Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

শিবরাম দে-র ছোটগল্প

বিষকন্যা

কাঁটায় কাঁটায় রাত ন’টা। রাজীবকে বারাসত স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে ভোটের গাড়ি ফিরে গেল।
চারপাশে বেশ ভিড়। রাজীব টিকিটঘরের দিকে চলল। এমন সময় মাইক্রোফোনে ঘোষণা শুনল, প্যান্টোগ্রাফ ভেঙে আপ বনগাঁ লোকাল বিরাটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে। বনগাঁয় কোনও রেক না থাকায় ডাউন ট্রেনও আসবে না।
এখন কী করবে রাজীব? ওর বাড়ি বনগাঁয়। রাজীব মোবাইলটা অন করে টাইম দেখল। প্রায় সাড়ে ন’টা বাজে। একেই ভোটের দিন, এই সময় যানবাহন পাওয়া অসম্ভব। ভোটের কাজে সব হুকুম-দখল হয়ে গেছে। রাতটা কাটানোর জন্য হোটেলের খোঁজ করতে করতে তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছে গেল রাজীব। রাস্তায় মানুষজন সামান্যই। যান-বাহন আরও কম। অন্য সময় এইসব জায়গা ঝলমল করে। দোকানপাট সবই প্রায় বন্ধ। দু’-একটা চায়ের দোকান খুলেছে মাত্র।
রাজীব খুবই সমস্যায় পড়ল। বড় রাস্তার ওপর ওষুধের দোকানগুলো খোলা রয়েছে দেখে। হোটেলের খোঁজ করতে যাবে বলে দোকানগুলোর দিকে এগিয়ে যেতে মেয়েলি কণ্ঠের ডাক, ‘আরে রাজীব না!’
বহুদিনের পরিচিত গলা পেয়ে রাজীব ফিরে তাকাতে নজরে এল, তৃণা! হ্যাঁ, তৃণাই তো! ওষুধের দোকান থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাকে দেখতে পেয়েছে।
বহুদিন পর দু’জনে মুখোমুখি। তৃণার নিতম্বস্পর্শী বেণী আজ আর নেই। কপালের ওপর পড়া উড়ো চুলগুলোও আজ উধাও। এখন বয়-কাট চুল। দিঘির টলটলে জলের মতো মুখের ঢলঢল লাবণ্যও মুছে নিয়েছে সময়। বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঘাম লেগে আছে সারা মুখে।
খঞ্জন-চোখের দৃষ্টিতে একরাশ খুশির আলো ছিটিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিল তৃণা, ‘তুমি এখানে?’
‘ভোটের ডিউটি সেরে ফিরছি। ট্রেন বন্ধ। যান-বাহন নেই ফেরার মতো। অগত্যা হোটেলের…।’
‘আমার ফ্ল্যাট থাকতে তুমি হোটেলে থাকবে কেন?’
‘তোমার অসুবিধা হবে না?’ দ্বিধাগ্রস্ত রাজীব।
‘আমার আবার অসুবিধা কী! চলো, কাছেই কলোনি মোড়ে আমার ফ্ল্যাট।’ আন্তরিকভাবেই বলল তৃণা।
কলোনির মোড় থেকে যে রাস্তাটা পশ্চিম দিক বরাবর চলে গেছে, একটু এগিয়েই দোতালায় মাঝারি মাপের ফ্ল্যাট। পাশাপাশি দুটো বেডরুম। মুখোমুখি কিচেন আর টয়লেট। মাঝে ড্রয়িং কাম ডাইনিং। একটা ঝুলবারান্দাও নজরে এল।
রাজীবকে একটা ঘরে নিয়ে এল তৃণা। আলো জ্বালাল। পাখা চালাল।
লেমন-ইয়েলো রঙের দেওয়াল। উত্তরের দেয়ালে ভ্যান গঘের সূর্যমুখীর প্রিন্ট। দক্ষিণের দেয়ালে হুসেনের ধাবমান অশ্ব। ফ্লোরাল টাইলসে ঢাকা মেঝে। কোথাও একফোঁটা মলিনতা নেই। দক্ষিণে জানালা-ঘেঁষে একটা ইংলিশ খাট। খাদির বেড-কভার দিয়ে ঢাকা পুরু বিছানা। মাথার কাছে মেহগনি কাঠের ছোট টেবিল। সেখানে কাচের বাটিতে জলে রাখা একমুঠো বেলিফুল।
খাটে বসল রাজীব। চিন্তামুক্ত আরামসূচক ছোট্ট শব্দটি বেরিয়ে এল ওর মুখ থেকে, ‘আঃ!’
‘একটু রেস্ট নিয়ে নাও। আমি চেঞ্জ করে আসি। ও ভালকথা স্নান করবে তো?’
‘অবশ্যই, যা ভ্যাপসা গরম!’
‘চেঞ্জ করবার কিছু আছে?’
‘যা আছে, সেগুলো গায়ে তুলতে ইচ্ছে করছে না?’
‘দেখছি, ছোট্টুর দু’একটা পাজামা-পাঞ্জাবি ওয়ার্ডরোবে থাকলেও থাকতে পারে।’
‘ছোট্টু!’ রাজীবের কৌতূহলী প্রশ্ন।
‘আমার ছেলের ডাকনাম। ওরই ঘর এটা।’
‘দেখছি না তো তাকে!’
‘ও বেঙ্গালুরুতে থাকে।’ তৃণার কণ্ঠস্বরে বিষন্নতার আঁচ, ‘হোটেল ম্যানেজমেন্ট করে তাজ গ্রুপে জয়েন করেছে।’
‘তুমি একা থাকো?’
‘ভয় পেলে নাকি?’ তৃণার অধরে কেমন রহস্যের হাসি।
তৃণা চেঞ্জ করতে গেল। রাজীব মোবাইলে দিয়াকে ধরে রাতে ফিরতে না পারার খবরটা জানিয়ে দিল।
তৃণা ফিরে এল একটু পরেই। পায়জামা-পাঞ্জাবি বিছানায় নামিয়ে রেখে বলল, ‘যাও স্নানটা সেরে এসো।
রাজীব স্নান সেরে ফ্রেশ হয়ে পোশাক বদল করে ঘরে ফিরল।
স্নান করে শরীরটা ছেড়ে দিয়েছিল রাজীবের। কতক্ষণ চোখ বুজে শুয়েছিল খেয়াল নেই। একটা মিষ্টি গন্ধ নাকে আসায় চোখ খুলল। সামনে দাঁড়িয়ে তৃণা। স্নান সেরে সামান্য প্রসাধনও করেছে। বাসন্তী রঙের শাড়ির সঙ্গে কচি কলাপাতা রঙের ব্লাউজে তৃণাকে কেমন রহস্যময়ীর মতো লাগছে।
রাজীব উঠে বসল। তৃণা একটু দূরত্ব রেখে বসল।
‘এখনও কবিতা লেখো?’
‘নাঃ!’ সংক্ষিপ্ততম উত্তর।
‘ভালই তো লিখতে। লেখা ছাড়লে কেন?’
‘আমি আর ছাড়লাম কই। সেই আমাকে ছেড়ে গেল যে।’ রাজীব বিমর্ষভাবে উত্তর দিল। ‘অনিকে তুমি বিয়ে করার পর, আমার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল।’
‘অনির মৃত্যুর খবরটা তুমি তো পেয়েছিলে রাজীব, একবারের জন্য এলে না কেন?’ তৃণার গলায় অভিযোগের সুর।
‘সাহস হয়নি তৃণা, তোমার সামনে দাঁড়াবার সাহস হয়নি।’ তৃণার চোখে চোখ রেখে বলল, ‘কী সান্ত্বনা দিতাম!’
দু’জনেই নীরব। অনেকগুলো নীরব মুহূর্ত অতিক্রান্ত হবার পর তৃণা বলল, ‘চলো, খেয়ে নেবে।’
‘তোমার খাবারে ভাগ বসাব?’ হালকাভাবেই কথাটা বলল রাজীব।
‘আর কিছুর ভাগ তো নিলে না।’ তৃণার সপ্রতিভ উত্তর, ‘না হয় খাবারের ভাগই নিলে।’
ডাইনিংয়ে এল দু’জনে। রাতের খাওয়া শেষ হল।
রাজীব ফিরল নির্দিষ্ট ঘরে। রাতবাতি জ্বালাল। নরম নীলাভ আলো। গ্রীষ্মের গুমোট কেটে গিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস আসছে দক্ষিণের জানলা দিয়ে। নাম না-জানা একটি পাখি খ্যাঁ খ্যাঁ করে ডেকে জানালার পাশ থেকে উড়ে গেল।
এমন সময় তৃণা ঘরে ঢুকল। হাতে কাচের গ্লাসে জল, গেলাসটা টেবিলে নামিয়ে রেখে তৃণা হাসল, ‘এখনও ঘুমোওনি!’
‘নতুন জায়গায় ঘুম আসতে চায় না।’
‘ঘুমের ট্যাবলেট নেবে একটা?’
‘নাঃ থাক।’
রাজীব তাকিয়ে আছে তৃণার দিকে, লেসের কাজ করা দুধ-সাদা চিকনের ফিনফিনে রাতপোশাকে তৃণা যেন রাতপরী।
‘কী দেখছ?’ ফিসফিসিয়ে উঠল তৃণা।
‘তোমাকে!’ মুগ্ধতা গোপন করল না রাজীব।
‘আগে দেখোনি?’ লজ্জায় আরক্ত তৃণা মুখ নিচু করল।
‘এমনভাবে তো দেখিনি!’ সরল স্বীকারোক্তি রাজীবের।
রাতের নির্জনতায় দূর-অতীতের প্রেমিক এক পুরুষের বিমুগ্ধ দৃষ্টির আরতিতে তৃণার দেহের আনাচ-কানাচে অবিরাম ঘণ্টাধ্বনি। হুঁশ হারাল তৃণা। আগ্রাসী আলিঙ্গনে বেঁধে ফেলল রাজীবকে।
রাজীবের মনের আয়নায় ভেসে উঠল স্ত্রী দিয়ার সরল মুখটা। তৃণাকে প্রতিহত করার আপ্রাণ চেষ্টা করল রাজীব। পারল না। একেই প্রাক্তন প্রেমিকা, তার শরীরের প্রতি একান্ত গভীর আকর্ষণ যে ছিল না তা তো নয়। সেই তৃণার বুকের নরম রেশম স্পর্শে প্রতিরোধের প্রাচীর ভেঙে খান খান হয়ে গেল। বুভুক্ষু নারীর দুর্বার কামনার কাছে হার মানতে হল রাজীবকে। ওর পৌরুষকে নিঃশেষ করে তৃপ্ত হল তৃণা।
দুধসাদা চিকনের রাতপোশাকটা কোনওমতে গায়ে জড়িয়ে নিয়ে প্রায় ছুটেই ঘর ছাড়ল তৃণা।
বাইরের ছোট্ট ঝুলবারান্দায় এসে দাঁড়াল। দেওয়ালে হেলান দিয়ে দু’হাতে মুখ ঢেকে অস্ফুট উচ্চারণ করল, ‘ছিঃ ছিঃ, এ কী হল!’ তৃণা তো এমনটা চায়নি। এক রাতের আশ্রিতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। খুন করল তাকে! এটা তো খুনই। তৃণা তো বিষকন্যা! এলাইজা টেস্টে এইচআইভি পজিটিভ।
তৃণার ভেতরের ভূমিকম্পের ঘূর্ণিপাক। অনিবার্য পতনের হাত থেকে নিজেকে রক্ষার তাগিদে ব্যালকনির রেলিং চেপে ধরল সে। অবিশ্রান্ত জলধারা গড়িয়ে পড়তে লাগল দু’চোখ বেয়ে। অনিরুদ্ধের মৃত্যুর পরও এমন বুকভাঙা কান্না কাঁদেনি সে।

চিত্রণ: বাপ্পাদিত্য জানা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − 10 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

স্যার রোনাল্ড রস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য

রোনাল্ড রসকে তাঁর গবেষণার সহায়তাকারী এক বিস্মৃত বাঙালি বিজ্ঞানীর নাম কিশোরীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭৭-১৯২৯)। তাঁর অবদান কিন্তু খুব কম নয়। তিনি ছিলেন রস-এর অধীনে সহ-গবেষক। রস নোবেল পেলে উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর নেতৃত্বে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, শিবনাথ শাস্ত্রী, আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ কিশোরীনাথের ভূমিকার বিষয়টি বড়লাট লর্ড কার্জনকে জানান। কার্জন এ-বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের গোচরে আনেন। এর ফলে ১৯০৩ সালে যখন দিল্লিতে দরবার বসে, তখন ডিউক অফ কনট-এর মাধ্যমে কিশোরীনাথকে ব্রিটিশরাজ সপ্তম এড‌ওয়ার্ড-এর তরফ থেকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। পরে কলকাতা
র সেনেট হলে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। সভাপতি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

দুই হুজুরের গপ্পো

১৯৩০ সালের ১৪ জুলাই, আলবার্ট আইনস্টাইন বার্লিনের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে স্বাগত জানান ভারতীয় কবি, দার্শনিক ও সঙ্গীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তিনি ছিলেন প্রথম অ-ইউরোপীয় নোবেল বিজয়ী। তাঁদের এই সাক্ষাৎকারটি ইতিহাসের অন্যতম বুদ্ধিদীপ্ত ও মননশীল আলাপচারিতায় পরিণত হয়, যেখানে তাঁরা বিজ্ঞান ও ধর্মের চিরন্তন দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করেন। “সায়েন্স অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান ট্রাডিশন: হোয়েন আইনস্টাইন মেট টেগোর” গ্রন্থে এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের বিবরণ পাওয়া যায়। এই বইতে বিশ শতকের শুরুতে ভারতের বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিক চিন্তার মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আশা ভোসলে ও তাঁর বাংলা গান

সুদীর্ঘ আট দশক ধরে তিনি তাঁর সঙ্গীতের সুধায় ভরিয়ে দিয়েছেন কেবল ভারত বা এই উপমহাদেশকেই নয়, বিশ্বকে। পরিণত বয়সেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর, যেমন কয়েক বছর আগে হয়েছিল তাঁর স্বনামখ্যাত অগ্রজা লতা মঙ্গেশকরের। আশা ভোসলে তাঁর সমগ্র জীবনে বারো হাজার গান গেয়ে গিনেস বুকে স্থান পেয়েছেন। একদিকে ধ্রুপদী সঙ্গীত, অন্যদিকে লঘু, পপ, এমনকী চটুল গানেও তাঁর সমকক্ষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সমসাময়িক কিংবদন্তি শিল্পীদের মধ্যে এজন্য অনায়াসে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

স্প্যানিশ ছোটগল্প: পুতুল রানি

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

Read More »
যদুনাথ মুখোপাধ্যায়

বিজ্ঞানমনস্কতা কারে কয়?

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »