Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ছোটগল্প: দুই স্রোতের নৌকা

রমাপদ দত্ত স্যারের কাছে বাবার সাথেই প্রথম কথা বলতে গেছিলাম। স্যার তখন স্কুল যাবার জন্যে তৈরি হচ্ছিলেন। বেল বাজিয়ে কিছু সময় বাইরে দাঁড়াবার পরে উনি দরজা খুলে বাইরে বেরোলেন। চোখেমুখে একটা খুব স্বাভাবিকতার প্রলেপ লাগানো ছিল। আমাদের দুজনকে দেখে তার কোয়ার্টারের বাগানের এক কোণে থাকা একটা সিমেন্টের বাঁধানো চেয়ারে বসতে বললেন। কয়েক মিনিটের জন্যে নিজের কোয়ার্টারের ভেতরে গেলেন। ফিরে এসে বাবার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোন স্কুলে পড়ে?’

বাবা স্কুলের নাম বলবার সঙ্গে সঙ্গে স্যার আমার দিকে তাকিয়ে পরপর কয়েকটা প্রশ্ন করে গেলেন। আমার নাম, কেমিস্ট্রির কোন ভাগটা বেশি ভাল লাগে, টেস্টে কত পেয়েছি, সঙ্গে কেমিস্ট্রির কয়েকটা ফর্মুলা। ভয় না লাগলেও একটু ইতস্তত লাগছিল। তাও আমার উত্তরগুলো শুনে স্যারের মুখে একটা মৃদু হাসি দেখে কিছুটা স্বাভাবিক হলাম। ব্যাচের সময়, বার ও বাবার সাথে স্যারের ফিয়ের কথা বলে সেদিনের মত স্যারই আমাদের খুব বিনম্রভাবে বিদায় জানিয়ে বললেন, ‘আমার স্কুলের সময় হয়ে যাচ্ছে, ওকে তাহলে সময়মত পাঠিয়ে দেবেন।’ বাবা অবশ্য এর মাঝে কোন লেখকের বই কিনবে সেটা জিজ্ঞেস করে নিল। এই ছিল দত্তস্যারের সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ।

আমাদের শহরে কেমিস্ট্রি টিউটর হিসাবে দত্তস্যারের খুব নামডাক ছিল। আমি যখন ক্লাস সেভেন-এইটে পড়ি তখন থেকেই স্যারের কথা শুনে আসছি। আমাদের পাড়ার অনেকেই স্যারের বাড়িতে টিউশনি নিতে যেত। স্যার একটা স্কুলে পড়াতেন আর রোজ সকালে একটা ব্যাচ ও বিকালে তিনটে থেকে চারটে ব্যাচ পড়াতেন। শুনেছিলাম ক্লাস টেনে পড়বার সময়েই নাইনের রেজাল্ট নিয়ে নাম লিখিয়ে আসতে হত। আমাকে অবশ্য সেই সব কিছু করতে হয়নি। সেই দিক থেকে একপক্ষে ভালই হয়েছিল। ক্লাস নাইনে আমার রেজাল্ট মোটেই ভাল হয়নি। সেই রেজাল্ট নিয়ে গেলে নিশ্চিত উনি ভর্তি নিতেন না। তবে আমার সাথে রীতা নামে একটা মেয়ে পড়ত। ঘটনাচক্রে তার বাবা সুবোধকাকু ও আমার বাবা একই কারখানার পাশাপাশি দুটো ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন, দত্তস্যার সুবোধকাকুর নিজের ভাইপো ছিলেন। আমার সাথে রীতারও ভাল বন্ধুত্ব ছিল। দত্তস্যার আমাদের টাউনশিপ থেকে একটু দূরে অন্য আর-একটা টাউনশিপে থাকতেন। হয়তো সুবোধকাকু তাদের পাড়া থেকে রীতার সাথে পড়তে যাবার জন্যে কোনও সঙ্গী পাচ্ছিলেন না। তাই বাবা একবার বলতেই উনি বলেন, ‘আরে তোমাকে কোনও চিন্তা করতে হবে না। আমি রমাপদকে বলে দেব, আমি বললে ও আর না করতে পারবে না। তখন দুজন একসাথে আসা যাওয়া করতে পারবে। এমনিতে দিনকাল যা পড়েছে মেয়েকে কোনওভাবেই একা ছাড়তে সাহস হয় না।’

এত কিছু পরিকল্পনার পরেও আমার ও রীতার ব্যাচ একসাথে হয়নি। দত্তস্যার ছেলে ও মেয়েদের ব্যাচ আলাদা করে দিয়েছিলেন। তারপরেও আর-একটি ঘটনা ছিল, রীতা মাধ্যমিকের পরেই বাংলা ভার্সন থেকে ইংরেজি ভার্সনে পড়াশোনা করতে আরম্ভ করল। কিন্তু আমি সেই সাহসটা পেলাম না। বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের ব্যাচটা আলাদা হয়ে গেল। ব্যাচের সাথে স্কুলটাও আলাদা হয়ে যাওয়াতে আমাদের দুজনের দেখাসাক্ষাৎ প্রায় হয় না। হায়ার সেকেন্ডারির পড়া, স্কুল, প্র্যাকটিক্যাল ও টিউশন এইসব জাঁতাকলে আমাদের সবারই প্রায় ত্রাহি ত্রাহি রব উঠছিল। এর মাঝে যা কিছু আনন্দ খুনসুঁটি সব ওই টিউসনের ব্যাচেই হত।

দত্তস্যারের কাছে আমাদের ছেলেদের টিউশনটা থাকত এক্কেবারে সকাল সাড়ে ছ’টা থেকে। স্যার থাকতেন একটা কোম্পানির কোয়ার্টারে, বাইরে একটা আলাদা ঘর তৈরি করে নিয়েছিলেন, সেখানেই টিউশন পড়াতেন। প্রথম দিন পড়তে গিয়েই একটা বিষয় দেখে অবাক হয়ে যাই। ঠিক সকাল সাতটার সময় একবাটি মুড়ি আর-একটা বাটিতে চপ বা বেগুনি, শসা এবং এক গ্লাস চা বাড়ির ভেতর থেকে একজন কমবয়সি মেয়ে দিয়ে যায়। আমরা সবাই অভুক্ত থাকলেও স্যার আমাদের এতগুলো চোখের সামনেই প্রায় গপগপ করে মুড়ি চেবাতে আরম্ভ করলেন। এরপর বিষয়টার সাথে এক্কেবারে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম। সকালে স্যারের কাছে পড়া, আর স্যারের মুড়ি খাওয়া একটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেল। এরমাঝে আর-একটি জিনিস খেয়াল করেছিলাম, পড়াতে পড়াতে ভেতরের ঘর থেকে একবার, ‘কই গো…’ কথাটা স্যারের কানে যাবার সঙ্গে সঙ্গে স্যার একরকম সব কিছু ছেড়ে ভেতরে চলে যেতেন। ভেতরে কী কথা হত সেই সব শুনতে না পেলেও আমাদের ব্যাচের অনেক ছেলেই এই অবসরে স্যারের মুড়ির বাটি থেকে অনায়াসে মুড়ি, চপ বা বেগুনি, শসা সহ যা কিছু থাকত সেগুলোতে নিজের মনে করে কামড় বসিয়ে দিত। শুধু তাই নয়, চায়ের গ্লাসেও চুমুক দিয়ে দিত। স্যার এসে হয়তো বুঝতে পারতেন অথবা পারতেন না, কিন্তু কিছু বলতেন না। তবে একবার ভারি অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটল। স্যার দু’দিন আমাদের ছুটি দিয়ে নিজের গ্রামের বাড়ি গেলেন। আমাদের বলে গেলেন, ‘বাড়িতে খুড়তুতো ভাইয়ের ছেলের মুখেভাত, আমি থাকব না।’ স্যার ফিরে আসার পর ক্লাসে যেতে আমাদের ব্যাচের একজন মজা করেই জিজ্ঞেস করে, ‘স্যার, আপনাদের মুখে ভাত কেন হয়, মুড়ি হতেই তো পারে।’ আর যাস কোথা, সেদিন তো ক্লাস হলই না, সারাটা সময় ওই ছেলেটির সাথে ব্যাচের সবাইকে উদমাই ঝাড়তে আরম্ভ করলেন। শুধু তাই নয়, ওই ছেলেটির মা-বাবা তুলে গালাগালি দিলেন। পরের দিন তার গার্জেন কল করা হল, এমনকি ব্যাচ থেকে বেরও করে দিলেন। এই ঘটনাতে আমরা একটু অবাক হয়ে গেছিলাম। যদিও উনি প্রতিদিন পড়া জিজ্ঞেস করতেন, না পারলে খুব বকতেন, মাঝে মাঝেও মেরেও দিতেন। আর-একটি বিষয় আমাদের খুব আশ্চর্য করত। স্যার প্রায় বিভিন্ন দরকারে তাঁর দেশের বাড়ি গেলেও কোনও সময়েই ওঁর স্ত্রী বা মেয়েদের নিয়ে যেতেন না। আমরা যখন পড়ি, মেয়েদুটো ছোট হলেও স্যার খুব ভালবাসতেন। ছোটমেয়েটা প্রায়ই আমাদের পড়ার জায়গায় চলে আসত, স্যার কোলে নিয়ে আমাদের পড়াতেন। পরে শুনেছিলাম উনি দুই মেয়ের নামে দুটো বাসও কিনেছিলেন।

খুব বেশিদিন স্যারের কাছে অত সকালে আমাকে আর পড়তে যেতে হয়নি। মাস তিন পরেই আমার গ্রাম সম্পর্কে এক কাকা আমাদের টাউনিশিপে বাসা নিয়ে থাকতে আরম্ভ করলেন। তিনি আমাদের বাড়ির সামনের একটা স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ঘটনাচক্রে কেমিস্ট্রি পড়াতেন। বাবা তার কাছে গিয়ে আমার কথা বলতেই উনি স্বচ্ছন্দে আমাকে পড়াতে রাজি হয়ে গেলেন। আমাকে দত্তস্যারের কাছে আর পড়তে যেতে হল না।

আস্তে আস্তে সময় পেরিয়ে যেতে লাগল। হায়ার সেকেন্ডারির পড়া, বন্ধুবান্ধব ও সমস্ত কিছু থেকে একরকম দূরে সরে গেলাম। স্কুল, টিউশন আর নিজের পড়ার সাথে ছাড়া বাকি পৃথিবীর সাথে আড়ি নিয়ে ভালভাবেই হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করলাম। তবে জয়েন্টে চান্স না পাবার জন্যে ফিজিক্সে অনার্স নিয়েই সরকারি কলেজেই ভর্তি হলাম। ফার্স্ট লিস্টেই নাম বেরিয়ে গেছিল। কিন্তু কলেজে প্রথম দিন ক্লাসে গিয়েই দেখলাম রীতাও ফিজিক্সে অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছে। আমাদের বন্ধুত্ব আবার জমে উঠল, শুধু তাই নয়, এতটাই গভীর হয়ে উঠল যে আগে যেসব নিষিদ্ধ বিষয়গুলো কোনও সময়েই আলোচনাতে আসার আগেই এড়িয়ে যেতাম এই দ্বিতীয় ইনিংসে সেগুলো অনায়াসে আলোচনা করতাম। রীতার অবশ্য ইতিমধ্যে আর-একটা বয়ফ্রেন্ডও হয়েছে। সেই ছেলেটাও আমাদের সাথে একই স্কুলে পড়ত, আমাদেরই বয়সি, তবে আইআইটিতে চান্স পেয়ে ও কানপুরে পড়তে চলে গেছে। রীতা বাড়িতে তখনও পর্যন্ত না জানালেও আশা করে চাকরি পাবার পর কেউ কোনওভাবেই আপত্তি করবে না। কলেজে ক্লাস না থাকলে রীতা তার সেই বয়ফ্রেন্ডের ব্যাপারেই কথা বলবার ফাঁকে প্রায়ই আমাকে বলে উঠত, ‘এবার তুইও একটা প্রেমটেম কর, কতদিন এমনি এমনি শুধু এদিকে ওদিকে তাকিয়ে বেড়াবি?’ আমি শুধু হাসতাম, বলতে পারতাম না, ঠিক কী কারণে কোনও মেয়েই…

আমাদের কথার মাঝে সেই দত্তস্যারের কথা মাঝে মাঝে এসে যেত। যেমন একদিন শুনলাম স্যারের শরীর খারাপ হয়েছিল, কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

এমনিভাবেই আরও কয়েক বছর কাটল। আমরা দুজনেই ভালভাবে অনার্স পাশ করলাম। আমি আমার হোম ইউনিভার্সিটিতেই পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশনের জন্যে ভর্তি হলেও রীতা বাইরের রাজ্যের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হল। ক্লাস আরম্ভ হবে এমন সময় একদিন শুনলাম রীতার বাবা মারা গেছেন। কলেজে পড়বার সময়ে কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, হার্টের একটা সমস্যা ধরা পড়েছিল। কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তিও করতে হয়েছিল। কিন্তু উনি যে মারা যাবেন এটা ভাবতে পারিনি। সঙ্গে সঙ্গে রীতাদের কোয়ার্টারে গেলাম। রীতা খুব ভেঙে পড়েছিল, আমার পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সান্ত্বনা দিলাম। শ্রাদ্ধের কাজ ওদের গ্রামের বাড়ি থেকে হবে, বারবার করে যাবার কথা বলতে লাগল।

আর-এক বন্ধুর সাথে একটু কষ্ট করেই রীতার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালাম। তাদের বাড়ির সবার সাথে আলাপের মধ্যে দিয়ে তাদের আন্তরিকতা অনুভব করলাম। দত্তস্যারের সাথে আবার দেখা হল। নিজে গিয়ে আলাপ করে বেশ কয়েক বছর আগেকার স্মৃতিচারণের সাথে আমার সাথে টিউশনে পড়া কয়েকজনের নাম বললাম। এদের দুজনের সাথে আবার কলেজেও দেখা হয়েছে। শুধু তারা অন্য ডিপার্টমেন্টে পড়ে। স্যার সেই রকম মনে করতে পারলেন না, অন্তত তাঁর মুখ দেখে সেটাই মনে হল। আমি ও রীতা দুজন ফিজিক্স নিয়ে পড়ছি এটা শুনে একটু অনুযোগের সুরেই বলে উঠলেন, ‘কেন, কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়তে নেই, নাকি এটাতে কোনও স্কোপ নেই।’

আমি মুচকি হেসে উত্তর দিতে যাব এমন সময় এক ভদ্রমহিলা আড়াল থেকে বললেন, ‘কই গো, এদিকে একবার এসো।’ আমি ভদ্রমহিলাকে সেভাবে দেখতে পেলাম না। কথাগুলো বলেই উনি ঘরের ভেতরে চলে গেলেন। আমার কিছুটা অবাক লাগলেও সেভাবে কিছু মনে করলাম না। খেতে বসে আন্তরিকতার সাথে অতিরিক্ত খাবার দেখেই আমার মাথাখারাপ হতে আরম্ভ করল। রীতাদের বাড়ি থেকে কয়েকজন এসে আমার খাবার থালার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, ‘এই কচি বয়েস, ধাঁসারে গিলো।’

আমি ধাঁসারে মানেটা পরে বুঝতে পারলাম। প্রথমবারে একসাথে মোটামোটা দশটা লুচি, ছোলার ডাল আর একবড় বাটি বোঁদে খেয়ে আবার দশ থেকে পনোরোটা লুচি খাওয়ার নাম ধাঁসারে খাওয়া। অবশ্য আমি নিজের লুচিটা ছেঁড়ার জন্যে দাঁতের সাথে একটা পা কাজে লাগাব কিনা ভাবছিলাম।

খাওয়ার পর কিছু সময় বসে বাড়ি ফেরবার ব্যবস্থা করছি। সবার সাথে কথা বলে রীতার কাছে এলাম। আমাকে কয়েকটা কথা বলে তার নতুন বয়ফ্রেন্ডের খবর দিল। আমিও আমার ফাটা কপালের কথা জানিয়ে দিলাম। অনিবার্যভাবে দত্তস্যারের কথা এল। স্যার একা এসেছেন সেটা জানতে পেরেছিলাম কিন্তু কারণটা কখনও জিজ্ঞেস করিনি। সেদিনও রীতাকে করলাম না। শুধু সেই ভদ্রমহিলার কথা জিজ্ঞেস করতেই রীতা মুচকে হেসে উত্তর দিল, ‘ওটা রমাদার প্রথম বউ, আমাদের সেজবউদি।’

চমকে উঠলাম, ‘মানে!’

‘সেরকম কিছু নয়। রমাদার দুটো বিয়ে, এখানে এসে এই বউদি, ওখানে থাকলে…’

‘কিন্তু এনার ছেলেমেয়ে?’

‘এক ছেলে। যাদবপুরে এঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। ওদিকের খবর তো জানিস। ওই বউদি রমাদার ছাত্রী ছিল।’

শুধু যে আশ্চর্য হলাম সেটাই নয়, আমার সব হিসাবে কেমন যেন গোলমাল হয়ে গেল। জিজ্ঞেস করলাম, ‘ইনি জানেন?’

‘এক্কেবারে বোকা প্রশ্ন। কেন জানবে না। এই বউদি ওখানে যায় না, ওই বউদি বা তাদের মেয়েদুটো এখানে আসে না। বাকি সব এক্কেবারে নর্মাল।’

আমার তখন বেশ কয়েক বছর আগে দেখা দত্তস্যারের কাছে পড়তে যাবার সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল। স্যার তখন আমাদের কড়া ব্যবহার করলেও ওখানকার বউয়ের ডাক শুনেই ভেতরে চলে যেতেন, এখানেও সেই এক।

রীতাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমাকে তো এতদিন কিছু বলিসনি…’

এবার রীতা একটু হেসে উঠলেও কোনও কথা বলল না।

অথচ আজও আমি একা থাকলেই চিন্তা করি, ‘বিভিন্ন রকমের নিষিদ্ধ বিষয়ের আলোচনা হলেও রীতা আমাকে দত্তস্যারের প্রথম বিয়ের বিষয়টা বলেনি কেন?’ পরে প্রশ্ন করেও উত্তর পাইনি।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »