Search
Generic filters
Search
Generic filters

বাঙালি ভুলেছে ‘নাচোলের রানিমা’ ইলা মিত্রকে

তেভাগা আন্দোলন আজ ইতিহাসের পাঠ্যবইতে স্থান পেয়েছে। অথচ ১৯৫০ সালের ৫ জানুয়ারি যে নাচোল বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধের আগুন জ্বলে ওঠে, তার কেন্দ্রে ছিলেন তৎকালীন মালদার নবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুর হাটের জমিদার মিত্র পরিবারের বধূ ইলা মিত্র। মালদা আজ মনেও রাখেনি তেভাগার এই সংগ্রামী নেত্রীকে। মালদার কালীতলায় তাঁর ভাসুরপো ইন্দ্রজিৎ মিত্রের বাড়িটিও আজ ঢাকা পড়ে গেছে বহুতলের আড়ালে। শোনা যায়, এই বাড়িতে একসময় দীর্ঘকাল আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।

বেথুন কলেজের উজ্জ্বল ছাত্রী, আঠারোতেই অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ, অলিম্পিকের ব্যাডমিন্টন দলে প্রথম বাঙালি মেয়ে হিসাবে সুযোগ পাওয়া ইলা সেন ইলা মিত্র হয়েছিলেন ১৯৪৫-এ। তখন তাঁর বয়স কুড়ি। স্বামী রমেন্দ্রকুমার মিত্র জানতেন পতিব্রতা স্ত্রী পেতে হলে আগে ব্রতের মিলটা করাতে হয়। সহব্রতী ইলাকে নিয়ে নাচোল অঞ্চলের ভূমিহীন সাঁওতাল কৃষকদের সংগঠিত করতে চলে যান তাঁরা। সময়টা ১৯৪৯-এর ডিসেম্বর।

ইলা মিত্র, তখন বয়স মোটে ১৩।

১৯৪৬-৪৭ সালে দিনাজপুরের হাজি দানেশের নেতৃত্বে যে যুগান্তকারী তেভাগা আন্দোলন শুরু হয়, জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও রমেন্দ্রকুমার তার শরিক ছিলেন। মালদা ডিভিশনের রাজশাহি ও দিনাজপুর জুড়ে চলতে থাকে গ্রামে গ্রামে প্রতিরোধের আখ্যান। ‘দ্য তেভাগা মুভমেন্ট’ শীর্ষক প্রামাণ্য গবেষণাগ্রন্থে গবেষক অধ্যাপক অশোক মজুমদার বলছেন, ১৯৪৬-১৯৫০ পর্যন্ত নাচোল, রাজশাহি, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জের তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র। ভূমিহীন সংগ্রামী কৃষকদের কাছে এই কমিউনিস্ট নেত্রী পরিচিত ছিলেন ‘নাচোলের রানিমা’ নামে।

ইলা মিত্র, তারিখসহ তাঁর স্বাক্ষর আজও জ্বলজ্বল করছে।

তারপর আসে সেই দিন। ১৯৫০-এর ৫ জানুয়ারি একজন ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে পুলিশবাহিনী নাচোলের চণ্ডীপুর গ্রামে আসে এবং কোনওরকম আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই আন্দোলনরত কৃষকদের উপর লাঠিচার্জ আরম্ভ করে। পাল্টা প্রতিরোধে প্রায় শতাধিক কৃষকের হাতে ইন্সপেক্টর সহ পাঁচজন পুলিশ কনস্টেবল মারা যান। দুই দিন পরে প্রায় দুই হাজার পুলিশের বিরাট এক হিংস্র বাহিনী নাচোলের প্রায় বারোটি গ্রাম তছনছ করে, তাদের হাতে প্রায় তিরিশজন গ্রামবাসী মারা যান। রমেন্দ্রকুমার মিত্র ও তাঁর অন্যতম সহযোগী মাতলা মাঝি সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসতে সমর্থ হলেও রোহনপুর স্টেশনে ধরা পড়ে যান ইলা মিত্র। তারিখটা ৭ জানুয়ারি। পুলিশি হেফাজতে অকথ্য অত্যাচারের সাতদিন পর রাজশাহি আদালতে পেশ করা হয় তাঁদের তিনজনকে। সঙ্গে আরও ১০৭ জন কৃষকের নাম জড়িয়ে পুলিশ-হত্যা সহ একাধিক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয় তাঁদের। আরম্ভ হয় কুখ্যাত নাচোল মামলা। বাকিটা ইতিহাস।

