তপোমন ঘোষ

তপোমন ঘোষ

তপোমন ঘোষ (আসল নাম ঋষি ঘোষ) সংবাদপত্রে ফিচার লিখছেন গত দুই দশক ধরে। প্রকাশিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা সবমিলিয়ে ছ’টি। গবেষণা করেছেন নয়ের দশকের বাংলা সাহিত্যের বিপণনসম্ভাবনা নিয়ে। যাদবপুর ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিনি। গবেষণা করেছেন বাংলা কবিতা, রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক প্রবন্ধ, আধুনিক কথাসাহিত্য, দলিত সাহিত্য সহ সাংস্কৃতিক বিদ্যাচর্চার নানা বিষয়ে। চলচ্চিত্রবিদ্যা ও আন্তঃ সাংস্কৃতিক বিদ্যাচর্চার একজন উৎসাহী গবেষক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের গবেষণাপত্রের সংখ্যা পঞ্চাশের উপরে। গঙ্গাভাঙন নিয়ে একটি ইন্দো-বাংলা গবেষণাপ্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একটি জাতীয় পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্রের ভাষাগত রূপান্তরের কাজ করেছেন। কর্মসূত্রে মালদার গৌড় মহাবিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

জামাইষষ্ঠী: শাস্ত্রে, পুরাণে, জীবনে

India’s First Bengali Story Portal. নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পরিবারের কর্তা ক্ষিতীশচন্দ্রের মেয়ে অন্নপূর্ণার স্বামী হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বৈঁচির রাজা। জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে তার জন্য সাজা পানের খিলি রাখা থাকত সোনার লবঙ্গ দিয়ে। প্রত্যেকবার খাওয়ার আগে সে সোনার লবঙ্গ তিনি ছুড়ে ফেলে দিতেন। এদিক-ওদিক পড়ে থাকা সেই সোনার লবঙ্গ কুড়িয়ে নিতে দৌড়াদৌড়ি করত রাজবাড়ির দাস-দাসীরা। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বাড়ির জামাইষষ্ঠীর বৈভবের এমনই নানা বিবরণ ছড়িয়েছে নানা জায়গায়।

Read More »

বাঙালি ভুলেছে ‘নাচোলের রানিমা’ ইলা মিত্রকে

India’s First Bengali Story Portal. তেভাগা আন্দোলন আজ ইতিহাসের পাঠ্যবইতে স্থান পেয়েছে। অথচ ১৯৫০ সালের ৫ জানুয়ারি যে নাচোল বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধের আগুন জ্বলে ওঠে, তার কেন্দ্রে ছিলেন তৎকালীন মালদার নবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুর হাটের জমিদার মিত্র পরিবারের বধূ ইলা মিত্র। মালদা আজ মনেও রাখেনি তেভাগার এই সংগ্রামী নেত্রীকে। মালদার কালীতলায় তাঁর ভাসুরপো ইন্দ্রজিৎ মিত্রের বাড়িটিও আজ ঢাকা পড়ে গেছে বহুতলের আড়ালে। শোনা যায়, এই বাড়িতে একসময় দীর্ঘকাল আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।

Read More »

‘ভবিষ্যৎ শিষ্য’ হতে চেয়ে মালদার কিশোর চিঠি দেয় রবীন্দ্রনাথকে

মালদা জেলার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগের এই নতুন সূত্রটি তোলপাড় তৈরি করেছে রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ও গবেষকমহলে। রবীন্দ্র গবেষকদের একাংশের মতে, ১৮ খণ্ডের চিঠিপত্র ছাড়াও বিশ্বভারতী মহাফেজখানায় প্রচুর ফাইলে এরকম নানা চিঠিপত্র রাখা আছে, যার একটা বড় অংশই অগ্রন্থিত। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নূর মোহাম্মদের চিঠিটি ও রবীন্দ্রনাথের উত্তরের কপি। সেক্রেটারির নোট থেকে প্রমাণিত, কবি নিজে পড়ে এই চিঠির উত্তর দিয়েছেন।

Read More »

যে গম্ভীরা বুকে নিয়ে মালদা ছেড়েছিলেন বিনয় সরকার

১৯২৫ সালে যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসাবে যোগ দিচ্ছেন, তখনও জোর গলায় সওয়াল করে গেছেন গম্ভীরার এই সর্বতোমুখিতা নিয়ে। ১৯১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত বই ‘The Folk Element in Hindu Culture’ প্রকাশিত হচ্ছে লন্ডনের লংম্যানস থেকে, যার আধার এই জামতলির গম্ভীরা। তাঁর শেষ কর্মস্থল ছিল আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানেই মারা যান ১৯৪৯-এ। কিন্তু মালদার লোকজীবন ও লোকসংস্কৃতি থেকে কোনওদিন বেরোতে চাননি। গর্ব করে বলতেন, এপ্রিল-মে মাসে জামতল্লীর গম্ভীরা আমার বুকের মধ্যে শুনতে পাবে।

Read More »

বাঙ্গিটোলার ছানার মণ্ডা এবং সত্তরোর্ধ্ব ষষ্ঠীচরণ

ভক্তি, বিশ্বাস এবং অলৌকিকত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই মিষ্টি অমর হয়ে আছে আধুনিক বাংলা সাহিত্যে। ‘ভূতনি দিয়ারা’ খ্যাত ঔপন্যাসিক জয়ন্ত জোয়ারদারের ছোটগল্প ‘খারিজ’-এ দেখা যায়, অমৃতি মোড়ে একটি পরিবার আকুল আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে, কখন তাদের আত্মীয় মায়ের প্রসাদী বাঙ্গিটোলার মণ্ডা নিয়ে পৌঁছাবেন। এক পথ দুর্ঘটনা অবশ্য তাকে আর পৌঁছতে দেয় না। অভিজিৎ সেন বা অমর মিত্রের উপন্যাস ও ছোটগল্পেও এই মিষ্টির উল্লেখ পাওয়া যায়।

Read More »

গম্ভীরার কিংবদন্তি সুফি মাস্টার: পড়েছিলেন ব্রিটিশের রোষানলেও

১৯০৫। এল বঙ্গভঙ্গের হাওয়া। সরকারি ডাকবিভাগের কিশোর কর্মীটি লিখে ফেললেন— ‘তুমি ঘুঁটের আগুন তুষের ধোঁয়া/ লাগিয়ে দিলে বঙ্গে/ আজ হাবুডুবু খায় ভারতবাসী— স্বরাজ তরঙ্গে।’ সেই গানও ঝড় তুলল। আর যায় কোথায়? যদিও গানের ভণিতায় নিজের নাম উল্লেখ করতেন না ওস্তাদ সুফি, তাও বিশেষ সূত্র ধরে ব্রিটিশ পুলিশ হানা দিল তাঁর বাড়িতে। বাজেয়াপ্ত হল গানের খাতা। বয়স অল্প বলে সতর্ক করেই ছেড়ে দিলেন সহৃদয় বাঙালি দারোগা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাঁকে সহজে ছাড়েনি।

Read More »

চেতনার বিবর্তন ও ঈশ্বরের নৃবিজ্ঞান

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

Read More »

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »

চন্দ্রাবতী: বঙ্গের প্রথম পদকর্ত্রী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »

মহাজনী সভ্যতা

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

Read More »

রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ইসলাম

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি ‌বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের‌ সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়‌ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।

Read More »