সেই শুধু থাকে
জানি কী বলতে চাও;
এমন কোনও মানুষের কথা যে তোমার প্রতিদিনের দুখের কারণ?
হয়তো বলবে মানুষ কতটা ভীরু, পুরুষ কতটা বিমুখ
দারিদ্র কতটা অভিশপ্ত, কবি কতটা নির্লিপ্ত।
হয়তো বলতে এসেছ কোনও এক বুদ্ধিমান বন্ধুর সুকৌশলের কথা,
নাকি বলতে চাও কুয়াশাচ্ছন্ন নির্জনতায় শেষবার দেখা
তোমার প্রেমিকার কথা— রিভলভারের ক্ষতের চেয়েও গভীর ছিল যার চোখ।
দেবদূতের ডানার মত করুণ বিমূর্ত ন্যায়বিচারের কথা বলতে চাও?
নাকি উত্তর চাও— কেন জন্ম থেকেই দেখছ
রক্তপাত-উদার হাত ও বীরের মৃত্যুকামী পুষ্পস্তবক?
নাকি চাও তোমার বাক্যে উদ্ধৃতিতে
ঝরে ঝরে পড়ুক সময়োপযোগী প্রাচুর্যের প্রতিশ্রুতি?
নাকি জানতে চাও
কেন তোমার পিঁপড়েঝরা উত্থিত ঠোঁটের পাপড়িতে
নিয়ত উচ্চারিত হয় ধ্বংস ও শোক?
নাকি জানতে চাও
তোমার বহুদর্শী যাপনের স্মৃতিকোটরেতে
ছিল যত সুখযাপি মানবমানবীর ছবি,
কেন তার টেকে না কিছুই?
তবু তো আজ অব্দি টিকে আছে তোমার সেই আদিম নেশা—
যে নেশা পান করে তুমি দীর্ঘ নদীর মত নীল হয়ে যাও।
আমি শান্তির খোঁজে তোমাকে খুঁজি
কাকের নীড়ের মত তোমাকেই আগলাই
অথচ তুমি নিশ্চল দূরত্ব, তুমি ভঙ্গুর ফলক,
তুমি কিছু কিছু এফোঁড় ওফোঁড়
তুমি যুদ্ধ বা যুদ্ধকে ছাড়িয়ে যাওয়া এক যুদ্ধের ঘোড়া
যদি হও-ও কে কবে কষেছে সে অঙ্ক…
ভুলে গেছি নিশ্চিত কবে তোমার-আমার হাত
ছায়া-ঘন রাতের শিশিরে সিক্ত হয়ে উঠেছিল,
হাজার দুখে বিপর্যস্ত ধূসর সমতল সতেজ হয়েছিল
ভুলে গেছি নিশ্চিত কবে
শুধু মনে আছে টেকোনি তুমি
শুধু মনে আছে সেই কথাটুকু
তোমাদের শুশ্রূষার সমুদ্র বড্ড নোনতা—
বলে, সেই যে গেলে অবজ্ঞায়…
তোমার রংহীন শরীরের অবশেষ থেকে
কিছু গভীর, কিছু অগভীর শব্দের কুঁড়ি শুঁকে
যে বাতাস ঝরেছে ঝনঝন রূপালী নদীটির বুকে,
সেই শুধু থাকে
থাকে না তো আর কিছুই