শেষবেলা
যতটা খিদে পেলে
আর খেতে ইচ্ছে করে না, ঠিক
সেরকমভাবেই একবার ভালবেসো,
ভালবাসা পেতে ইচ্ছে করবে না।
আমাতে মিশছ, আমি তো মিশে যেতে পারছি না।
প্রতিটা বাতাস আমাদের এভাবে স্পর্শ করছে, আমরা ভালবাসছি আমরা হাসছি কাঁদছি, একসাথে ওঠা-বসা করছি। তবুও একে অপরের হতে পারছি না, খাবলে খাবলে অস্তিত্ব খুঁজে চলেছি।
অথচ, তোমার জন্য মনকেমন করে
মনের ভেতর হামাগুড়ি দেয় ব্যাকুলতা, শূন্যতার রাসলীলা চলে। যাই হোক, আমাকে যেতে হবে পূর্বদিকে তুমি এগিয়ে যেয়ো পশ্চিমের শেষ মোড়টার দিকে। এই স্থানের নাম দেওয়া থাক শেষবেলা।
*
কান্নাতরী নদীটির তীরে
কর্পূরের মতো উধাও হয়ে যেতে এক তিল তাপমাত্রার প্রয়োজন। চাঁদের কলঙ্কের মতো দাগ রেখে পুজো হতে থাকা তুমি, অস্তিত্ব হাতড়াতে অস্বীকার করবে মানুষ বিশ্বাস করবে এটাই সহজ এর থেকে সহজ কিছু নেই।
ভেবেছিলাম কেঁদে ভাসিয়ে দেব,
তোমার উঠোন ঘেঁষে বয়ে যাবে নদী যার নাম রাখব কান্নাতরী। দুটো যাযাবর পাখি ফেলে আসা স্মৃতি ধুয়ে নেবে সেই জলে, নদীর এপার ওপার জুড়ে শিমুলের বাগান। তুমি তীরে বসে ভাসিয়ে দেবে কাগজের ডিঙি, একমুঠো বাতাস অস্তিত্ব উড়িয়ে নিয়ে যাবে তার। তুমি হাত বাড়িয়ে আঁকড়ে ধরতে চাইবে। নিজের বুকের পাঁজর খুলে খুলে দেখতে থাকবে তারপরও আবার অস্বীকার করবে।
এরপরে, তোমাকে পুড়িয়ে ফেলব ভেবেছিলাম। দেখি, তুমি নিজেই পুড়ে যাচ্ছ, যে কোনও সময় যে কোনও স্থানে আমার গল্প বলছ আমায় খুঁজছ তড়িৎচালিত যান্ত্রিক উপাদানে।
তবু মনে হয় নেই, কোথাও নেই। তোমার মনে নেই আমি। তোমার দুঃসংবাদের অটল বৃত্তে নেই। তোমার মনস্তাপে নেই তোমার প্রীতি-করে নেই।
আছি কেবল একটা ভাসমান পদ্মফুলের মতো যা ভেসে যাবে ওই নদীর ধারার দিক ধরে, চন্দ্র দিবসের ভাটার টানে।
*
প্রেম বিলাপ
আমাকে ভেঙে-গড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে চলে গেলে। আমার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা স্বপ্নগুলো এখন একা একাই বাঁচে। দহনমূলক যে ক’টা কবিতা লিখেছিলাম— তুমি চলে যেতে এখন বড্ড বোকা বোকা লাগে। কোন এভারেস্টের পাদদেশের শীতল আবহাওয়া যেমন একটুকরো রোদ ভালবাসে, দু’টি গাছ যেরকমভাবে নিজেদের সুখ-দুঃখ ভাষাহীন আদান-প্রদান করে— তোমার সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা এমন। ভাল কী খারাপ আছ এখন কিছুই জানার অধিকার নেই— শুধু তুমি বেঁচে আছ— কিছু লেগে থাকে সম্পর্কের দল বলে দিয়ে যায় বারে-বারে।
এখানে একটি মজার কথা হল— প্রতিবার তোমাকে ভুলে যাবার যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাই তা নিমেষেই জল ঢেলে দিয়ে যায় আমাদের ঘিরে থাকা পরিচয়-টা। সকালবেলার আকাশ দেখলে মনে হয় শুধুই শূন্য, কিন্তু কে জানে— কত নক্ষত্রের প্রজন্ম লুকিয়ে আছে আমাদের মতো।