Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

চাতরায় নেতাজি: ‘হিন্দু-মুসলমান ভ্রাতৃবৃন্দ’ সম্ভাষণেই মোহিত জনতা

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য ঋত্বিক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তিনিই একমাত্র নেতা, যিনি ভারতের সকল সম্প্রদায়, সকল প্রদেশ, সামরিক বাহিনী ও অসামরিক জনগণের উপরে সমান সম্মোহনী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশকে তিনি প্রকৃত অর্থে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। ভিনদেশে গিয়ে তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ গড়ে তোলার কাহিনি, সেই সাংগঠনিক ইতিবৃত্ত প্রায় অবিশ্বাস্য। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে পদচারণার পাশাপাশি দেশের দূর প্রান্তে, প্রত্যন্তেও একদিন পদচিহ্ন পড়েছিল তাঁর। ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটাতে সশস্ত্র সংগ্রামের লক্ষ্যে মহানিষ্ক্রমণের কয়েক মাস আগে নেতাজি ২৪ পরগনার এক অখ্যাত পল্লি, চাতরাতে উপস্থিত হয়েছিলেন, সংবর্ধিত হয়েছিলেন, এবং দৃপ্ত ভাষণে জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তাঁর সেই উপস্থিতি ও প্রদত্ত ভাষণ আজও অনেকের কাছে অজানা। দেশ স্বাধীন হওয়ার সাত বছর আগের এই প্রায় অপরিচিত, অথচ মূল্যবান স্থানীয় ইতিবৃত্তের ওপরে আলোকপাত করেছেন পলাশ মণ্ডল।

দ্বিতীয় পর্ব

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত তার বহু-আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা পায়। তার সাত বছর আগের কথা। ১৯৪০ সালের ২৫ এপ্রিল। এই দিনটিতে সুভাষচন্দ্র বসু চাতরায় এসেছিলেন। তার এক বছর আগে, ১৯৩৯ সালে তিনি কংগ্রেস সভাপতির পদ ত্যাগ করেছেন। এমন ঐতিহাসিক পটভূমিকায় সুভাষচন্দ্র বসুর চাতরায় আগমন। ইতিহাসের নায়ক যেন ইতিহাসের এক যুগ-সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। স্থান, দক্ষিণ চাতরা হাইস্কুলের সামনের মাঠ। বিপুল জয়ধ্বনির মধ্যে সুভাষচন্দ্র ভাষণ দিতে উঠলেন। শুরু করলেন ‘হিন্দু-মুসলমান ভ্রাতৃবৃন্দ’ সম্বোধন দিয়ে। সম্ভাষণেই মন্ত্রমুগ্ধের মত উৎকর্ণ হল উপস্থিত দশ হাজার জনতা। সেই ঐতিহাসিক সুভাষণ ‘বসুমতী’ পত্রিকা থেকে তুলে ধরা হল—

‘‘হিন্দু-মুসলমান ভ্রাতৃবৃন্দ!

বর্ষা-দুর্যোগের আশঙ্কা সত্ত্বেও যে বিভিন্ন পল্লি হইতে আপনারা এত অধিক সংখ্যায় আসিয়াছেন, তাহা খুবই আনন্দের বিষয়।

আজ আমাদের সম্মুখে মহাসংকটক্ষণ উপস্থিত। দেশের এই সংকটময় অবস্থার কথা চিন্তা করিয়া আমাদিগের কাজ করিতে হইবে। আমরা যখনই দেশের দুরবস্থার কথা ভাবি বা চিন্তা করি তখন আমরা মনে করি না, কেন এইরূপ দুরবস্থা হইল। এই অবস্থা তো পূর্বে ছিল না। দুইশত বৎসর পূর্বে আমাদিগের দেশে এখনকার ন্যায় দারিদ্র, অশিক্ষা, বেকারসমস্যা ছিল না। আমরা সাধারণত মনে করিয়া থাকি, চিরকালই বুঝি আমাদিগের দেশ নিরন্ন ছিল— তাহা নহে। ইংরেজগণ সুদূর ইংল্যান্ড হইতে আমাদিগের দেশে কীসের টানে আসিয়াছিল? কারণ, তখন ভারতের ধনসম্পদের খবর ইউরোপে পৌঁছিয়াছিল। তাহারা বুঝিয়াছিল যে, এ দেশের লোক দরিদ্র নয়— এখানে আসিলে প্রচুর ধনসম্পদ লাভ হইতে পারে। ইংরেজ দুইশত বৎসর পূর্বে যখন এ দেশে আসিবার সংকল্প করে, তখন এ দেশে দারিদ্র ও কোন প্রকার অভাব অভিযোগ ছিল না। তখন ভারতবর্ষ ধনধান্যে পরিপূর্ণ ছিল— লোকে বলিত ‘সোনার ভারত’। ইউরোপীয়রা যখন ভারতে ব্যবসা করিতে আসিয়া দেখে যে, এ দেশের লোক ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত, তখন ইহার সুযোগে এ দেশে বিদেশি রাজত্বের প্রতিষ্ঠা হইল। তখন হইতেই আমাদিগের দেশের লোক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সহিত সহযোগিতা করিয়া আসিতেছেন। বর্তমানের দুঃখ, দারিদ্র, বেকারসমস্যা, ইহা ইতিহাসের পৃষ্ঠায় একটা নূতন জিনিস। ভারতে ইংরেজ রাজত্ব যে বর্তমান রহিয়াছে, ইহার জন্য ভারতীয়রাই দায়ী। ভারতবাসীর সাহায্য পাইয়া ইংরেজ-রাজ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। যতদিন আমরা স্বাধীন ছিলাম, ততদিন ধনধান্যের অভাব ছিল না।

… অনেকে মনে করিয়া থাকেন যে, খোদা বা ভগবানই বুঝি আমাদিগের দুরবস্থার জন্য দায়ী। প্রকৃত তাহা নহে, দায়ী আমরা। আমরা নিজের পায়ে নিজেরা কুঠারাঘাত করিয়াছি। ভারতবর্ষের কোটি কোটি নরনারী বুঝিয়াছে যে, পরাধীনতার জন্য একমাত্র আমরাই দায়ী। ইউরোপের দারিদ্র আমাদিগের দেশে আসিয়াছে, এবং আমাদিগের দেশের ধন সম্পদ ও স্বর্ণ রৌপ্য ইংল্যান্ডে চলিয়া গিয়াছে। বিদেশির রাজত্বের ফলেই এতটা অবস্থা বিপর্যয় ঘটিয়াছে। পূর্বে এ দেশের লোক প্রচুর শস্য উৎপাদন করিত, ঘরে ঘরে শিল্পসামগ্রী প্রস্তুত হইত। কিন্তু, এখন আর তাহা দেখা যায় না। কেন এইরূপ হইল?

… আজ আমাদিগের টাকাতেই তাহারা ধনী। অনেকে বলেন, এ যুগ শিল্পের যুগ— কিন্তু আমাদিগের দেশের শিল্প কোথায়? যে দিন দেশের লোক বুঝিতে পারিল, দেশীয় শিল্পের উন্নতি না হইলে দেশ সমৃদ্ধ হইতে পারে না— গ্রামের উন্নতি হইতে পারে না, সে দিনই বিদেশি বর্জন আন্দোলন আরম্ভ হইল— দেশে নূতন জাগরণ দেখা দিল। ইহা ৩৫ বৎসর পূর্বের কথা। কিন্তু পদে-পদে আমরা বাধাপ্রাপ্ত হইতেছি। কেন বাধা পাইতেছি? কারণ, সরকার আমাদিগের হাতে নাই— আমরা পরাধীন।

ব্যাঙ্কগুলি ছোট ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিকে সাহায্য না করিয়া রেলওয়ে, স্টিমার-কোম্পানি প্রভৃতি বিদেশি ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য করে। স্বদেশি ব্যাবসা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হইলেই কোটি কোটি লোক অন্ন পাইবে।

আজ আমরা চাকরি লইয়া মারামারি করিতেছি। সকল চাকরি যদি হিন্দু-মুসলমানরা পায়, তাহা হইলে বাকি অভাব দূর হইবে? বাংলার পাঁচ কোটি মুসলমানকে অন্ন দিবে কে? পরাধীনতা ও কুশিক্ষার ফলেই আমরা চাকরির দিকে এতটা ঝুঁকিয়া পড়িয়াছি। সুদূর মাড়বার দেশ হইতে লোটাকম্বল লইয়া আসিয়া মাড়োয়ারিগণ কোটি কোটি টাকা লইয়া যাইতেছে, আর আমরা এখনও চাকরির দিকে চাহিয়া থাকি। ইংরেজ এই সকলের সুযোগ লইয়া ঝগড়া বাধান। আমরা বলি— ইহা আমাদিগের দেশ, যদি কোন সমস্যা থাকে, আমরা নিজেরা সমাধান করিব। এই দেশে আমাদিগের জন্ম, ইহাতেই আমাদিগের মৃত্যু হইবে— সুখ-দুঃখে আমরা বসবাস করিব, ইহার সহিত কাহারও সম্পর্ক নাই। কীভাবে আমরা বাস করিব, ইহার সমস্যা আমাদিগের হাতে।

পরাধীন হইয়া ভারতবাসী ব্যাবসা হারাইয়াছে— ইহারই জন্য পল্লিগুলি শ্রীহীন, পরিধানের বস্তু মিলে না— মধ্যবিত্তের মধ্যে বেকারসমস্যা বিরাট আকার ধারণ করিয়াছে। যখন একবার আমাদিগের চোখ খুলিয়াছে, যখন আমরা বুঝিয়াছি এই দারিদ্রের কারণ পরাধীনতা, তখন পরাধীনতার হাত হইতে মুক্ত হইতে হইবে। পল্লিতে পল্লিতে গিয়া বলিতে হইবে— দারিদ্র ও অন্নাভাবের জন্য ভগবান বা অদৃষ্ট দায়ী নয়— দায়ী আমরা। স্বরাজ অর্জিত হইলে দারিদ্র দূর হইবে। স্বরাজের অর্থ, ৩৫ কোটি নরনারীর নির্দেশে এ দেশের শাসনকার্য পরিচালিত হইবে। হিন্দু-মুসলমান সকলেই সমান অধিকার পাইবে। এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রয়োজন। সুখের বিষয়, আজ কোটি কোটি নিরন্ন কৃষকের মধ্যে নবচেতনা আসিয়াছে। সংগ্রাম ও ত্যাগ ব্যতীত স্বাধীনতা আসিবে না। ভারতের ইতিহাসে সুবর্ণসুযোগ আসিয়াছে। এই সময় যদি আমরা সংঘবদ্ধ হইয়া কৃষক শ্রমিক ও যুবশক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আপসহীন সংগ্রামে ব্রতী হই, তবে পূর্ণ স্বাধীনতা অচিরেই প্রতিষ্ঠিত হইবে।’’

সুভাষচন্দ্র বসুর চাতরার ভাষণটি আনন্দবাজার পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছিল। এবার দেখা যাক, আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের বয়ান—

Advertisement

‘‘দেশের সংকটাপন্ন অবস্থার কথা চিন্তা করিয়া আমাদিগকে কর্তব্য নির্ধারণ ও তদনুসারে কাজ করিতে হইবে। দেশের এরকম দুরবস্থা পূর্বে ছিল না। … তখন এ দেশ ছিল সোনার ভারত। অন্নবস্ত্র জোটে না বলিয়া আমরা অদৃষ্টের উপর দোষারোপ করি। কিন্তু, আমাদের দুরবস্থার জন্য ভগবান দায়ী নহেন, আমরা নিজেরাই দায়ী। যে শস্য এ দেশে উৎপন্ন হইত, পূর্বে বিদেশে তাহা রপ্তানি হইত না। বিলাতের বড় বড় কারখানায় সস্তায় মাল তৈয়ার হইতেছে। আমরা তাহা ব্যবহার করিতেছি। দেশের জিনিস আমরা কিনি না। সেইজন্য দেশের শিল্পবাণিজ্য লোপ পাইয়াছে ও দেশবাসী নিরন্ন হইয়াছে। আমাদের অর্থে ইংল্যান্ড ও ইউরোপের লোক ধনী হইয়াছে। বিদেশি বর্জন না করিলে এ দেশের লোকের অন্ন মিলিবে না— এ কথা যখন আমরা বুঝিলাম, তখন ১৯০৫ সালে বিদেশি বর্জন আরম্ভ করি। এই কাজে পদে-পদে আমরা বাধা পাইয়াছি। কোম্পানি যদি ইংরাজের হয়, তবে তাহাদের মাল রেলে ও জাহাজে সস্তা দরে নেওয়ার ব্যবস্থা হইয়াছে। এ দেশের ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠানসমূহকে সে সুবিধা দেওয়া হয় নাই। এই শোষণকে নির্মূল না করিলে আমাদের অর্থকষ্ট দূর হইবে না।

চাকুরির জন্য হিন্দুর সর্বনাশ হইয়াছে। লোটাকম্বল সম্বল করিয়া মাড়োয়ারি এ দেশে আসিয়া কোটিপতি হইয়াছে। ৫০ বৎসরের মধ্যে কলিকাতার অর্ধেকের বেশি বাঙালি কারবার উঠিয়া গিয়াছে। কারণ, আমরা চাকুরিজীবী ও আরামপ্রিয় হইয়াছি। পক্ষান্তরে মাড়োয়ারিরা স্বাবলম্বী ও শ্রম-সহিষ্ণু হইয়া কোটিপতি হইয়াছে। স্বরাজ মানে— হিন্দু-মুসলমানের হাতে তাহাদের জন্মগত অধিকার ফিরাইয়া আনা। বিদেশির কৃপায় স্বরাজ আসিবে না। ভারতব্যাপী সংগ্রামের মধ্য দিয়া আমাদিগকে স্বাধীনতা অর্জন করিতে হইবে। যত শীঘ্র সম্ভব এই সংগ্রাম আরম্ভ করিতে হইবে। রামগড়ে আপস-বিরোধী সম্মেলনে সংগ্রাম আরম্ভ করিবার সংকল্প আমরা গ্রহণ করিয়াছি। এ দেশের শতকরা ৮৫ জন নিরন্ন দরিদ্র। তাহাদিগকে অহিংস সংগ্রামের পুরোভাগে আসিয়া দাঁড়াইতে হইবে। ছাত্রসমাজ ও নারী-শক্তিকে তাহাদের পাশে আসিয়া সংগ্রামে অংশগ্রহণ করিতে হইবে। তাঁহারা যদি সংঘবদ্ধভাবে এই অহিংস সংগ্রামে ঝাঁপাইয়া পড়েন, তাহা হইলে যে বিরাট শক্তির সৃষ্টি হইবে, তাহার সম্মুখে কোন শক্তি দাঁড়াইতে পারিবে না। আশা করি, আপনারা অবিলম্বে এই সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করিবেন ও ভারতের স্বাধীনতা অর্জন করিবেন।’’

Hindustan Standard পত্রিকাও সুভাষচন্দ্র বসুর ভাষণ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছিল। ওই পত্রিকার পাতায় সুভাষচন্দ্রের সেই ভাষণের অংশবিশেষ—

The time has come when Hindus and Mussalmans of India must tell the British people in one voice and in unequivocal terms that we want to be masters of our own house, that nothing but Swaraj will satisfy us, that it was for us to decide the form of government that we want to have in this country. But Swaraj could not be had for the mere asking nor could it be had as a gift from another people; Swaraj could be achieved only through a struggle,—through sacrifices and sufferings and exertions of a people themselves.

উপরের তিনটি পত্রিকার কোনওটিতেই সুভাষচন্দ্রের সম্পূর্ণ বক্তৃতাটি প্রকাশিত হয়নি। প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর বক্তৃতার কিছুকিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবুও এই অংশটুকুও ইতিহাসের এক মূল্যবান দলিল।

>>> চলবে >>>

কভার: ২৫. ০৪. ১৯৪০। চাতরার জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন নেতাজি।/ চিত্র: প্রবীরকুমার রায়ের সৌজন্যে

চাতরায় নেতাজি: সমস্বরে ‘ইনক্লাব জিন্দাবাদ’, ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি

চাতরায় নেতাজি: সংবাদ শীর্ষক, ‘অহিংস সংগ্রামে আত্মনিয়োগের আহ্বান’

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: ভারতভাগ্যবিধাতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + six =

Recent Posts

মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ

জীবনচক্রের মহাকাব্য নবান্ন: শ্রম, প্রকৃতি ও নবজন্মের দ্বান্দ্বিকতা

নবান্ন। এটি কেবল একটি ঋতুভিত্তিক পার্বণ নয়; এটি সেই বৈদিক পূর্ব কাল থেকে ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (যা প্রাচীন পুথি ও পাল আমলের লোক-আচারে চিত্রিত) এই সুবিস্তীর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষের ‘অন্নময় ব্রহ্মের’ প্রতি নিবেদিত এক গভীর নান্দনিক অর্ঘ্য, যেখানে লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে শস্যের অধিষ্ঠাত্রী লোকদেবতার আহ্বানও লুকিয়ে থাকে। নবান্ন হল জীবন ও প্রকৃতির এক বিশাল মহাকাব্য, যা মানুষ, তার ধৈর্য, শ্রম এবং প্রকৃতির উদারতাকে এক মঞ্চে তুলে ধরে মানব-অস্তিত্বের শ্রম-মহিমা ঘোষণা করে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বুদ্ধদেব বসু: কালে কালান্তরে

বুদ্ধদেব বসুর অন্যতম অবদান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য (Comparative Literature) বিষয়টির প্রবর্তন। সারা ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়-মানে এ বিষয়ে পড়ানোর সূচনা তাঁর মাধ্যমেই হয়েছিল। এর ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। এর ফলে তিনি যে বেশ কয়েকজন সার্থক আন্তর্জাতিক সাহিত্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যিক তৈরি করেছিলেন তা-ই নয়, বিশ্বসাহিত্যের বহু ধ্রুপদী রচনা বাংলায় অনুবাদের মাধ্যমে তাঁরা বাংলা অনুবাদসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। অনুবাদকদের মধ্যে কয়েকজন হলেন নবনীতা দেবসেন, মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবীর রায়চৌধুরী প্রমুখ। এবং স্বয়ং বুদ্ধদেব।

Read More »
দেবময় ঘোষ

দেবময় ঘোষের ছোটগল্প

দরজায় আটকানো কাগজটার থেকে চোখ সরিয়ে নিল বিজয়া। ওসব আইনের বুলি তার মুখস্থ। নতুন করে আর শেখার কিছু নেই। এরপর, লিফটের দিকে না গিয়ে সে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে উঠে বসল গাড়িতে। চোখের সামনে পরপর ভেসে উঠছে স্মৃতির জলছবি। নিজের সুখের ঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ‘ডিফল্ট ইএমআই’-এর নোটিস পড়তে মনের জোর চাই। অনেক কষ্ট করে সে দৃশ্য দেখে নিচে নেমে আসতে হল বিজয়াকে।

Read More »
সব্যসাচী সরকার

তালিবানি কবিতাগুচ্ছ

তালিবান। জঙ্গিগোষ্ঠী বলেই দুনিয়াজোড়া ডাক। আফগানিস্তানের ঊষর মরুভূমি, সশস্ত্র যোদ্ধা চলেছে হননের উদ্দেশ্যে। মানে, স্বাধীন হতে… দিনান্তে তাঁদের কেউ কেউ কবিতা লিখতেন। ২০১২ সালে লন্ডনের প্রকাশনা C. Hurst & Co Publishers Ltd প্রথম সংকলন প্রকাশ করে ‘Poetry of the Taliban’। সেই সম্ভার থেকে নির্বাচিত তিনটি কবিতার অনুবাদ।

Read More »
নিখিল চিত্রকর

নিখিল চিত্রকরের কবিতাগুচ্ছ

দূর পাহাড়ের গায়ে ডানা মেলে/ বসে আছে একটুকরো মেঘ। বৈরাগী প্রজাপতি।/ সন্ন্যাস-মৌনতা ভেঙে যে পাহাড় একদিন/ অশ্রাব্য-মুখর হবে, ছল-কোলাহলে ভেসে যাবে তার/ ভার্জিন-ফুলগোছা, হয়তো বা কোনও খরস্রোতা/ শুকিয়ে শুকিয়ে হবে কাঠ,/ অনভিপ্রেত প্রত্যয়-অসদ্গতি!

Read More »
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

নগর জীবন ছবির মতন হয়তো

আরও উপযুক্ত, আরও আরও সাশ্রয়ী, এসবের টানে প্রযুক্তি গবেষণা এগিয়ে চলে। সময়ের উদ্বর্তনে পুরনো সে-সব আলোর অনেকেই আজ আর নেই। নিয়ন আলো কিন্তু যাই যাই করে আজও পুরোপুরি যেতে পারেনি। এই এলইডি আলোর দাপটের সময়কালেও।

Read More »