Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ভূতত্ত্ববিজ্ঞানী, শিক্ষা সংস্কারক, দেশব্রতী আচার্য প্রমথনাথ বসু

গোড়ার কথা

ব্রিটিশ শাসিত ভারতে আধুনিক ইউরোপীয় জ্ঞানবিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারের জন্য রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩), প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) যে চেষ্টা শুরু করেছিলেন, সেই ধারায় উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে ভারতে বিশেষ করে বাংলায় এক নবজাগরণের সূত্রপাত ঘটে। হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (১৮০৯-১৮৩১) ও ইয়ং বেঙ্গল সম্প্রদায়, উইলিয়াম কেরি (১৭৬১-১৮৩৪), উইলিয়াম জোন্স (১৭৪৬-১৭৯৪) এবং এশিয়াটিক সোসাইটির পত্তন (১৭৮৪), হিন্দু কলেজ (১৮১৭) প্রতিষ্ঠা, শ্রীরামপুর মিশনারি, ডেভিড হেয়ার, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ (১৮৩৫) ও হিন্দুদের দ্বারা শব ব্যবচ্ছেদ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (১৮৫৭), ডা. মহেন্দ্রলাল সরকার (১৮৩৩-১৯০৪) ও ভারতবর্ষীয় বিজ্ঞান সভা (Indian Association for the Cultivation of Science, প্রতিষ্ঠা ১৮৭৬) ইত্যাদি সংগঠনের মাধ্যমে এক নতুন ভারতবর্ষ আত্মপ্রকাশের দ্বারপ্রান্তে উন্নীত হয়। এই মাহেন্দ্রক্ষণে আধুনিক বিজ্ঞানের জয়যাত্রাও পিছিয়ে থাকেনি। দেশটিকে জানা-বোঝা, শাসন-শোষণ ও পরিচালনার জন্য ব্রিটিশরা ভারতে আধুনিক বিজ্ঞানের ব্যাপক পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ভারতীয় ভূতত্ত্ব সমীক্ষা, প্রাণীতত্ত্ব সমীক্ষা, উদ্ভিদতত্ত্ব সমীক্ষা; দেরাদুন ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট; শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন; আলিপুর হর্টিকালচারাল সোসাইটি; ইম্পিরিয়াল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও তার দেশময় শাখা প্রতিষ্ঠান; ভারতীয় যাদুঘর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রিটিশরা আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিরাট সৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। অনেকে একে কলোনিয়াল সায়েন্স পর্ব বা অধ্যায় বলে অভিহিত করেন। স্বাধীনতার পর ভারতে বিজ্ঞান শিক্ষা-গবেষণার যে ব্যাপক বিস্তার ও উন্নতিবিধান হয়েছে— তার পেছনে এই উদ্যোগ পর্বের ভূমিকাটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আচার্য প্রমথনাথ বসুর জন্ম ও কর্ম পরাধীন ভারতে (১৮৫৫-১৯৩৪)। তাঁর সারা জীবনের বিজ্ঞান গবেষণার কাজ ও দেশসেবার কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে আছে ব্রিটিশ ভারতে। গিলক্রাইস্ট বৃত্তি নিয়ে তিনি লন্ডন যান ১৮৭৪ সালে এবং দেশে ফেরেন ১৮৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বিলেতে থাকাকালীন তাঁর দুটি বিজ্ঞান গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় (ফেব্রুয়ারি ও সেপ্টেম্বর ১৮৮০)। ভূতাত্ত্বিক জীবাশ্ম অনুসন্ধান বিষয়ে।

ভারতে আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার ধারক ও বাহক হিসাবে দু’জনের নাম বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। এঁরা হলেন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭) ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (১৮৬১-১৯৪৪)। জগদীশচন্দ্র লন্ডনে যান ১৮৮০ সালে, যে বছর প্রমথনাথ বিলেত থেকে ভারতীয় ভূতত্ত্ব সমীক্ষায় উচ্চপদে চাকরি নিয়ে দেশে ফিরছেন। বিজ্ঞান গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেছেন সরকারি চাকরির মাধ্যমে (১৮৮০-১৯০৩)। প্রফুল্লচন্দ্র বিলেত যান ১৮৮২ সালে এবং ১৮৮৯-তে দেশে ফিরছেন এডিনবরা থেকে রসায়নে ডিএসসি ডিগ্রি নিয়ে। জগদীশচন্দ্র দেশে ফেরেন বিজ্ঞানে ট্রাইপোজ হয়ে ১৮৮৫ সালে। জগদীশচন্দ্র বসুর প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ১৮৯৫ সালে। প্রফুল্লচন্দ্রের ১৮৯০ সালে। এই দু’জনের অনেক আগেই প্রমথনাথ বিজ্ঞান গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেছেন এবং মৌলিক গবেষণা নিবন্ধাদি প্রকাশ করেছেন।

আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু যথার্থই লিখেছেন, ‘‘জগদীশচন্দ্র ও প্রফুল্লচন্দ্র উভয়েই দেশবিখ্যাত বিজ্ঞানী। এঁদেরও আগে আর একজন বাঙ্গালী বিলাত থেকে বিজ্ঞানে কৃতবিদ্য হয়ে দেশে ফিরে আসেন, তিনি ভূতত্ত্ববিদ্ প্রমথনাথ বসু। প্রমথনাথের জীবনধারা কালেকালে তাঁকে বাঙ্গালাদেশের পূর্বাচার্যদের সম আসনে উঠিয়েছিল।’’ * এই বিচারে ভারতে আধুনিক বিজ্ঞানের হাতেখড়ি ঘটেছিল আচার্য প্রমথনাথের দ্বারা। স্বভাবে জাত বৈজ্ঞানিকের কর্মভাবনায় তিনি দীক্ষিত ছিলেন। বিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যের প্রসারে; বিশেষ করে টেকনিক্যাল তথা প্রযুক্তি বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে তাঁর অদম্য আগ্রহ ও নিবেদিত প্রচেষ্টা তাঁকে দেশগঠনের অগ্রপথিকের সম্মানে ভূষিত করেছে।

উপরোক্ত গ্রন্থের ভূমিকায় সত্যেন্দ্রনাথ আরও লিখেছেন, ‘‘প্রমথনাথ পেয়েছিলেন ভূতত্ত্ব বিভাগের উচ্চ চাকরী। তখন এদেশে কেবল সাহেবরাই একাজে নিযুক্ত হতেন। ভারতের নানা অংশে ও ব্রহ্মদেশেও তিনি বহু রকম খনিজের আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁরই আবিষ্কারের উপর জামশেদপুরের লোহার বিশাল কারখানার পত্তন হয়েছিল। তাঁরই আবিষ্কৃত লৌহের আকরগুলি হতেই আজ দুর্গাপুর, ভিলাই ও রাউড়কেলার কারখানাগুলিতে কাঁচামাল যোগান হচ্ছে। যে বেঙ্গল টেকনিক্যাল কলেজ আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে, প্রমথনাথ বহুদিন এর কর্ণধার ও উপদেষ্টা ছিলেন। বাঙ্গলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা দেবার জন্য ১৮৮৪ সনেই ‘প্রাকৃতিক ইতিহাস’ (Rudiments of Geology and Physical Geography) শীর্ষক বই তিনি লিখেছিলেন। অত আগেও তিনি বুঝেছিলেন শিক্ষা মাতৃভাষাতেই হওয়া উচিত।’’

প্রমথনাথের জীবন ও কর্মধারা বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি স্বতন্ত্রধারা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ১) বৈজ্ঞানিকের জীবন— ভূতাত্ত্বিক খনিজ অনুসন্ধান। রিপোর্ট প্রণয়ন। এজন্য দুর্গম স্থানেও অভিযান চালাতে তিনি কখনও পেছপা হননি। ২) বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার তথা টেকনিক্যাল শিক্ষার প্রসার। দেশে শিল্প গড়তে ইঞ্জিনিয়ার চাই। দেশকে শিল্পমুখী করতে তাঁর অদম্য প্রচেষ্টা তাঁর চরিত্রের আর এক দিক। আজকের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপয়িতাদের তিনি অন্যতম। ৩) স্বদেশের সার্বিক উন্নতিতে আত্মনিয়োগ। প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে অংশ না নিলেও সেদিনের ভারতখ্যাত রাজনীতিকদের সঙ্গে (উমেশচন্দ্র ব্যানার্জী, দাদাভাই নৌরজী, চিত্তরঞ্জন দাশ, আনন্দমোহন বসু, সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী প্রমুখ) তাঁর ঘনিষ্ঠ ওঠাবসা ছিল। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনেও যোগ দিয়েছেন। স্বদেশি শিল্প স্থাপন করেছেন। ভারতীয় শিল্প সম্মেলনের ভিত্তি স্থাপন তাঁর হাতে। ৪) সৃজনশীল লেখালিখি। বই, পুস্তিকা ও অন্যান্য লেখার বিশাল সম্ভার। ‘A History of Hindu Civilisation during Birtish Rule’ (তিন খণ্ড, ১৮৯৪-৯৬), ‘Epochs of Civilisation’ (১৯১৩), ‘The Centenary Review of The Researches of the Asiatic Society of Bengal, 1784-1883’ (মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি এই রচনা সম্পাদন করেন) ইত্যাদি। অমৃতবাজার পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় তাঁর আত্মজীবনী ‘Reminiscences & Reflections of a Septuagenarian’ (জানুয়ারি ১৯৩১-মে ১৯৩৪)।

৭৯ বছরের এই জীবন এক স্নিগ্ধ কর্মোজ্জ্বল আদর্শ ভাবনার আকর বিশেষ। ইউরোপীয় চরিত্রের গুণাবলিকে সার্থকভাবে মিলিয়েছিলেন ভারতীয় আদর্শের জীবনধারায়। সারা দেশ অক্লান্ত উদ্যমে চষে বেড়ালেও; কলকাতার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত যুক্ত থাকলেও; ১৯০৭ সালে রাঁচিতে তিনি গৃহ নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন এবং মৃত্যুও ঘটে এখানেই (২৭ এপ্রিল, ১৯৩৪ [১৪ বৈশাখ ১৩৪১])। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু যাঁকে ‘Pioneer Scientist’ বলে অভিহিত করেছেন, তাঁকে সশ্রদ্ধ স্মরণ করাই হোক আমাদের জাতীয় কর্তব্য।

* (দ্রষ্টব্য: আচার্য্য প্রমথনাথ— মনোরঞ্জন গুপ্ত লিখিত গ্রন্থের ভূমিকাংশ)

>>> ক্রমশ >>>

চিত্র: গুগল

আসছে শনিবার দ্বিতীয় পর্ব

One Response

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + 7 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর চারটি কবিতা

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »
সালমিন রহমান

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »