Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ছোটগল্প: অন্ধকার

পাকা রাস্তাটা নদীর পারে এসে শেষ হয়েছে। অনিমেষ এবং শরৎ কথা বলতে বলতে এই পুরানো রাস্তা ধরে নদীর দিকে এগিয়ে এল। সেতু তৈরি হওয়ার আগে যখন নৌকোতে ঘাট পারাপার হত তখন খেয়া নৌকো এখানেই এসে থামত। মূল শহরটা নদীর ওপারেই। বিশ-পঁচিশ বছর আগেও নদীর এপারটা গ্রামই ছিল। নদীর ওপরে সেতু তৈরির আগে পর্যন্ত এপারে এই একটাই পাকা রাস্তা ছিল। সেতু তৈরির পর এই রাস্তাটা একটু বাম দিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রইল। এ শহরটায় অনিমেষ বিশ-বাইশ বছর পর এল। এখানে সে ছিলও প্রায় দশ বছর। পরিত্যক্ত রাস্তার শেষ মাথা থেকে নদী অনেকটা নীচে। সেখানেই সেই রাস্তার ওপরেই চারদিক খোলা একটা চায়ের দোকান।

দোকানটা বেশ মনোরম জায়গায়। পিছনে নদীর অন্ধকারের বিস্তারের মধ্যে বিদ্যুতের আলো নিয়ে নিরালা দোকানটা বেশ একটা অপরিচিত রোমান্স তৈরি করেছে। অনিমেষ বলল, ‘যুগল দাসের দোকানটা না? এখনও আছে?’

শরৎ বলল, ‘হ্যাঁ, এখন যুগলের নাতি মণি দোকানটা চালায়।’

অনিমেষ একটু অবাক হয়ে বলল, ‘যুগল দাসের নাতি! যুগল জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে? বেরিয়ে এসে ফের সংসার করেছে নাকি? শুনেছিলাম সে যাবজ্জীবন খেটে বেরিয়ে এসে সন্ন্যাসী হয়ে গেছে? একবার যেন সন্ন্যাসীর বেশে তাকে দেখেও ছিলাম কোথাও।’

কথা বলতে বলতে তারা নদীপারের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়াল। কার্তিক মাসের নদীতে এখনও ভালই জল আছে। ভাল বলা এই কারণে যে, এখানের নদীগুলো বর্ষার সময় ছাড়া অন্য সময় একেবারে শীর্ণ অবস্থায় থাকে। এই নদীর তিস্তার সঙ্গে একটা সংযোগ ছিল। সংযোগ অতীতে কোনও কারণে বন্ধ হয়েছিল। সেই থেকেই স্রোতের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ প্রায় নেইই।

শরৎ বলল, ‘না, যুগল দাস আর সংসার করেনি। সে বারো বছর, না চোদ্দো বছর জেল খেটে বেরিয়ে এসে শহরের শ্মশানে লাল সালু পরে কপালে গোলা সিঁদুরের তিলক টেনে সন্ন্যাসী হয়ে বসে গেল।’

‘তবে নাতি এল কোত্থেকে? অনিমেষ জিজ্ঞেস করল।

শরৎ বলল, ‘আপনি যুগল দাসের কেসটা বোধ হয় ভুল গেছেন। তার আগের পক্ষের একটা মেয়ে ছিল না? সে মেয়ের জন্যই সে ধরা পড়ে গেল না?’

সব ঘটনা এক এক করে মনে পড়তে লাগল অনিমেষের। সেই ভয়াবহ ঘটনাটা সে সময় এ অঞ্চলে ভীষণ আলোড়ন তুলেছিল। নদীর পাড় থেকে সরে এসে তারা চায়ের দোকানের ভেতরে বসল। ভেতরে ডানে-বাঁয়ে দুটো প্লাস্টিকের টেবিল ঘিরে চার চার আটটা চেয়ার। তারা দোকানে উঠে ডান ধারের টেবিলটায় গিয়ে বসল, সে দিকটায় পেছনের দেয়ালে একটা বেশ বড় জানালা। সেখান থেকে নদী এই সন্ধ্যায় দেখা না গেলেও নদীর অন্ধকার শূন্যতা পুরোটাই উপভোগ করা যায় এবং ওপারের মূল শহরটার উঁচু উঁচু বাড়িঘর আর এ সময়ের নানা মায়াবী আলোর ক্রমে ক্রমে জ্বলে ওঠাও লক্ষ্য করা যায়।

শেষ অক্টোবরের ঈষৎ হিমলাগা সন্ধ্যায় দোকানে তারা দুজন ছাড়া আর অন্য কোনও চা-সেবী নেই। হয়তো আরও কিছুক্ষণ পরে তরুণরা এবং আরও পরে যারা এখন আর তত তরুণ নয়, তারা আসবে। ব্যাঙ্কের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে যুগল দাসের বউ কেতকী দাস এই দোকানটা খুলেছিল। কেতকীর একটা অ্যাকাউন্ট ছিল ব্যাঙ্কে। তাতে হাজার পাঁচেক টাকা জমেছিল। যুগল তার স্ত্রীর ঋণের জামিনদার হয়েছিল। যুগল ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলেনি। তার একটা মুদি ও স্টেশনারির যৌথ দোকান ছিল। খুব ভাল চলত দোকানটা। সমস্ত ছোট ব্যবসায়ীর মত যুগল তার লাভের টাকা মজুত করতে নিযোগ করত। কেতকী দু-তিনটা গোরু পালত। সে সেই গোরুর দুধ নিজেই ব্রিজ পেরিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় রোজান দিয়ে আসত।

এই গাই পোষা এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় দুধ দিয়ে আসার মধ্যে কেতকীর কিছু একটা ব্যসন কারও কারও চোখে পড়ত। যদিও শাস্ত্রসম্মত দশবিধ কামজ ব্যসনের মধ্যে এই প্রবৃত্তি পড়ে না, শহর সংলগ্ন ওই বিশাল গ্রামটিতে কেতকীর মত দীঘল যৌবনবতী শরীরের এক নারী মাথায় সোনার মত উজ্জ্বল কাঁসার ঘড়া নিয়ে প্রতিদিন সকালে দুধ রোজান দিতে যায়, এর মধ্যে লোকে কিছু খুঁজে পেত। সেই খুঁজে পাওয়ার রকমও বেশ কয়েকটি। কেউ কেউ তাকে সর্বার্থে পসারিনীই মনে করত। এদের সংখ্যাই বেশি। আবার এর মধ্যেও রকমফের ছিল। কেউ কেউ তাকে শিল্পসম্মত রাধা ভাবে মেনে নিয়েই সন্তুষ্ট ছিল। একটি যাত্রার দল এবং শহরের দুটি নাটকের দল তাকে নায়িকা হওয়ার জন্য আহ্বান করেছিল। এসব বিষয়ে অধিক না বলাই ভাল।

অনিমেষ এবং তার ব্যাঙ্কের ক্যাশিয়ার শরৎ তাকে সম্ভবত সব থেকে ভাল চিনেছিল। শহর সংলগ্ন নদীর ওপারের গ্রামে ব্যাঙ্কের শাখা খোলা হয়েছিল মূলত সরকারি উন্নয়নের স্বার্থে। তিন জন কর্মীর হাতে অজস্র সময়। অনিমেষকে বেরতে হত স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় করতে। শরৎ স্থানীয় মানুষ হিসেবে সঙ্গী হত। ব্যাঙ্কে টাকা নিরাপদে রাখা এবং শিল্প ব্যবসা, কারিগরি কাজকর্ম ইত্যাদিতে ঋণ পাওয়ার যে সব প্রকল্প আছে সে সব সম্পর্কে প্রচার করা, এই সব ছিল তার কাজের অঙ্গ।

যুগল দাস এবং কেতকীর সঙ্গে আলাপ সেই সূত্রেই। প্রথম আলাপেই যুগল ও কেতকীকে মোটামুটি চিনে নিয়েছিল তারা। যুগল কম কথা বলা অন্তৰ্মুখী মানুষ। কেতকী ঠিক তার উল্টো। শিক্ষাগত যোগ্যতা দুজনেরই প্রাইমারি পর্যায় পর্যন্ত। তবে যুগল দাস হিসাবটা খুব ভাল করতে পারত। সেটা অবশ্য ছোটবেলা থেকে দোকানদারিতে অভ্যস্ত বলে। কেতকী সব ব্যাপারেই খুব ছিমছাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। অনর্গল এবং সরল কথা-বার্তা সবার সঙ্গে বলতে পারত। চেনা-অচেনা, রাস্তা-ঘাটের যে কোনও মানুষই তার সঙ্গে কথা বলতে চাইত। সেও সরল বিশ্বাসে রিকশাআলা থেকে থানার বড়বাবু পর্যন্ত সবার সঙ্গেই অক্লেশে কথা বলত। কিন্তু অনিমেষের কখনওই তাকে ছেনাল পর্যায়ের স্ত্রীলোক বলে মনে হয়নি।

প্রথম দিন যুগলের দোকানে গিয়ে আগে তার আলাপ হয়েছিল কেতকীর সঙ্গেই। কোনও কারণে সেই সময় যুগল দোকানে ছিল না। শরৎ বলেছিল, ‘আচ্ছা তাহলে আমরা আর এক দিন আসব। উনি ব্যাঙ্কের ম্যানেজারবাবু।’

কেতকী সপ্রতিভ গলায় বলেছিল, ‘তা কেন? আপনি তো ক্যাশিয়ারবাবু? বসুন।’ যুগলের দোকানে বসার ব্যবস্থা ছিল গ্রামের দোকানে যেমন থাকে। তারা সামান্য সময় বসেও ছিল। কেতকী ওই সামান্য সময়েই অনর্গল কথা বলে শেষে জানাল যে, একদিন গিয়ে সে একটা বই খুলে আসবে। তবে তার স্বামী বই খুলবে বলে মনে হয় না।

তারপর থেকে কেতকী ব্যাঙ্কে একটা অ্যাকাউন্ট খুলে নিয়মিত আসা-যাওয়া শুরু করল। ব্যাঙ্কে ঢুকে সে প্রথমে শরতের সঙ্গে গল্প শুরু করত। খেয়াল রাখত অনিমেষের সামনের চেয়ার খালি হচ্ছে কিনা। খালি দেখলে সরাসরি এসে অনিমেষের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করত।

‘কেমন আছেন ম্যানেজারবাবু?’

‘এই তো। যুগালবাবুকে একদিন নিয়ে এলেন না? আরে, সব টাকা মাল কিনে মজুত করলে হবে? বোঝান, একটা লোন নিয়ে ব্যবসা আরও বড় করে নিক। আজকাল কত সুবিধা।’

‘আমাকে একটা লোন দেবেন? আমি একটা দোকান দেব।’

‘নিশ্চয়ই দেব। কীসের দোকান? কোথায় দেবেন?’

Advertisement

যুগল আপত্তি করেছিল প্রথমে কিন্তু কেতকী তাকে শেষ পর্যন্ত বুঝিয়ে উঠতে পেরেছিল। ঘাট পর্যন্ত পরিত্যক্ত জায়গাটা শেষ পর্যন্ত দখল হয়ে কয়েকটা দোকান এবং বাকিটা মাছ-তরকারির বাজার হয়ে গেল। যুগলের এক সময় গোঁয়ার হিসেবে খ্যাতি ছিল। সেই খ্যাতির জোরে পরিত্যক্ত জায়গার মাথার দিকটা সে চারখানা খুঁটি পুঁতে দখল করে নিল।

ব্যাঙ্ক কেতকীকে ওয়ার্কিং ক্যাপিট্যাল হিসেবে দশ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিল। যেহেতু দোকানের জায়গার ওপরে তার কোনও আইনি অধিকার ছিল না ব্যাঙ্ক তাকে স্থায়ী পুঁজির জন্য ঋণ দিতে পারেনি।

যুগল এবং কেতকী দুজনেই পুরুষানুক্রমে ছোট ব্যবসারী ঘরের সন্তান। চমত্কার একখানা চা-জলখাবারের দোকান তৈরি করল তারা। দোকান কেতকীই চালাত । ক্রমে নানা ধরনের খাবারের প্যাকেট এনে ঝুলিয়ে দিল সে। বিকেল থেকে দোকানে জমজমাট আড্ডা শুরু হয়ে যেত। আড়াল থেকে ‘বিমলি বসেছে দোকানে—’ গাওয়ার লোক যেমন আশপাশে থাকত আবার এই সুন্দরী মেয়েটির সঙ্গে নেহাত দুটো নিরীহ কথা বলার লোকও অনেক জুটত। বস্তুত এই দ্বিতীয় শ্রেণির লোকের জন্যই যেন উদগ্রীব হয়ে থাকত কেতকী। সে যে কথা বলতে বড় ভালবাসে। বছর দেড়েক এভাবে ভালই চলল দোকান।

কিন্তু দোকান নিয়ে ব্যস্ততা এবং দোকান থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হওয়া সত্ত্বেও কেতকী কিন্তু তার দুধের কলসি মাথায় নিয়ে নিপুণ ভারসাম্য রক্ষাকারী রাজস্থানী নর্তকীদের মত অনায়াসে রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসত। অনিমেষ সাড়ে ন’টার সময় যখন শহরের দিক থেকে ব্রিজের ওপরে উঠত, নির্ভুলভাবে দেখতে পেত রাজস্থানী দেয়ালচিত্রের মত ভঙ্গিমা, ঘোমটা এবং ভারসাম্য রাখার আয়াসে সামান্য আন্দোলিত হাত দুখানা নিয়ে কেতকী ওপারের রাস্তা ছেড়ে ব্রিজে উঠল। সে যাবে থানার কোয়ার্টারে, হাসপাতালের তরুণ ডাক্তারবাবুর ঘরে, আরও কার কার ঘরে সে সব খোঁজ যারা রাখে, তারা তাদের তালিকায় ব্যাঙ্ক ম্যানেজার অনিমেষকেও রাখে।

তাদের দুজনের চার চোখ মিলিত হয় দশ মিটার দূর থেকে। তখন তারা কথা বলে না, তাদের পা দু-জোড়াও থামে না। তারা শুধু ঈষৎ তির্যক চোখে একে অন্যকে দেখে। তাদের চোখ দুজোড়া হাসে যা শুধু বুঝতে পারে তারা দুজনেই।

কেতকীর দশ হাজার টাকা সুদে-আসলে শোধ হয়ে গেল দেড় বছরের মধ্যেই। ব্যাঙ্কের দায় শোধ হওয়া সত্ত্বেও দায়ের নিদর্শন দোকানের দেয়ালে পেরেক দিয়ে গাঁথা প্লাস্টিকের ছোট বোর্ডটা খুলে ফেলল না কেতকী। ওই দায় যেন তার সম্মান বেড়ে যাওয়ার নামান্তর।

চা খাওয়া শেষ হলে শরৎ অনিমেষকে বলল, ‘উঠুন দাদা।’

‘চলো’, অনিমেষ বলল। সে এত দিন পরে কলকাতা থেকে এসেছিল শরতের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে।

শরৎ বলল, ‘পুরো ঘটনাটা জানা গেছে মামলা যত এগিয়েছে, তখন’, সে বিস্তারিত বলতে শুরু করল।

এক প্রবল ঝড়বৃষ্টির রাত্রে যুগলের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। কেতকীর অনিচ্ছাতে শেষ বারের মত প্রবল ঘৃণা দেখতে পেল সে। কোনও এক সুদর্শন ডাক্তারবাবু, একজন পুলিশ অফিসার, এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী, একজন ব্যাঙ্কের অসম্ভব স্মার্ট তরুণ অফিসার, সবার নাম জড়িয়ে গেল। রাস্তা-ঘাটে চলতে-ফিরতে বদ লোকে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলে প্রকাশ্যেই। সেই ঝড়-জলের রাত্রে গোঁয়ার যুগলের মাথায় খুন চেপে গেল। খাটের আড়ালে রাখা কুড়ালখানা একটানে নিয়ে এসে কেতকীর বুকের ওপরে আঘাত করল সে, যেখান থেকে কিছুক্ষণ আগেই বার বার হাত সরিয়ে দিচ্ছিল কেতকী।

তারা দুজনে ফের এসে নদীর উঁচু পাড়ে দাঁড়িয়েছে। নদীর ভেতরটা অন্ধকারের মধ্যে গভীর গহ্বরের মত। শুধু ওপারের উঁচু বাঁধ এবং গাছ-পালার ফাঁক-ফোকর দিয়ে কোনও কোনও জায়গায় ক্বচিত আলোর টুকরো জলের আন্দোলনে ভঙ্গুর আল্পনার আভাস তৈরি করছে। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অনিমেষের মনে হতে লাগল কোনও কোনও প্রতিফলন যেন কেতকীর শরীরের চলমান ধীর গতি ভিডিও। তার মাথার ওপরে নিরবলম্ব দুধের কলস, দুখানা বাহুতে নৃত্যভঙ্গিমায় লাস্যের ভারসাম্য।

অন্ধকারে কেউ কারও মুখ দেখতে পাচ্ছে না। শরৎ একটু গলাখাঁকারি দিয়ে ইতস্তত করার ভঙ্গিতে বলল, ‘দাদা, একটা— মানে— একটা কথা জানতে ইচ্ছে হচ্ছে— মানে আমারও তো বয়স হয়েছে, যদি মনে কিছু না করেন, আচ্ছা আপনার কাছে কি কেতকী বউদি যেত— মানে— সেই সময়—’

শরৎ অনেক কষ্টে তার মাথার বোঝাটা নামিয়ে যেন খালাস পেল। কিন্তু অনিমেষ এত সহজে নিস্তার পায় কী করে! এতদিন পরে সে হঠাৎ দ্বিধায় পড়ে গেল।

অনিমেষ জিজ্ঞেস করল, ‘যাদের এ ব্যাপারে নাম উঠেছে, তুমি খোঁজ নিয়ে দেখেছ, তাদের কার কার কাছে ও যেত?’

শরৎ বলল, ‘না, সে রকম— মানে— প্ৰমাণ—’

নদীর ডান দিক থেকে একটা ভুটভুটি তার পাইপ ফাটা থাকার কারণে প্রচণ্ড শব্দ করতে করতে অতি দ্রুত বাম দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।

তাদের সামনে অন্ধকার নদীর গভীরতা এবং বিস্তার বিশাল।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + 2 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর চারটি কবিতা

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »