নাসির আহমেদ

নাসির আহমেদ

নাসির আহমেদ (১৯৫২) পেশায় সাংবাদিক। গত প্রায় ৪৫ বছর এই পেশায় আছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক the daily express ও বাংলা দৈনিক দেশের কণ্ঠ-র উপদেষ্টা সম্পাদক। এ যাবৎ তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৩১টি। ছড়ার বই ছয়টি। গল্পগ্রন্থ একটি, উপন্যাস একটি। প্রবন্ধগ্রন্থ একটি। বেতার ও টেলিভিশনের জন্য এ যাবৎ আধুনিক, দেশাত্মবোধক-সহ গান লিখেছেন সহস্রাধিক। টেলিভিশনে নাটক লিখেছেন, মেগা সিরিয়াল তিনটি (১০০ পর্ব, ৮৭ পর্ব ও ৫২ পর্ব) এক পর্বের নাটক বারোটি। নাটকের জন্য দুবার পেয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সংস্থা (বাচসাস) পুরস্কার। সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য শিল্পী বশীর আহমেদ স্মৃতি পদক-২০১৭ অর্জন করেছেন। কবিতার জন্য একাডেমী পুরস্কার ২০১০, বিষ্ণু দে পুরস্কার (২০০০), পশ্চিমবঙ্গ, ভারত, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতি সম্মাননা (২০১২), জলপাইগুড়ি-ভারত, জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার (সাগরদাড়ি যশোর), সুকান্ত একাডেমী একাডেমী পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পদক, কবিতালাপ পুরস্কার, কবি মোজাম্মেল হক স্মৃতি পুরস্কার-সহ বহু সম্মাননা ও স্বীকৃতিতে ভূষিত। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আকুলতা শুভ্রতার জন্য’, প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। সাম্প্রতিকতম কাব্যগ্রন্থ: ‘বিভ্রান্ত হৃদয়ের মানচিত্র’ (বইমেলা ২০২৪)।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

নাসির আহমেদের কবিতা

আবার কি গ্রহণের কাল কোথাও ঘটছে অজ্ঞাত কোনও তাণ্ডব ভয়াবহ! সাংঘর্ষিকও, নিশ্বাস নিতে পারছি না মোটে বায়ু দুর্বহ! হঠাৎ বাতাসে কেন এত পোড়া বারুদের ঘ্রাণ!

Read More »

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »

ধর্মযুদ্ধ

এই যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শতমুখে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, এই যে ফেসবুক জুড়ে বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে সম্মানীয় নেতা-মন্ত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, হিংসার প্রদর্শনী— এর প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে তাঁরা কি জানেন? পাড়ায় পাড়ায়, রকের আড্ডায়, ক্লাবের আড্ডায়— সর্বত্র বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্বোধ অসংযত উচ্চারণ কোন শিশুর হৃদয়ে কেমন ভাবে প্রোথিত হয় তাঁরা কি জানেন? ভেবে দেখেছেন কি এই বিদ্বেষিতার মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আগামী প্রজন্ম?

Read More »

চেতনার বিবর্তন ও ঈশ্বরের নৃবিজ্ঞান

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

Read More »

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »

চন্দ্রাবতী: বঙ্গের প্রথম পদকর্ত্রী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »