Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

তীর্থঙ্কর মৈত্রর কবিতাগুচ্ছ

আমরা তো জানি

কত আকাশের জন্ম প্রতিদিন, জন্ম হয় কত অনন্তের;
কত প্রজাপতি কাজ করে চলে, ফুল ফোটে, কত যে রঙের;
কে জানে, কে রাখে সে হিসাব, খোঁজ? হলুদের পাশেতে কোন রং
ভাল লাগে, কার পাশে কী মানায়, মনে এসে কে জানায়, কে জানে!
বুঝি সে সুন্দর? তার আছে যে অন্তর, সে না জানালে কী করে জানি?
আজন্ম যা বোঝায় সে, তাই বুঝি, খোঁজালেই খুঁজি তাকে আমি
সব তাঁর, এ-ই বুঝি, এ-র বেশি, সে যদি বোঝান, জানাব তখনি!
অনন্তের বয়স যে কত আর! বয়সের তারতম্য প্রতি অনন্তের।
আমরা তো জানি শুধু এ-ই নীল পাজামার কতটুকু ঘের!
সে শেখায়, যেটুকু, তার ঊর্ধ্বে, কিছু কি পেরেছি? তাঁর প্রেম সেরা—

*

এখন শূন্য কি?

‘শূন্য’ শূন্য নয়, পূর্ণ; যেমন চায়ের পাত্র সকালের
বাদামি রঙের কিছু চায়ে পূর্ণ ছিল, এখন শূন্য কি সে?
সেখানে তো হাওয়া আছে, লাল রং টেবিলের
পরে আছে তাকে রাখা, মনে হয় সেটি শূন্য, ফাঁকা—
পাত্রে পড়ে সকালের আলো খোলা জানালার।
‘শূন্য’ শূন্য নয় তাতে, ঠিক কিছু, তুমি রাখো বুঝি?
অনুভব হয় আছ, পূর্ণের নির্মাতা, দেখি না তো! খুঁজি—
ডাকি, এসো, মুখোমুখি, বসি, কথা বলি, তুমি কি অরূপ?
অরূপেরও তো দেহ আছে, মন, প্রাণ, জীবিত সে,
কথা বলে, কাজ করে, জগতের এক পোস্টাফিসে।

*

একথা বোঝো না তুমি

সারাদিন চলে গেছে পোশাকের রং খুঁজে
কোনটি উজ্জ্বল আর কোনটি কার গায়ে বেশ
মানাবে, সুন্দর খুঁজে সারাদিন চলে গেছে—
মনোরম রঙের পোশাক যে পরে আর যারা
দেখে, দুজনার মন হয় যে সুন্দর, এই কথা
বোঝো না কেন যে তুমি? যে কালভার্টের বুকে
আলো পড়ে ভোরবেলা, রাতে তার বুকে এসে চাঁদ
ছড়ায় জ্যোৎস্না-আলো, সারা দিন চলে গেল
রং খুঁজে মুগ্ধ কোনো; কোন রঙে আছ বলো তুমি?

*

সেও নতুন প্রকৃতি

নির্মল ভাষায় থাকে হৃদয়-স্পর্শী ছোঁয়া পালকের;
রঙের মাধুর্যে মন ভরে ওঠে— এ-ই ভাব মেখে প্রাণে
প্রজাপতি মনে, দেহে, হয় সে তো প্রিয় সকলের—
কোথায় শাশ্বত ফুল? খুঁজে যায় একা প্রজাপতি;
প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ, তার হৃদয়েতে প্রীতি;
উন্মুক্ত আকাশ নীল, শরতের শান্ত জলে থাকে;
তবু তো সে ভেজে না তো, আকাশ সেও নির্মল।
প্রজাপতি খোঁজে ফুল, হৃদয়ের আশা ভাষা হয়ে যায়—
সেই ফুল জলে থাকা আকাশের মতো ফেরে মনে;
নিশ্চয়ই আছে সে ফুল, যা নেই তা আসে অনুভবে?
হৃদয় স্পর্শিত ভাষা আজ দেহে, মনে, প্রাণে তার
প্রকৃতিতে জন্ম বলে, সেও এক নতুন প্রকৃতি—

*

রোদের খেলা

হয়তো হলুদ হয়ে ঝরে গেছে জিয়লের পাতা!
চষা খেত ধরে বুকে বিকেলে রোদের খেলা
সেই পাতাদের মাঝে পেয়ে যে আশ্রয়, সুখী!
খেত আজ বর্ণময় উজ্জ্বল আভা মাখে বুকে
রোদ আর হলুদের, কোথাও তো কোলাহল
নেই কোনো— একফালি ঢলে পড়া রোদ ফাঁক গলা
সবুজ পাতার থেকে, খেতের কিনারে পুকুরের;
সেখানেও হলুদ হয়ে ঝরা সেই জিয়লের পাতা;
তারা ভাসে দল বেঁধে, জল ছোঁয়া অংশ সব ভেজে;
ভেজে না তো রোদ ফালি, যে পড়ে জলের ওপরে!

*

নীল জলের ওপরে

সুন্দর ফুলের কাছে গেছি যতবার, মুগ্ধ হয়ে
আমি ফিরি ততবার; ভেতরে সুন্দর লেগে তার
আমাকে সুন্দর করে। তবু শ্বেত ডানা মেলে হাঁস
ঘাসের আড়ালে যাও, জলের কিনারে জাগে ঘাস।
যে দোয়েল শিষ দিত, তার পালক ভেসে আছে জলে;
দোয়েলটি আছে জানি বিকেলে কারো তো দেওয়ালে!
ডাল তো খোঁজে না তাকে, দোয়েলের চিন্তা সে করে না;
পালক হয়তো করে, ভেসে নীল জলের ওপরে।
দোয়েল সর্বত্র ঘোরে, তাই কি সে সাদা নীল রং ধরে?
সুন্দরে থাকে তো ‘মুগ্ধ’, মুগ্ধতা তো আরো যে সুন্দর!

*

মোচার খোলার নৌকোটি

ঘোলাজল স্রোতে ঝরা মোচার খোলার নৌকোটি
স্রোত তাকে নিয়ে চলে— নদী বুকে যেন সে শরণার্থী!
চরের পলিতে জন্ম, নল, বেতি, বনে ভেড়ে, ফের
স্রোত তাকে নিয়ে চলে অন্যখানে, যেন সে উদ্বাস্তু।
ছোট ছোট ঢেউ লাগে, দোলায় খোলার নাও, লাল দেহ;
লবণ জলের ফ্যানা লাগে এসে গায়ে সাদা তার;
ঢেউ এসে গতি দেয়, চলে ভেসে— তার ঠিকানাটি
কলার মোচায় ছিল, জন্মগত তার অধিকার।
কোথায় ভিড়াবে স্রোত জানে না সে! কার্তিকের
সকালে নৌকোখানা দুলে দুলে ভেসে চলে স্রোতে;
রৌদ্র সওয়ারি তার, নীলবর্ণ আকাশ তাকিয়ে—
তীরের বসতি দেখে, দেখে যে নারকোলের বন;
জোয়ারের জল তাকে তুলে দেবে ঠিক ঠিক তীরে;
জানবে না কলামোচা, তার থেকে খসা লাল খোলা
নৌকো জীবন পেয়ে ছুঁয়ে যায় সে তো প্রতিঘাট…

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়
Advertisement
4 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »