Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

হারিয়ে যাচ্ছে মালদার ডোমনি আর নাটুয়া

জাতীয় নাট্যমঞ্চে বাংলার লোকনাট্যের গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে— নানা সময়ে নানা জাতীয় স্তরের সমালোচকরা একথা প্রায় একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন। মালদা জেলার বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী মোথাবাড়ি, মানিকচক ও রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রান্তিক গ্রামগুলি একসময় লোকসংস্কৃতির বিচিত্র ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ ছিল। এখন সেখানে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে যায় হাওয়া। ইংরেজবাজার কেন্দ্রিক শহুরে নাট্যচর্চার প্রসার আর লোকঐতিহ্যের প্রতি ‘লোক’-্এর মনোযোগের অভাবে আজ হারিয়ে গিয়েছে লোকনাট্যের সমৃদ্ধ ঘরানা।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘আরণ্যক’-এ উল্লেখ আছে নাটুয়ার।

শহুরে প্রসেনিয়াম লাইট-সাউন্ড-অ্যাকশনের খবর রাখেন না ওঁরা— উল্টোটাও সমান সত্যি। দুর্বল শরীরে এখনও কেউ করেন গোরুর রাখোয়ালি, কেউ বা আবার মথুরাপুর হাটে মুদিখানার পসরা সাজিয়ে বসেন। অথচ তাঁদের নাটুয়া বা ডোমনি-গানে একসময় চমকে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গসহ রাজধানী দিল্লি। কলকাতার রবীন্দ্রসদন, হলদিয়ার রবীন্দ্রভবন থেকে শুরু করে দিল্লির ভারত রঙ্গ মহোৎসবে অভিনয় করে এসেছেন ওঁরা। বিশ্ব নাট্য দিবসে মালদার গুরুত্বপূর্ণ লোকনাট্য ডোমনি বা নাটুয়ার মতোই বিস্মৃতিই ঘিরে থাকল এই লোকনাট্যের দুই প্রবীণ শিল্পী অজিত ঘোষ ও সতীশ ঘোষকে।

৭৩ বছর বয়সেও ঢোল হাতে নাটুয়ার বোলে দর্শক-শ্রোতাকে মাতিয়ে রাখেন প্রবীণ লোকশিল্পী সতীশ ঘোষ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মথুরাপুর গোয়ালপাড়ার আদি বাসিন্দা সতীশ ঘোষই এই অবলুপ্তপ্রায় ধারার শেষ প্রতিনিধি।

প্রবীণ লোকশিল্পী সতীশ ঘোষ।

লোকসংস্কৃতিবিদরা বলেন, মালদার মানিকচকের ফাগুয়া, নাটুয়া বা কর্মাধর্মা কার্যত অবলুপ্তপ্রায় লোক আঙ্গিক। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘আরণ্যক’-এ উল্লেখ আছে নাটুয়ার। সেখানে ৭৬ বছরের বৃদ্ধ নাটুয়া দশরথ ননীচোরা গোপালের ভূমিকায় অভিনয় করত পূর্ণিয়া আর ভাগলপুরের কাটনি মেলায়। বিহার-ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী মালদার মানিকচকের বাঁকিপুরে ৭৩ বছর বয়সি সতীশ ঘোষ এখনও মাতিয়ে দেন নাটুয়ার আসর। বয়সের ভারে এখন অবশ্য তিনি মথুরাপুর গোয়ালপাড়া নাটুয়া সংস্কৃতি মঞ্চ দলের মুখিয়ার ভূমিকায় থাকেন।

আচার্য বিনয়কুমার সরকার তাঁর ১৯১৭ সালে প্রকাশিত ‘ফোক এলিমেন্টস অফ হিন্দু কালচার’ নামের বহুখ্যাত গ্রন্থে ফাগুয়াকে আভীর বা গোয়ালাদের উৎসব হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। লোকসংস্কৃতিবিদরা বলেন, সাধারণভাবে ফাগুয়া নাট্যগীতি ঘোষ বা গোয়ালাদের বিবাহগীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মানিকচক যেহেতু পূর্ণিয়া বা ভাগলপুর সীমান্ত সংলগ্ন, তাই সেখানে ফাগুয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোকমাধ্যম। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিবাহ করে গ্রাম পেরিয়ে যাওয়ার পথে সেই গ্রামের বাসিন্দাদের অনুরোধে নাটুয়া নাচ দেখানোর পর বরযাত্রীরা ফেরার পথ পেয়েছেন। আধুনিকতার আগ্রাসন এবং শিল্পীদের সরে যাওয়া এই লোকমাধ্যমকে প্রায় শেষ করে দিয়েছে।

ডোমনির কোনও লিখিত স্ক্রিপ্ট থাকে না।

মানিকচক স্ট্যান্ড সংলগ্ন ছোট্ট মুদিখানার দোকানেই দিন কেটে যায় ষাটোর্ধ্ব অজিত ঘোষের। প্রায় তিন দশক ধরে ডোমনি-গানের সঙ্গে যুক্ত এই বর্ষীয়ান লোকশিল্পীর নাট্যগুরু ছিলেন মানিকচকের কিংবদন্তি বাম জননেতা ও বিধায়ক সুবোধ চৌধুরী। সুবোধ চৌধুরীকে বাংলা সাহিত্যে অমর করে রেখেছেন রবীন্দ্র পুরস্কার জয়ী ঔপন্যাসিক অভিজিৎ সেন। ২০০৬-এ প্রকাশিত তাঁর স্বল্প আলোচিত উপন্যাস ‘নিম্নগতির নদী’-র নায়ক তিনিই। এখনও মানিকচকের প্রচুর মানুষের কাছে তিনি গল্পকথার ‘এমলে সাব’। বাম সরকারের পরিবহণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯৫-৯৬ সালে মূলত সুবোধবাবুর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গব্যাপী ছড়িয়ে থাকা লোকসংস্কৃতির মাধ্যমগুলিকে একছাতার তলায় নেওয়ার ব্যাপারে যাঁরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। মনে রাখতে হবে, এখান থেকেই প্রকাশিত লোকসংস্কৃতি গ্রন্থমালা সিরিজে ডোমনি বিষয়ক বইটির লেখক সুবোধ চৌধুরী স্বয়ং। সীমান্ত বাংলার লোকসংস্কৃতির পরবর্তী প্রজন্মের গবেষক ড. দেবশ্রী পালিত বা ড. দীপাঞ্জনা শর্মা একবাক্যে স্বীকার করেন— এই ছোট্ট বইটি এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

প্রায় তিন দশক ধরে ডোমনি-গানের সঙ্গে যুক্ত অজিত ঘোষ।

বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত অঞ্চলের কথ্য দ্বারভঙ্গিয়া খোট্টা, চাঁই খোট্টা বা শেরশাবাদিয়া খোট্টায় রচিত এই ডোমনির কোনও লিখিত স্ক্রিপ্ট থাকে না। আসরের প্রয়োজনে সাধারণভাবে বন্দনাগান দিয়ে আরম্ভ করে দর্শকের চাহিদা অনুসারে বিভিন্ন রকম বিষয়কেন্দ্রিক ভাবনা সেখানে নাট্যগীতির মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়। এই অঞ্চলের ডোমনি নিয়ে বেশ কিছু ডিজিটাল ডকুমেন্ট তৈরি করেছিলেন গবেষক সৌমেন্দু রায় এবং অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায়। সেখানে দেখা গিয়েছিল— এই ২০২৩-এও ডোমনিতে নারীর ভূমিকায় অভিনয় করেন পুরুষরা। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের আলকাপকে কেন্দ্র করে লিখিত অসামান্য উপন্যাস ‘মায়া মৃদঙ্গ’-র সেই ছোকরা-ছুকরিদের মতো এখানেও কোথাও যেন জীবন আর অভিনয় মিলেমিশে এক হয়ে যায়।

বিভূতিভূষণ এবং বনফুলের লেখাতে আছে পূর্ণিয়া এবং ভাগলপুরের বিখ্যাত নাটুয়া গায়ক ধাতুরিয়ার কথা।

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর অযোধ্যায় গিয়েছিল ভারতীয় গণনাট্য সংঘের একটি শাখা। সুবোধবাবুর হাতেগড়া ডোমনি দল মানিকচক লৌকিক সৃজনীর সঙ্গে অজিত ঘোষও সঙ্গী ছিলেন সেই ঐতিহাসিক যাত্রার। অযোধ্যায় সম্প্রীতির প্রচারে ডোমনি-গান বেঁধে পরিবেশন করেছিলেন তাঁরা। পঁচানব্বইয়ে সিকিমে লোকসংস্কৃতি উৎসব থেকে হলদিয়া লোকসংস্কৃতি উৎসব— রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই লোকমাধ্যমকে তুলে ধরার অন্যতম কুশীলব আজ অনেকটা সরে এসেছেন প্রিয় এই শিল্প থেকে। তবে জীবনের জমা-খরচ মেলাতে মেলাতে দোকানের জমা-খরচ মেলানোটাও কখন মিশে গেছে রক্তে, তার খবর রাখে না কেউ। এই বিশেষ দিনগুলোতে শহরের নাট্যজগতের কেউ কোনও দিনও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, একথা অতি বড় স্বপ্নেও ভাবতে পারেন না তিনি। বরং ডোমনি বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে— এই বিশ্বাসটুকুই সম্বল রেখেই তিনি আজও পাল্লায় বাটখারা চাপান।

বিভূতিভূষণ এবং বনফুলের লেখাতে আছে পূর্ণিয়া এবং ভাগলপুরের বিখ্যাত নাটুয়া গায়ক ধাতুরিয়ার কথা। মার্চ মাসে সরষে কাটার পর পূর্ণিয়া, ভাগলপুর এবং মালদার কিছু কিছু অংশে যে কাটনি মেলা বসত, সেই অঞ্চলগুলিতে ঘুরে ঘুরে নাটুয়া পরিবেশন করে বেড়াত ধাতুরিয়া। মূলত শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলাকে অবলম্বন করে কিশোরী রাধিকার মান-অভিমান অসম্ভব সুরেলা গলায় পরিবেশন এই বালক শিল্পীকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছিল। ‘আরণ্যক’ উপন্যাসেও একাধিকবার এসেছে এই বালক লোকশিল্পীর কথা।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে অধ্যাপক সিলেবাস মেপে পড়ান জয় গোস্বামীর ‘মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয়’। ছাত্রছাত্রীরা এই কবিতার নোট বানায় ‘বেণীমাধব বেণীমাধব’ নামে। বেণীমাধব শব্দের অর্থ যে ঝুঁটিবাঁধা শিশু-কৃষ্ণ; সেই ব্যঞ্জনা লোপামুদ্রার শাণিত গলায় কোথায় যেন হারিয়ে যায়। আসলে, সময়ই হয়তো ছুটি দিয়ে দেয় অসময়কে— শুরু হয় অন্য এক সময়। বহু যুগের ওপার হতে অজিত ঘোষ বা সতীশ ঘোষের স্মৃতিতে ভর করে ভেসে আসে বেণীমাধবের ভূমিকায় অভিনয়রত ধাতুরিয়ার সুরেলা কণ্ঠ। আন্তর্জাতিক নাট্য দিবসের প্রসেনিয়াম যে ‘মেঠো সুর’-কে (উল্লেখ্য, সুবোধ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকার নাম ‘মেঠোসুর’) কোনওদিন ঢেকে দিতে পারেনি, পারবেও না, আকাশজুড়ে বাজতে থাকবে— ‘রাজা লিজিয়ে সেলাম ম্যায় পরদেশিয়া…’।

চিত্র: লেখক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 3 =

Recent Posts

প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর তিনটি কবিতা

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

Read More »
সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়

ছোটগল্প: ফাউ

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

Read More »