এখন অনুবাদ জিজ্ঞাসা
0. প্রসঙ্গ নির্দেশ।
কার্ল মার্ক্স তাঁর রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচারের ভিত্তি সংক্রান্ত পাণ্ডুলিপিগুলির প্রথম ভাগে, পণ্য-অর্থ ও শব্দ-অর্থ সম্পর্কগুলির সঞ্চালনের—কোনো পণ্যের বিনিময় মূল্যকে তার অর্থ মূল্যে রূপান্তরিত করার আর কোনো ধারণাকে তার মাতৃভাষা হতে কোনো বিদেশি ভাষায় অনুবাদ করার কাজের — মধ্যে তুলনা করে লেখেন [1]: “(Das Geld mit dem Blute zu vergleichen — das Wort Circulation gab dazu Anlaß — ist ungefähr ebenso richtig wie das Gleichniß des Menenius Agrippa zwischen den Patriciern und dem Magen.) [2] (Das Geld mit der Sprache zu vergleichen ist nicht minder falsch. Die Ideen werden nicht in die Sprache verwandelt, so daß ihre Eigenthümlichkeit aufgelöst und ihr gesellschaftlicher Character neben ihnen in der Sprache existirte, wie die Preisse neben den Waaren. Die Ideen existiren nicht getrennt von der Sprache. Ideen, die aus ihrer Muttersprache erst in eine fremde Sprache übersezt werden müssen, um zu kursiren, um austauschbar zu werden, bieten schon mehr Analogie; die Analogie liegt dann aber nicht in der Sprache, sondern in ihrer Fremdheit.)” [“(অর্থের সাথে রক্তের তুলনা করাটা—সঞ্চালন শব্দটির সুবাদে এই তুলনার উদ্ভব ঘটেছে—ততোটাই সঠিক যতোটা মেনেনিয়াস আগ্রিপার কাহিনীতে প্যাট্রিশিয়ানদের সাথে পেটের তুলনা ৷) [2] (অর্থের সঙ্গে ভাষার তুলনা করাটাও কম ভুল নয় ৷ ভাষায় ব্যক্ত হলে আমাদের ধারণাগুলো এমনভাবে পাল্টে যায় না, যাতে তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলি হারিয়ে যায়, অথচ মালের পাশে দামের মতো তাদের সামাজিক চরিত্রটি বজায় থাকে। ধারণাগুলো ভাষা থেকে আলাদাভাবে বিরাজ করেনা। যখন কোনো ধারণার সঞ্চালনের স্বার্থে, তাকে বিনিময়ের যোগ্য করে তোলার জন্য, তার মাতৃভাষা হতে অন্য কোনো বিদেশি ভাষায় অনুবাদ করার প্রয়োজন হয়, তখন তুলনাটা বেশি লাগসই; তবে তুলনা সেখানে ভাষার সাথে নয়, তুলনাটা তার পরকীয়তার/ বিদেশিত্বের সাথে।)”]
এই কথাগুলি মার্ক্স 1857-1858 সালের কোনো এক সময়ে ব্যবহার করা একটি খাতায় লিখছিলেন ৷ তাঁর এই সময়ের অসমাপিত লেখাজোখার খাতাপত্র 1939-2006 কালপর্বে, প্রথমে Grundrisse der Kritik der politischen Ökonomie (Rohentwurf) [রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচারের ভিত্তি (কাঁচা খসড়া)] শিরোনামে আর পরে Grundrisse der Kritik der politischen Ökonomie, Erster Teil 1857/58 [রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচারের ভিত্তি, প্রথম ভাগ 1857/58] শিরোনামে, নানা সংস্করণে ও অনুবাদে প্রকাশিত হয় ৷ এই প্রকাশনাগুলি বিগত বেশ কয়েক দশক জুড়ে মার্ক্স চর্চার এলাকায় তুমুল আলোড়ন সৃষ্টিকারী আলোচনার ও তীব্র মতাদর্শগত বিতর্কের রসদ হিশেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আজও হয়৷ বিগত 1982 সাল থেকে 2022 সালের মধ্যে, তুলনামূলক সাহিত্যের ও অনুবাদ বিদ্যার কোনো কোনো গবেষক-গবেষিকা ভাষা, শব্দ, অর্থ ও অনুবাদ সংক্রান্ত আলোচনায় মার্ক্সের এই বক্তব্যটি উল্লেখ ও ব্যবহার করেছেন [3]৷ তবে যাঁরা মার্ক্সের রচনাগুলির সম্পাদনা, চর্চা ও অনুবাদের আলোচনায় এবং অনুবাদক হিশেবে মার্ক্সের কাজের মূল্যায়নে নিয়োজিত [4], আজ পর্যন্ত তাঁদের তরফে এই প্রস্থান বিন্দু হতে উৎসারিত কোনো প্রাসঙ্গিক আলোচনা বর্তমান অনুবাদকের নজরে পড়েনি ৷ তাই এই অনুবাদ জিজ্ঞাসা ৷
- কেনাবেচার বাজারে অসমান মূল্য পরিবাহী পণ্য-অর্থ (মুদ্রা) বিনিময়; এবং, অনুবাদের বাজারে অসমান ধারণা-পরিবাহী শব্দ-অর্থ (মানে) বিনিময়।
1.1. কেনাবেচার বাজারে অসমান মূল্য পরিবাহী পণ্য-অর্থ (মুদ্রা/টাকা-পয়সা/ ডিজিটাল মুদ্রা/গুপ্ত মুদ্রা) বিনিময়।
একটি পণ্য হিশেবে শ্রম-সময়ের, এবং সেই শ্রম-সময় ব্যবহার করে উৎপাদিত অন্যান্য পরিষেবার ও পণ্যের, সঞ্চালনের স্বার্থে তাদের মজুরি, দাম ইত্যাদিকে অর্থ-মূল্যে/টাকা-পয়সায়/ ডিজিটাল মুদ্রায়/ গুপ্ত মুদ্রায় রূপান্তরিত করা হয় ৷ এই রূপান্তরের ফল হিশেবে পাওয়া অর্থ-মূল্য, বাস্তব শ্রম-সময় ও সেই শ্রম-সময় ব্যবহার করে উৎপাদিত অন্যান্য পরিষেবা ও পণ্য হতে—অর্থাৎ, তাদের আদি উৎস শ্রম-সময় ও তার ব্যবহার হতে—বিচ্ছিন্ন ৷ বিভিন্ন পর্যায়ের উৎপাদক ও উপভোক্তারা নিজেদের প্রয়োজনের খাতিরে এই বিচ্ছিন্নতার পরিবেশেই বিভিন্ন পরিষেবার ও পণ্যের সঞ্চালনে নিয়োজিত থাকেন ৷ বাজারে সঞ্চালন মাত্রেই বিনিময় ৷ সব বিনিময়ই বিধিসম্মতভাবে বা চুক্তি সংক্রান্ত আইনের বিচারে সমান, কিন্ত প্রকৃতপক্ষে সেই আইনেরই আড়ালে লুকিয়ে রাখা শ্রম-সময় ক্রেতা পুঁজির মালিকের ও শ্রম-সময় বিক্রেতা মজুরের ক্ষমতার ফারাকের জোরে উদ্বৃত্ত মূল্য নিষ্কাশনের কারণে অসমান ৷
1.2. অনুবাদের বাজারে অসমান ধারণা-পরিবাহী শব্দ-অর্থ (মানে/তাৎপর্য/ভাব) বিনিময়।
এক বা একাধিক ধারণা-পরিবাহী কোনো রচনার সঞ্চালনের স্বার্থে তাকে তার উৎস ভাষা থেকে অন্য কোনো লক্ষ্য ভাষায় রূপান্তরিত করা হয় বা অনুবাদ করা হয় ৷ এই রূপান্তরিত বা অনুবাদ করে সঞ্চালিত ধারণা ও রচনা তার আদি উৎস ভাষা হতে বিচ্ছিন্ন ৷ অনুবাদক-অনুবাদিকারা ও পাঠক-পাঠিকারা তাঁদের নিজেদের প্রয়োজনের খাতিরে এই বিচ্ছিন্নতার পরিবেশেই বিভিন্ন ধারণার ও রচনার সঞ্চালনে নিয়োজিত থাকেন ৷ আমরা ধারণাসমূহের বাজারে ভাব বিনিময়ের স্বার্থে অনুবাদ করি ৷ সব বিনিময়ের মতো ভাব বিনিময়ও দৈনন্দিন কাজের জগতের আপাতদৃষ্টিতে সমান, কিন্তু ভাষাগুলির ও অনূদিত রচনাগুলির জীবনের গভীরতর সত্যের আলোকে বিচার করলে অসমান৷
অনুবাদ করার সময়ে সমতুল্য বা সমার্থবোধক শব্দ ও পরিভাষা, বাক্য, বাক্যাংশ ও বাগধারা ইত্যাদি বেছে নেওয়ার বা তৈরি করার কাজটি ঘটে আমাদের নানা সমাজের উঁচু-নিচু, অসমতল রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থাগুলির ভাষাগত চৌহদ্দির ভেতরে, এবং সেখানে বিভিন্ন ভাষা ব্যবহারকারীদের গতিশীল ভাব বিনিময় সম্পর্কগুলির উন্মুক্ত ও আঁকাবাঁকা সম্ভাবনার সাংস্কৃতিক পরিবেশে ৷ ওপর ওপর দেখলে এই ভাব বিনিময়ে ব্যবহার করা পারিভাষিক ও সাধারণ প্রতিশব্দগুলি—শ্রমের অসমতল বাজারের আইনি আড়ালগুলির আওতায় বিনিময় করা শ্রম সময়ের ও মজুরি হিশেবে দেওয়া দামের বা অর্থ মূল্যের মতো—পরস্পরের সমান, তবে আসলে ও ভেতরে ভেতরে তারা সেই বাজারে ক্ষমতার ও সামর্থ্যের দাপটের জোরে শ্রমের উদ্বৃত্ত মূল্য নিষ্কাশনকে আড়াল করে রাখা বিনিময়ের দুই দিকের মতোই —পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও অসমান ৷ শ্রমের বাজারে শ্রম-সময় একটি পণ্য ৷ সেই পণ্য বিক্রেতা মজুরের ও বিনিময়ে অর্থ মূল্যে মজুরি দিয়ে সেই শ্রম-সময় ক্রেতা অর্থের মালিকের হাজির হওয়ার ইতিহাস, পটভূমি ও রাজনৈতিক, আইনি, পুলিসি ইত্যাদি ক্ষমতার দাপট আলাদা, তাই সেখানে একটি পণ্য হিশেবে শ্রম-সময়ের ও অর্থের বিনিময় পরস্পরের সমান নয়৷ অনুবাদের উৎস ভাষা হতে বিচ্ছিন্ন ও লক্ষ্য ভাষায় অভিব্যক্ত ধারণা ও ভাবের বিনিময়ও একে অপরের সমান নয়৷
- অনুবাদের বাজারে অসমান বিনিময়।
যখন কোনো ধারণার সঞ্চালনের স্বার্থে কোনো উৎস ভাষা থেকে কোনো লক্ষ্য ভাষায় সেই ধারণার দ্যোতনাকারী শব্দটি অনুবাদ করা হয়, তখন সেখানে শব্দ-অর্থ বিনিময়ের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতার অনুষঙ্গগুলি ঠিক কেমন তা বোঝার জন্য একটি ধারণার দ্যোতনাকারী একটি বাংলা শব্দের ও অন্য কয়েকটি ভাষায় তার প্রতিশব্দগুলির অর্থ, সেই শব্দগুলির ব্যুৎপত্তির আলোকে বিবেচনা করা যাক৷ শব্দটি: (ক) বাংলায়: (ক.1)‘অনুবাদ’ এবং (ক.2) ‘তর্জমা’ (‘তরজমা’), (খ) জার্মানে: ‘Übersetzung’, (গ) রুশিতে: ‘перевод’, আর (ঘ) ইংরেজিতে: ‘translation’ ৷ ব্যুৎপত্তি বিচার:
ক.1. অনুবাদ: ‘अनुवाद’ শব্দ থেকে প্রতিবর্ণীকৃত→
অনু (=পরে)+[(√বদ্=বলা)+অ)=] বাদ→অনুবাদ=যা পরে বলা হয়েছে; আগে বলা কথার পুনরাবৃত্তি [5]৷
ক.2. তর্জমা (তরজমা): আরবি ترجمة (তর্জমঃ) শব্দ থেকে প্রতিবর্ণীকৃত→উল্টো/ভাষান্তর/ব্যাখ্যা/অনুবাদ ৷
খ. Übersetzung: über (উপসর্গ: উপরে) + setzen (ক্রিয়াপদ: সেট করা)→[সম্ভবত লাতিন trādūcō (স্থানান্তর করা, রূপান্তর করা, অপসারণ করা)→trādūcere (নেতৃত্ব দেওয়া, রাস্তা দেখানো, আনা, পরিবহন করা, পরিচালনা করা, অনুবাদ করা) ক্রিয়াপদগুলির প্রভাবে লক্ষ্যার্থে] →übersetzen+-ung (বিশেষ্য তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত -ung প্রত্যয়)→ ভাষান্তর/অনুবাদ৷
গ. перевод: пере (উপরে) + водить (নিয়ে যাওয়া)→переводить (ক্রিয়াপদ) →নেতৃত্ব দেওয়া, বোঝানো, স্থানান্তরিত করা, অনুবাদ করা→перевод (বিশেষ্য)→অনুবাদ৷
ঘ. translation:(লাতিন ভাষায় ‘নিয়ে যাওয়া’ বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত ব্যতিক্রমবিদ্ধ ক্রিয়াপদের কাল ভেদে তিনটি রূপ: fero/tuli/latus; তুলনীয়: বাংলা ভাষায় ‘যা’ ধাতুর অতীত কালের রূপ ‘গেল’): এর মধ্যে latus→latio→translatio(এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় নিয়ে যাওয়া)→ইংরেজি: translation→অনুবাদ৷
লক্ষ্য করার বিষয়, এই শব্দগুলির অর্থের (মানের/তাৎপর্যের ) এক বা একাধিক অনুষঙ্গ পরস্পরের সমান হতে পারে, কিন্তু তাদের সকলের সব অর্থের উদ্ভবের ও ইতিহাসের বাকি অনুষঙ্গগুলি একে অপরের সমতুল্য নয়৷ এই অসমতুল্যতা তাদের বিচ্ছিন্নতার ভিত্তি৷
কোনো ভাষার অভিধানে ও পরিভাষা কোষে যে শব্দগুলিকে আমরা সমার্থবোধক বলে বিবেচনা করি সেগুলির বিভিন্ন অর্থের সাথে সেই শব্দগুলির সম্বন্ধ দ্বন্দ্বসমন্বয়মূলক ৷ আর তাই অন্য ভাষার প্রতিশব্দগুলির সাথে তাদের পারস্পরিক সম্বন্ধও সেই রকম ৷ আমাদের সমাজের ও চিন্তার অন্য সব সম্বন্ধের ক্ষেত্রেই এই কথা সত্য৷ এই সম্বন্ধগুলি কোথাও বা কখনও বেশি সন্তোষজনক, অন্য জায়গায় বা অন্য সময়ে কম ৷
একটি উপমা ব্যবহার করে বলা যায়, যে সারা পৃথিবীর সব সমাজেই মাতৃভাষা বা ঘরের ভাষা হতে বিদেশি ভাষায় অনুবাদ এবং, তার বিপরীতে বিদেশি ভাষা হতে মাতৃভাষায় বা ঘরের ভাষায় অনুবাদ করার কাজটা যেসব অভিধানের সাহায্যে ও অনুবাদ সংক্রান্ত ভাষাগত লোকাচারের মধ্যে করা হয়, সেগুলি একাধিক এবড়ো খেবড়ো এবং গতিশীল ভাষাগত আনত তলের বা ঢালু জমির ওপরে তৈরি হয় ও টলমল করতে করতে দাঁড়িয়ে থাকে। এই জমিগুলির ঢাল বা নতি বহুমাত্রিক, আর সেই মাত্রাগুলির প্রত্যেকটিই পরস্পর নির্ভরশীল নানা সম্ভাবনাময় এলোমেলো চলরাশি ৷
- অনুবাদের নানা মাত্রা।
3.1. একটি মাত্রা ভাষাগুলির অসমান শব্দ ভাণ্ডারের।
নানা বিদেশি ভাষার ও মাতৃভাষার নানা অভিধানের বা শব্দকোষের সাহায্য নিয়ে তৈরি করা কিছুটা সমার্থবোধক আর বাকিটা ভিন্নার্থবোধক পরিভাষাগুলির অসমান বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ৷ এই ঢালগুলির এক প্রান্তে যে ভাষাগুলি থেকে কোনো রচনা অনুবাদ করা হচ্ছে সেই উৎস ভাষাগুলির আগেভাগেই প্রতিষ্ঠিত ভাষা সংক্রান্ত অভিধান ইত্যাদি সম্পদের অবস্থান, আর অন্য প্রান্তে যে ভাষাগুলিতে অনুবাদ করা হচ্ছে সেই লক্ষ্য ভাষাগুলির জায়মান অভিধান, পরিভাষা কোষ ইত্যাদির জায়গা। অধিকাংশ লক্ষ্য ভাষায় প্রাসঙ্গিক বিদ্যার চর্চা ও অভিধান ইত্যাদি রচনা করার ঐতিহ্য উৎস ভাষাগুলির প্রাসঙ্গিক সামর্থ্যের তুলনায় দুর্বল। তাই এই ঢালে তাদের জায়গা ভিন্ন ভিন্ন। কয়েকটি উদাহরণের দিকে তাকানো যাক।
প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য: ঋগ্বেদ, পঞ্চতন্ত্র, ত্রিপিটক, জাতকমালা, মহাভারত, রামায়ণ…, ভাষাশাস্ত্র (যাস্ক: নিঘণ্টু ও নিরুক্ত; পাণিনি: অষ্টাধ্যায়ী;), পিঙ্গল: ছন্দসূত্র , কৌটিল্য/চাণক্য: অর্থশাস্ত্র, মল্লনাগ বাৎস্যায়ন: কামসূত্র, ভরত: নাট্যশাস্ত্র; এবং, অনতি প্রাচীন যুক্তিশাস্ত্র ও জ্ঞানতত্ত্ব: জয়ন্ত ভট্ট: ন্যায়মঞ্জরী, গঙ্গেশোপাধ্যায়: তত্ত্বচিন্তামণি, ধর্মকীর্তি: প্রমাণবার্তিক, যশোবিজয়: জৈনতর্কভাষা…., ইত্যাদি ইউরোপের, ভারতের ও অন্যান্য অঞ্চলের আধুনিক ভাষায় অনুবাদ করার সময়ে এই রচনাগুলির সমৃদ্ধ ও প্রাচীন উৎস ভাষাগুলির জায়গা সেই ঢালের ওপরের দিকে, আর দুর্বল ও অর্বাচীন লক্ষ্য ভাষাগুলির জায়গা তার নিচের দিকে।
আলেকজান্দ্রিয়ার ইউক্লিডের Στοιχεῖα [স্তিখিয়া] [মূলনীতিসমূহ] (আনু. 300 খ্রি.পূ.) অনুবাদ করার সময়ে উৎস ভাষা প্রাচীন গ্রিকের জায়গা এই ঢালের ওপরে এবং মধ্য যুগের আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত ভাষায় সম্পাদিত, অনূদিত ও পুনরনূদিত পাঠসমূহের লক্ষ্য ভাষাগুলির জায়গা তার নিচে।
নিউটনের Philsophiæ Naturalis Principia Mathematica [ফিলোসোফিয়াই নাতুরালিস প্রিঙ্কিপিয়া মাথেমাতিকা] (1687) অনুবাদ করার সময়ে উৎস ভাষা নব্য লাতিনের জায়গা এই ঢালের ওপরে এবং ইংরেজি থেকে শুরু করে রুশ ও চীনা পর্যন্ত সব আধুনিক লক্ষ্য ভাষার জায়গা তার নিচে।
চার্লস ডারউইনের On the Origin of Species [অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস] (1859) অনুবাদ করার সময়ে উৎস ভাষা আধুনিক ইংরেজির জায়গা ঢালের ওপরে আর জার্মান থেকে চীনা, বাংলা ইত্যাদি আধুনিক লক্ষ্য ভাষাগুলির জায়গা তার নিচে।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য [Meghnādbadh kābya] (1861) হিন্দিতে (1919) ও ইংরেজিতে (1926; 1986; 2004; 2010) অনুবাদ করার সময়ে উৎস ভাষা বাংলার জায়গা এই ঢালের ওপরে আর হিন্দির ও ইংরেজির জায়গা তার নিচে।
উপযুক্ত প্রতিশব্দ না পেলে অনুবাদক অনেক সময়ে উপরের (ঋগ্বেদ থেকে Meghnādbadh kābya পর্যন্ত) গ্রন্থনামগুলির কায়দায় প্রতিবর্ণীকরণ করেন। অনেক সময়ে অনুবাদ করার প্রয়োজনে কোনো পুরোনো ভাষা থেকে যৌথ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শব্দের সুবাদে প্রতিবর্ণীকরণ করা হয়, যেমন: বাংলা থেকে হিন্দিতে (মেঘনাদবধ কাব্য/मेघनाद–वध : এখানে সংস্কৃতের উত্তরাধিকার), বা জার্মান থেকে ফরাসিতে ও ইংরেজিতে (Das Kapital/Le Capital/Capital :এখানে লাতিনের উত্তরাধিকার)।
মার্ক্সের অল্প কয়েকটি রচনার ভাষা গ্রিক ও লাতিন, অধিকাংশ রচনার ভাষা জার্মান, কয়েকটির ভাষা ফরাসি ও ইংরেজি; তাই তাঁর রচনাগুলি অনুবাদ করার সময়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উৎস ভাষা হিশেবে জার্মানের জায়গা অনুবাদ সংক্রান্ত ঢালের ওপরে আর সব লক্ষ্য ভাষার জায়গা তার নিচের দিকে। বিভিন্ন বিদ্যার ও ললিত সাহিত্যের বই অনুবাদ করার লক্ষ্য ভাষা হিশেবে বাংলা ভাষার বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে দে.:টীকা [6]।
3.2. আরেকটি মাত্রা অনুবাদটি যাঁরা ব্যবহার করবেন বা করছেন তাঁদের অসমান চাহিদা ও প্রত্যাশার ৷
যন্ত্রপাতি ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা প্রকৌশল ও প্রযুক্তির, প্রকৃতি ও সমাজ বিজ্ঞানগুলির এবং ফলিত গণিতের বিভিন্ন শাখার প্রবন্ধের ও বইয়ের আক্ষরিক বা হুবহু অনুবাদ করার সময়ে ধারণা বিনিময়ে শতকরা একশো ভাগ সাফল্য অর্জন করার জন্য শিল্প-বাণিজ্যের বাজারের তরফে ব্যবহারিক চাহিদা ও প্রত্যাশা থাকে, আর খুব হেলাফেলা না করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, খানিকটা মোটা দাগে হলেও, সেই প্রত্যাশা পূরণও হয়। আজকাল এই ধরনের কাজে যন্ত্রানুবাদের চাহিদা, ব্যবহার ও সাফল্য বাড়ছে।
তবে গণিতের ও বিভিন্ন বিজ্ঞানের ভিত্তিস্থাপনাকারী চিরায়ত সাহিত্য, ললিত সাহিত্য এবং ভারতীয় দার্শনিক বা ইউরোপীয় ফিলোসোফিক্যাল সাহিত্যের ভাবানুবাদের ক্ষেত্রে অনেক সময়েই একথা খাটে না। সেখানে আলোচিত ধারণাগুলির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তাৎপর্যের জন্য সমতুল্য পরিভাষার সন্ধান বা নির্মাণ অনেক সময়ে অধরা থেকে যায়। অনুবাদে নানা মাপের অর্থ-বিপর্যয় ঘটে।
কোনো কোনো রচনা একই সময়ে বিজ্ঞানগুলির ও ফিলোসোফির জন্য গুরুত্বপূর্ণ; যেমন, মার্ক্সের গণিতের পাণ্ডুলিপিগুলি। সেখানে উৎস ভাষার ও লক্ষ্য ভাষার পাঠ পাশাপাশি পাতায় বা কলামে দিলে, যেখানে সন্দেহ হচ্ছে সেখানে অনুবাদের খামতি কাটিয়ে উঠে ধারণাগুলি বোঝার কাজটা সহজ হয়। মার্ক্সের গণিতের পাণ্ডুলিপিগুলির 1968 সালের মস্কো সংস্করণে তাই করা হয়েছে।
আশা করা যায় যে ভবিষ্যতে যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তা ও শিক্ষাদীক্ষা, যন্ত্রানুবাদ, এবং আমাদের যন্ত্রানুবাদ সাক্ষরতার বিকাশের পথে সব ধরনের অনুবাদেই ধারাবাহিক অগ্রগতি ঘটবে [7]। যেখানে ভাষাগুলি গঠনের দিক থেকে ও ঐতিহাসিকভাবে একে অপরের কাছাকাছি, আর যন্ত্রানুবাদে নিয়োজিত প্রযুক্তিবিদদের জন্য দরকারি প্রকৌশলের, এবং উৎস ভাষার ও লক্ষ্য ভাষার শব্দকোষ, ব্যাকরণ ইত্যাদি প্রাসঙ্গিক রসদের যোগান তুলনামূলকভাবে ভালো—যেমন জার্মান⇄ইংরেজি যন্ত্রানুবাদের ক্ষেত্রে—সেখানে অনুবাদ এখনই দুর্বলতর ইংরেজি⇄বাংলা যন্ত্রানুবাদের তুলনায় বেশি সাবলীল।
বাংলাদেশের ও পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের মধ্যে গড় সাক্ষরতার হার ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকের পাঁচ শতাংশ (৫%) থেকে বাড়তে বাড়তে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এসে পঁচাত্তর শতাংশ (৭৫%) ছাড়িয়ে গেলেও একশো শতাংশ (১০০%) সাক্ষরতা অর্জন করার লক্ষ্য এখনও বহুদূরে। আরো একটি চিন্তার ব্যাপার ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকে বিংশ শতাব্দীর ষাটের-সত্তরের দশক পর্যন্ত উচ্চ শিক্ষিত বাঙালিরা বাংলাভাষায় নানা বিদ্যা চর্চা করতেন, সেই সব বিদ্যার বই বাংলায় অনুবাদ করতেন; কিন্তু, গত পঞ্চাশ-ষাট বছর যাবৎ সেই চর্চার পরিমাণ ও গুণমান ক্রমাগত নিচে নামছে। পরিণতি: বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বিদ্যা চর্চা করেন না। দু-একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণের কথা বাদ দিলে তাঁরা প্রায় কোনো বিষয়েরই গভীরে ঢুকতে চাইছেন না ও পারছেন না। আর এটা ঘটছে এমন একটা সময়ে যখন, আন্তর্জালের কল্যাণে, যেকোনো বিষয়ের অতীত ইতিহাস থেকে, বর্তমান গবেষণার ফসলগুলি পার হয়ে, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য গবেষণার খসড়া পরিকল্পনাগুলিও ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসু মানুষের নাগালের মধ্যে এসে যাচ্ছে। এ এক আশ্চর্য বিরোধাভাস। উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে কেউ কেউ বেশি মজুরির বাজারগুলিতে প্রান্তিক শিক্ষা-শ্রমজীবী হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বিদ্যার গ্রন্থ-নিবন্ধ অনুবাদ করার চাহিদা ও প্রত্যাশাও অধোগামী। বেশি বাজেটওয়ালা সরকারি প্রকাশনা ভবনগুলিও অনুবাদের উৎস ভাষার ও লক্ষ্য ভাষার পাশাপাশি পাঠওয়ালা বই ছাপার উদ্যোগ গ্রহণ করেনা, চিরায়ত রচনাগুলির ডিজিটাল বই তৈরি করার কথাও ভাবে না।
আজকাল সাক্ষর বাঙালিদের মুখের ভাষা নানা ধরনের বাংলা ছাঁদের ইংরেজি বা ইংরেজি ছাঁদের বাংলা। ভাষা বিজ্ঞানের ও যন্ত্রানুবাদ বিদ্যার পরিভাষায় আপাতত এই ভাষার নাম বেংলিশ বা বাংলিশ [8]। লেখার সময় প্রমিত ও রীতিসিদ্ধ সাহিত্যের বাংলা ভাষাকেও তারই আদলে গড়ে-পিটে নেওয়ার একটা সামাজিক চাপ আছে। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার ইংরেজির বেংলিশ/বাংলিশ, হিংলিশ, তাংলিশ, পাংলিশ ইত্যাদি কোড-মিক্সিং ও কোড-স্যুইচিং করা জায়মান সংকর রূপ সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপগুলিকে— প্রাচীন সংস্কৃতের আপেক্ষিকে মহারাষ্টী, শৌরসেনী, মাগধী, পৈশাচী প্রভৃতি প্রাকৃতের [9] আদলে—ইংরেজির আপেক্ষিকে আমাদের আধুনিক প্রাকৃত বলে গণ্য করার কথাও উঠেছে [10]। ভবিষ্যতে হয়তো এই পথে কোলকাতার ও ঢাকার বাঙালিদের বর্তমান কালের সাহিত্যের রীতিসিদ্ধ ও প্রমিত লেখার ভাষার একাধিক নতুন অপভ্রংশ ও অবহট্ঠ রূপেরও উদ্ভব ঘটবে [11]। তবে তখন তাদের রূপগুলি ঠিক কেমন হবে—তাতে উর্দু-হিন্দি এই দুই প্রমিত নিবন্ধনে সমৃদ্ধ, বহুকেন্দ্রিক হিন্দুস্তানি ভাষার আন্তর্জালে পরিব্যাপ্ত রোমান-উর্দু ও রোমান-হিন্দি রূপগুলির কতোটা প্রভাব ও মিশেল থাকবে, তাকে ইংরেজির রূপভেদ বলা হবে, নাকি তা বাংলারই একটি নতুন উপভাষা হিশেবে, অথবা কালে দিনে কোনো নতুন ভাষা হিশেবে, স্বীকৃতি পাবে—সেকথা আগেভাগে বলা সম্ভব নয়। আধুনিক দুনিয়ায় যোগাযোগের প্রধান ভাষা হিশেবে গড়ে ওঠা ইংরেজির আপেক্ষিকে ইউরোপের ও পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন ভাষাও কমবেশি এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ৷
3.3. অন্য একটি মাত্রা যাঁরা বিভিন্ন বিষয়ের গ্রন্থ-নিবন্ধ রচনা ও অনুবাদ করছেন বা করবেন তাঁদের অসমান সামাজিক যোগানের ও প্রস্তুতির ৷
এঁদের মধ্যে সক্রিয়ভাবে একাধিক বা বহু ভাষা ব্যবহারকারী ও বিভিন্ন বিদ্যার চর্চায় নিবেদিত উদ্যোগী মানুষের যোগান ও তাঁদের প্রস্তুতির মান নানা সামাজিক উপাদানের ওপর নির্ভর করে। ঊনবিংশ শতাব্দীর কোলকাতায় সেই উপাদানগুলির সমাবেশের অন্যতম ফল: সেখানকার পার্ক স্ট্রিটের এশিয়াটিক সোসাইটির প্রকাশনাগুলির সুবাদে ইউরোপের প্রাচ্য/এশীয় ভাবধারা প্রভাবিত নবজাগরণ ও এনলাইটেনমেন্ট, আর কলেজ স্ট্রিটের স্কুল-কলেজগুলিতে ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার তত্ত্বাবধানে আমাদের ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পরিবাহিত পাশ্চাত্য/পশ্চিম ইউরোপীয় ভাবধারা প্রভাবিত নবজাগরণ [12]। সেই শতাব্দীর লণ্ডনে অনুরূপ সমাবেশের অন্যতম ফল: সমকালীন বিজ্ঞানগুলির বহুমুখী বিচারে নিবেদিত ও আন্তর্জাতিক সামাজিক মুক্তি অভিলাষী কার্ল মার্ক্সের কাজ।
- অনুবাদের সামাজিক চাহিদা, যোগান, প্রত্যাশা ও প্রস্তুতির নির্মাণে মতাদর্শের ভূমিকা।
অনুবাদ প্রক্রিয়ার মধ্যে আমাদের চেতনার ওপরে আধিপত্যকারী মতাদর্শগত প্রেরণার একটা বড়ো ভূমিকা থাকে। এই ভূমিকার গতিধারা বোঝার জন্য কোনো ধারণার ও রচনার সঞ্চালনের স্বার্থে মতাদর্শ-প্রেরিত অনুবাদের একটি নতুন ও একটি পুরোনো উদাহরণের দিকে তাকানো যাক।
4.1. নতুন উদাহরণ: মার্ক্সের “পুঁজি” শিরোনামে পরিচিত গ্রন্থমালার ও অন্যান্য লেখাজোখার সঞ্চালনের বা ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাস।
শ্রম-সময়ের ও অন্যান্য পণ্যের এবং অর্থের অসমান বিনিময়, আর কোনো ধারণার সঞ্চালনের স্বার্থে, সেই ধারণাটিকে বিনিময়যোগ্য করে তোলার জন্য, অন্য কোনো বিদেশি ভাষায় অনুবাদ করার সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাষার শব্দের ও শব্দার্থের অসমান বিনিময়ের যে তুলনা মার্ক্স করছেন, তা তাঁর নিজের লেখা “পুঁজি”-র অতি বিখ্যাত প্রথম খণ্ডের শিরোনামের প্রায় একশো বছর যাবৎ চালু একটি ইংরেজি অনুবাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বর্তমানে MEGA2 II/5 (1983) হিশেবে পুনর্মুদ্রিত এই Das Kapital. Kritik der politischen Ökonomie. Erster Band [পুঁজি। রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচার। প্রথম খণ্ড], Hamburg (1867) বইটির ইংরেজি অনুবাদ আজও MEGA2 II/9 (1990) হিশেবে Capital. A Critical Analysis of Capitalist Production [পুঁজি। পুঁজিবাদী উৎপাদনের একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ], London (1887) এই পরিবর্তিত শিরোনামে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে।
এই ইংরেজি অনুবাদে বিপর্যস্ত শব্দ-অর্থ বিনিময় সম্পর্ক, মার্ক্সের কাজের সম্বন্ধে দুটি বড়ো মাপের অর্থ-বিপর্যয় তৈরি করেছে ও করে যাচ্ছে। এক: রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র একটি শাস্ত্র, মার্ক্স সেই শাস্ত্রটির নানা ধারণার বিজ্ঞানসম্মত বিচারে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি সেই শাস্ত্রটিকে ঘিরে থাকা নানা মতাদর্শের এবং ভ্রান্ত চেতনার সমালোচনাও করেন। এই কথা 1867 সালের জার্মান সংস্করণের শিরোনামে উপস্থিত, কিন্তু 1887 সালের ইংরেজি অনুবাদের শিরোনামে অনুপস্থিত। দুই: কোনো উৎপাদন প্রণালী একটি সামাজিক বাস্তবতা; সেই বাস্তবতার প্রকৃতিটি ঠিক কেমন, তার বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করা যায়; কিন্তু, কোনো বাস্তবতার সমালোচনা করা পণ্ডশ্রম। মার্ক্স সেরকম কোনো কাজ করেননি তাই এই বইটির জার্মান শিরোনামে সেকথা নেই; কিন্তু, 1887 সালের ইংরেজি অনুবাদের শিরোনামে ঘোষণা করা হচ্ছে যে তিনি তাই করেছিলেন। ইংরেজি অনুবাদের উৎস-বিচ্ছিন্নতা হতে জাত এই অর্থ-বিপর্যয় আজ পর্যন্ত রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচারের এলাকায়, ইংরেজি ভাষায় মার্ক্স চর্চার দুর্বলতাগুলির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সেই দুর্বলতা বাংলা সহ ইংরেজদের প্রাক্তন উপনিবেশগুলির বিভিন্ন ভাষায় মার্ক্স চর্চার মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছে। মার্ক্সের “পুঁজি ”-র প্রথম খণ্ডের 1887 সালে প্রকাশিত এই অর্থ-বিপর্যস্ত ইংরেজি অনুবাদটির সাথে অনুবাদক হিশেবে এডোয়ার্ড আভেলিং ও স্যামুয়েল মুর, আর 1875 সালের পর এই খণ্ডটির নতুন সংস্করণের/অনুবাদের সম্পাদনা সম্পর্কে মার্ক্সের নির্দেশ অগ্রাহ্যকারী সম্পাদক হিশেবে ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস জড়িত ছিলেন। এর প্রায় 20 বছর পরে Capital: A Critique of Political Economy, Volume One [পুঁজি । রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচার। প্রথম খণ্ড] এই সঠিক শিরোনামে, New York (1906) এই অনুবাদটির একটি আমেরিকান সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
এর প্রায় 70 বছর পরে Capital: A Critique of Political Economy, Volume One [পুঁজি । রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচার। প্রথম খণ্ড] London (1976) এই শিরোনামেই একটি নতুন ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় । তবে 1887 সালের পুরোনো ইংরেজি অনুবাদটি ব্যবহার করেই মার্ক্সের এই বইটি দক্ষিণ এশিয়ার নেপালি, মরাঠি, বাংলা, হিন্দুস্তানি (হিন্দি ও উর্দু), তেলুগু, মালয়ালম প্রভৃতি নানা ভাষায় এবং সম্ভবত যেখানে ইংরেজির চল আছে সেরকম আরো কয়েকটি অঞ্চলের ভাষায় অনূদিত হয়েছে ও হচ্ছে।
বেশ কিছুদিন যাবৎ মার্ক্সের “পুঁজি”-র বর্তমানে প্রচলিত ইংরেজি অনুবাদগুলির নানা খামতি দূর করে নতুন ইংরেজি অনুবাদ করার কথা উঠেছে; আর এই বছরেই “ পুঁজি ”-র প্রথম খণ্ডের একটি আমেরিকান অনুবাদ প্রকাশিত হবে বলে জানা গেছে। আজ ইউরোপে ইংরেজি ভাষা, শাস্ত্র চর্চার নতুন লাতিন হিশেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতীতে ইউরোপে নবজাগরণে ও জ্ঞানালোক বিস্তারে আরিস্তোতেলিসের রচনাবলীর গ্রিক ও আরবি থেকে অনুবাদ করা লাতিন সংস্করণগুলির চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো। কেউ কেউ আশা করেন যে ভবিষ্যতে মার্ক্সের রচনাবলীর ইংরেজি অনুবাদের আধুনিক সম্পাদনা বিদ্যা সম্মত ও ঐতিহাসিক আলোচনায় সমৃদ্ধ নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হবে। আর তা যদি ঘটে তাহলে তারপর ইংরেজি ভাষা ব্যবহারকারী দেশগুলির নানা সমাজে, আর তার প্রভাবে বাকি পৃথিবীতেও, মার্ক্সের রচনাবলীর সেই নতুন ইংরেজি সংস্করণগুলির চর্চার সুবাদে, নবজাগরণের ও জ্ঞানালোক বিস্তারের এক নতুন পর্যায় শুরু হতে পারে [13]।
মার্ক্সের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচির [14] সাথে তাঁর “পুঁজি” গ্রন্থমালার অন্য খণ্ডগুলির ও অন্যান্য রচনার মার্ক্সবাদী মতাদর্শ প্রেরিত সম্পাদনার ও অনুবাদের সম্বন্ধ বিচার, এখনও পর্যন্ত প্রধানত জার্মান ভাষা ব্যবহারকারী আলোচকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ [15]। আশা করি যন্ত্রানুবাদের সাহায্য নিয়ে আগামী দিনে এই সীমাবদ্ধতা দূর হবে, এখনই খানিকটা হচ্ছে।
4.2.পুরোনো উদাহরণ: পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী-র সঞ্চালনের বা ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাস।
আনুমানিক 500 খ্রিস্ট পূর্বাব্দে বা তারও আগে রচিত ভাষা-বৈজ্ঞানিক কৃতি অষ্টাধ্যায়ী চর্চার সঞ্চারপথে, আনু. 150 খ্রি. পূর্বাব্দে বেদ প্রামাণ্যবাদী ব্রাহ্মণ্য মতাদর্শগুলির আধিপত্য বিস্তারের স্বার্থে রচিত, এই গ্রন্থের পুনরাবৃত্তি (=অনুবাদ) সমন্বিত পতঞ্জলির মহাভাষ্য নামে পরিচিত ভাষ্যটি প্রচারিত হওয়ার পর থেকে, পাণিনির ভাষা-বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচির নানা অর্থ-বিপর্যস্ত উপস্থাপনা ঘটেছে।
যদি 1887 সালের এঙ্গেলস অনুমোদিত ইংরজি অনুবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে মার্ক্সের “পুঁজি”-র প্রথম খণ্ডের ঐ সংস্করণের জায়গাটা সঞ্চালনের স্বার্থে অনুবাদে অর্থ-বিপর্যস্ত বৈজ্ঞানিক কৃতির তালিকার তলার দিকে হয়, তাহলে কালের বিচারে, পতঞ্জলির মহাভাষ্য প্রচারিত হওয়ার পর থেকে পুনরাবৃত্তির (=অনুবাদের) সুবাদে অর্থ-বিপর্যস্ত বৈজ্ঞানিক কৃতিগুলির তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে অষ্টাধ্যায়ী ।
আপিশলি, কাশ্যপ, গার্গ্য, গালব, চক্রবর্মণ, ভরদ্বাজ, শকটায়ন, শাকল্য, সেনক, স্ফোটায়ান ও (সম্ভবত সমকালীন) যাস্ক প্রমুখ পূর্বাচার্যদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং, প্রত্যক্ষগ্রাহ্য তথ্যের ও প্রাসঙ্গিক যুক্তিসিদ্ধ অনুমানের ওপরে নির্ভর করে পাণিনি তাঁর জানা শিষ্ট ভাষাগুলির বিবরণ দেওয়ার ও সেগুলির বিভিন্ন গঠনগত সমস্যা সমাধান করার জন্য অষ্টাধ্যায়ী রচনা করেন। এটি একটি ভাষা-বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচি। বিপরীতে, গত দুহাজার বছরেরও বেশি সময় জুড়ে সংস্কৃত ভাষার বৈয়াকরণেরা, অষ্টাধ্যায়ী চর্চাকে ব্রাহ্মণ্য ধর্মীয়-দার্শনিক মতাদর্শ প্রভাবিত বেদাঙ্গ হিশেবে ব্যাকরণ চর্চার ও ব্যাকরণ দর্শন চর্চার নানা ধারার অধীন করে রেখেছেন। পরবর্তী বৌদ্ধ ও জৈন ব্যাকরণবিদেরাও তাঁদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেদের ধর্মীয়-সাম্প্রদায়িক মতাদর্শগত বিবেচনা প্রেরিত ব্যাকরণ রচনা করেছেন। এই অবস্থা মার্ক্সের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচিগুলিকে তাঁর মৃত্যুর পর থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করার ও প্রজাশাসন করার স্বার্থে নিবেদিত দণ্ডনীতি-প্রধান মার্ক্সবাদী/মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী প্রভৃতি মতাদর্শগুলির অধীন করে রাখার প্রয়াসের সাথে তুলনীয়। তবে এখানে একটা বড়ো কালগত পার্থক্য আছে। সেটা এই যে, মার্ক্সবাদীদের মতাদর্শগত দূরকল্পনার দাপটে মার্ক্সের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচিগুলির উৎস-বিচ্ছিন্নতার ইতিহাস 1883 সালে তাঁর মৃত্যুর পরের গত 140 বছরের, আর ব্রাহ্মণ্যবাদী বৈয়াকরণদের মতাদর্শগত দূরকল্পনার দাপটে পাণিনির বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচির উৎস-বিচ্ছিন্নতার ইতিহাস অন্ততপক্ষে পতঞ্জলির কালের পর থেকে প্রায় 2150 বছরের।
- উপসংহার।
দেখা যাচ্ছে যে রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থার মধ্যে উৎস-বিচ্ছিন্ন পণ্য-অর্থ সম্পর্কের সঞ্চালনের সাথে, কোনো ধারণার সঞ্চালনের স্বার্থে বিদেশি ভাষায় অনূদিত সেই ধারণার শব্দ-অর্থের উৎস-বিচ্ছিন্নতার মার্ক্সকৃত তুলনা [দে.: 0. প্রসঙ্গ নির্দেশ], মার্ক্সের নিজের রচনার সঞ্চালনের/অনুবাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর, অষ্টাধ্যায়ী-র “অনুবাদে চরণানাম” সূত্রটি [দে.: টীকা 5: ২অ ৪পা ৩সূ], সেই গ্রন্থের সঞ্চারপথে পল্লবিত ব্রাহ্মণ্য ব্যাকরণ চর্চার শাখা-প্রশাখাগুলির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সম্পাদিত/ রূপান্তরিত/ ভাষান্তরিত/অনূদিত ধারণা/রচনা মাত্রেই উত্তরিত। সেই ধারণা/রচনা একাধারে উৎস ভাষার মূল পাঠ হতে বিচ্ছিন্ন বা অপসারিত, কিন্তু তা তার লক্ষ্য ভাষায় হয় সংরক্ষিত-ও-উন্নীত, নয়তো সঞ্চালনে/সম্পাদনায়/ভাষান্তরে/অনুবাদে অর্থ-বিপর্যস্ত দশায় সংরক্ষিত-কিন্তু-সংকুচিত/বাতিল/স্থগিত-ও-অবনত।
দক্ষিণ এশিয়ায়: সংস্কৃত, কয়েকটি প্রাকৃত, পালি এবং, বাংলা, (প্রমিত হিন্দি নিবন্ধনে, নাগরী লিপিতে লেখা) হিন্দুস্তানি ও ইংরেজি সহ কয়েকটি আধুনিক ভারতীয় ভাষায় রচিত ও চর্চিত ধর্মীয়-সাম্প্রদায়িক ব্যাকরণ দর্শনগুলির অধীনে পাণিনির [16]; বাকি ইউরেশিয়ায় ও উত্তর আফ্রিকায়: গ্রিক, লাতিন, সিরীয়, আরবি, ফার্সি, হিব্রু, নব্য লাতিন ও ইতালীয় ইত্যাদি ভাষায় পরিবাহিত আরিস্তোতেলবাদের প্রভাবে আরিস্তোতেলিসের [17]; ইউরোপে: নব্য লাতিন, জার্মান, ফরাসি, রুশি ও ইংরেজি প্রভৃতি ভাষায় চর্চিত লাইবনিৎসবাদের আড়ালে লাইবনিৎসের [18]; আর সারা পৃথিবীতে: পঞ্চাশটিরও বেশি ভাষায় প্রচারিত মার্ক্সবাদী মতাদর্শগুলির দাপটে মার্ক্সের [19]—বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচিগুলি—পাণিনির ও আরিস্তোতেলিসের ক্ষেত্রে কয়েক হাজার, লাইবনিৎসের ক্ষেত্রে প্রায় তিনশো, আর মার্ক্সের ক্ষেত্রে প্রায় দেড়শো বছর যাবৎ বাতিল/স্থগিত-ও-সংকুচিত/অবনত/অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকার পরে মানুষের সমাজের, তার চিন্তার, বাকি প্রকৃতির বিজ্ঞানগুলির, গণিত সহ নানা ভাষার এবং তাদের ওপরে ভর করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রযুক্তির বিকাশের তাগিদে চর্চিত হয়েছে ও হচ্ছে।
মার্ক্সের গণিতের পাণ্ডুলিপিগুলি আধুনিক বিজ্ঞানসমূহের চর্চায় ব্যবহৃত চিরায়ত বিশ্লেষণের ভাষার অংশ বিশেষের, প্রাথমিক বীজগণিতের ভাষা হতে অন্তরকলনের ভাষায় উত্তরণের প্রকৃতির ও ইতিহাসের, বিচারে নিবেদিত। আর, যে প্রাচীন শিষ্ট ভাষাকে পরে সংস্কৃত বলা হয়, পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী, শুধু তার বিশ্লেষণেই নিবেদিত নয়। এটি একই সময়ে একটি সঞ্জননী কলন, আর সেটাই অষ্টাধ্যায়ী-র প্রধান বিষয় [20]। সাংকেতিক কলনগুলির বিকাশের প্রকৃতির ও ইতিহাসের এই বাস্তবতা বর্তমানে ও ভবিষ্যতে পাণিনি চর্চার ও মার্ক্স চর্চার মধ্যে ধারণা বিনিময়ের ভিত্তি হিশেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিগত ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে আধুনিক পাণিনি চর্চা শুরু হওয়ার পর থেকে, আর বিশেষ করে গত কয়েক দশকে পরিগণনামূলক ভাষাবিজ্ঞানের ও যন্ত্রানুবাদের অগ্রগতির প্রয়োজনে, পাণিনির বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচিকে ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহৃত এবং দীর্ঘকাল ধরে স্তরে স্তরে জমা হওয়া ব্যাকরণ ও ব্যাকরণদর্শন চর্চার মতাদর্শগত দূরকল্পনার আবরণ ধীরে ধীরে হলেও অপসারিত হচ্ছে [21]।
অষ্টাধ্যায়ী-র সঞ্চালনের স্বার্থে তার উৎস-বিচ্ছিন্ন ও সটীক-সভাষ্য পুনরাবৃত্তি করে পতঞ্জলি প্রমুখ বৈয়াকরণেরা বিজ্ঞানসমূহের চর্চার মধ্যে মতাদর্শগত দূরকল্পনা প্রেরিত পুনরুচ্চারণের (=অনুবাদের) অনুপ্রবেশ করানোর এক সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের ভিত্তিস্থাপন করেন। মার্ক্সের “পুঁজি”-র ও অন্যান্য রচনার সঞ্চালনের স্বার্থে সেগুলির উৎস-বিচ্ছিন্ন ও সটীক-সভাষ্য সম্পাদনা ও অনুবাদ করে, এঙ্গেলস প্রমুখ দূরকল্পী মার্ক্সবাদী মতাদর্শবেত্তারা অনুরূপ ঐতিহ্যই অনুসরণ করেছেন [22]। পাণিনির আপেক্ষিকে পতঞ্জলি ও তাঁর পরবর্তী মতাদর্শবেত্তা ব্যাকরণ-দার্শনিকদের যে ভূমিকা, মার্ক্সের আপেক্ষিকে এঙ্গেলস ও তাঁর পরবর্তী মার্ক্সবাদী মতাদর্শবেত্তাদেরও সেই ভূমিকা। তাঁরা প্রবল পরিশ্রম করে প্রত্যক্ষগ্রাহ্য তথ্য ও যুক্তিসিদ্ধ অনুমানের ওপরে ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা বৈজ্ঞানিক গবেষণার কর্মসূচিগুলিকে মতাদর্শ প্রেরিত টীকা-ভাষ্যের জালে জড়িয়ে হেঁটমুণ্ড করে ঝুলিয়ে রেখে প্রচার করেছেন। ফলে পরবর্তী প্রজন্মগুলির ছাত্রছাত্রীদের ও গবেষকদের দৃষ্টিপথ ও লেখাজোখা 180 ডিগ্রি ঘুরে যায়: বৈজ্ঞানিক গবেষণার কর্মসূচিগুলি হাঁকপাঁক করতে করতে মতাদর্শগত দূরকল্পনার চোরাবালিতে ডুবে যায়।
আধুনিক জার্মানিতে ভারতবর্ষ চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপনের কাল আর মার্ক্সের জন্ম প্রায় সমসাময়িক। মার্ক্স যে বছরে জন্মেছিলেন, সেই 1818 সালেই আউগুস্ট ভিলহেল্ম ফন শ্লেগেল বন বিশ্বিদ্যালয়ে সংস্কৃতের অধ্যাপকের পদে নিয়োজিত হন। মার্ক্স 1835-36 সালে সেখানে ছাত্র ছিলেন এবং হোমারের ও প্রোপেরতিউসের রচনার অংশবিশেষ সম্পর্কে শ্লেগেলের আলোচনা শুনতে যেতেন। তার তিন-চার বছর পরে, 1839-1840 সালে, কোলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে সংগৃহীত পুঁথিগুলির ওপর নির্ভর করে রুশী-জার্মান পণ্ডিত অটো নিকোলাউস ফোন ব্যোটলিংক সাঙ্কৎ-পিতেরবুর্গে, বার্লিনে ও বনে আধুনিক পাণিনি চর্চার ভিত্তি স্থাপন করেন। এর পর থেকেই ব্রাহ্মণ্য মতদর্শগুলির প্রভাব বলয়ের বাইরে অষ্টাধ্যায়ী চর্চা শুরু হয়।
এর বছর তিনেক পরে, 1843 সালের সেপ্টেম্বর মাসের কোনো এক সময়ে আর্নোল্ড রুগেকে পাঠানো, এবং 1844 সালে প্রকাশিত, একটি চিঠিতে কার্ল মার্ক্স লেখেন [23]: “Ist die Construction der Zukunft und das fertig werden für alle Zeiten nicht unsere Sache; so ist desto gewisser, was wir gegenwärtig zu vollbringen haben, ich meine die rücksichtslose Kritik alles Bestehenden, rücksichtslos sowohl in dem Sinne, dass die Kritik sich nicht vor ihren Resultaten fürchtet und eben so wenig vor dem Conflikte mit den vorhandenen Mächten.
***
Und das ganze socialistische Princip ist wieder nur die eine Seite, welche die Realität des wahren menschlichen Wesens betrifft. Wir haben uns eben so wohl um die andre Seite, um die theoretische Existenz des Menschen zu kümmern, also Religion,Wissenschaft etc., zum Gegenstände unserer Kritik zu machen.” [“যদি আগামী দিনের দুনিয়াটাকে তৈরি করার বা তাকে চিরকালের জন্য চালু রাখার কোনো দায় আমাদের নাও থেকে থাকে, তাহলেও এখন আমাদের কী করতে হবে সে ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। আমি বলতে চাই:যা কিছু বিদ্যমান সেই সব কিছুকেই কঠোরভাবে বিচার করতে হবে। এই বিচার এই অর্থে কঠোর হবে যে তা তার নিজের সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে শঙ্কিত হবেনা, আর বিদ্যমান ক্ষমতার সাথে সংঘাতের ব্যাপারেও ভয় পাবে না।
***
সমাজতন্ত্রীদের মূলনীতিগুলির সবটাই মানুষের যথার্থ অস্তিত্বের একটি মাত্র দিক নিয়ে, তার অস্তিত্বের বাস্তবতা নিয়ে, ব্যস্ত। মানুষের অস্তিত্বের অন্য দিকটিকেও, তার অস্তিত্বের তত্ত্বগত দিকগুলিকেও, গুরুত্ব দিতে হবে; আর তাই, তার রিলিজিয়ন, বিজ্ঞান-ও-মানববিদ্যা ইত্যাদিকেও আমাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”]
মার্ক্সের এই প্রস্তাব, সমাজতন্ত্রের মূলনীতিগুলির আগামী বিকাশের স্বার্থে, সমগ্র মানব সমাজের সব ধরনের তত্ত্বগত উত্তরাধিকারের বিচারের ক্ষেত্রে বিবেচ্য। এই প্রস্তাব অনুসরণ করে, দক্ষিণ এশিয়ায়: (এক) ধ্রুপদী সংস্কৃত, প্রাকৃত, পালি, তামিল, কন্নড় ও তেলুগু ভাষায় রচিত ভারতবর্ষের প্রাচীন ভাষা-, ছন্দ-, তর্ক-, দর্শন-, ধর্ম-, অর্থ-, ব্যবহার-, কাম-, নাট্য-, কাব্য- ও চিকিৎসা-শাস্ত্রগুলির, এবং জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত, পুরাণেতিহাস ও ললিত সাহিত্য ইত্যাদির, আর (দুই) অষ্টম-দশম শতাব্দী হতে আল-হিন্দের বা হিন্দোস্তানের নানা এলাকায় তুর্কি, আরবি ও ফার্সিতে চর্চিত প্রাচীন গ্রিক, রোমক, আরবিক, পারসিক ও ভারতীয় সাহিত্য এবং মাযহাবী (ফিকহ)/ দ্বীনি ও শরিয়তি আইন ইত্যাদি শাস্ত্রগুলির এবং, (তিন) ষোড়শ-সপ্তদশ শতাব্দী হতে গৌণত পোর্তুগিজ ও ফরাসি ভাষায় এবং অষ্টাদশ শতাব্দী হতে মূলত ইংরেজিতে ও আমাদের আধুনিক ভাষাগুলিতে চর্চিত আধুনিক ইউরোপ হতে, ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থ প্রণোদিত সীমাবদ্ধ কাঠামোর মধ্যে দিয়ে, আমদানি করা, আব্রাহামীয় রিলিজিয়ন এবং বিজ্ঞান-ও-মানববিদ্যাগুলির বিচার করার কাজ আমরা এখনও প্রায় শুরু করিনি বললেই চলে। আগামী দিনে সেই কাজ করার সময়ে আমাদের কালে জায়মান বিদ্যা ও প্রযুক্তিগুলিকে, আর আমাদের গত একশো বছরের নানা মার্ক্সবাদী মতাদর্শ কবলিত মার্ক্স অনুবাদ এবং মার্ক্স চর্চাকেও, এই বিচারের আওতায় আনতে হবে।
প্রয়োজনীয় শাস্ত্র ও তত্ত্ব বিচার সম্পর্কে মার্ক্সের প্রস্তাবটি 1844 সালে প্রকাশিত হওয়ার প্রায় 7 বছর পরে, 1851 সালে, কলোনের কমিউনিস্ট লীগের সদস্য ডা. রোলান্ড ড্যানিয়েলস, তাঁর নিজের লেখা শারীরবৃত্তীয় নৃবিদ্যার একটি বইয়ের খসড়ার এবং বিজ্ঞানগুলির একটি নতুন বিশ্বকোষ রচনা করার কথা আলোচনা প্রসঙ্গে, লন্ডনে প্রবাসী কার্ল মার্ক্সকে পাঠানো একটি চিঠিতে লেখেন [24]: “Es wird überhaupt von großem Vorteil sein, wenn Du nach den ökonomischen Arbeiten Dich ganz auf Naturwissenschaften verlegst, und zwar auf Technologie. Denn Physiologie und Geschichte bilden nur die Brücke von der Religion und Jurisprudenz zu der Technologie. Nur die Naturwissenschaften können die Welt befreien. Die furchtbare Vernachlässigung derselben auf Schulen ist vollkommen bewußt machiavellistisch.” [“যদি তুমি তোমার অর্থশাস্ত্র সংক্রান্ত কাজের পরে প্রথমে প্রকৃতিবিজ্ঞানগুলির আর তারপর প্রযুক্তিগুলির ওপরে নিজের সব মনোযোগ নিবদ্ধ করো, তাহলে তা খুবই কাজের কাজ হবে। কেননা শারীরবৃত্তের ও লিখিত ইতিহাসের চর্চা—রিলিজিয়নের ও আইনশাস্ত্রের চর্চা হতে প্রযুক্তিগুলির চর্চায় উত্তরণের সেতুগুলিই শুধু তৈরি করে। শুধুমাত্র প্রকৃতিবিজ্ঞানগুলির চর্চাই দুনিয়াকে মুক্তি দিতে পারে। এই ব্যাপারে স্কুলগুলির তরফে শোচনীয় অবহেলা একটি পুরোপুরি সচেতনভাবে গৃহীত ম্যাকিয়াভেল্লীয় পদক্ষেপ।”]
কার্ল মার্ক্স তাঁর জীবনের 1843-1883 কাল পর্বে, তাঁর কালের 12টি বিজ্ঞান-ও-মানববিদ্যা ও সেই বিদ্যাগুলির ইতিহাস চর্চা করেছিলেন। তাঁর সেই কাজের ফসল আমস্টারডামের সামাজিক ইতিহাসের আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউটের মহাফেজখানায় এবং মস্কোর সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের রুশি রাষ্ট্রীয় মহাফেজখানায় সংরক্ষিত হয়েছে। এগুলি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মার্ক্স/এঙ্গেলস নিধির তত্ত্বাবধানে, তার অন্যতম শরিক বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ বিজ্ঞান-ও-মানববিদ্যা আকাদেমির ব্যবস্থাপনায়, মেগা২ (দ্বিতীয় মেগা ) গ্রন্থমালার অংশ হিশেবে সম্পাদিত ও প্রকাশিত হচ্ছে (এ প্রসঙ্গে দে. বকশি 2021, 2022, 2023a, 2023b এবং 2023c)।
ওপরে উল্লেখ করা ড্যানিয়েলসের চিঠির শেষ বাক্যটি আজও, দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীর অনেক অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায়, বিজ্ঞানসমূহের-ও-মানববিদ্যাগুলির সচেতনভাবে পরিকল্পিত অবহেলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে এই পরিবেশেই গত পৌনে দুশো বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ভেতরে ও বাইরে, প্রকৃতি ও সমাজ সংক্রান্ত বিজ্ঞানসমূহের, মানববিদ্যাগুলির এবং নানা প্রযুক্তির ধারাবাহিক বিকাশ ঘটেছে। আর সেই সুবাদে পাণিনির ও মার্ক্সের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচিগুলি চর্চা করার ও বিচার করার জন্য নতুন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সম্পাদনা বিদ্যা ও অনুবাদ বিদ্যা, যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তা, তার শিক্ষাদীক্ষা এবং যন্ত্রানুবাদ সংক্রান্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগুলির সাহায্য নিয়ে, আগেকার যুগের বহু অসমাধিত সমস্যা সমাধান করছে। আশা আছে, আগামী দিনে এই পথেই দক্ষিণ এশিয়ায় ও বাকি পৃথিবীতে মার্ক্স চর্চা ও পাণিনি চর্চা একে অপরকে সমৃদ্ধ করবে এবং বিজ্ঞান-ও-মানববিদ্যাসমূহের এবং প্রযুক্তিগুলির আগামী বিকাশের গতিধারায় মিশে যাবে।
এই জিজ্ঞাসা আপাতত এই পর্যন্ত ৷ এখন এখানে যেসব কথা উঠে এলো সেগুলিকে, অনেকে মিলে, স্তরে স্তরে, ও পর্যায়ক্রমিকভাবে অনাবৃত করা দরকার। পরে কখনো সময় ও সুযোগ পেলে সেই কাজে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা আছে।
টীকা
[1] মার্ক্স 2006: 95, লাইন 12-19.
সংযোজন: মাতৃভাষা ও পিতৃভাষা প্রসঙ্গ।
এই নিবন্ধের শুরুতেই রয়েছে, কার্ল মার্ক্স 1857-58 সালের কোনো এক সময়ে লিখেছিলেন: “যখন কোনো ধারণার সঞ্চালনের স্বার্থে, তাকে বিনিময়ের যোগ্য করে তোলার জন্য, তার মাতৃভাষা হতে অন্য কোনো বিদেশি ভাষায় অনুবাদ করার প্রয়োজন হয়, তখন তুলনাটা বেশি লাগসই; তবে তুলনা সেখানে ভাষার সাথে নয়, তুলনাটা তার পরকীয়তার/ বিদেশিত্বের সাথে।)”] এখানে মার্ক্স “যখন কোনো ধারণার …মাতৃভাষা হতে” শব্দগুলি ব্যবহার করে, কোনো ধারণা লিখে প্রকাশ করার জন্য ব্যবহৃত প্রমিত ও সাহিত্যিক রীতিসিদ্ধ ভাষার কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। এখনো আমরা অনেকেই সেই বিশ্বাস অনুসারেই ‘মাতৃভাষা’ শব্দটি ব্যবহার করি। গত কয়েক দশকে সেই বিশ্বাসে বেশ খানিকটা চিড় ধরেছে। এই প্রস্তাব বিবেচনা করার কথা উঠেছে যে, এখনকার প্রমিত ও সাহিত্যিক রীতিসিদ্ধ বাংলা ভাষা আমাদের পিতৃভাষা, আমাদের সংস্কৃত জানা বাবাদের ভাষা; আমাদের খেরোয়াল মায়েদের ভাষা, আমাদের মাতৃভাষা সাঁওতালি। অস্ট্রো-এশীয় সাঁওতালি আমাদের ভাষার ভিত, আর ইন্দো-ইউরোপীয় বাংলা তার উপরিকাঠামো। এ প্রসঙ্গে দে.: ঝাঙ ও অন্যান্য 2019; ভ্যান ড্রিম 2007; মোহন 2025। মার্ক্স তাঁর কালের যে জার্মান ভাষা ব্যবহার করতেন সেই প্রমিত ও সাহিত্যিক রীতিসিদ্ধ জার্মান ভাষার ভিত ও উপরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক আলোচনার জন্য দে.: শোর্গো 2020।
_____________________
ঝাঙ ও অন্যান্য: Zhang, Menghan et al (2019), “Reconciling the father tongue and mother tongue hypotheses in Indo-European populations,” National Science Review, Volume 6, No.2: 293–300.
ভ্যান ড্রিম: van Driem, George (2007), “Austroasiatic phylogeny and the Austroasiatic homeland in light of recent population genetic studies,” The Mon-Khmer Studies Journal, Volume 37, pp. 1-14.
মোহন: Mohan, Peggy (2025), father tongue, motherland: the birth of Language in South Asia, Gurugram: Penguin Random House India.
শোর্গো: Šorgo, Aljoša (2020), “Characteristics of Lexemes of a Substratum Origin in Proto-Germanic,” in: Romain Garnier (ed.): Loanwords and substrata: Proceedings of the colloquium held in Limoges, 5th-7th June 2018, Innsbrucker Beiträge zur Sprachwissenschaft, Volume 164: 427-472. Innsbruck: Institut für Sprachwissenschaft der Universität.
[2] প্রাচীন রোমের শাসক প্যাট্রিশিয়ানদের সাথে শরীরের মধ্যে পেটের আর শাসিত প্লেবিয়ানদের সাথে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের তুলনা। দে.: লিভি 2006, 2, 32: 122-123.
[3] শেল 1982: 106-110; লিউ 1999: 22; রবিনসন 2017: 35; শ্রেড 2017: 128-129; লিউ/আন্ড্রে 2018: 369-372 ; এবং, বেনেট 2022.
[4] স্মিথ 1997; হাউগ 2017 ; জেকবস 2018, 2022 ; রেইটার 2022; ফন্ডিউ 2022; ফন্ডিউ/ক্যুতিয়ে 2023 ; বকশি 2021, 2022, 2023a, 2023b, 2023c.
[5] সূত্র: “अनुवादे चरणानाम्” [“অনুবাদে, চরণানাম”],अष्टाध्यायी, द्वितीयाध्याये चतुर्थः पादः तृतीय सूत्र: (२.४.३) [অষ্টাধ্যায়ী, দ্বিতীয় অধ্যায়ে চতুর্থ পাদের তৃতীয় সূত্র (পাণিনি: ২অ ৪পা ৩সূ)]। ব্যাখ্যা: পূর্বাচার্যদের যেসব উপদেশ আগে জানা ছিলো সেগুলি পুনরায় আবৃত্তি (=অনুবাদ) করেই বেদসমূহের বিভিন্ন চরণ (=শাখা) তৈরি হয়েছে। আমাদের নিজেদের ও অন্যদের সাংস্কৃতিক পরিবেশে রচিত লেখাজোখা অনুবাদ করার ব্যাপারে আধুনিক আলোচনার জন্য দে. তিওয়ারি १९७२; মন্টগোমেরি 2000; হারম্যানস [সম্পা.] 2006।
[6] বকশি ২০০৬; খান ২০২২; সেলিম ২০২৩।
[7] বৌকার/চিরো 2019; আন্দ্রাবি/ওয়াহিদ 2021; কুঞ্চুকুট্টন/ ভট্টাচার্য 2022.
[8] ভট্টাচার্য্য 2010; চন্দ্র ও অন্যান্য 2013; তাহেরীন 2016; কবিরাজ ও অন্যান্য 2023.
[9] প্রাকৃত:
[10] মোহন 2021: 233-234, 268.
[11] অপভ্রংশ: https://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%82%E0%A6%B6
অবহট্ঠ:
https://bn.banglapedia.org/index.php/%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%A0
[12] সেন (সরকার) 1946; কফ 1969; শোয়াব 1950 (1984); লাখ 1965-1993; লাখ/ভ্যান ক্লে 1993-1998; ইভবুলিস 1989 (1991); ক্লার্ক 1997.
[13] হাউগ 2017; বুদেন 2019; মার্ক্স (2024 সালে প্রকাশিত হবে)।
[14] বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচি প্রসঙ্গে দে.: মাইয়ের 1938, 1949-1958,1982; লাকাটশ 1968, 1976, 1978a, 1978b; কোহেন ও অন্যান্য 1976; গাইদেঙ্কো 1980, 1981 (1986), 1987; কাদভানি 1989 (1994), 2001; কাম্পিস ও অন্যান্য 2002; ফোক্ত 2006.
[15] বকশি 2023 b: Bibliography 2. Marx/Engels Studies.
[16] মধ্বাচার্য বিদ্যারণ্য [সম্পা. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর] 1858; হালদার ১৩৫০/1943-44; কাওয়ার্ড/রাজা [লেখক ও সম্পাদক] 1990; দেশপাণ্ডে 2019; মাধবন 2022.
[17] ফান ওপ্পেনরাই/ফনটেইন [সম্পা.] 2012; স্গার্বি/কোজ়ি [সম্পা.] 2018; লেভিন 2021.
[18] হালদার 1917; স্ট্রিকল্যান্ড/ভিনকিয়ার/ওয়েকেন্ড [সম্পা.] 2017; ডে রিসি [সম্পা.] 2019 ; ওয়েকেন্ড/স্ট্রিকল্যান্ড [সম্পা.] 2020.
[19] বকশি 2022; 2023 c.
[20] জোশি 2009: 5, § 12, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ : “The Aṣṭādhyāyī is not just an analysis of what he calls bhāṣā, and what was called Sanskrit later on. It is also a generative calculus, which is actually the main thrust of the Aṣṭādhyāyī.”
[21] বন্দ্যোপাধ্যায় 1909:অবতরণিকা; পারিবোক 1981(1990); ব্রোঙ্কহোয়র্স্ট 2001, 2014 এবং 2016; স্তাল 2005; কাদভানি 2007 এবং 2016; শার্ফ 2007; জোশি 2009; কেইড্যান 2014; ভিরজিয়ানি 2019.
[22] এই দুই ঐতিহ্যের মধ্যে মিল লক্ষ্য করে, আজ থেকে প্রায় 32 বছর আগে, পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী-র অন্যতম সম্পাদক এবং অনুবাদক জোশি ও রুডবের্গেন লিখেছিলেন: “As regards conflict-solving procedures adopted in the Aṣṭādhyāyī, tradition has both confused and multiplied conventions (paribhāṣās). This led to the phrasing of exceptions and counter-exceptions to the point that nearly anything goes, somewhat like what happened to Marxist doctrine.” [জোশি/রুডবের্গেন (1992), The Aṣṭādhyāyī of Pāṇini, Volume I, Introduction, 5: I (5); গুরুত্ব আরোপিত]।
[23] মার্ক্স,1843 সালের সেপ্টেম্বর মাসে আর্নোল্ড রুগে-কে লেখা একটি তারিখবিহীন চিঠি। প্রথম প্রকাশ 1844: Brief M. an R. Kreutznach, im September 1943, Deutsch–Französische Jahrbücher, Hrsg. Arnold Ruge/Karl Marx, 1ste und 2te Lieferung (1844) : 37-38, Paris: im Bureau der Jahrbücher, Rue Vanneau 22. পুনর্মুদ্রণ: মেগা2III/1 (1975): 55, 5-8 নম্বর এবং 22-26 নম্বর লাইন।
[24] Вопросы философии, 1983, Но. 5: 100-126; মেগা2 III/4 (1984), Text, Anhang [পরিশিষ্ট] 363 : Roland Daniels an Karl Marx in London, Köln 24. April 1851 [লন্ডনে কার্ল মার্ক্সের কাছে পাঠানো রোলান্ড ড্যানিয়েলসের চিঠি, কলোন, 24শে এপ্রিল 1851]; বাংলা অনুবাদের জন্য দে.: ড্যানিয়েলস-মার্ক্স পত্রাবলী, প্রদীপ বকশি [অনু. ও সম্পা.], মার্ক্সবাদ ও বিজ্ঞানসমূহের দ্বান্দ্বিকতা (1986): 17-84, কোলকাতা: জ্ঞানান্বেষণ। শারীরবৃত্তীয় নৃবিদ্যা সম্পর্কে ড্যানিয়েলসের 1851 সালের খসড়া রচনাটি 1988 সালে প্রকাশিত হয়।
উল্লেখ করা প্রবন্ধ ও বই
আন্দ্রাবি/ওয়াহিদ:Andrabi, Syed Abdul Basit/Abdul Wahid (2021), “A Review of Machine Translation for South Asian Low Resource Languages,” Turkish Journal of Computer and Mathematics Education, Volume 12 No. 5 (2021):1134-1147.
ইভবুলিস: Ивбулис, Виктор (1989), “О влиянии индии на зарождении концепции историзма в сочинениях ранних немецких романтиков,” Литература Индии : сборник статей / Институт востоковедения,Москва : Наука; বাংলা অনুবাদ [প্রদীপ বকশি]: ইভবুলিস, ভিক্তোর (1991), “প্রথম যুগের জার্মান রোমান্টিকদের রচনাবলীতে ঐতিহাসিকতাবাদের ধারণার উন্মেষে ভারতবর্ষের প্রভাব প্রসঙ্গে,” শারদ ইসকাস (কলকাতা) ১৩৯৭ (1991): 24-34.
ওয়েকেন্ড/স্ট্রিকল্যান্ড [সম্পা.]: Weckend, Julia/Lloyd Strickland [Eds.] (2020), Leibniz’s Legacy and Impact, New York/London: Routledge.
কফ: Kopf, David (1969), British Orientalism and the Bengal Renaissance: The Dynamics of Indian Modernization 1773-1835, Berkeley/Los Angeles: University of California Press.
কবিরাজ ও অন্যান্য: Kabiraj, Shourov/Sajjad Wahed/Zaber All Khaled (2023), “Transliteration from Banglish to Bengali Language Using Neural Machine Translation,” M. Shamim Kaiser/ Sajjad Waheed/Anirban Bandyopadhyay/Mufti Mahmud/Kanad Ray [Eds.], Proceedings of the Fourth International Conference on Trends in Computational and Cognitive Engineering: TCCE 2022, Lecture Notes in Networks and Systems 618, Singapore: Springer Nature.
কাওয়ার্ড/রাজা [লেখক ও সম্পাদক]: Coward, Harold G./K. Kunjunni Raja [Editors and contributing authors] (1990), Encyclopedia of Indian Philosophies, Volume V: The Philosophy of the Grammarians, Princeton: Princeton University Press.
কাদভানি: Kadvany, John (1989), “A Mathematical Bildungsroman,” History and Theory, Volume 28, No. 1 (February 1989): 25-42; বাংলা অনুবাদ: “গণিত চর্চা সংক্রান্ত একটি শিক্ষামূলক উপন্যাস,” প্রদীপ বকশি [অনু. ও সম্পা.], কার্ল মার্ক্স, গণিতবিষয়ক পাণ্ডুলিপিসমূহ, বিশেষ সংযোজনী: মার্ক্স ও গণিত (1994): 471-485, কলকাতা: বিশ্বকোষ পরিষদ।
__(2001), Imre Lakatos and the Guises of Reason, Durham NC: Duke University Press.
__ (2007), “Positional Value and Linguistic Recursion,” Journal of Indian Philosophy, Volume 35, Nos. 56 (December 2007): 487-520.
__ (2016),“Pāṇini’s Grammar and Modern Computation,” History and Philosophy of Logic, Volume 37, Issue 4 (2016): 325-346.
কাম্পিস ও অন্যান্য: Kampis, György (George)/Ladislav Kvasz/ Michael Stöltzner [Eds.] (2002), Appraising Lakatos: Mathematics, Methodology, and the Man, Dordrecht: Springer.
কুঞ্চুকুট্টন/ভট্টাচার্য:Kunchukuttan,Anoop/ Pushpak Bhattacharya (2022), Machine Translation and Transliteration Involving Related and Low-resource Languages, Boca Raton etc.: CRC Press.
কেইড্যান: Keidan, Artemij (2014),“Form, function and interpretation: a case study in the textual criticism of Pāṇini’s Aṣṭādhyāyī,” Bulletin d Études Indiennes (Paris), N° 32 (2014): 171-203.
কোহেন ও অন্যান্য: Cohen, Robert Sonné/Paul Karl Feyerabend/Marx William Wartofsky [Eds.] (1976), Essays in Memory of Imre Lakatos, Dordrecht/Boston: D. Reidel.
ক্লার্ক: Clarke, John James (1997), Oriental Enlightenment: The encounter between Asian and Western thought, London/New York: Routledge.
খান, সলিমুল্লাহ (২০২২), “অনুবাদ প্রসঙ্গে,” সমকাল (ঢাকা), ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২।
গাইদেঙ্কো: Гайденко, Пиама Павловна (1980), Эволюция понятия науки: становление и развитие первых научных программ [বিজ্ঞানের ধারণার বিবর্তন: প্রথম বৈজ্ঞানিক কর্মসূচিগুলির উদ্ভব ও বিকাশ ], Москва: Наука.
Gaidenko, Piama Pavlovna (1981), “Evolution of Science: The Cultural-Historical Aspect”, Social Sciences (Moscow), Volume XIII, No. 2, 1981: 131-144; বাংলা অনুবাদ: গাইদেঙ্কো, পিয়ামা পাভলোভনা,“বিজ্ঞানের বিবর্তনের সাংস্কৃতিক-ঐতিহাসিক পরিমণ্ডল,” প্রদীপ বকশি [অনু. ও সম্পা.], মার্ক্সবাদ ও বিজ্ঞানসমূহের দ্বান্দ্বিকতা (1986): 137-161, কোলকাতা: জ্ঞানান্বেষণ।
Гайденко, Пиама Павловна (1987), Эволюция понятия науки: формирование научных программ Нового времени (XVII—XVIII вв.) [বিজ্ঞানের ধারণার বিবর্তন (সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দী ): আধুনিক যুগের বৈজ্ঞানিক কর্মসূচিগুলির উদ্ভব ], Москва: Наука.
চন্দ্র ও অন্যান্য:Chandra, Subhas/Bibekananda Kundu/ Sanjay Kumar Choudhury (2013), “Hunting Elusive English in Hinglish and Benglish Text: Unfolding Challenges and Remedies,” Proceedings of ICON-2013: 10th International Conference on Natural Language Processing, at the Centre for Development of Advanced Computing (CDAC), Noida, India during 18-20 December, 2013:
https://cdn.iiit.ac.in/cdn/ltrc.iiit.ac.in/icon/2013/proceedings/File54-paper24.pdf
জেকবস: Jacobs, Jeffrey Power (2018), How to Do Things with Translations: Cross-Lingual Phrase Embeddings for Translation Analysis, Unpublished paper presented at the Ninth Annual Conference on New Directions in Analyzing Text as Data (TADA), September 21-22, 2018, Seattle, Washington, USA.
__ (2022), “Our Word Is Our Weapon”: Text-Analyzing Wars of Ideas from the French Revolution to the First World War, Unpublished Doctoral Thesis, Columbia University, 2022.
জোশি: Joshi, Shivram Dattatray (2009), “Background of the Aṣṭādhyāyī,” Proceedings of the Third International Sanskrit Computational Linguistics Symposium, Lecture Notes in Artificial Intelligence, 5406 (2009): 1-5, Berlin/Heidelberg: Springer-Verlag.
জোশি/রুডবের্গেন (1992), The Aṣṭādhyāyī of Pāṇini with translation and explanatory notes by Shivram Dattatray Joshi and Jouthe Anthon Fokko Roodbergen, Volume I (1.1.1-1.1.75), New Delhi: Sahitya Akademi.
ড্যানিয়েলস: Daniels, Roland (রচনা 1851/প্রথম প্রকাশ 1988), Entwurf einer physiologischen Anthropologie [শারীরবৃত্তীয় নৃবিদ্যার একটি খসড়া রূপরেখা], Hrsg. Helmut Elsner, Frankfurt/Main usw.: Peter Lang.
ডে রিসি [সম্পা.]: De Risi, Vincenzo [Ed.] (2019), Leibniz and the Structure of Sciences: Modern Perspectives on the History of Logic, Mathematics, Epistemology, Cham: Springer.
তাহেরীন: Tahereen, Tanzina (2016), “Banglish: Code-switching and Contact Induced Language Change in a Spoken Variety of Bangla,” Spectrum: Journal of the Department of English, University of Dhaka, Volume 12 (2016): 143-164.
তিওয়ারি: तिवारी, भोलानाथ (१९७२), अनुवादविज्ञान, दिल्ली: शब्दकार।
দিউকঁজ়ে/ব্যুরলো [সম্পা.]: Ducange, Jean-Numa/Antony Burlaud (2023), Marx, a French Passion: The Reception of Marx and Marxisms in France’s Political-Intellectual Life, Leiden/Boston: Brill.
দেশপাণ্ডে: Deshpande, Madhab (2019), From Pāṇini to Patañjali and beyond: Development of Religious Motifs in Sanskrit Grammar (26th J.Gonda Lecture 2018), Amsterdam: J. Gonda Fund Foundation of the Royal Netherlands Academy of Arts and Sciences.
পারিবোক: Парибок, Андрей Всеволодович (1981), “О методологических основаниях индийского языкознания,” в сб.статей:История лингвистических учений: Средневековый Восток, стр.: 155–76, Ленинград: Наука; English translation [Pradip Baksi]: Paribok, Andrei Vsevolodovich (1990), “On the Methodological Foundations of Indian Linguistics,” Indo-Soviet Studies (Calcutta), Volume I (1990): 19-44.
ফন্ডিউ: Fondu, Guillaume (2022), “From Moscow to Paris: The Russian Roots of the First French Translation of Marx’s Capital,” Chapter 7: 117-131, মুস্তো [সম্পা.] 2022.
ফন্ডিউ/ক্যুতিয়ে: Fondu, Guillaume/Jean Quétier (2023), “How to translate Marx into French?” Chapter 8: 107-116, দিউকঁজ়ে/ব্যুরলো [সম্পা.] 2023.
ফান ওপ্পেনরাই/ফনটেইন [সম্পা.]:Van Oppenraay, Aafke M.I./ Resianne Fontaine [Eds.] (2012), The Letter before the Spirit: The Importance of Text Editions for the Study of the Reception of Aristotle, Leiden/Boston: Brill.
ফোক্ত: Vogt, Annette (2007), “Anneliese Maier and her contribution to the history of science”, in: Michał Kokowski [Ed.], The Global and the Local: The History of Science and the Cultural Integration of Europe. Proceedings of the 2nd International Conference of the European Society for the History of Science [ICESHS] (Cracow, Poland, September 6-9, 2006), Kraków, Poland: Wydawnictwo Polskiej Akademii Umiejętności [The Press of the Polish Academy of Arts and Sciences].
বকশি, প্রদীপ (২০০৬), “বাংলাভাষায় বিজ্ঞান চর্চা: অনুবাদের প্রয়োজন ও সমস্যা,” মীজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা (ঢাকা), ২৩-২৪তম খণ্ড, ৩য়-৪র্থ সংখ্যা: ৩-৬।
বকশি: Baksi, Pradip (2021), “Marx in the MEGA,” Mainstream, Volume 59 No. 33, 31 July 2021:
https://libcom.org/article/marx-mega
__ (2022), A proposal for continuing Karl Marx’s critique of political economy, 13 October 2022:
__(2023a), “Śūnyatā and Karl Marx,” Mainstream, Volume 61 Nos. 9 – 10, February 25 and March 4, 2023:
https://libcom.org/article/sunyata-and-karl-marx
__ (2023b), Reflections on Cyril Smith (1997), “Friedrich Engels and Marx’s critique of political economy,” Capital & Class, Volume 21 Issue 2, Summer 1997: 123-142, in December 2023:
__ (2023 c), Karl Marx’s Encyclopedic Study of History: A Bibliography, 17 December 2023:
বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবেন্দ্রকুমার বিদ্যারত্নেন বিবৃতঃ (1909), পাণিনিঃ। প্রভাখ্য-টীকা-সমেতঃ। প্রথম খণ্ড, অবতরণিকা: ৴৹-৷৴৹[=1-5]। ঢাকা: আজিমপুরাস্থেন পাণিনি-কুটীরেণ প্রকাশিতঃ।
বুদেন: Buden, Boris (2019), “It is getting darker around the central sun of freedom: Capital, translation and the re‑feudalization of capitalism” : 135-163, in: Peter Osborne et al [Eds.], Capitalism: concept, idea, image: Aspects of Marx’s Capital today, London/Kingston upon Thames: CRMEP Books.
বেনেট: Bennett, Karen (2022), “Systems of exchange: Translation, money and the ecological turn,” Translation Matters (Porto), 4 (2):6-22.
বৌকার/চিরো: Bowker Lynne/Jairo Buitrago Chiro (2019), Machine translation and global research: Towards improved machine translation literacy in the scholarly community, UK etc.: Emerald Publishing.
ব্রোঙ্কহোয়র্স্ট: Bronkhorst, Johannes (2001), “Pāṇini and Euclid: Reflections on Indian geometry,” Journal of Indian Philosophy, Volume 29, Nos. 1/2, April 2001 (Special issue: Ingalls Festschrift): 43-80.
__ (2014), “Deviant voices in the history of Pāṇinian grammar,” Bulletin d’Études Indiennes (Paris), N° 32 (2014): 47-53.
__ (2016), How the Brahmins Won: From Alexander to the Guptas, Leiden/Boston: Brill.
ভট্টাচার্য: Bhattacharja, Shishir (2010), “Benglish Verbs: a Case of Code-Mixing in Bengali,” in: Rajendra Singh/Ghanshyam Sharma [Eds.], Annual Review of South Asian Languages and Linguistics 2011:17-33, Trends in Linguistics Studies and Monographs 241, Berlin/Boston: De Gruyter Mouton.
ভিরজিয়ানি: Vergiani, Vincenzo (2019), “Pāṇini’s Aṣṭādhyāyī. A Turning Point in Indian Intellectual History,” Rivista degli Studi Orientali Nuova serie (Pisa-Roma: Fabrizio Serra editore), Volume XCII, Supplementi 3-4, (2019):11-35.
মধ্বাচার্য বিদ্যারণ্য: मध्वाचार्य विद्यारण्य (१४ शताब्दी) सर्व्वदर्शनसंग्रह। ईश्वरचन्द्र विद्यासागरेण सम्पादिता (1858), सर्व्वदर्शनसंग्रहे “पाणिनिदर्शनम्”: १३५-१४७। Calcutta: Asiatic Society of Bengal.
মন্টগোমেরি: Montgomery, Scott Lyons (2000), Science in translation : movements of knowledge through cultures and time, Chicago: The University of Chicago Press.
মাইয়ের: Maier, Anneliese (1938), Die mechanisierung des Weltbild im 17. Jahrhundert [সপ্তদশ শতাব্দীতে বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীর যান্ত্রিকীকরণ ], Leipzig: Verlag von Felix Meiner.
__(1949–1958), Studien zur Naturphilosophie der Spätscholastik [শেষ স্কলাস্টিকদের প্রকৃতির ফিলোসোফি চর্চা প্রসঙ্গে ] , in 5 Teilen [5 খণ্ডে], Roma: Edizioni di Storia e Literatura. [এই বিষয়ে অন্য একটি প্রাসঙ্গিক বই: Grant, Edward (2010), The Nature of Natural Philosophy in the Late Middle Ages, Washington, D.C.: The Catholic University of America Press.]
__(1982), On the threshold of exact science : selected writings of Anneliese Maier on late medieval natural philosophy, edited and translated with an introduction by Steven D. Sargent, Philadelphia : University of Pennsylvania Press.
মাধবন: Madhavan, Punnappurath (2022), Decanonizing Bhartṛhari: An Exploration into the Sanskrit grammatical tradition, Shimla: Indian Institute of Advanced Study.
মার্ক্স: Marx, Karl (1857-1858), Grundrisse der Kritik der politischen Ökonomie, Erster Teil 1857/58 [রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচারের ভিত্তি, প্রথম ভাগ 1857/58]: (Grundrisse der Kritik der politischen Ökonomie (Rohentwurf) [রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচারের ভিত্তি, (কাঁচা খসড়া)] শিরোনামে দুই খণ্ডে প্রথম প্রকাশ: (1939), Anhang [পরিশিষ্ট] (1941); দুই খণ্ডে প্রথম পুনর্মুদ্রণ: MEGA2 II/1.1 (1976), II/1.2 (1981); এক খণ্ডে দ্বিতীয় পুনর্মুদ্রণে: MEGA2 II/1 (2006): 95, লাইন 12-19; দুটি ইংরেজি অনুবাদে: Pelican ed. (1973): 162-163; MECW 28 (1986): 99.
__ (1975), মেগা2III/1:MEGA2 III/1.Briefwechsel bis April 1846. Text [এপ্রিল 1846 পর্যন্ত লেখা চিঠিপত্র । টেক্সট], Berlin: Dietz Verlag.
__ (1887), Capital. A Critical Analysis of Capitalist Production, Ed. F. Engels, London: Swan Sonnenschein, Lowrey, & Co.; পুনর্মুদ্রণ: MEGA2 II/9 (1990).
__ (1906), Capital: A Critique of Political Economy, Volume One, revised and amplified by Ernest Untermann according to the 4th German edition of 1890, edited by Friedrich Engels, who ignored Karl Marx’s suggestions about this volume after publication of its French translations of 1872-1875, New York: The Modern Library.
__ (1976), Capital: A Critique of Political Economy, Volume One, translated by Ben Fowkes, London: Pelican and New Left Review.
__(2024 সালের 17ই সেপ্টেম্বর তারিখ প্রকাশিত হওয়ার কথা), a new translation of Capital: Critique of Political Economy, Volume 1, Edited and translated by Paul Reitter, Princeton: Princeton University Press.
মুস্তো [সম্পা.]: Musto, Marcello [Ed.] (2022), Marx and Le Capital: Evaluation, History, Reception, London/New York: Routledge.
মেগা2III/4:MEGA2 III/4 (1984): Briefwechsel Januar bis Dezember 1851. Text. Anhang [চিঠিপত্র জানুয়ারি-ডিসেম্বর 1851। টেক্সট। পরিশিষ্ট], Berlin: Dietz Verlag.
মোহন: Mohan, Peggy (2021), Wanderers, Kings, Merchants: The Story of India through its Languages, Gurgaon: Viking/Penguin Random House India.
রবিনসন: Robinson, Douglas (2017), “Liu reading Marx,” in: Critical Translation Studies, Chapter 1: 33-66, London/New York: Routledge.
রেইটার: Reitter, Paul (2022), “Reading Le Capital: Marx as a Translator,” Chapter 8: 132-143, মুস্তো [সম্পা.] 2022.
লাকাটশ: Lakatos, Imre (1968), “Criticism and the Methodology of Scientific Research Programmes,” Proceedings of the Aristotelian Society, New Series, Volume 69 (1968-1969): 149-186.
__(1976), Proofs and Refutations: The Logic of Mathematical Dictionary, [Eds.] John Worrall/Gregory Currie, Cambridge, UK etc.: Cambridge University Press.
__ (1978a), The methodology of scientific research programmes, Philosophical Papers. Volume 1, [Eds.] John Worrall/Gregory Currie, Cambridge, UK etc.: Cambridge University Press.
__(1978b), Mathematics, science and epistemology,
Philosophical Papers, Volume 2, [Eds.] John Worrall/Gregory Currie, Cambridge, UK etc.: Cambridge University Press.
লাখ: Lach, Donald Frederick (1965-1993), Asia in the Making of Europe, Volumes: I (The Century of Discovery: 2 books), II (A Century of Wonder:3 books), Chicago/London: University of Chicago Press.
লাখ/ভ্যান ক্লে: Lach, Donald Frederick/Edwin J. Van Kley (1993-1998), Asia in the Making of Europe, Volume III (A Century of Advance: 4 books), Chicago/London: University of Chicago Press.
লিউ: Liu, Lydia He (1999), “The Question of Meaning-Value in the Political Economy of the Sign,” in: Tokens of Exchange: The Problem of Translation in Global Circulation, Edited by Lydia H. Liu: 13-41, Durham/London: Duke University Press.
লিউ/সেন্ট আন্ড্রে: Liu, Lydia H. and James St. André (2018), “The Battleground of Translation: Making Equal in a Global Structure of Inequality,” Alif: Journal of Comparative Poetics (Cairo), No. 38, 2018: 368-387.
লিভি: Titus Livius (27-9 BCE), Ab Urbe Condita (নগর প্রতিষ্ঠার পর থেকে ) <রোমের ইতিহাস>, Liber II (দ্বিতীয় খণ্ড), 32: Prima sessio plebis. Meneni Agrippae Parabola membrorum et Ventris; রোমক/লাতিন হরফে লেখা একটি পুরোনো বাংলা অনুবাদ: তারিণীচরণ মিত্র (1803), Triteeyo Kotha Pet o Shoreerer Khonder, 21-22 in: The Oriental fabulist; or, Polyglot translations of Esop’s and other ancient fables from the English language, into Hindoostanee, Persian, Arabic, Brij Bhakha, Bongla, and Sunkrit, in the roman character, by various hands, under the direction and superintendence of John Gilchrist, for the use of the College of Fort William, Calcutta : Printed at the Hurkaru Office; একটি আধুনিক ইংরেজি অনুবাদ: The First secession of the plebs. Menenius Agrippa’s parable of the limbs and the belly, in: Livy, The History of Rome, Books I-V, translated with introduction and notes by Valerie M. Warrior (2006), 2, 32: 122-123, Indianapolis/Cambridge: Hackert Publishing Company, Inc.
লেভিন: Levine, Norman (2021), Marx’s Resurrection of Aristotle, Cham: Springer/Palgrave Macmillan.
শার্ফ : Scharf, Peter (2007), “Modeling Pāṇinian Grammar,” First International Sanskrit Computational Linguistics Symposium, 24 October 2007, Rocquencourt, France; in: Proceedings of the First International Sanskrit Computational Linguistics Symposium, Lecture Notes in Artificial Intelligence, 5402 (2009): 95-126, Berlin/Heidelberg: Springer-Verlag.
শেল: Shell, Marc (1982), Money, language and thought: Literary and philosophical economies from the medieval to the modern era, Berkeley/Los Angeles/London: University of California Press.
শোয়াব: Schwab, Raymond (1950), La Renaissance orientale, Paris: Editions Pyot; [Eng. tr.] Gene Patterson-Black/Victor Reinking (1984): The Oriental Renaissance: Europe’s Rediscovery of India and the East, 1680-1880, New York: Columbia University Press.
শ্রেড: Shread, Carolyn (2021), “Translation Speaks to Lydia H. Liu,” Translation. A Transdisciplinary Journal (Milano), vol. 5, no. fall (May 2021): 123-32.
স্গার্বি/কোজ়ি [সম্পা.]: Sgarbi, Marco/Matteo Cosci [Eds.] (2018), The Aftermath of Syllogism: Aristotelian Logical Argument from Avicenna to Hegel, London etc.: Bloomsbury.
সেন (সরকার): Sen, Amit [Sushobhanchandra Sarkar] (1946), Notes on the Bengal Renaissance, Bombay: People’s Publishing House.
সেলিম, আবদুস (২০২৩), “অনুবাদ: চর্চা থেকে তত্ত্বজ্ঞান,” বাংলা ট্রিবিউন (ঢাকা), ১২ মে ২০২৩।
স্ট্রিকল্যান্ড/ভিনকিয়ার/ওয়েকেন্ড [সম্পা.]:
Strickland, Lloyd/Erik Vynckier/Julia Weckend [Eds.] (2017), Tercentenary Essays in the Philosophy and Science of Leibniz, Cham: Springer/Palgrave Macmillan.
স্তাল: Staal, Frits (2005), What Euclid is to Europe, Pāṇini is to India-or are they? NIAS lecture L1-2005. Bangalore: National Institute of Advanced Studies, Indian Institute of Science Campus.
স্মিথ: Smith, Cyril (1997), “Friedrich Engels and Marx’s Critique of Political Economy,” Capital & Class, Volume 21 Issue 2, Summer 1997: 123-142:
https://libcom.org/library/engels-and-marx-critique-political-economy-cyril-smith
হাউগ: Haug, Wolfgang Fritz (2017), “On the Need for a New English Translation of Marx’s Capital,” Socialism and Democracy, Volume 31, no. 1 (March 2017): 60-86.
হারম্যানস [সম্পা.]: Hermans, Theo [Ed.] (2006), Translating Others, Volumes I-II, London/New York: Routledge.
হালদার, শ্রীগুরুপদ (১৩৫০/1943-44), ব্যাকরণ দর্শনের ইতিহাস, প্রথম খণ্ড, কালীঘাট কালিকা গ্রন্থমালা: ক্রমিক সংখ্যা ৬, কলিকাতা: শ্রীভারতীবিকাশ হালদার।
হালদার: Haldar, Hiralal (1917), “Leibniz and German Idealism,” The Philosophical Review, Volume 26, No. 4 (July 1917): 378-394.
____________________________________________________
কৃতজ্ঞতা স্বীকার: আমার অনুরোধ রক্ষা করে ভাষাবিজ্ঞানী প্রবাল দাশগুপ্ত মহাশয় আচার্যের মমতায় এই লেখাটির বেশ কয়েকটি ত্রুটি, শব্দের বানান ও লিপি প্রমাদ সংশোধন করে দিয়েছেন। তাঁর কাছে আমার ঋণ অপরিশোধ্য ।
চিত্রণ: ধৃতিসুন্দর মণ্ডল






2 Responses
[1] নম্বর টীকায় সংযোজন: মাতৃভাষা ও পিতৃভাষা প্রসঙ্গ।
এই নিবন্ধের শুরুতেই রয়েছে, কার্ল মার্ক্স 1857-58 সালের কোনো এক সময়ে লিখেছিলেন: “যখন কোনো ধারণার সঞ্চালনের স্বার্থে, তাকে বিনিময়ের যোগ্য করে তোলার জন্য, তার মাতৃভাষা হতে অন্য কোনো বিদেশি ভাষায় অনুবাদ করার প্রয়োজন হয়, তখন তুলনাটা বেশি লাগসই; তবে তুলনা সেখানে ভাষার সাথে নয়, তুলনাটা তার পরকীয়তার/ বিদেশিত্বের সাথে।)”] এখানে মা“যখন কোনো ধারণার …মাতৃভাষা হতে” শব্দগুলি ব্যবহার করে, কোনো ধারণা লিখে প্রকাশ করার জন্য ব্যবহৃত প্রমিত ও সাহিত্যিক রীতিসিদ্ধ ভাষার কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।এখনো আমরা অনেকেই সেই বিশ্বাস অনুসারেই ‘মাতৃভাষা’ শব্দটি ব্যবহার করি। গত কয়েক দশকে সেই বিশ্বাসে বেশ খানিকটা চিড় ধরেছে। এই প্রস্তাব বিবেচনা করার কথা উঠেছে যে এখনকার প্রমিত ও সাহিত্যিক রীতিসিদ্ধ বাংলা ভা আমাদের পিতৃভাষা, আমাদের সংস্কৃত জানা বাবাদের ভাষা; আমাদের খেরোয়াল মায়েদের ভাষা, আমাদেমাতৃভাষা সাঁওতালি । অস্ট্রোএশীয় সাঁওতালি আমাদের ভাষার ভিত, আর ইন্দোইউরোপীয় বাংলা তার উপরিাঠাম। এ প্রসঙ্গে দে.: ঝাঙ ও অন্যান্য 2019; ভ্যান ড্রিম 2007; মোহন 2025। মার্ক্স তাঁর কালের যে জার্মান ভাষা ব্যবহার করতেন সেই প্রমিত ও সাহিত্যিক রীতিসিদ্ধ জার্মান ভাষার ভিত ও উপরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক আলোচনার জন্য দে.: শোর্গো 2020।
_____________________
ঝাঙ ও অন্যান্য: Zhang, Menghan et al (2019), “Reconciling the father tongue and mother tongue hypotheses in Indo-European populations,” National Science Review, Volume 6, No.2: 293–300.
ভ্যান ড্রিম: van Driem, George (2007), “Austroasiatic phylogeny and the Austroasiatic homeland in light of recent population genetic studies,” The Mon-Khmer Studies Journal, Volume 37, pp. 1-14.
মোহন: Mohan, Peggy (2025), father tongue, motherland: the birth of Language in South Asia, Gurugram: Penguin Random House India.
শোর্গো: Šorgo, Aljoša (2020), Characteristics of Lexemes of a Substratum Origin in Proto-Germanic, in: Romain Garnier (ed.): Loanwords and substrata: Proceedings of the colloquium held in Limoges, 5th-7th June 2018, Innsbrucker Beiträge zur Sprachwissenschaft, Volume 164: 427-472. Innsbruck: Institut für Sprachwissenschaft der Universität.
__ প্রদীপ বকশি. 20 শে অক্টোবর 2025.
ো র ষা র্ক্স ‘
মন্তব্যটি উপরে [1] নম্বর নোটে অখণ্ডিত পাঠে সংযোজিত হয়েছে। ধন্যবাদ।