বই
(উৎসর্গ: নবনীতা সেন, সুজনেষু)
নিখিল জ্ঞানের শিশু
নতভাবে ফুটে থাকো রৌদ্র-সায়রে
বিলাপের মতো ঈষৎ আন্দোলিত হও—
ধিমে আসা হ্যাজাকের আলোয়।
তোমাকে জাগাব আমি কোনও এক বারুণী-মত্ত মাঝরাতে—
তাসের মতন বেটে
কখনও-বা চালান করে দেব টেবিলের তলায়
হয়তো পুরনো জাহাজি সে, ঠিকঠাক নারীসঙ্গে বঞ্চিত
ভুলেও জিজ্ঞেস কোরো না তাকে সমুদ্রের কথা
সে আরেক শাপগ্রস্ত, তরল নক্ষত্র এক
তার-চে পিপেতে লুকিয়ে থাকা বিড়ালীর সাথে
ভাগ করে নিয়ো টুনা-স্যান্ডউইচ—
অন্ধকারের জটিল গ্রন্থি
২
যদি একঘেয়ে লাগে, বোলো, মেষপালনের মত
সহজ দায়িত্ব দেব কোনও, গান গেয়ে শিস দিতে দিতে
বানিয়ো পাতার মুকুট
অতিগ্রীষ্মে সতর্ক থেকো
এসময় দলবেঁধে পশুরা পাগল হয়— ক্রুদ্ধ পশু
মাইল মাইল পথ হেঁটে যায় মিষ্টিজলের খোঁজে
জলভরা চামড়ার থলে কাঁধে তুমি যেয়ো
নিচু ডাঙার খোঁজে উন্মাদ পশুর পিছনে
যেখানে জল থাকে সারা বছর, সরলবর্গীয় ছায়াঘেরা
৩
যদি ভাল না লাগে, হাইওয়ের পাশে যে সরাই
সেখানেই দেখা হবে উস্তাদ
রাতে একসাথে খাটিয়ায় বসে
সপ্তর্ষি-মণ্ডল, কালপুরুষে আঙুল বোলাতে বোলাতে
গল্প করা যাবে, জিজ্ঞেস করা যাবে,
ট্যাটু সম্পর্কে তুমি কতটা সিরিয়াস— হাতের নিশানা কেমন?
শেষ কবে শিকারে গিয়েছ?
ঘুমিয়ে পড়ে যদি কেউ স্বপ্ন দেখি
তা-ও ভাগ করে নেব সমান সমান—
বলো রাজি আছ কিনা
৪
পাথরের ছাদ হতে পরপর ঝোলানো ঘণ্টাগুলি—
জাপানি অক্ষর আর সূক্ষ্ম কারুকাজ করা
একটি কাঠের সুদৃশ্য দণ্ড দিয়ে সেগুলোকে ছুঁয়ে যেতে হবে
তাতেই যা হবার হবে— না লেখা কবিতার প্রথম পঙ্ক্তি
নন-ফিকশনের প্রোলগ— ব্লার্বের লেখা
অথবা সমস্ত নীল উজাড় করে দেওয়া
একটি ছোবল…
অথচ তোমার সঙ্গগুণে যত পুণ্য, আমি তার সবই
সস্তার সরাইখানায় এক বোতল জুয়ার প্রসঙ্গে খরচ করে ফেলি
দেখি— ফণীমনসার কাঁটায় লেগে আছে একটি শিশিরবিন্দু—
বলাই-বাহুল্য ওই আলোকবিন্দুটিই সেই সন্ন্যাসী যে কিছু পরে
মিশে যাবেন শ্মশানযাত্রীদের শোক ও মদে—
আর যার কোমরে বাঁধা আছে চূড়ার ঘণ্টাঘরের চাবি…
৫
তারপর একদিন সূর্যোদয়ের আগে শুরু করব ট্রেকিং
মধ্যাহ্নের একটু পরেই পৌঁছে যাব সূর্যাস্ত চূড়ায়—
যেখানে মন্দির তোমার,
চিৎকৃত নৈঃশব্দ্য দিয়ে গড়া
ধূসর বেদির উপরে বিশাল এক ঘণ্টা, দেবতার কানের মত
তার ঠিক নিচে বসে কাঁদব আমরা
ফেলে আসা নদী, বজরা খেত, ভেড়ার খামার
পাহাড়তলির চায়ের দোকানটির জন্য—
আমরা কাঁদব প্রেম, অভিজ্ঞান, আমাদের শৈশব,
এমনকি সূর্যমুখী খেতে ফেলে আসা মরদেহটির জন্য
তখন কীইবা থাকবে আর
অনেক নীচে বুদ্বুদময় কাচের ওই পেপারওয়েটটির কাছে!
যাকে ছুঁয়ে এতকাল বেঁচে থেকেছি
যার ভিতর বসে বসে এই মৃত্যুর কথা ভেবেছি!
Vishan sundar dada…
খুব ভালো লাগল পারিজাত, তুমি পড়লে খুব আনন্দ হল!
ভীষণ সুন্দর। আনন্দ পাই পড়ে। আবার বেদনায় মুষড়ে উঠি। লেখাগুলো মথিত করে রাখছে। আবার পড়তে হবে।
আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা ভাই
খুব ভালো লেখা, মণিমুক্তো
আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানবেন
কোনো মন্তব্যই যথেষ্ট নয়। একটানে পড়লাম। হাইওয়ের পাশে একটা সরাই দোল খাচ্ছে চোখের সামনে। ফণীমনসার ডালে লেগে থাকা শিশিরের শব্দ শুনছি। এই লেখাগুচ্ছের প্রতিটি শব্দকে আমার প্রণাম। প্রণত হে…
আর কী চাইতে পারতাম! “ভালোবাসা ছাড়া আর কোনো যোগ্যতাই নাই এ-দীনের” ?????