Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

রূপকুমার দাসের কবিতাগুচ্ছ

আরণ্যক প্রেমকথা

 

স্বপ্নের ঘোরে আমি ফিরে গেছি নিযুত বছর আগে

সম্মুখে ছিল অববাহিকার একহাঁটু তক কাদা

উত্তাল ঢেউ সমুদ্র খাঁড়ি কুমিরের আনাগোনা।

আমি হয়ে গেছি আদিম-পুরুষ খুব ডাকাবুকো যুবা

প্রিয়সঙ্গিনী আদিম রমণী ইভার আকুল দাবি—

‘সমূহ বিপদ বিঘ্ন পেরিয়ে যাও ওপারের বনে

এনে দিতে হবে সুস্বাদু ফল, সোনার আপেল

খুব তরতাজা পারিজাত ফুল মৃগনাভি কস্তুরী।’

 

সামনে প্রকট ঘন বনবীথি কণ্টক ঝোপে ঢাকা,

মৃগাঙ্ক পথ খুব উঁচুনীচু দিশাহীন আঁকাবাঁকা।

আমি আপ্রাণ দু’হাতে সরাই কণ্টক বল্লরী,

সর্বশরীর কাঁটার আঘাতে আরক্ত বিক্ষত।

বিষধর সাপ পোকা ও মাকড়ে অরণ্য ছয়লাপ

কানে এসে ঠেকে ক্রূর শ্বাপদের ক্ষুধার্ত হুংকার।

 

আচমকা ভয়ে ঘেমেনেয়ে চোখ মেলে চেয়ে দেখি,

সে ইভা এখন ঘুমে আলুথালু, কবরী কুসুমে ঢাকা,

অনামিকা ঘিরে হিরের আংটি, দু’ঠোঁটে রুজের ছাপ।

সারা গা হতে ভিনদেশি কোনো আতরের নির্যাস,

ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে বসন্ত পরিষেবা।

তার দুটো হাত গলদেশ ঘিরে নির্ভরতার ফাঁস।

তৃপ্ত শ্রীমুখ ভরসা পেয়েছে হৃৎকমলের কাছে।

 

◊♦◊

 

ভালবাসা যদি—

 

ভালবাসো কুয়াশার আঁধি কিংবা কুজ্ঝটিকা হলে,

হাতে হাত রেখে কত দূর যেতে পারি মগ্ন অভিসারে!

ভালবাসো যদি হয় সাতরঙা রামধনু শরৎ আকাশে,

রিমঝিম বৃষ্টিভেজা মোলায়েম সোনালি রোদ্দুরে,

কিংবা শিশিরের হিরেকণা হয়ে ওঠে ঘাসের শিয়রে,

তবে একসাথে হাঁটা যায় হাজার যোজন,

এলোমেলো আঁকাবাঁকা রুখাশুখা মেঠোপথ ধরে।

যদি অন্ধকার নেমে আসে পৃথিবীর পিঠের ওপর,

আমি তুমি ক্লান্ত ডানা‌ পিপাসার্ত চকোর চকোরী

আঁধারের অন্তঃপুরে খুঁজে নেব প্রণয়বাসর।

 

◊♦◊

 

অসফল প্রণয়ের প্রতিকৃতি

 

আমি বারংবার দাঁড়িয়েছি গ্রীষ্মের অপরাহ্ন তাপে।

আনত মস্তক যবুথবু বেঁটেখাটো ছায়ার ভিতর,

খুঁজেছি তোমার মুখ ছাতিমের ছড়ানো চিকুর।

ঝরে পড়া ঘামে সন্তরণ সুনির্মল ডুবস্নান সেরে

আরাধ্যার পূজাআর্চা করেছি নিষ্পাপ হৃদয়ে।

বুকের বাঁ-ধারে রাখা ফাল্গুনের ঝরাপাতা,

গোছা গোছা প্রেমপত্রে সুবিন্যস্ত সবুজ লিখন,

অশ্রু ঘামে একাকার এলোমেলো কালো আঁকিবুকি,

আঁতিপাঁতি খুঁজে কোথাও পাইনি তবু্ সে চেনা আদল।

 

পড়তি বিকেলে আলতা রং রৌদ্রের রক্তিম ইজেলে,

লজ্জারাঙা মুখ হত তরতাজা বসরাই গোলাপ।

এখন ঈশানের মেঘপুঞ্জ ঢেকে দেয় সব কারুকাজ।

বারুদের কটু ঝাঁঝে গোলাপের গন্ধ উবে যায়।

নক্ষত্রের আলো কিংবা জ্যোৎস্নার ঝর্নাধারা নয়,

বজ্রের অগ্নিঝলকে ঝলসে যায় উদভ্রান্ত চোখের নজর।

হৃদয়ের ক্যানভাসে এঁকে রাখা আরাধ্যার চিত্রলেখা,

অজানা শংকায় ডুবে যায় অন্ধকার সমুদ্রের জলে।

সে সমুদ্র তোলপাড় লবেজান আমি তার পাই না হদিস।

 

◊♦◊

 

দুরন্ত ঘোড়া তুরন্ত দৌড়

 

লাগাতার ছুটে ঝরাচ্ছি আমি সাত সমুদ্র ঘাম।

সামনের পথ পিছল হচ্ছে, কত‌ দূরে যেতে হবে?

প্রান্তপথের দিশার নকশা দেয়নি পথিকৃৎ।

আর কতকাল এভাবে ছুটব জানতে পারিনি আমি।

পথের দু’পাশে বৃক্ষবীথির সবুজের উদ্ভাস,

মাথার উপর গগনপটুয়া কত শত ছবি আঁকে,

ইন্দ্রধনুক তারা-জোনাকির আলো অরূপ চন্দ্রহাস,

মেঘপুঞ্জের অলকা চিকুরে এলোমেলো দৌড়ঝাঁপ,

একপলকের তাকিয়ে দেখার হয়নিও অবকাশ।

পায়ের তলায় পিষে মরে যায় লাখো লাখো পিপীলিকা,

ঘাসের শিয়রে শিশির-কান্না শুনতে পাই না আমি।

 

দুরন্ত ঘোড়া তুরন্ত দৌড় রাতদিন ঘুমহীন,

কলজে মগজ ছোটার কদম অচল অবশ প্রায়,

মুখ থুবড়ে পড়ার মাহেন্দ্রক্ষণ কখন সুস্বাগত?

Advertisement

প্রভাত গোধূলি সায়ংসন্ধ্যা আট প্রহরের দৌড়,

কতদূর গেলে কিনতে পারব সাড়ে তিন হাত জমি?

এসব প্রশ্নে অদৃশ্য সেই মহান‌ পথিকৃৎ,

চির উদাসীন ভাবলেশহীন মৌন নির্বিকার।

তাই রোদ জল জাড় তুষারঝঞ্ঝা মরুপ্রদেশের ঝড়ে

ক্লান্ত পথিক বিরামবিহীন দৌড়ে চলেছি আমি।

 

◊♦◊

 

অকূল মাঝির বসতবাড়ি

 

মেঘ জমেছে অকূল মাঝির বসতবাড়ির কাছে।

সে বাড়ি নয় অট্টালিকা আকাশছোঁয়া ছাদ

চাঁদ রূপসীর সঙ্গে তার হয় না মুলাকাৎ

খড়বিচালির ভাঙা কুঁড়ে দেরাজ হাটখোলা

ঝরোকাগুলোয় জাফরি নেই, ছাদের মাথায় ছ্যাঁদা।

ঘরেতে নেই বাসনকোসন বাক্সপ্যাঁটরা কিছু

খোলা‌ হাওয়ার উঁকিঝুকি দেদার চলাফেরা।

অকূল নাইয়ার কী আসে যায় রোদ বর্ষা ঝড়ে!

চাঁদনি রাত দুপুর রোদ অমারাতের কালো

জলের ওপর ভাসিয়া ‘না’ উজান ভাটায় চলা।

 

মেঘ জমেছে অকূল মাঝির বসতবাড়ির কাছে,

মেঘের সঙ্গে আড়ি করা তার কি এখন সাজে!

আকাশভাঙা জলের তোড়ে বাড়ুক নদীর জল,

মেঘের ভিতর বাজের কড়াৎ হাসুক খলখল।

যাক ভেসে যাক বসতবাড়ি দু’কূল ছাপা জলে।

নৌকোখানি অটুট থাক ভাসুক অকূল জলে

ওটাই তার ঘরকন্না জীবনপ্রীতি যাপন সম্বল।

 

(না— নৌকো এবং নাইয়া— নাবিক/ মাঝি/ পেশাগত আঞ্চলিক পদবি)

 

◊♦◊

 

হলুদ জামা ও কালো বিছানা

 

ভোরের কুয়াশা ফেঁড়ে সূর্য তার সাজায় সংসার।

সোনালি ডানার পাখি প্রভাতী রোদ্দুর উড়ে এসে

আমার ধূসর উঠোনে খোঁজে, প্রাতরাশ দানা।

সারারাত অভুক্ত ঘুমহীন শীতার্ত শিশুরা

নতুন হলুদ জামায় ঢেকে আদুল শরীর,

পাখিটাকে কানামাছি খেলার নিকটবন্ধু ভেবে

খুদে আঙিনায় মহানন্দে লুটোপুটি খেলা খেলে।

 

আমি সূর্যপ্রণাম আর সকালের প্রাণায়াম সেরে

নেমে পড়ি দানাপানি কানাকড়ি যোগাড়ের পথে।

দুপুরের খরতাপে অশ্রু ঘামে নাজেহাল জেরবার,

হিম হতাশায় শূন্য ভিক্ষেথলি হাতে ঘরমুখো হই।

ঘরে ফিরে দেখি শিশুদের গায়ে নেই সে নতুন জামা

হলুদপাখিটা গোলাপি আবির মেখে সায়ংসন্ধ্যায়

ফিরে গেছে পশ্চিমী পাহাড় পার অন্য কোনো দেশে।

শিশুরা নেতিয়ে পড়ে‌ছে ফের রাত্রির কালো বিছানায়।

 

◊♦◊

 

ঋতুসংহারের গল্পগাছা

 

পাহাড়ি অরণ্যঘেঁষা কোনো এক স্থানে জনশ্রুতি,

স্বর্গ হতে নেমে আসে সালংকারা ষোড়শী রূপসী,

লতাকুঞ্জে হাওয়া দোলনায় দোলে ফাল্গুনী রাতে।

চারপাশে গড়ে ওঠা নয়া নয়া অতিথিশালায়

সে দৃশ্য দেখার জন্য প্রায়শই শত শত পর্যটক আসে।

রুদ্ধকাম বৃদ্ধস্বামী সহ জনৈক তিরিশের নবপরিণীতা

সেখানে হাজির হয় মধুচন্দ্রা যাপনের মগ্ন অভিপ্রায়ে।

 

বৃদ্ধের হৃদয়ে ও চোখেমুখে প্রতিবর্ত বসন্তবিলাস,

কাহিল শরীরে নেই দহনের যুৎসই সুদাহ্য ইন্ধন।

নবোঢ়ার মনে ও শরীরে মজুত টাটকা বারুদ

স্ফুলিঙ্গের আসঙ্গলিপ্সায় উন্মাদ উন্মুখ।

সারাদিন ঘুরে ঘুরে তারা দেখে নিসর্গের শোভা,

হরিণহরিণী আর পাখিদের যূথবদ্ধ প্রণয়-বিহার।

রাতের বিছানা শ্মশানের নিস্তব্ধ পরিত্যক্ত চিতা।

 

একদিন পড়তি বিকেলে ফোয়ারায় সান্ধ্যস্নান

অঙ্গরাগ প্রসাধন-শেষে নববধূ হাসিমুখে বলে—

‘পাহাড়ি ঝোরার কাছে কোনো এক নির্জন গুহায়

কবিরাজী জ্ঞান আছে জনৈক যুবক সন্ন্যাসী

যৌবনের সঞ্জীবনী জড়িবুটি, তাগা, সালসা দেয়,

আমি গিয়ে নিয়ে আসি, রাতগুলো বর্ণময় হবে।’

তারপর প্রতীক্ষায় বহুরাত বহুদিন অতিক্রান্তপ্রায়

সে আর ফেরেনি অথর্বের ভাড়া করা অতিথিশালায়।

সে বৃদ্ধ এখন বদ্ধপাগল অর্ধনগ্ন বোবা পর্যটক

পাহাড়ি ঝোরার কাছে খুঁজে চলে সন্ন্যাসীর গুহা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 5 =

Recent Posts

কাজী তানভীর হোসেন

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বঙ্গের প্রথম নারীকবি চন্দ্রাবতী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

মহাজনী সভ্যতা

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ইসলাম

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি ‌বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের‌ সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়‌ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।

Read More »
তপোমন ঘোষ

কবে আমি বাহির হলেম তোমারি গান গেয়ে…

হঠাৎ চোখ পড়ে বুথের এক্সিট দরজাটার দিকে… একটা ছোট্ট ছায়া ঘোরাফেরা করছে! চমকে উঠে সে দেখে, সেই বাচ্চাটা না! মায়ের কোলে চড়ে এসেছিল… মজা করে পোলিং অফিসার তার ছোট্ট আঙুলে লাগিয়ে দিয়েছিলেন ভোটের কালি। হুড়োহুড়িতে মা ছিটকে গেছে কোথাও— নাকি আরও খারাপ কিছু! বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে তার। শুনশান বুথে পোলিং আর সেক্টর অফিসার গলা যথাসম্ভব নিচুতে রেখে ডাকতে থাকেন বাচ্চাটাকে। একটা মৃদু ফোঁপানি… একটা হালকা ‘মা মা’ ডাক— বাচ্চাটা এইসব অচেনা ডাকে ভ্রূক্ষেপও করে না, এলোমেলো পায়ে ঘুরতে থাকে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বুদ্ধ: অন্ধকারে আলোর দিশারী

তিনি বলেন গেছেন, হিংসা দিয়ে হিংসাকে জয় করা যায় না, তাকে জয় করতে প্রেম ও ভালবাসা দিয়ে। মৈত্রী ও করুণা— এই দুটি ছিল তাঁর আয়ুধ, মানুষের প্রতি ভালবাসার, সহযোগিতার, বিশ্বপ্রেমের। তাই তো তাঁর অহিংসার আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে,— চীন, জাপান, মায়ানমার, তিব্বত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটানে। এই বাংলায় যে পালযুগ, তা চিহ্নিত হয়ে আছে বৌদ্ধযুগ-রূপে। সুদীর্ঘ পাঁচ শতাব্দী ধরে সমগ্র বাংলা বুদ্ধ-অনুশাসিত ছিল। বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ বৌদ্ধ কবিদের দ্বারাই রচিত হয়েছে।

Read More »