নিহত ভোমরা
কিছুটা থাকে রহস্যে ও কিছুটা ভরে কুয়াশা
নিস্তব্ধ ছলনাময়ী স্বর্ণবুটি ময়ালে
শয়ানে ছিল কুণ্ঠাময়ী, লজ্জাব্রীড়াবনতা
অথচ তাকে উদঘাটনে অহঙ্কারী দুরাশা
প্রকট করে পাপের জ্বরে মহিমাশির নোওয়ালে
চরণতলে, আগুন জ্বলে, কৌটো ভরা ভোমরা
প্রখর শীতে জমালে তাকে, নিধনে বুঝি তোমরা
বরণ করো অন্ধতাকে, শরীরে নির্জনতা।
*
ডুবে যাওয়া তরী
একটি ভীরু আর্তনাদ ধ্বনিত হবে পাষাণে
এ যেন ছিল ভাগ্যলিপি, বণিক কেন খনিজ
ধাতুকে দাও সঞ্জীবনী, জানো না বুঝি ও নিজ
মালিন্যেই অনলে যাবে, বেদনাঘন ভাসানে
ও ধাতুমল জলকে কেন কোমল উৎসারণে
লিপ্ত করে কলঙ্কী তা না জেনে কেন দয়াতে
গিয়েছ তাতে লাবণ্য আর ঝরনা সোনা বহাতে
সে পাপে ডোবে পণ্যতরী, বেদনা সেই কারণে।
*
মৃত মৎস্য
বেলাভূমিতে রুপোলি ছায়া বিধুর ঘন বিকেলে
নিহতমুখে মৎস্যটিও জ্যোৎস্নামাখা ছড়ানো
বালুর ধূ ধূ শুভ্র বুকে, ধীবর তুমি কি পেলে
পূর্ণ কোন গভীর শাঁস তৃপ্তিসুখে ঝরানো
লাবণ্য বা ঝিকোনো আঁশ, চারারোপণে সাঙ্গ
পাপের ঘন নিনাদটুকু, মসৃণতায় অংকুর
বিতৃষ্ণায় করেছ বার, একটি মৃত কানকো
যা থেকে তুমি নিহত হবে, এতটা ছিলে ভঙ্গুর।
*
ক্রান্তিকাল
উৎক্ষিপ্ত স্বর্ণজাল, নিকটে দিক চক্রবাল, দৃশ্যমান অদূরে
ঘনায়মান ধূপের ধূম, এবং গাঢ় নিঝুম ঝুম, শরীর থেকে নিদারুণ
ক্ষরণ স্বর প্রতি প্রহর, প্রতিটি দিন বিরামহীন, বলয়ে কোন শনি এ
দিয়েছে ফাঁস সর্বনাশ, মরচে পড়া ধনুক আর অতীতকালে বৃথা তূণ
খুঁজে কি লাভ, অন্য পাপ লক্ষ্যে ঋজু নম্রতায়
জালে গভীর নিবিড়তায় আলিঙ্গনে মধুরপায় ফুলশয্যা কি পাতে
দেখেও কেন পালানো যেন দিলেই ধাতুচর্ম গায়
বিলোপ হবে সমূল লোভ, দেরিতে বড় হয়েছে বোধ ক্রান্তিকালে নিপাতে।
*
পায়ে গুল্মলতা
শৈবাল কে বলেছ তাকে, এ যে বিষম পাথরে
সবুজ জমা, গুল্মলতা পায়ে জড়ায়, নাগিনী
হিসিয়ে ফণা বিষের কণা উজাড় করো আদরে
তরল হিম, নেশার ঝিম কাটে না তাতে, জাগিনি
পাতাল থেকে ওঠার আগে সময় লাগে ও পাপে
শাণিত ছুরি শরীর জুড়ি বলেই দেহে ভগিনী
পেতেছি হাত প্রত্যাঘাতে পাপের গূঢ প্রভাবে
সে হাতে খুব অগ্নিভয়, মমতা ঘৃণা অবজ্ঞায়
ফেরালে মুখ যোগিনী।
চমৎকার, আবার একগুচ্ছ কবিতা। প্রিয় কবি সুজিত বসু্র কবিতা ভালোভাষায় পেলাম বেশ কিছু
কাল পরে। অসাধারণ