Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

পিয়াস মজিদের কবিতাগুচ্ছ

হয়তো এইরকম

গরমে চর্বিবহুল গলে যায় যে গান
সুরের নালায়
দীর্ঘজীবনের বাঁকগুলো
লিরিক্যাল বীর্যবান
তোমার মক্কেল
তার তানহা ধরে রাখবে
ওটিটির আত্মা
রক্তপাত ছাড়া এই তথৈবচ প্রেম
বৃষ্টি এলে যে ‘বৃষ্টি’ নামের হারানোদের মনেই পড়বে
এমন না যেহেতু,
চিকা-মারা দেয়ালের
গা-গতর থেকে উদ্ধার করা
একাদশ পার্টি কংগ্রেস
বিপ্লব ভিজে যাচ্ছে আপাতত
যারেই পুড়তে দ্যাখো
শেষপর্যন্ত জ্বলে শুধু
আগুনের অন্তর
‘১২ই মে’ শুনে
কাকে মার্ক দেবে বেশি
পিটার স্টারস্টেড নাকি অঞ্জন
যাকে তুমি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছ
এ শহরে
সে আসলে তোমার কবর।

*

সকাল সকাল

কত কথা বলে
কত কিছু ছিঁড়ে
তীব্র তাজা ক্ষুধায়
কিছু না পেয়ে
খেয়ে-টেয়ে
বাসি বার্গার;
যা চমকায় সবই কি বিদ্যুৎ?
গ্লাসভরা ছন্দের দুধ।
বুকোস্কির বাক্যে
কোহেনের গানে
তুমি থাকলে
এহেন হালফিলে
প্যারাডাইস বাঁচল
যত পাস্ট টেন্সে।
চোখের চাখাতে
কাজ হয়ে গেলে
কে এর চে’ নীচে নামে!
কবরে নামার আগে
নানাপ্রকার নীচে নামা
প্র্যাক্টিস করা লাগে।
কোনো না কোনো
শালার ছেলের
মিটিংয়ের মিনিটসে
আমাদের উপরে ওঠা
নিশ্চিত হতে পারে।
শিয়াল-শকুনের
লালায় ভিজার আগে
এই গরমে কুরবানি হব
কতটা শেয়ারে;
তারও আগে এ আদম
পাবে কি আষাঢ়ি কদম?
নাকি ঘামের মল্লারে,
ভেজা আন্ডারওয়্যারে
দুনিয়াদারির আগুনে পুড়ে
কোনো শান্ত সাবওয়ে ধরে
ঢুকে পড়বে তার
ব্যক্তিগত শান্তিনিকেতনে
কিংবা
অশান্তির হেডকোয়ার্টার্সে!

*

কিয়োরোস্তামির বার্থডে নোট

এখন অতিসকাল
ঘরে গুমোট, বাইরে বৃষ্টি।
তেহরানের কোনো কবরের
ছায়া এসে দোল খায়
নবোদয় হাউজিংয়ের বিছানায়।
আসন্ন আস্ত দিনের
সবজেটে-রক্তমাংসল দেহের
স্যুপ, কিমা, কারির স্বাদ
চেখে দেখা হয়
ঘুমঘুম রসনায়।
ছেলেটা দৌড়ায়
মেয়েটা পালায়
অলিভের ছায়ায়
মহাকালের লুকপলান্তি খেলায়
বারবার এই বান্দার পা হড়কায়।
খালি রাস্তায়
আরোহীশূন্য গাড়িটা ছুটে যায়
বন্ধ মিউজিয়ামের দরোজায়;
আজ কত নম্বর বিপদসংকেত?
সব মাছধরা ট্রলারকে
উপকূলের কাছাকাছি
অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
বৃষ্টি জোর বেগে না
তবে আকাশে কালো মেঘ
মাটিতে কাদার ক্লোজআপ!
কিয়োরোস্তামির কবর থেকে
০৩টা ফুল
০৫টা প্রজাপতি
০১টা হাওয়া এসে
সকালটা বুড়ো হওয়ার আগেই আমাকে
গোধূলির মায়ার মতো
ঝরিয়ে দিয়ে যায়।

চিত্রণ: মুনির হোসেন
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »