Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বিদ্যাসাগর কি শুধু বর্ণপরিচয় আর বিধবা বিবাহে?

আজ থেকে প্রায় একশো তিয়াত্তর বছর আগের লেখা ‘জীবনচরিত’ নামের একটি গ্রন্থ (১৮৪৯)। চেম্বার্স-এর ‘বায়োগ্রাফিজ’ অবলম্বনে রচিত হয় এই বই। মনে রাখতে হবে সময়টা ছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রাক-স্বাধীনতা যুগ। ভারতবর্ষে কায়েম রয়েছে ব্রিটিশ শাসন। ধর্মীয় কুসংস্কার ও সমাজের গোঁড়ামি মানুষের মধ্যে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে আছে। সেসময় প্রকাশিত হচ্ছে কীর্তিমান বিজ্ঞানবিৎ, জ্যোতির্বিদ, দার্শনিক, বিজ্ঞান-গবেষক এবং মহতী মানুষের জীবনকথার সংকলন। উল্লেখিত ইংরেজি বইটি থেকে কয়েকজনকে বেছে নিয়ে বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন লেখক। তবে শুধু অনুবাদ বললে ভুল হবে। সংকলক ও লেখকের স্বকীয় মনস্বিতা এবং টীকাটিপ্পনী যুক্ত করে লেখা হয় জীবনীমূলক এই বই।

জেনে নেওয়া যাক কাদের কথা রয়েছে এই বইয়ে? নিকোলাস কোপার্নিকাস, আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার স্থপতি হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়েছে তাঁকে। কোপার্নিকাসই বলেছিলেন, ‘হেলিসেন্ট্রিক কসমোলজি’-র কথা, অর্থাৎ পৃথিবী সহ অন্য গ্রহগুলি সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে এবং সৌরজগতের কেন্দ্রে স্থির রয়েছে সূর্য। আছে গ্যালিলিও গ্যালিলির কথা। যিনি গ্রহ নক্ষত্র এবং সূর্য কেন্দ্রিকতা নিয়ে বলেছিলেন। গ্রন্থিত হয়েছে আইজাক নিউটনের কথা। আলোকবিদ্যা এবং অভিকর্ষজ সংক্রান্ত যুগান্তকারী তত্ত্ব আবিষ্কার ছাড়াও যিনি গণিত ও পদার্থবিদ্যার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন করেছেন। আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তিস্থাপনকারী হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়েছে আজ যাঁকে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম জনক উইলিয়াম হার্শেলের কথা। যিনি নিজের তৈরি টেলিস্কোপে চোখ রেখে আবিষ্কার করেছেন ‘ইউরেনাস’ নক্ষত্র। যিনি চিহ্নিত করেছেন শতাধিক নক্ষত্রপুঞ্জ এবং গ্যালাক্সি। নির্ভুলভাবে আগাম ধারণা দিয়েছিলেন ‘ইনফ্রা-রশ্মি–রেডিয়েশন’-এর বেশ কিছু ধর্ম সম্পর্কে। এছাড়াও আছে চিকিৎসক লিনিয়সের জীবনকথা— যিনি জীব ও উদ্ভিদ জগতের বিজ্ঞানভিত্তিক নতুন নামকরণ করেছিলেন। রয়েছে গণিতবিদ গ্রোশ্যস প্রমুখের কথা।

‘জীবনচরিত’।

আমরা আজ অনেকেই জানি, এই সব মনীষীদের অনেকেই প্রচলিত ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ করে তদানীন্তন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিষনজরে পড়ে অশেষ লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। কাউকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। কাউকে বা আজীবন বন্দি করা হয়েছিল। উপড়ে নেওয়া হয়েছিল কারও চোখ। এমনকি কারও মা’-কেও ‘ডাইনি’ অপবাদ দিয়ে বন্দি করে রেখে চরম নির্যাতন করা হয়েছিল। কী অপরাধ ছিল তাঁদের? কারণ, তাঁরা প্রত্যেকেই বিশ্বপ্রকৃতির রহস্য উন্মোচন করে পরমসত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে আপত্তি কীসের? আসলে প্রকৃতির রহস্যের সত্যকে উন্মোচন করা হলে, তা যে ঈশ্বরের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে। সত্য উন্মোচন করার অর্থ তো অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের মূলে আঘাত। যে কারণে, তদানীন্তন ধর্মযাজক তথা ‘ঈশ্বরের দূত’ বলে মান্য যারা, প্রকৃতির রহস্যের সত্য উন্মোচনকে মেনে নেননি।

ভাবতে আশ্চর্য লাগে, অশিক্ষা আর কুসংস্কারের অন্ধকারে আচ্ছন্ন পরাধীন ভারতবর্ষে বাংলায় প্রকাশিত হচ্ছে এমন একটি পুস্তক, যেখানে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে গ্যালিলিও, কোপারনিকাস, কেপলার, নিউটন প্রমুখ যুক্তিবাদী, মুক্তমনা এবং বিজ্ঞান অনুসন্ধিৎসু মনীষীদের জীবন ও কাজ। যে বইয়ের কথা বলা হচ্ছে, তা রচিত হচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচেতনা জাগানোর জন্যে। বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসু হিসেবে গড়ে ওঠার জন্যে।

আর ‘জীবনচরিত’ নামের এই গোত্রের একটি গ্রন্থের লেখক কে? শুনতে অবাক লাগবে, যে এই গ্রন্থর রচয়িতা স্বয়ং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর মহতী কর্মযজ্ঞের দিকে তাকালে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, তিনি পাশ্চাত্য বিজ্ঞানমুখী উদার সংস্কারমুক্ত শিক্ষা, জনশিক্ষা এবং সমাজ ও প্রগতি আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে ছিলেন যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। বলা বাহুল্য যে, সচেতনভাবেই এইসব মনীষীদের জীবন নির্বাচন করেছিলেন তিনি। দেশের তদানীন্তন মানুষের উপযোগী করে বাস্তবসম্মতভাবে এই সংকলন প্রকাশ করেছিলেন।

বিজ্ঞানের প্রতি ঈশ্বরচন্দ্রের আগ্রহ ও অনুরাগের আর একটি প্রামাণ্য দলিল হল ‘বোধোদয়’ নামের অন্য আর একটি গ্রন্থ। যেটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৮৮১ সালে। ‘জীবনচরিত’ বইটি ঊনত্রিশ বছর বয়সে লেখা আর ‘বোধোদয়’ লিখেছেন পরিণত বয়সে। প্রথম প্রকাশের ছ’মাসের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল ‘বোধোদয়’। শুধু তাই নয়, ঈশ্বরচন্দ্রের জীবিতাবস্থাতেই ৯৬টি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল এই বইয়ের। এর থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে, যাদের জন্যে এই পুস্তক রচনা করেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র, সেই পাঠকদের কাছে যথেষ্ট সমাদর পেয়েছিল এই বই।

নানান প্রসঙ্গ নিয়ে লেখা ‘বোধোদয়’ বইটি। এই বইয়ে রয়েছে চেতনপদার্থ, মানবজাতি, পঞ্চ ইন্দ্রিয় (চোখ, কান, নাক, জিভ, ত্বক), গণনা-অংক ইত্যাদি বিষয়। এছাড়াও নানান বস্তুর (যেমন, ধাতু: সোনা, রূপা, পারদ, সিসা, তামা, লোহা, দস্তা প্রভৃতি) বিজ্ঞানভিত্তিক বর্ণনা। লেখা হয়েছে হীরা, কাচ, জল, নদী, সমুদ্র, উদ্ভিদ ইত্যাদি নানান চিত্তাকর্ষক বিষয় নিয়ে। ঈশ্বরচন্দ্র বুঝেছিলেন, মানুষের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার এবং বিজ্ঞানমনস্কতার বিস্তার ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন শিক্ষার প্রসার ঘটবে, অন্যদিকে গোঁড়া ব্রাহ্মণদের ধর্মীয় নিপীড়ন এবং মানুষের মনে প্রোথিত হয়ে থাকা প্রচলিত কুসংস্কারগুলিও দূর হবে।

Advertisement
‘বোধোদয়’।

‘বোধোদয়’ গ্রন্থে ‘উদ্ভিদ’ নামের লেখাটির কয়েকটি লাইন পড়ি। “কতকগুলি বৃক্ষের ছালে আমাদের অনেক উপকার হয়।… আমেরিকার ‘পেরু’ প্রদেশস্থ ‘সিঙ্কোনা’ নামক বৃক্ষের ত্বক সিদ্ধ করিলে যে ক্কাথ হয়, তাহা হইতে ‘কুইনাইন’ উৎপন্ন হয়। ইদানীং দার্জিলিঙ অঞ্চলে সিঙ্কোনার চাষ হইতেছে।’’

বিজ্ঞানচরিত বইয়ের শেষে ঈশ্বরচন্দ্র বেশ কিছু বিজ্ঞানের দুরূহ ইংরেজি শব্দের বাংলা পরিভাষা সন্নিবেশিত করেন। Botany- উদ্ভিদবিদ্যা, Orbit- কক্ষ, Centre- কেন্দ্র, Milky way- ছায়াপথ, Optics- দৃষ্টি বিজ্ঞান, Elasticity- স্থিতিস্থাপক, Planetary nebulae- গ্রহ নীহারিকা, Telescope- দূরবীক্ষণ ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্রের অধীতবিদ্যা যে বিজ্ঞান ছিল না, তা আমাদের অজানা নয়। কিন্তু তাঁর বিজ্ঞান অনুরাগ ও আগ্রহ ছিল সমীহ জাগানোর মত। চিকিৎসাবিদ্যা না-পড়েও লিখেছেন জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বেশ কিছু রচনা, যাতে সহজভাবে বিজ্ঞানভাবনা ফুটে উঠেছে।

উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশ সরকারের অধীনে অবিভক্ত বাংলায় সমসাময়িক আধুনিক বিজ্ঞানশিক্ষার আরও একটি কথা উল্লেখযোগ্য তা হল, ১৮৭০ সালে ডা. মহেন্দ্রলাল সরকারের বিজ্ঞানসভায় ঈশ্বরচন্দ্র এক হাজার টাকা দান করেছিলেন।

তাঁর হাত ধরেই আমাদের পরিচয় হয়েছে বাংলা বর্ণের কিংবা বিধবা বিবাহ দেওয়ায় যে পাহাড়সমান বাধা ছিল, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার সাহস দেখিয়েছিলেন তিনিই। কিন্তু তাঁর পরিচয় শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁকে শুধু ‘ঈশ্বর’ আর ‘দয়ার সাগর’ বলে বেদির উচ্চাসনে বসিয়ে পুজো করলেই হবে না। ২৬ সেপ্টেম্বর পেরিয়ে গেল। তাঁর দুশো দুইতম জন্মদিনে আমরা বর্ণপরিচয়-এর ছবি দিয়ে সোসাল-মিডিয়া ভরিয়ে তুললাম। পত্রপত্রিকাতে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ হল। তাঁর ছবিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা ও স্মরণ করাও হল। শুধু ২৬ নয়, বছরের বাকি দিনগুলিতেও আজ আমাদের তাঁকে প্রয়োজন। যুক্তিবাদী, বিজ্ঞান-নির্ভর মানসিকতার বলিষ্ঠ প্রতিভূ সমাজবিজ্ঞানী ঈশ্বরচন্দ্রকে প্রয়োজন। ‘ঈশ্বর’-এর দূরত্বের ব্যবধান ঘুচিয়ে তাঁকে আজ সঙ্গে দরকার প্রতিটি দিন। তাঁর দেখানো পথে আমাদের আজকের হাজারো অন্ধকার দূর করতে হবে। সেটাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত পুজোর ফুল আর মালা।

চিত্র: গুগল

2 Responses

  1. খুব ভাল লেখা। সত্যিই আজকের এই অবক্ষয়িত মূল্যবোধহীন অস্থির সময়ে… ” তাঁকে আজ সঙ্গে দরকার প্রতিটি দিন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 2 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »
সালমিন রহমান

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও দুই বিখ্যাত বাঙালি

কী অসাধারণ শিক্ষাই না আমরা পেতে পারি, উৎসাহিত হয়ে পারি খেলোয়াড়দের থেকে! একটি উদাহরণ: প্রথম বিশ্বকাপে সোনাজয়ী উরুগুয়ে দলে ছিলেন হেক্টর কাস্ত্রো। তেরো বছর বয়সে মেশিনে তাঁর ডানহাত কাটা পড়েছিল। অদম্য উৎসাহে তিনি ফুটবল খেলেছেন, জাতীয় দলে স্থান করে নিয়েছেন, আর ফাইনালে জয়সূচক গোলটিও তাঁর-ই করা! তাঁর স্বদেশবাসী তাঁকে ডাকতেন— ‘এল ডিভিনো মানকো’, অর্থাৎ একহাত-বিশিষ্ট ঈশ্বর।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »