Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের চিঠি

চি ন্ম য়  মু খো পা ধ্যা য়

[এই চিঠিগুলি ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ তাঁর ভাই থিয়ো ভ্যান গঘকে লেখেন ১৮৭৫-৮২ সালের মধ্যে। ভিনসেন্টের চিঠিগুলি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কিছুটা এলোমেলো, হঠাৎ হঠাৎ সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে চলে গেছে, অজস্র পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কথার আশেপাশে ঘোরাফেরা করেছে একা একজন শিল্পীর গভীরতম অনুভব। প্রচলিত মিথের ঊর্ধ্বে উঠে একজন শিল্পীর মহোত্তম উত্তরণের সন্ধান দেয় চিঠিগুলি। তাঁর ছোট ছোট আনন্দ, বেদনা, পরিশ্রম, লড়াই ও বিষাদের দলিল এই অজস্র চিঠি। এগুলি মূল চিঠিগুলির ভাবানুবাদ। আক্ষরিক অনুবাদের কঠোর অনুশাসন থেকে কিছু ভিন্ন। সাহিত্যপাঠের আনন্দ যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেইজন্য অনুবাদের ক্ষেত্রে কিছু স্বাধীনতা নেওয়া হয়েছে। —লেখক।]

||১||

প্যারিস, ২৪ জুলাই, ১৮৭৫

প্রিয় ভাই থিয়ো,

কয়েকদিন আগে আমি ডি নিটিসের (Giuseppe De Nittis) আঁকা একটি ছবি পেয়েছি, একটি বৃষ্টির দিনে লন্ডন শহরের দৃশ্য তৎসহ ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজ এবং সংসদ ভবনের ছবি। যেহেতু আমি রোজ সকাল ও সন্ধ্যায় ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজ পার হয়ে যাই তাই আমি জানি যে ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবে এবং পার্লামেন্ট হাউসগুলির আড়ালে যখন সূর্যাস্ত হয় তখন কেমন লাগে এবং খুব ভোরে আর শীতের তুষার ও কুয়াশায় কেমন লাগে তাও আমার জানা।

আমি যখন এই ছবিটি দেখছিলাম তখন অনুভব করলাম যে লন্ডন শহরটাকে আমি কতটা ভালবাসি।

তবুও আমি বিশ্বাস করি এই শহর থেকে দূরে থাকা আমার পক্ষে ভালই বোধহয়। এটাই তোমার সেই প্রশ্নের উত্তর। আমি অবশ্যই মনে করি না যে তুমি লন্ডনে যাবে।

Rückert-এর ‘Aus der Jugendzeit’ এবং ‘Um Mitternacht’— সঙ্গীতদুটি আমাকে পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ। খুবই মর্মস্পর্শী এবং সুন্দর এই সঙ্গীত; এরা আমাকে Musset-এর ‘La nuit de Decembre’-এর কথা ভাবতে বাধ্য করেছিল। আহা, যদি তোমাকে এটি পাঠাতে পারতাম তো দিব্য হত, কিন্তু তা এইমুহূর্তে আমার কাছে নেই।

গতকাল আমরা হগ-এ একটি ক্রেট (ঝুড়ি) পাঠিয়েছি, আমি তোমাকে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তাতে তাই রয়েছে। আমি শুনলাম যে আনা এবং লিজ বাড়িতেই আছে; আমি তাদের আবার দেখতে চাই। আমি তোমার মঙ্গল কামনা করি, এবং খুব শীঘ্রই আবার চিঠি লিখো। উষ্ণ করমর্দনসহ

তোমার আদরের ভাই

ভিনসেন্ট

পরিচিতি:

১. Giuseppe De Nittis— উনিশ শতকের একজন জনপ্রিয় ইতালীয় ইমপ্রেশনিস্ট চিত্রকর।
২. Johann Michael Friedrich Rückert— আঠারো শতকের জনপ্রিয় জার্মান কবি ও অনুবাদক। ‘Aus der Jugendzeit’ এবং ‘Um Mitternacht’ তাঁরই রচিত সঙ্গীত।
৩. Alfred Louis Charles de Musset— একজন ফরাসী কবি, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক।
৪. Anna Cornelia van Houten— ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের বোন।
৫. Elisabeth (Lies) Huberta Du Quesne— ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের বোন।

