
সম্পাদকীয়
দুর্গাপুজো সর্বদা শারদ নয় পৃথিবীতে যত জনগোষ্ঠী আছে, প্রত্যেকের বার্ষিক ধর্মীয় আনন্দোৎসব আছে। বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমা, মুসলমানদের ইদ, খ্রিস্টানদের বড়দিন, তেমনই বাঙালি হিন্দুদের দুর্গাপুজো। এখানে মিল

দুর্গাপুজো সর্বদা শারদ নয় পৃথিবীতে যত জনগোষ্ঠী আছে, প্রত্যেকের বার্ষিক ধর্মীয় আনন্দোৎসব আছে। বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমা, মুসলমানদের ইদ, খ্রিস্টানদের বড়দিন, তেমনই বাঙালি হিন্দুদের দুর্গাপুজো। এখানে মিল


India’s First Bengali Story Portal. আলোছবিতে পুরীর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব।

একদিন কবিকে তাঁর ঘরে দুপুর বেলায় আমার দিকে তাকাতে বলে সোজাসুজি জিজ্ঞেস করেছিলাম— আমার তো এখন তেরো বছর বয়স; দেখুন তো আমি শিশু না লেডি? কবি আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে অনেকক্ষণ দেখলেন, তারপর বললেন— একবার পিছন ফেরো দেখি। তাও তাঁর দেখা হল। আমি অধৈর্য হয়ে বললাম— কী হল বলুন, আমি কি আদৌ এখন শিশু আছি? কবি ভেবেচিন্তে গালে হাত দিয়ে যেন অনেক চিন্তা করে বললেন— তুমি আমার কাছে সত্যিই খুব ছোট্ট শিশুই। তবে একটা বিশেষণ যোগ করে বন্ধনীতে বলতে হয় পাকা শিশু।

রবীন্দ্রমোহন কারাগারের জনৈক কর্মীর ছবি আঁকতেন। দীর্ঘ দিন দাড়ি না কাটার ফলে ওই কারাকর্মীর গালভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি ছিল। কিন্তু ঘটনাচক্রে ওই কর্মচারী বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে জানান, এক বাঙালিবাবু তাঁকে দেখে ছবি আঁকছেন। স্ত্রী উৎসাহী হয়ে তাঁকে বলেন, তুমি ভাল করে দাড়ি কেটে গেলে তোমাকে আরও সুন্দর দেখতে লাগবে, ছবিও ভাল হবে। সেইমত পরদিন দাড়ি কাটিয়ে ফেললে ওই ব্যক্তির মুখের চেহারার পরিবর্তন হয়ে যায়, ফলে পক্বকেশ শ্মশ্রুগুম্ফ ছবিটি থেকে যায় অসম্পূর্ণ।

স্মরজিৎ তাঁর ছাত্রজীবনে ও পরে রাজনৈতিক প্রতিবাদে, আন্দোলনে, ও বিজ্ঞানমনস্কতার প্রচারে নিবেদিত সাংবাদিকতায় সক্রিয় ছিলেন। সোনাগাছি প্রকল্পের কাজে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মানুষের পেশা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যের অধ্যাপক হিসেবেও কাজ করেছিলেন। তাঁর অতীত জীবনের সেই জ্ঞান, বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা কলকাতায় যৌন পরিষেবায় নিয়োজিত শ্রমজীবীদের পেশাগত স্বাস্থ্যের ব্যবস্থাপনা করে, এইচআইভি/এইডস অতিমারী প্রতিরোধ করার কাজ শুরু করেন। দুর্বার-এর এই কাজ ভারতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ও সারা পৃথিবীতে আজও একটি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

India’s First Bengali Daily Magazine. নীল ঘোড়া। শিল্পী: উজ্জ্বল ঘোষ

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

মনু-পরাশর-বৃহস্পতি-কৌটিল্যদের অনুশাসন এসে নারী প্রগতির রাশ টেনে ধরল। নারীর শিক্ষালাভের ইতি ঘটল, অন্তঃপুরে বাস নির্দিষ্ট হল তাঁর জন্য। তাঁকে বাঁধা হল একের পর এক অনুশাসনে। বলা হল, স্বাধীনতা বলে কোনও পদার্থ থাকবে না তাঁর, ‘ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি’! কুমারী অবস্থায় পিতা-মাতার অধীন থাকবে সে, বিয়ের পর স্বামীর, বার্ধক্যে সন্তানের। ধাপে ধাপে তাঁর ওপর চাপানো হতে লাগল কঠিন, কঠিনতর, কঠিনতম শাস্তি।