Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

অস্ট্রেলিয়ার গল্প: একজন নামী মূকাভিনেতার শেষ কয়েকটি দিন

পিটার কেরি

অনুবাদ: মানব সাধন বিশ্বাস

অ্যালিতালিয়া বিমানে মূকাভিনেতা উড়ে এলেন। যৎসামান্য জিনিস তাঁর সঙ্গে এনেছেন: একটা ব্রাউনপেপারের পার্সেল, আর একটা— মনে হয় লেডিজ হ্যান্ডব্যাগ।

ব্রাউনপেপারের পার্সেলে কী আছে জিজ্ঞেস করতে উনি বললেন, ‘দড়ি’।

জিনিসটা কী কাজে লাগবে জানতে চাইলে বললেন, ‘সবচেয়ে বড় পার্সেলগুলোকে বাঁধার কাজে লেগে যেতে পারে।’

জবাবটা ঠাট্টা হিসেবে নেওয়ার মত একেবারেই ছিল না। কিন্তু রিপোর্টারেরা হেসে ফেললেন দেখে উনি বরং খুশিই হলেন। লোক হাসানো তাঁর আসে না। আতঙ্কের মত বিষয় নিয়েই তাঁর কাজ আর নামডাক।

হতাশার মত বিষয় নিয়ে তাঁর কাজ সারা ইউরোপে সুবিদিত হলেও অনেকের ধারণা, তিনি এর ভবিষ্যৎ নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ‘দড়িটা আসলে প্রার্থনার মত— যে প্রার্থনা আমি সবসময় করে চলেছি।’

নিতান্ত অনিচ্ছার সঙ্গে তিনি পার্সেলের বাঁধন খুললেন, দড়িটা এবার দেখিয়েই দিলেন। দড়ির রং নীল— টানটান করে মাপলে ঠিক তিন মিটার লম্বা।

সান্ধ্য কাগজগুলোর সামনের পাতায় ফলাও করে মূকাভিনেতা আর তাঁর দড়ির ছবি ছাপা হল।

প্রথমবারের দর্শকমণ্ডলী সহজেই ভয় পেয়েছিল। যে মুনশিয়ানার সঙ্গে তাঁর অভিনয়ে আতঙ্ক বিষয়টি তিনি তুলে ধরলেন, তার জন্যে তারা একেবারেই তৈরি ছিল না। লাগাতার সিট ছেড়ে উঠে পালানোর হিড়িক পড়ে গেল, অবশ্য আবার ফিরেও এল তারা।

জলের গভীরে দম নিয়ে বাঁচার তাগিদে নাকে-নল লাগানো স্নরকেল ডুবুরিদের মত তারা কনসার্ট হলের বাইরে গিয়ে মুখ লাল করে দরজায় দাঁড়িয়ে পড়ছিল। তারা যে দুনিয়াকে এতক্ষণ দেখছিল, তা দেখে তারা রীতিমত হতচকিত।

তাঁকে নিয়ে বইপত্র আছে। তাঁকে কেন্দ্র করে একটি পুরস্কার-বিজয়ী ফিল্ম আছে। তবে দেশের একটি রাজ্যের এক শহরে প্রথম দিন সকালে তিনি দেখলেন, একটি খবরের কাগজের একজন মাত্র সমালোচক তাঁর কাজ পছন্দ করেছেন।

সমালোচক লিখেছেন, ‘দর্শকদের মনে আতঙ্ক ঢুকিয়ে লাভের কী হয়, সেটা বোধগম্য হল না।’

মূকাভিনেতা বিছানায় বসে ভাবতে লাগলেন। উপস্থাপনে তীব্রতা আর একটু কমিয়ে ফেলার উপায় খুঁজতে লাগলেন।

তাঁর মনের জলন্ত ক্রোধ সংবরণ করানোর কাজে যে মহিলাকুল আগ্রহী, তিনি যথারীতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন।

জটিল রোগে অপারেশনের প্রয়োজনে যেমন বেশি ফি-এর সার্জনদের ডাক পড়ে, তেমনি তারা এসে তাঁর শয্যাপার্শ্বে সেবার কাজে হাজির হল।

ব্যক্তিগত জীবনে শুধুমাত্র প্রেম আহরণের দায়ে এবার তাঁকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত হতে হল; তিনি তীব্র ঘৃণার পাত্র হয়ে পড়লেন। এতে তিনি খানিকটা আশ্চর্য হয়ে গেলেন।

তিনি বললেন, ‘তাই বটে, তোমরা এখন আমায় ঘৃণা করছ, কিন্তু মেকি প্রেমটা করছিলে তোমরাই— আমি নই।’

‘আপনি একটা জঘন্য ভণ্ড লোক, সারাক্ষণ সাধু সেজে থাকেন।’ মেয়েটি বলল, ‘ওই পার্সেলে কী আছে বলবেন?’

‘এই তো বললাম’, তিনি নিরুপায় হয়ে জবাব দিলেন— ‘ওতে দড়ি আছে।’

মেয়েটি বলল, ‘আপনি একটা মিথ্যেবাদী।’

কিন্তু পরে তিনি যখন পার্সেলটা খুললেন, এবং বুঝলেন, আসলে সে তাঁর কথার সত্যতা পরখ করতে পার্সেল খুলেছিল। দড়ি সম্বন্ধে মেয়েটির ধারণা একবারে সঠিক। সে দড়িটা সস্তা রদ্দি-মার্কা রেস্তোরাঁর স্প্যাগেটির মত করে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলেছিল।

আয়োজকদের পরামর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে এবার তিনি দুটো অনুষ্ঠান করলেন— পুরোপুরি প্রেম আর হাসি নিয়ে। কিন্তু দুটোই হল সর্বনাশা। বোঝা গেল, তাঁর আতঙ্কে যেমন থাকে, এই প্রেম আর হাসিতে একেবারেই তেমন কিছু তুলনীয় বার্তা নেই।

তাড়াতাড়ি পরবর্তী অনুষ্ঠানের ঘোষণা হল।

অনুশোচনের দুটি ঘণ্টা।

টিকিট বিক্রি হল খুব তাড়াতাড়ি। তিনি শুরু করলেন প্রেমের একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিয়ে। তিনি এই বক্তব্য পেশ করলেন অনুশোচনার ভূমিকা হিসেবে, যা তিনি বিশদে পরিবেশন করলেন তাঁর জটিল এবং মর্মস্পর্শী উপস্থাপনের মাধ্যমে। দর্শকদের মুখ শুকিয়ে গেল, তারা নড়েচড়ে বসল। অন্তিম-পর্যায়ে এসে তিনি অনুশোচনা থেকে একাকিত্ব, সেখান থেকে আতঙ্কে চলে এলেন। সাহসী পর্যটকেরা যেমন করে ভারতীয় রেস্তোরাঁয় গরমাগরম মশলাদার ঝোল-শুরুয়া চেটে-পুঁটে খেতে থাকে, তেমনি করেই দর্শকেরা গোগ্রাসে গিলে নিচ্ছিল সেই আতঙ্কের আবহ।

‘আপনি যা করছেন— সব আপনার ওই খ্যাপামি-রোগের বশে।’ মেয়েটি বলল, ‘এখন যা দেখছি— এ তো অসহ্য! মনে হচ্ছে, আপনি নিজের সুবিধা হাসিলের জন্যে দুনিয়ার লোকের সামনে আপনার দুরবস্থাকে ব্যবহার করছেন— ঠিক বিকট কুশপেয়ে তুর্কি ভিখিরিদের মত।’

তিনি চুপ করে রইলেন। মেয়েটির এমন অনুমানে খানিকটা অসন্তুষ্টই হলেন: এসব নিয়ে তিনি তো আগে কখনও ভাবেননি। একবারে ষোলোআনা ভুল বোঝাবুঝি থেকেই মেয়েটি এসব আন্দাজ করে তাঁর ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তাকে ঘৃণা হিসেবে ধরে নিচ্ছে।

তাঁকে আঘাত করার জন্যে মেয়েটি তাঁর গালে একটি থাপ্পড় মারল।

মেয়েটিকে পাল্টা আঘাত করার জন্যে তিনি বুদ্ধিদীপ্ত হাসি হাসলেন।

নীল দড়ির গল্প জনতার কল্পনাশক্তিকে ছুঁয়ে গেল। কনসার্ট হলের দরজাগুলোতে ভাল বিক্রি হতে লাগল ব্রাউন পেপারের ছোট প্যাকেটগুলো।

প্যাকেটগুলো খোলার জোরালো শব্দ হছিল— স্টেজে দাঁড়িয়েই শুনতে পেলেন তিনি। তাঁর মনে হল, এ যেন অ্যামেরিকান গিন্নীবান্নিদের মুসলিম নামাজপাটি কেনার মত একটা ব্যাপার।

অনুষ্ঠানসূচির বিশাল তালিকার ভারে তিনি ক্লান্ত অবসন্ন ও দুর্বল হয়ে পড়লেন। তিনি শেষ অব্দি বহু বছর ধরে একটানা খোঁচার সন্দেহের শিকার হয়ে পড়েছেন। সমস্ত দিশার বোধ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। মোটেলের ঘরে বসে এয়ার-কন্ডিশনারের শব্দ শুনে উদাস কৌতূহলশূন্যতায় তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটালেন।

তিনি নিয়ন্ত্রিত আতঙ্কের সামাজিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। যেসব জিনিস তিনি নিজে মরিয়াভাবে বা বেপরোয়াভাবে এড়িয়ে চলতে চাইতেন, সেগুলোর হাতেগরম অভিজ্ঞতা লাভের জন্যে দর্শকদের হালের চাহিদা তিনি এখন আর ঠিক বুঝতে পারছেন না।

খুঁতখুঁতে লোকের মত এখন তিনি ছাইদানির ছাই পরিষ্কার করেন।

ব্রাউনপেপারের পার্সেলটা খুলে তিনি দড়ির ছোট টুকরোগুলো সিস্টার্নে ঢেলে দিলেন। সাদা জলের তীব্র স্রোত ঢিমে হয়ে আসতেই সেগুলো ওপরে ভেসে উঠল— দুর্যোগ-ঘটিত কারণে সমুদ্রে জাহাজডুবির পর জিনিসপত্র যেমন ভেসে ওঠে, তেমনি করে।

১০

মূকাভিনেতা এবার একটি প্রেস কনফারেন্স ডেকে ঘোষণা করলেন, এরপর আর কোনও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে না। তাঁকে নিতান্ত ক্ষুদ্রকায় এবং ভিনদেশি মনে হল— তাঁর শরীর জুড়ে এখন রসুনের কটুগন্ধ। তাঁকে নিয়ে প্রেসের লোকদের আর তেমন উৎসাহ রইল না। দক্ষতা-বিচার এখন জনতার হেফাজতে; তারাই মর্জিমাফিক ঠিক করবে, তাঁকে কোন সময়ে কোন উদ্দেশ্যে তারা তাঁর সেবা নেওয়ার অনুরোধ করবে।

১১

যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল মৃত্যুকে তিনি কীভাবে দেখেন, তিনি প্রশ্নকর্তার একটা পোলারয়েড ফটোগ্রাফ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

১২

যখন জানতে চাওয়া হল বিয়ে জিনিসটাকে তিনি কীভাবে দেখেন, তিনি একটি ছোট্ট সস্তা দামের চিরুনি এগিয়ে দিলেন, যেটির গায়ে লেখা ছিল ‘তিউনিসিয়ায় প্রস্তুত’।

১৩

তাঁর জনপ্রিয়তা এখন ভাঁটায়। মনে হল, তিনি এখন একজন অচেনা মানুষ যাকে সাধারণ লোক বুঝতে পারে না। জবাব প্রসঙ্গে তিনি অনুরোধ করলেন তাঁকে যেন সহজতর প্রশ্ন করা হয়। দর্শকদের খুশি রাখতে তিনি কোনওকিছুই চেপে রাখেননি।

১৪

যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয় তিনি একটা উড়োজাহাজকে কীভাবে দেখেন যেটিতে চড়ে তিনি শহরটা তিনবার চক্কর দিয়েছেন আর তারপর অবতরণেরা সময়ে চোট পেয়েছেন।

১৫

যখন নদীর বর্ণনার অনুরোধ এল, তিনি নিজেকে ডুবিয়ে দিলেন জলে।

১৬

অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যেটা, তা হল তাঁর এই একবারে সর্বশেষ এবং ন্যূনতম নমুনার কাজটিই হল সেই একটিমাত্র কাজ, যেটি ফিল্মে রেকর্ড করা হয়েছিল।

নদীর ধারে জড়ো হয়েছিল অল্প কয়েকজনের একটি ছোট্ট দল— সংখ্যায় ত্রিশ জনের বেশি হবে না। ধোপদুরস্ত ছাইরঙা স্যুট-পরা ছোটখাটো চেহারার একজন ফিটফাট মানুষ নদীর দিকে এগিয়ে গেলেন। নদীর কিনারা থেকেই গভীর জল। সেকেন্ড-দুয়েকের জন্যে শুধু তাঁর মাথাটা দেখা গেল, তারপরে তিনি আর নেই।

একজন পুলিশ কিনারা-বরাবর নজর রাখছিল। সে ভেবেছিল, মানুষটি ফিরে আসবেন আবার। কিন্তু তারপর ফিল্মটি থেমে গেল।

এই মানুষটি কীভাবে তাঁর হৃদয়ের আবেগ-অনুভূতিগুলো এমন করে নাড়িয়ে দিয়ে গেলেন, শেষের এই কাজটি দেখে সেটা কল্পনা করা সত্যিই কঠিন।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

***

লেখক পরিচিতি

পিটার কেরি (১৯৪৩-) আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের প্রথিতযশা লেখক। জন্ম অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশের ব্যাকাস মার্সে ১৯৪৩ সালে। পরাবাস্তবধর্মী ছোটগল্পে ইনি একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। শিক্ষা: অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে, কিন্তু পাঠ অসম্পূর্ণ রেখে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। বিজ্ঞাপনের কপিরাইটিং সমেত জীবনে নানা পেশায় থাকলেও ১৯৮৮ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে লেখালেখির জগতে সুখ্যাত সাহিত্যসেবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, যার স্বীকৃতিতে তিনি দুবার (১৯৮৮ ও ২০০১) বিশ্বখ্যাত বুকার পুরস্কারে সম্মানিত হন।
তাঁর বইগুলির মধ্যে ‘ব্লিস’ (১৯৮১), ‘ইলিহয়াকার’ (১৯৮৫), ‘অস্কার অ্যান্ড লুসিন্ডা’ (১৯৮৮), ‘দ্য ট্যাক্স ইন্সপেক্টর’ (১৯৯১), ‘দ্য আনিউজুয়াল লাইফ অফ ট্রিস্টান স্মিথ’ (১৯৯৪), ‘জ্যাক ম্যাগস’ (১৯৯৭), ‘ট্রু হিস্ট্রি অফ দ্য কেলি গ্যাং’ (২০০০), ‘দ্য কেমিস্ট্রি অফ টিয়ার্স’ (২০১২), ‘অ্যাম্নেশিয়া’ (২০১৪), ‘আ লঙ ওয়ে ফ্রম হোম’ (২০১৭) প্রভৃতি উপন্যাস এবং ‘দ্য ফ্যাট ম্যান ইন হিস্ট্রি’ (১৯৭৪), ‘দ্য ওয়ার ক্রাইমস’ (১৯৭৯) প্রভৃতি ছোটগল্প-সংকলন উল্লেখযোগ্য।

5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
J.Ghosh
J.Ghosh
1 year ago

অপূর্ব গল্প। মানবসাধনবাবুকে অনেক ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা, এমন একটি গল্প অনুবাদ করে পাঠকের কাছে তুলে ধরার জন্য।

Recent Posts

আবদুল্লাহ আল আমিন

মাহমুদ দারবিশের কবিতায় ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রাম

যুবা-তরুণ-বৃদ্ধ, বাঙালি, এশিয়ান, আফ্রিকান যারাই তাঁর কবিতা পড়েছেন, তারাই মুগ্ধ হয়েছে। তাঁর কবিতা কেবল ফিলিস্তিনি তথা আরব জাহানে জনপ্রিয় নয়, সারা বিশ্বের ভাবুক-রসিকদের তৃপ্ত করেছে তাঁর কবিতা। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক পঠিত নন্দিত কবিদের একজন।

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর কবিতা: কিছু কিছু পাপ

শৈবাল কে বলেছ তাকে, এ যে বিষম পাথরে/ সবুজ জমা, গুল্মলতা পায়ে জড়ায়, নাগিনী/ হিসিয়ে ফণা বিষের কণা উজাড় করো আদরে/ তরল হিম, নেশার ঝিম কাটে না তাতে, জাগিনি

Read More »
সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »