেশ্বরী তীর্থ দর্শন করানো। অতএব মা-ও এসেছিলেন। আর আসেন স্বামীজির বোন, ও মায়ের কয়েকজন সখী।

স্বামীজি তখন সারা দেশেই জননন্দিত এক তেজস্বী পুরুষ। তাই তাঁর ঢাকায় আগমন জনমানসে সাড়া ফেলে দিল। তিনি ঢাকার বিখ্যাত জমিদার মোহিনীমোহন দাসের ফরাসগঞ্জের বাড়িতে সতেরো দিন ছিলেন। গোয়ালন্দ থেকে পদ্মা দেখতে দেখতে আসা তাঁর। মন্মথ গাঙ্গুলীর স্মৃতিকথায় পাই, এক টাকা দিয়ে ষোলোটি ইলিশমাছ কেনা হল সেখানে। স্টিমার থামিয়ে নিকটস্থ গ্রাম থেকে যোগাড় করা হল চাল আর পুঁইশাক। স্বামী নিত্যানন্দ ও অন্য ভক্তরা তো ছিলেনই, মাঝিমাল্লা ও খালাসি-সহ সবাইকে নিয়ে আহার করলেন তিনি।

স্বামীজিকে দেখতে, তাঁর সঙ্গ পেতে প্রতিদিনই বহু মানুষ আসতেন জমিদারবাড়িতে। তাঁদের মধ্যে হেমচন্দ্র ঘোষ ও দেবেন্দ্রনাথ রায় অন্যতম। দেবেন্দ্রনাথের অনুরোধে স্বামীজি তাঁকে গান গেয়েও শুনিয়েছিলেন।

ঢাকায় এসে খুব বেশি বক্তৃতা দেননি তিনি। সম্ভবত তাঁর শারীরিক অসুস্থতাই তার কারণ। মার্চের তিরিশ তারিখে রমাকান্ত নন্দীর সভাপতিত্বে ঢাকার বিখ্যাত জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে এটি বিশ্ববিদ্যালয়) ভাষণ দেন। বিষয় ‘আমি কী দেখেছি’। শ্রোতার সংখ্যা ছিল দু’হাজার। পরদিন অর্থাৎ ৩১.০৩-এ বক্তৃতা দেন পোগোজ স্কুলে, তিন হাজার দর্শকের সামনে। বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘আমাদের জন্মপ্রাপ্ত ধর্ম’। দুটি সভাতেই শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধ, আপ্লুত ও উদ্বুদ্ধ।

এর আগেই তিনি মাকে নিয়ে যান লাঙ্গলবন্দ। ঢাকার অদূরে ব্রহ্মপুত্রের পারে এটি হিন্দুদের একটি তীর্থক্ষেত্র। কথিত আছে, মাতৃহত্যাজনিত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে দশ অবতারের অন্যতম পরশুরাম এখানে স্নান করে শুদ্ধ ও পাপমুক্ত হন। সাতাশে মার্চ স্বামীজি এখানে ‘বুধাষ্টমী’ তিথিতে ব্রহ্মপুত্রে অবগাহন করেন।

জগন্নাথ কলেজে বক্তৃতা প্রসঙ্গে তিনি যে কথা বলেন, তাতে বাংলাদেশের শোভা যে এই সন্ন্যাসীর মন হরণ করেছে, তা বোঝা যায়, ‘নানাদেশ ভ্রমণ করে এই লাভ হয়েছে যে, আমি বাংলার সৌন্দর্য বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে পারছি।’

Advertisement

স্বামীজির ঢাকা আসার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ঢাকায় অদূরে দেবভোগ গ্রামে সাধু নাগ মহাশয়ের গৃহে যাওয়া। শ্রীরামকৃষ্ণের গৃহী শিষ্য ইনি, দুর্গাচরণ নাগ। বহুবার দক্ষিণেশ্বরে গেছেন, গেছেন বেলুড়ে। শ্রীরামকৃষ্ণের চেয়ে দশবছরের ছোট, এবং স্বামীজির চেয়ে সতেরো বছরের বড়, প্রয়াত হন ১৯৯৯-তে। প্রয়াণের আগের বছরেও দ্বিতীয়া স্ত্রী (প্রথমা স্ত্রী প্রসন্নকুমারী অকালমৃতা) শরৎকামিনীকে নিয়ে বেলুড় মঠে ঘুরে এসেছেন। ২৫-এ মার্চ তাই তিনি দেবভোগ গেলেন। তাঁকে রান্না করে খাওয়ালেন শরৎকামিনী। সেখানে বহুদিন পর সুখনিদ্রা হয়েছিল স্বামীজির, জানিয়েছেন নিজে। আসার সময় নাগ-মহিষী তাঁকে যে কাপড় উপহার দিয়েছিলেন, পাগড়ি করে তা পরেন স্বামীজি।

স্বামীজি ঢাকার মানুষজনকে যে তীক্ষ্ণভাবে অবলোকন করেছিলেন, তার প্রমাণ পাই ‘স্বামীশিষ্যসংবাদ’-এ বর্ণিত লেখা থেকে। লেখক শরচ্চন্দ্র চক্রবর্তীর দেশ পূর্ববঙ্গ বলে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ঢাকার মানুষদের ঠিক কেমন দেখলেন স্বামীজি? স্বামীজির উত্তর, ‘আমাদের এদিকের চেয়ে লোকগুলো কিছু মজবুত ও কর্মঠ। তার কারণ বোধ হয় মাছ মাংসটা খুব খায়। যা করে খুব গোঁয়ে করে।’ এরপর সেখানকার মানুষের রান্নাবান্নায় অতিরিক্ত তেল দেওয়া ও তার ক্ষতিকরতা নিয়েও বলেছেন তিনি, ‘খাওয়াদাওয়াতে খুব তেল চর্বি দেয়, ওটা ভালো নয়। তেল চর্বি বেশি খেলে শরীরে মেদ জন্মায়’।

এখানে উল্লেখ্য, স্বামীজি ঢাকায় পৌঁছতে তাঁকে সম্বর্ধনা দেন আইনজীবী ঈশ্বরচন্দ্র ঘোষ ও গণেশচন্দ্র ঘোষ। আর নারায়ণগঞ্জে তাঁকে সম্বর্ধনা দেয় ‘ঢাকা অভ্যর্থনা সমিতি’। তাঁর ঢাকার দিনগুলো নিয়ে ‘ঢাকাপ্রকাশ’ লেখে, ‘পূজ্যপাদ পরমহংস দেবের প্রিয় শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দকে দেখিবার জন্য অনেকেই হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে মোহিনীবাবুর বাড়িতে যাতায়াত করিতে লাগিলেন।’

পূর্ববঙ্গের নদীর বিশালতা ও মাধুর্য স্বভাবতই ঢাকা ঘুরে আসার বেশ কিছুদিন পর্যন্ত যে তাঁর মনে গেঁথে ছিল এবং তাঁকে মুগ্ধ না করে পারেনি, তার প্রমাণ পাই এই ভ্রমণের তিনমাস বাদে ৫.৭.১৯০১-এ শ্রীমতী মেরী হলকে লেখা তাঁর একটি চিঠিতে, ‘তুমি জানো, আমার এই দেশকে বলা হয় জলের দেশ। কিন্তু তার তাৎপর্য পূর্বে কখনো এমনভাবে উপলব্ধি করিনি। পূর্ব বাংলার নদীগুলি যেন তরঙ্গসঙ্কুল স্বচ্ছ জলের সমুদ্র, নদী মোটেই নয় (স্বামীজি সমুদ্র বড় কম দেখেননি!) এবং সেগুলি এতো দীর্ঘ যে স্টিমার সপ্তাহের পর সপ্তাহ এদের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে।’

হায়, তবুও তো তিনি রবীন্দ্রনাথের মতো বছরের পর বছর পূর্ববাংলার নদীর পর নদী দেখেননি!

প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথ ১৮৯৮ ও ১৯২৬, এই দুবার ঢাকা আসেন। প্রথমবার বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে। নজরুল আসেন ‘সৃষ্টিসুখের উল্লাসে’। জীবনানন্দ নিজ বিবাহোপলক্ষ্যে। ঢাকার ব্রাহ্মমন্দিরে বিয়ে হয় তাঁর। স্বামীজির ঢাকা ভ্রমণের সারাৎসার সম্ভবত এই, তিনি এখানে এসে উপলব্ধি করেছিলেন, পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে আরও দৃঢ় ভ্রাতৃত্ববন্ধন আবশ্যক।

তাঁর ঢাকায় পদার্পণের ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। তার আগে ২০২৩-এ ৭৪, বি. কে. দাস রোডের যে বাড়িতে স্বামীজি থেকেছেন, সেখানে তাঁর স্মৃতিচিহ্নিত একটি ফলক উন্মোচিত হয়েছে। সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিরূপে যোগ দিয়ে স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজি বলেন, ‘ঢাকা কেন্দ্র’-র মতো একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আছে, যারা স্বামী বিবেকানন্দের বসতধন্য একটি বাড়িকে পরিচয় করানোর ব্রত নিয়েছেন। এটি আমাদের কাছে আনন্দের ও গর্বের।

‘ঢাকা কেন্দ্র’-পরিচালক ও সে-অনুষ্ঠানের সভাপতি মোহাম্মদ আজিম বখশ বলেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দের ঢাকায় আগমন ঢাকার ইতিহাসকে মহিমান্বিত ও সমৃদ্ধ করেছে। ঢাকার ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ যেসব ইতিহাস কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছিল তা পুনরুজ্জীবিত করতে ঢাকা কেন্দ্র সচেষ্ট থাকবে’। এবছরটাই তো তার সুলগন হতে পারে!

প্রতীকী ছবি। সৌজন্যে: গুগল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × two =

Recent Posts

কাজী তানভীর হোসেন

মহাজনী সভ্যতা

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ইসলাম

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি ‌বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের‌ সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়‌ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বুদ্ধ: অন্ধকারে আলোর দিশারী

তিনি বলেন গেছেন, হিংসা দিয়ে হিংসাকে জয় করা যায় না, তাকে জয় করতে প্রেম ও ভালবাসা দিয়ে। মৈত্রী ও করুণা— এই দুটি ছিল তাঁর আয়ুধ, মানুষের প্রতি ভালবাসার, সহযোগিতার, বিশ্বপ্রেমের। তাই তো তাঁর অহিংসার আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে,— চীন, জাপান, মায়ানমার, তিব্বত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটানে। এই বাংলায় যে পালযুগ, তা চিহ্নিত হয়ে আছে বৌদ্ধযুগ-রূপে। সুদীর্ঘ পাঁচ শতাব্দী ধরে সমগ্র বাংলা বুদ্ধ-অনুশাসিত ছিল। বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ বৌদ্ধ কবিদের দ্বারাই রচিত হয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

স্যার রোনাল্ড রস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য

রোনাল্ড রসকে তাঁর গবেষণার সহায়তাকারী এক বিস্মৃত বাঙালি বিজ্ঞানীর নাম কিশোরীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭৭-১৯২৯)। তাঁর অবদান কিন্তু খুব কম নয়। তিনি ছিলেন রস-এর অধীনে সহ-গবেষক। রস নোবেল পেলে উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর নেতৃত্বে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, শিবনাথ শাস্ত্রী, আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ কিশোরীনাথের ভূমিকার বিষয়টি বড়লাট লর্ড কার্জনকে জানান। কার্জন এ-বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের গোচরে আনেন। এর ফলে ১৯০৩ সালে যখন দিল্লিতে দরবার বসে, তখন ডিউক অফ কনট-এর মাধ্যমে কিশোরীনাথকে ব্রিটিশরাজ সপ্তম এড‌ওয়ার্ড-এর তরফ থেকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। পরে কলকাতা
র সেনেট হলে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। সভাপতি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

দুই হুজুরের গপ্পো

১৯৩০ সালের ১৪ জুলাই, আলবার্ট আইনস্টাইন বার্লিনের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে স্বাগত জানান ভারতীয় কবি, দার্শনিক ও সঙ্গীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তিনি ছিলেন প্রথম অ-ইউরোপীয় নোবেল বিজয়ী। তাঁদের এই সাক্ষাৎকারটি ইতিহাসের অন্যতম বুদ্ধিদীপ্ত ও মননশীল আলাপচারিতায় পরিণত হয়, যেখানে তাঁরা বিজ্ঞান ও ধর্মের চিরন্তন দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করেন। “সায়েন্স অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান ট্রাডিশন: হোয়েন আইনস্টাইন মেট টেগোর” গ্রন্থে এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের বিবরণ পাওয়া যায়। এই বইতে বিশ শতকের শুরুতে ভারতের বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিক চিন্তার মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শতবর্ষী বাঙালি

বাঙালিদের মধ্যেও শতায়ু লোক নেহাত কম নেই। একটা কথা মনে রাখা জরুরি, বিখ্যাত ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ মানুষের আয়ু নিয়ে বিশেষ কোনও গবেষণা থাকে না। আবার একটু বেশি বয়স্ক মানুষকে শতায়ু বলে চালিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ-ও রয়েছে। তবে শতবর্ষের আয়ুলাভ যে মানুষের কাঙ্ক্ষিত, তা উপনিষদের‌ একটি বাক্যে সুন্দরভাবে ধরা পড়েছে— ‘জীবেম শরদঃ শতম্’, অর্থাৎ শতবর্ষ বাঁচতে ইচ্ছে করবে। কেবল অলস জীবন নিয়ে বাঁচবার ইচ্ছে করলেই হবে না, কর্ম করে বাঁচার কথাও বলা হয়েছে সেখানে— ‘কুর্বেন্নেবেহ কর্মাণি জিজীবিষেচ্ছতম্ সমাঃ’।

Read More »