***

||২||

এটেন, অক্টোবর, ১৮৮১

আমার প্রিয় থিয়ো,

একটি চিঠি আবার তোমার কাছে যাচ্ছে, তাই আমি সুযোগ বুঝে এরমধ্যে কিছু শব্দ জুড়ে দিলাম। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি যে তুমি ভাল আছ এবং আমাকে আবার একটি চিঠি লেখার জন্য ব্যস্ততার মধ্যে অন্তত আধঘণ্টা সময় বের করতে সক্ষম হবে।

আমি তোমাকে জানাতে চাই যে আমি তোমাকে গত চিঠিটি লেখার পর থেকে কী কী করেছি।

প্রথমত, পোলার্ড উইলোর দুটি বড় ছবি এঁকেছি (চক এবং সেপিয়া রং দিয়ে), অনেকটা নীচের স্কেচের মতো।

এছাড়াও আর-একটা সেই একই ছবি, কিন্তু উল্লম্বভাবে Leurseweg-এর, তারপর আমি কিছু সময়ের জন্য কয়েকজন মডেল খুঁজে পেয়েছি, একজন মাটি খননকারী শ্রমিক এবং একজন ঝুড়ি প্রস্তুতকারক মজুর।

.

গত সপ্তাহে আমি সেন্ট কাকার কাছ থেকে রঙের একটি বাক্স পেয়েছি যা অবশ্যই কাজ শুরু করার জন্য যথেষ্ট ভাল (পেইলার্ডের কাছ থেকে এসেছে)। আর আমি এটা পেয়ে খুব খুশি হয়েছি।

আমি উপরের কাজটার মতো একধরনের জলরঙের ছবি তৈরি করার চেষ্টা করছি। মডেল পাওয়ার জন্য আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি, এখন আমি একটা ঘোড়া আর একটা গাধার সন্ধানে আছি, পেলে ওদেরও মডেল করে ছবি আঁকতে শুরু করব।

এই পুরু ইংগ্রেস কাগজগুলো জলরঙে আঁকার জন্য বিশেষভাবে ভাল এবং অন্যান্য কাগজের তুলনায় অনেক সস্তাও বটে।

তবুও, কোনও বিশেষ তাড়াহুড়ো নেই, কারণ আমার হাতে কিছু কাগজ এখনও আছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হগ থেকে আনা কাগজগুলো বড়ই সাদামাটা বেরল শেষপর্যন্ত।

যাই হোক, তুমি দেখতেই পাচ্ছ যে আমি যথেষ্ট পরিশ্রম করছি। সেন্ট কাকা আগামীকাল হগ-এ যাচ্ছেন এবং সম্ভবত উনি মভের সাথে আবার কথা বলবেন যে কখন আমি আবার তার স্টুডিওতে যেতে পারি।

আর বেশি কী লিখি, এখন বিদায়, আজ বহুদূর হেঁটেছি এবং যথেষ্ট ক্লান্তও হয়ে পড়েছি, কিন্তু কিছু না লিখে এই চিঠিটি ছেড়ে দিতে চাইনি তাই কিছু অন্তত লেখা গেল। আমি তোমার মঙ্গল কামনা করি, মনে মনে আমার উষ্ণ করমর্দন গ্রহণ করো।

সবসময়ই তোমার,

ভিনসেন্ট

পরিচিতি:

১. Uncle Cent— এঁরও নাম ভিনসেন্ট, সম্পর্কে তিনি ভ্যান গঘের কাকা, যিনি Goupil & Co. নামের শিল্প ব্যবসায়ী সংস্থার অংশীদার ছিলেন। ভ্যান গঘ প্রায় চারবছর তাঁর কাছে কাজ করেছিলেন। তাঁর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন নিঃসন্তান এই কাকা ও কাকিমা।
২. Anton Rudolf Mauve— একজন সফল ডাচ বাস্তববাদী চিত্রকর, ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ মাঝেমধ্যে তাঁর স্টুডিওতে যেতেন শিল্পসম্বন্ধীয় আলোচনা করতে এবং তাঁর কাজ দেখতে।

***

||৩||

হগ, ৬ আগস্ট, ১৮৮২

আমার প্রিয় থিয়ো,

আমার শেষ চিঠিতে হয়তো তুমি জেনে থাকবে যে আমার সেই পরিপ্রেক্ষিত দেখার ফ্রেমে সামান্য চিড় ধরেছে। আমি এইমাত্র কামারের কাছ থেকে ফিরলাম, সে ওই ফ্রেমটির পায়ে লোহার দণ্ড এবং ফ্রেমে লোহার কোণ লাগিয়ে দিয়েছে। এখন এটা দিব্যি কাজ চালানোর মতো দুটো দীর্ঘ পা পেয়েছে। ফ্রেমটি শক্ত আছে, হয় আনুভূমিক অথবা উল্লম্ব কাঠের খুঁটিগুলির মাধ্যমে।

এটা ব্যবহার করার ফলে সমুদ্র সৈকত হোক বা তৃণভূমি বা একটি খোলা মাঠ তুমি একটি জানালা দিয়ে দেখার মতো অনুভূতি পাচ্ছ। ফ্রেমের লম্ব এবং আনুভূমিক রেখা, একত্রে পাশাপাশি বা উপরনিচে কাটাকুটি করে— অথবা বলা যায় বর্গক্ষেত্রের একটি গ্রিড তৈরি করে— দৃশ্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্যের দিকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে, যাতে কেউ দৃঢ় হাতে একটি ড্রয়িং করতে পারে, বিস্তৃত রূপরেখায় এবং সঠিক অনুপাতে। এটি পরিপ্রেক্ষিত সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করে যার ফলে বোঝা যায় যে পরিপ্রেক্ষিত অনুযায়ী কীভাবে রেখার অভিমুখ বদল হয় এবং বস্তুর ও তলের আকার বদল হয়। এটা ছাড়া, ফ্রেমটি অন্য কোনও সাহায্য করে না, বরং তুমি এর মধ্যে দিয়ে দেখলে তোমার মাথা ঘুরেও যেতে পারে।

আমার মনে হয় তুমি কল্পনা করতে পারবে যে এই ভিউ-ফাইন্ডারের সাহায্যে নিজের দৃষ্টিকে সমুদ্রের তীর, সবুজ মাঠ দেখার প্রশিক্ষণ দেওয়া কতটা আনন্দদায়ক— বা শীতকালের তুষারাবৃত জমি বা শরত্কালের পাতলা এবং পুরু কাণ্ড এবং শাখাবিশিষ্ট গাছপালার দুর্দান্ত কাটাকুটি রেখা, অথবা ঝড়ের আকাশের রূপ দেখা। দীর্ঘসময়ের যথেষ্ট অনুশীলনের ফলে, এটি একজন শিল্পীকে বিদ্যুতের গতিতে আঁকতে সাহায্য করে এবং একবার লাইনগুলি ঠিক হয়ে গেলে, শিল্পী বিদ্যুতের গতিতে পুরো ছবিটি আঁকতে সক্ষম হয়।

এটি আসলে পূর্ণাঙ্গ চিত্রের জন্য বিশেষভাবে ভাল, কারণ আকাশ, মাটি, সমুদ্রের জন্য অবশ্যই একটি তুলি ব্যবহার করতে হবে এবং এগুলিকে একেকটি ড্রয়িংয়ের মাধ্যমে অভ্যাস করতে হবে। কীভাবে একটি তুলিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং অনুভব করতে হবে সেটা জানা খুব জরুরি বিষয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমার ড্রয়িং দৃঢ়ভাবে প্রভাবিত হবে যদি আমি বেশ কিছু সময়ের জন্য ক্রমাগত আঁকতে থাকি। আমি জানুয়ারিতে এই চেষ্টাই করেছিলাম কিন্তু সেটা তখন থেমে গিয়েছিল— থামার কারণ, কিছু অন্যান্য বিষয় ছাড়াও, আমি তখন আঁকার সময় খুবই দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। এখন ছয় মাস কেটে গেছে, সম্পূর্ণভাবে আঁকার কাজে নিবেদিতপ্রাণ হয়েছি। তাই এখন নতুন মন নিয়ে নতুনভাবে শুরু করেছি। ফ্রেমটি সত্যিই এখন একটি চমৎকার আঁকার সরঞ্জাম হয়ে উঠেছে— দুঃখের বিষয় যে তুমি এখনও এটি দেখোনি। এরজন্য আমার বেশকিছু অর্থব্যয়ও হয়েছে, আমি এটা এত শক্তভাবে তৈরি করেছি তবু তাড়াহুড়ো করে এটাকে ব্যবহার করব না। আগামী সোমবার আমি এটিকে ব্যবহার করে একটা বড় কাঠকয়লায় ড্রয়িং শুরু করব, সেইসাথে ছোট ছোট অনুশীলনধর্মী ছবি আঁকার কাজ শুরু করব— যদি এই দুটি জিনিস ঠিকমতো চালিয়ে যেতে পারি, আমি আশা করছি যে শীঘ্রই আরও ভাল কিছু ছবি এঁকে ফেলতে পারব।

সুতরাং তুমি যখন এরপর আমাকে দেখতে আসবে তখন আমি চাই স্টুডিওটি দেখতে একজন সত্যিকারের চিত্রশিল্পীর স্টুডিও হয়ে উঠুক। আমি জানুয়ারিতে এটা করে উঠতে পারিনি— তুমি জানো যে তার জন্য বেশ কিছু কারণ ছিল, তবে শেষপর্যন্ত এটি যান্ত্রিক ত্রুটি হিসাবেই দেখা যেতে পারে, এর স্ক্রু বা রড যা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না এবং তা এখন যথেষ্ট শক্তিশালী যন্ত্রাংশ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে।

আর-একটি জিনিস যা আমি নিজের জন্য কিনেছি তা হল একটি মজবুত, গরম কাপড়ের প্যান্ট এবং, যেহেতু আমি তোমার আসার ঠিক আগে একজোড়া মজবুত জুতো কিনেছিলাম, তাই আমি এখন প্রকৃতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সময়ে আমার লক্ষ্য হল এই ভূদৃশ্য আঁকার মাধ্যমে ছবির কিছু কৌশল সম্পর্কে কয়েকটি জিনিস শেখা যা আমি অনুভব করছি যে আমার ছবির বেশকিছু ফিগার আঁকার জন্য আমার প্রয়োজন পড়বে, যেমন বিভিন্ন ধরনের পোশাক এবং বিভিন্ন রং ও তার বিভিন্ন মাত্রা আঁকার ক্ষেত্রে। এককথায় বলতে গেলে, দেহের বিভিন্ন অংশ বা বস্তুর ভর ও অভিব্যক্তি। ফলস্বরূপ আমি এই বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, তুমি আসার আগে পর্যন্ত এই বিষয়ে এবং লাইনগুলি নিয়ে আমার চিন্তাভাবনা ছাড়া একটি দিনও কাটাইনি। কিন্তু আমি হয়তো শুধু কালো এবং সাদা রং এবং রেখা নিয়ে আরও বেশি সময় কাজ চালিয়ে যেতাম, কিন্তু এখন আর এই নতুন রাস্তা থেকে ফেরার পথ নেই। বিদায়, পুরনো বন্ধু আমার, আবার একটি উষ্ণ করমর্দন গ্রহণ করো এবং আমার ওপর বিশ্বাস রেখো।

সর্বদা তোমারই,

ভিনসেন্ট

***

||৪||

হগ, ৮ অক্টোবর, ১৮৮২

আমার প্রিয় থিয়ো,

এখানে একটি বড় জলরঙের কাজের ছোট অনুলিপি রইল। আমি আরও একটি কাজ শুরু করেছি যেখানে অনেকগুলি অবয়ব থাকবে— সমুদ্রতীরে অন্তিম দর্শকেরা— একটি সন্ধ্যার পরিপ্রেক্ষিতে৷ আমি জানি না কাজটাকে আমি যথেষ্ট উচ্চমানের দিকে নিয়ে যেতে পারব কিনা, তবে আমরা যা করতে চাই তা করতে হবে এবং সেখানে না পৌঁছনো পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

তারপর, আমার শেষ চিঠিতে আমি আর-একটি বড় কাজের ছোট অনুলিপি পাঠিয়েছিলাম, তার কাজও ভালভাবেই চলছে।

আমি মনে করি যে আমি এখন যা কাজ করছি তাতে তুমি খুশিই হবে। আমার মতো, তুমিও অবিলম্বে দেখতে পাবে যে আমার প্রচুর মডেল স্টাডি করার দরকার পড়বে। আমি আমার সমস্ত প্রচেষ্টা জারি রাখছি এবং প্রায় প্রতিদিনই একটি মডেলের সাথে কাজ করছি। আমি সেই অনাথ মানুষটির আরও কিছু স্টাডি করেছি এবং এই সপ্তাহে আমি আশা করি বাড়ি থেকেও একজন মহিলা মডেল পাব। যদিও আমার অর্থের খুব অভাব চলছে। এত কিছুর প্রয়োজন, তাই এখনও স্ট্যাম-এর দোকানে কিছুটা ঋণ রয়ে গেছে।

ভেবে দেখো এমন দুর্দশার মধ্যে এই সপ্তাহে আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার জন্য বাড়ি থেকে একটি প্যাকেট এল— একটি শীতকালীন কোট, গরম কাপড়ের প্যান্ট এবং একটি মহিলাদের গরম কোট। এগুলো আমাকে খুবই আবেগপ্রবণ করে দিয়েছে।

কাঠের ক্রস সহ সেই চার্চটি প্রায়শই আমার মাথায় ঘোরাফেরা করে, তাই হয়তো আমি এটি আঁকার জন্য আগে থেকেই কিছু খসড়া করে রাখতে পারি— আমি এমন কিছু একটা করতে চাই— যেমন বরফ পড়ার সময়ে একজন কৃষকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা এরকম কিছু। অনেকটা, খনি শ্রমিকদের স্কেচের মতো। শুধু ঋতু নিয়ে কাজগুলি সম্পূর্ণ করার জন্য, আমি বসন্তের এবং একটি শরতের খসড়া ছবি পাঠাচ্ছি, যেটা আমি প্রথম ছবি তৈরি করার সময় ভেবেছিলাম।

বাইরেটা কী সুন্দর হয়ে আছে— তাকে আমি শরতের ছবিতে ধরে রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

আমি খুব তাড়াহুড়ো করে তোমাকে এই চিঠি লিখছি, আমি তোমাকে আশ্বস্ত করতে পারি যে এখনকার ছবিতে বেশ কিছু ফিগারসহ আরও অনেক কিছু জড়িত রয়েছে এবং এসব নিয়ে আমি খুবই ব্যস্ত। এটা অনেকটা কাপড় বোনার মতো: সুতোগুলোকে আলাদা রাখতে তোমাকে পুরো মনোযোগ দিতে হবে; আবার তোমাকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পুরো বিষয়টা এবং একইসাথে বেশ কয়েকটি জিনিসের ওপর নজরও রাখতে হবে।

সমুদ্রসৈকতের ছোট ছবিটি অন্যদের তুলনায় বেশি পরিণত কারণ এটি শুধুমাত্র ছবির আকার নির্ধারণ করতে করা হয়েছিল, অন্যগুলি তুলনায় অনেক কম জলরং ব্যবহার করে করা।

আমি আন্তরিকভাবে আশা করি তোমার পকেট খুব বেশি খালি হয়ে যায়নি— আজকাল বাইরেটা এত সুন্দর যে আমি অবশ্যই আশা রাখি যে কাগজে এর কিছু প্রতিদান পাব।

বিদায়, এবং যত তাড়াতাড়ি পারো কিছু লিখো, এবং আমার প্রতি বিশ্বাস রেখো।

সবসময়ই তোমার,

ভিনসেন্ট

পরিচিতি:

১. Stam: হগ-এর ছবি আঁকার সরঞ্জাম বিক্রেতা।

তথ্যসূত্র ও চিত্রঋণ: ভ্যান গঘ মিউজিয়াম, আমস্টারডম, নেদারল্যান্ড
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »