
প্রবন্ধ: প্রদীপ বকশি
এখন অনুবাদ জিজ্ঞাসা 0. প্রসঙ্গ নির্দেশ। কার্ল মার্ক্স তাঁর রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচারের ভিত্তি সংক্রান্ত পাণ্ডুলিপিগুলির প্রথম ভাগে, পণ্য-অর্থ ও শব্দ-অর্থ সম্পর্কগুলির সঞ্চালনের—কোনো পণ্যের বিনিময় মূল্যকে

এখন অনুবাদ জিজ্ঞাসা 0. প্রসঙ্গ নির্দেশ। কার্ল মার্ক্স তাঁর রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র বিচারের ভিত্তি সংক্রান্ত পাণ্ডুলিপিগুলির প্রথম ভাগে, পণ্য-অর্থ ও শব্দ-অর্থ সম্পর্কগুলির সঞ্চালনের—কোনো পণ্যের বিনিময় মূল্যকে

সাক্ষর বাঙালিদের ঘরের ভাষা এখন নানা ধরনের ইংরেজি-মেশানো-বাংলা, তাই প্রমিত ও রীতিসিদ্ধ সাহিত্যের বাংলা ভাষাকেও তারই আদলে গড়ে-পিটে নেওয়ার একটা চাপ আছে। ভবিষ্যতে হয়তো এই পথে কোলকাতা ও ঢাকার বর্তমান কালের প্রমিত বাংলা ভাষার নতুন কোনো ইংরেজি-মেশানো অপভ্রংশ ও অবহট্ঠ রূপের উদ্ভব ঘটবে। তবে এইবার তার রূপটি ঠিক কেমন হবে, আর তাতে বাজার-হিন্দুস্তানীর উর্দু-হিন্দী রূপগুলির কতোটা মিশেল থাকবে তা আগেভাগে বলা সম্ভব নয়।

India’s First Bengali Daily Journal. পুঁজি আজ, শিল্পজাত বুদ্ধিমত্তা [আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স/Artificial Intelligence (AI)] সম্পন্ন যন্ত্রের শিক্ষাদীক্ষা [মেশিন লার্নিং/Machine Learning (MI)] ব্যবহার করে, পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের পুরুষ কর্তা সহ সকলের বিনা মজুরির দাস-শ্রমের ফল ভোগদখল করছে। তার দাবি: তোরা সবাই কাজ করে যা, ফল আমি একাই ভোগদখল করব। এই জায়মান পরিস্থিতিটি প্রাচীন পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের একপ্রকার আধুনিক সর্বজনীনীকরণ বলে বিবেচিত হতে পারে। এখন সব স্ত্রী/পুরুষ মজুর, সমাজবাদী বুদ্ধিজীবী-নেতা, স্বেচ্ছাবৃত বিনা মজুরির গবেষক, এমনকি রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরাও পুঁজির দাস-শ্রমিক।

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।