ইলা মিত্র, স্বামী রমেন্দ্রকুমার মিত্রর সঙ্গে।

রাজশাহী আদালতে ইলা মিত্র ইংরেজিতে লিখিত যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, তা থেকে তাঁর ওপর চালানো জান্তব অত্যাচারের বিবরণ মেলে।

‘‘বিগত ০৭.০১.৫০ তারিখে আমি রোহনপুর থেকে গ্রেপ্তার হই এবং পরদিন আমাকে নাচোল থানা হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়। কিন্তু পথে পাহারাদার পুলিশরা আমার ওপর অত্যাচার করে। নাচোলে ওরা আমাকে একটা সেলের মধ্যে রাখে। সেখানে একজন পুলিশের দারোগা আমাকে এ মর্মে ভীতি প্রদর্শন করে যে, আমি যদি হত্যাকান্ড সম্পর্কে সম্পূর্ণ স্বীকারোক্তি না করি, তাহলে ওরা আমাকে উলঙ্গ করবে।

আমার যেহেতু বলার মত কিছু ছিল না, কাজেই তারা আমার পরনের সমস্ত কাপড় চোপড় খুলে নেয় এবং সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় সেলের মধ্যে আটকে রাখে। আমাকে কোন খাবার দেওয়া হয়নি। এমনকি এক বিন্দু জলও না। ঐ সন্ধ্যায় স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য এসআইএর উপস্থিতিতে সিপাইরা এসে বন্দুকের বাট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করতে শুরু করে। সে সময় আমার নাক দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়তে থাকে। এরপর ওরা আমার পরনের কাপড় চোপড় ফেরত দেয়।

রাত প্রায় বারোটার সময় আমাকে বের করে সম্ভবত এসআইএর কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। অবশ্য এ ব্যাপারে আমি খুব বেশি নিশ্চিত ছিলাম না। আমাকে যে কামরায় নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে আমার স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ওরা নৃশংস ধরনের পন্থা অবলম্বন করে। আমার চারপাশে দাঁড়িয়ে ওরা আমার পা দুটোকে লাঠির মধ্যে রেখে ক্রমাগতভাবে চাপ দিতে শুরু করে। ওদের ভাষায় আমার বিরুদ্ধে ‘পাকিস্তানী ইনজেকশন’ পন্থায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল।

এ ধরনের অত্যাচার চলার সময় ওরা রুমাল দিয়ে আমার মুখ বেঁধে রেখেছিল এবং আমার চুল ধরেও টান দিচ্ছিল। কিন্তু আমাকে দিয়ে জোরপূর্বক কিছুই বলাতে সক্ষম হয়নি। এতসব অত্যাচারের দরুণ আমার পক্ষে আর হেঁটে যওয়া সম্ভব ছিল না। সিপাইরা আমাকে ধরাধরি করে সেলে নিয়ে গেল। এবার পুলিশের সেই দারোগা সিপাহীদের ৪টা গরম ডিম আনার নির্দেশ দিয়ে বলল যে, এবার মেয়েটাকে কথা বলতেই হবে। তারপর শুরু হল নতুন ধরনের অত্যাচার। ৪/৫ জন সিপাহী মিলে জোর করে আমাকে চিত্‍ হয়ে শুতে বাধ্য করল এবং ওদের একজন আমার গোপন অঙ্গ দিয়ে একটা ডিম ভিতরে ঢুকিয়ে দিল। সে এক ভয়াবহ জ্বালা।

প্রতিটি মুহূর্ত অনুভব করলাম, আমার ভিতরটা আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম। ১৯৫০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে আমার জ্ঞান ফিরে এলো। একটু পরে জনাকয়েক পুলিশ সঙ্গে করে আবার সেই দারোগার আগমন ঘটে। সেলে ঢুকেই সে আমার তলপেটে বুট দিয়ে প্রচন্ড জোরে লাথি মারে। আমি দারুণ ব্যথায় কুঁকড়ে গেলাম। এরপর ওরা জোর করে আমার ডান পায়ের গোড়ালি দিয়ে একটা লোহার পেরেক ঢুকিয়ে দিল। আমি তখন অর্ধ-চৈতন্য অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছি। কোন রকম স্বীকারোক্তি না পেয়ে দারোগা তখন রাগে অগ্নিশর্মা। যাওয়ার আগে বলে গেল, আমরা আবার রাতে আসব।

তখন তুমি স্বীকারোক্তি না দিলে, একের পর এক সিপাহী তোমাকে ধর্ষণ করবে। গভীর রাতে দারোগা আর সিপাহীরা আবার এলো এবং আবারো হুমকি দিল স্বীকারোক্তি দেয়ার জন্য। কিন্তু আমি তখনও কিছু বলতে অস্বীকার করলাম। এবার দু জন মিলে আমাকে মেঝেতে ফেলে ধরে রাখল এবং একজন সেপাহী আমাকে রীতিমত ধর্ষণ করতে শুরু করল। অল্পক্ষণের মধ্যেই আমি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললাম…।”

ইলা মিত্র, মালদার বিস্মৃত বিপ্লবী।

মালদার বিস্মৃত বিপ্লবীদের নিয়ে একসময় কাজ করেছিলেন শিক্ষক ও সমাজকর্মী অভিজ্ঞান সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, “ইলা মিত্র সরাসরি মালদার ভূমিকন্যা না হলেও তাঁর আন্দোলনের কর্মক্ষেত্র বা এরিয়া অফ অপারেশন ছিল বৃহত্তর গৌড়বঙ্গ। আজকের মালদার ভৌগোলিক সীমারেখা থেকে তা অনেক বড়।” তাই পরবর্তীকালে কথাসাহিত্যিক অভিজিৎ সেন যখন তেভাগাকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘বর্গক্ষেত্র’ লেখেন, তখন ইলা মিত্রও সেই উপন্যাসের একটি চরিত্র হয়ে ওঠেন।

সাংবাদিক কল্লোল মজুমদার তাঁর একটি গবেষণামূলক প্রতিবেদনে ইলা মিত্রের মালদার সঙ্গে যোগাযোগের আর একটি অকাট্য প্রমাণ দাখিল করেছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের স্নাতকোত্তর এই ছাত্রীটি খুব অল্প সময়ের জন্য শিক্ষকতা করেছিলেন মালদা শহরের বিখ্যাত স্কুল বার্লো গার্লসে। স্কুলের বেতন গ্রহণের প্রামাণ্য নথি বা অ্যাকুইটেন্স রেজিস্টারে ২.৫.৪৭-এর তারিখসহ তাঁর স্বাক্ষর আজও জ্বলজ্বল করছে।

ইলা মিত্র, মালদা মনেও রাখেনি তেভাগার এই সংগ্রামী নেত্রীকে।

৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ টিভিতে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ইলা মিত্রের ছেলে রণেন্দ্রনাথ মিত্র। মায়ের প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, জমিদারবাড়ির নববধূ ইলা অবাক হয়েছিলেন প্রজাদের নজরানায় মালদার রেশমের কাপড় পেয়ে- যেমন মসৃণ, তেমনি দৃঢ়। কবি গোলাম কুদ্দুস ‘ইলা মিত্র’ নামের বিখ্যাত দীর্ঘ কবিতায় ছোটখাটো বাঙালি মেয়ের সেই অনমনীয় দৃঢ়তাকেই বাঙালি জীবনে অমর করে রেখেছেন, সময় তাকে মুছে দিতে পারেনি- “ইলা মিত্র কৃষকের প্রাণ/ ইলা মিত্র ফুচিকের বোন/ ইলা মিত্র স্টালিননন্দিনী!”

চিত্র: লেখক/ গুগল

2 Responses

  1. সংগ্ৰামী নেত্রী, বিপ্লবী ইলা মিত্র কে শত কোটি প্রনাম, লেখক কে অনেক ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মহালয়া

এই চণ্ডীপাঠকে অভাবিত মাত্রা দিয়েছে কলকাতার আকাশবাণী কেন্দ্র। ১৯২৭ সালে স্থাপিত হওয়া এই বেতার প্রচারকেন্দ্র থেকে (তখন নাম ছিল ‘Indian State Broadcasting Service’) ১৯৩১-এর ১১-ই অক্টোবর সর্বপ্রথম মহালয়ার অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। স্তোত্রপাঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরিকল্পনা বাণীকুমার, প্রকৃত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। অচিরেই এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। অদ্যাপি, প্রায় শতবর্ষ হতে চলল, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পীর পরিবর্তন হয়েছে, মহালয়ার প্রাক্-সূর্যোদয়ে এখনও কী কলকাতা, কী কানপুর-ঢাকা-ম্যাসাচুসেটস-আগরতলা-আন্দামান-মেহেরপুর-টোকিওর বাঙালি এটা শুনতে ভোলেন না।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চিরজীবী বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »