আরম্ভ করেছ খেলা
শুরু হবে, শুরু হবে, শুরু হয়ে যাবে খেলা, তবে জাদুকর
আরম্ভ করেছ খেলা আশ্চর্য তাঁবুর মধ্যে, আলোর তূণীর
বাসের গহন থেকে ছুটে যায় অন্যখানে, ঝিমঝিম ভার
অলস তন্দ্রার মেঘ ছুঁয়ে ছুঁয়ে জমে যায় এবং টুপির
গভীর অন্তর থেকে ভেসে ওঠে ফিতে চুড়ি রঙিন রুমাল
দেশলাই চৌখুপি থেকে তুহিন তুষারময় রক্ত গাঢ় লাল।
দিন হয় রাত হয় রাত থেকে দিন হয় রাতদিন দিন
জলপাই গাছের ঘন পাতাগুলি স্থির হয়ে ঘন বনস্থলী
ঝিরঝির ঝরে যাওয়া বৃষ্টির ফোঁটার মতো আলোর পিদ্দিম
নিথর জ্বালাও তুমি জাদুকর, আর আমি চলে যাই, চলি
সঘন ধূমের গন্ধে চোখ জলে ভরে আসি, দেখে নিই ক্ষীণ
মুখরিত নগরীর রাজপথে মৃত্যুমুখী এক চাঁপাকলি।
*
ঝিমলির বনলতা
সারাদিন টিভি দেখছি আমি আর ছোট ঝিমলি সোনা
স্টার আর জি টিভির সিরিয়াল জানে অনজানে
তারা আর কমান্ডার নিয়ে হল কত আলোচনা
মাঝে মাঝে প্রেম দৃশ্য, বাচ্চাকে বোঝাতে হবে মানে ।
ছোট পর্দা জুড়ে খালি বাজিকর শাহরুখ খান
শিল্পা শেঠি কাজলের লাস্যময় পপ ডিসকো নাচ
এছাড়া বাগানে বনে ছুটোছুটি, জুহু বিচে স্নান
একের শরীর থেকে আরেক শরীর নিচ্ছে আঁচ।
আজকাল বাচ্চারাও বুঝে যাচ্ছে কাকে বলে কিস
সেকসি কাকে বলে তাও দেখিয়েছে কারিশমা কাপুর
একটু একটু করে গলা জ্বলে যায়, মুখে শঙ্খবিষ
নজরুল রবীন্দ্রনাথ থেকে আমরা আছি বহুদূর।
মাঝে মাঝে বোর করছে দাঙ্গাটাঙ্গা, খুচরো কিছু খুন
একটা দুটো ভূমিকম্প, রেল আর প্লেন দুর্ঘটনা
নব ঘোরালেই সব সাফসুফ, কেউ বলছে আপনারা হাসুন
গুজবে দেবেন না কান, শত্রু কোন দেশ দিচ্ছে মিথ্যে প্ররোচনা।
এ পর্যন্ত সব ঠিক, শুধু ভাবছি হয়তো ঝিমলি সোনা
একদিন ভোরে উঠে প্রশ্ন করবে, মা গো কে ছিলেন
পাখির নীড়ের মতো চোখ তাঁর, বনলতা সেন?
আপনারা জানেন আমি সত্যি বলছি আশ্চর্য হব না।
*
সন্দেহ
কাল রাত্তিরে কোথায় যে তুমি ছিলে
নিশ্চয় কোনও দেহব্যবসায়িনীর
ঘরে? উত্তর শোনার আগেই সমাজপতিরা মিলে
আশ্রয়চ্যুত করে অভাগাকে, ভাঙে শান্তির নীড়
হয়তো সে ছিল নির্জন দ্বীপে স্বপ্নের কারখানা
গড়ায় ব্যস্ত, কিংবা হয়তো চেয়েছিল শান্তির
পথনির্দেশ, কিন্তু অচেনা রাস্তায় চলা মানা
এখানে, চলতে চাইলেই বেঁধে বুকে সন্দেহতির।
চিত্রণ: মনিকা সাহা






One Response
কি অসাধারণ তিনটি লেখা, তেমনই অনন্য অলংকরণ। কবি, মনে হলো ঠিক এ সময়েই রয়েছেন, লেখাতে তেমনই আশা আশঙ্কা মিশে আছে; একেবারে এখনকার দৈনন্দিন সময় যেন ধরা আছে বেশ কিছু পংক্তিতে।
“দিন হয় রাত হয় রাত থেকে দিন হয় রাতদিন দিন
জলপাই গাছের ঘন পাতাগুলি স্থির হয়ে ঘন বনস্থলী
ঝিরঝির ঝরে যাওয়া বৃষ্টির ফোঁটার মতো আলোর পিদ্দিম।”
ছন্দ সব সময়েই কবি সুজিত বসুর কলমে ঝর্নার মতো সাবলীল। একসময় যাঁরা মনে করেছেন কবি বড়ো আত্মগত, প্রায়ই ফিরে দেখেন ফেলে আসা সময়, তাঁদের এখন কবি নিয়তই তাঁর লেখায় স্পস্ট দেখান চারপাশ; এখন যেমন সময়, সে সময়ের দ্বিধাদ্বন্দ্ব চিনিয়ে দিচ্ছেন অনায়াসে।
“একদিন ভোরে উঠে প্রশ্ন করবে, মা গো কে ছিলেন
পাখির নীড়ের মতো চোখ তাঁর, বনলতা সেন?
আপনারা জানেন আমি সত্যি বলছি আশ্চর্য হব না।”
ভালভাষাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, প্রিয় কবির এমন তিনটি অসামান্য কবিতা উপহার দিলেন।