Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

সুদীপ জোয়ারদারের ছোটগল্প

দধীচির তনুত্যাগ

একটুও না থেমে ‘দধীচির তনুত্যাগ’ গড়গড় করে বলে গেল অক্ষয় সরকার। একদমে অতবড় কবিতা! চমকিত সবাই।
‘থামলেই ভুল হত।’ খৈনি-খাওয়া দাঁত বের করে অক্ষয় সরকার হাসে। গণেশ সাহা বলে— ‘ধরে নিন এটাই আপনার ফেয়ারওয়েলের অনুষ্ঠান। গানের বদলে আবৃত্তি।’
‘কিন্তু মিষ্টিমুখ?’ পাশে দাঁড়িয়ে ফিটার প্রশান্ত শুধোয়।
সুযশ আজ অবধি কখনও এর কাছ থেকে সুবাক্য শোনেনি। আজ যে একেবারে বিগলিত করুণা জাহ্নবী যমুনা!
গণেশ সাহা জবার। অর্ধনারীশ্বরের মতো কিছুটা শ্রমিক আর কিছুটা উপরওয়ালার ভূমিকা ওর। যে কথাটা সুযশ বলতে পারছে না সেটাই বলে দেয় গণেশ সাহা। ‘মিষ্টিমুখের জন্য তোমরা তো আছই। দিয়ে দাও দুটো প্রাণ খুলে গাল!’
‘কী যে বলেন! গাঙ্গুলিদার মতো মানুষ হয়!’ প্রশান্ত জিভ কাটে।
‘স্বীকার করছ তা হলে?’
‘স্বীকার কে না করবে! আসলে মিলের শ্রমিক-ঠেঙানো লাইন ওনার জন্য নয়। এতদিনে ঠিক লাইনে চললেন।’
রাত্রি আটটায়, বসেরা বেরিয়ে গেলে এমনই জমায়েত হয় রোজ। রোজ মানে বি শিফটে। অন্যদিন সে জমায়েতের সুর আলাদা। অভিযোগ, হুঙ্কার, কখনও গালাগালি, কখনও বচসা। আজ এই স্পিনিং মিলে সুযশের শেষ দিন। তাই আজ অন্য মেজাজ। অন্য সুর।
‘মাইনে তো বোধহয় অনেকটাই কম হয়ে গেল?’ হাল্কা মেজাজ থেকে সহসা গণেশ সাহার ভিন্ন ডিরেকশন।
বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল সুযশের।
মাইনের কথাটা এই নিয়ে আজ চতুর্থবার শুনল। প্রথমবার রেজিগনেশনটা দেবার সময়। ‘চললেন তা হলে!’
ম্যানেজার সাহেবের গলায় বিষাদ নয় কিন্তু। বরং, মিটিমিটি হাসি আর ভুরু নাচানোয় স্পষ্ট, ওঁর কাছে বেশ উপভোগ্য সুযশের এই প্রস্থান। এটা আরও বোঝা গেল গলায় শ্লেষ এনে যখন বললেন— ‘মাইনে তো অর্ধেক হয়ে গেল। যা দ্রব্যমূল্য— সংসার কি চলবে!’
আবার সেই মাইনেরই প্রসঙ্গ। একটা ঢোঁক গিলে সুযশ গণেশ সাহাকে বলল— ‘টাকাটাই কি সব?’
ঘরের জমায়েতটা এসময় হাল্কা হয়ে গেল সুযশের ইমিডিয়েট বস তালুকদার ঢোকায়। তালুকদারের হাতে একটা মেমো বই। অন্যদিন এমন জমায়েত দেখলে তালুকদার নিশ্চিত একটা চিমটি কাটতেন— ‘প্রোডাকশনের দিকে নজর না দিয়ে শুধু আড্ডাই চলছে। ‘আজ সুযশের শেষ দিন। তাই কি তালুকদারও বিগলিত করুণা, জাহ্নবী যমুনা!
‘চললে তা হলে! চোদ্দোটা বছর সুখে দুঃখে একসঙ্গে— খারাপ লাগছে।’
তালুকদারের এই বিগলিত করুণার আসল উদ্দেশ্য অবশ্য অন্য। তা প্রকাশ পেল পরের কথায়— ‘গণেশবাবুও আছেন, ভালই হল। শোনো, ওই যে অনুতোষের কেসটা— মেমো তোমাকে লিখতে হবে না। কাল রিলিজ পেয়ে যাবে, মানে আজই তোমার শেষদিন। শেষদিনে আর! মেমো আমিই লিখে এনেছি। ঘটনাটা তো জানিই। বিরোধী ইউনিয়নের চাঁই। কেসটা যাতে দাঁড়ায়— সেভাবেই লেখা।— নাও সই করো। গণেশবাবুও উইটনেস হিসাবে পাশে।’
মেমোটা সুযশের দিকে বাড়িয়ে দেন তালুকদার।
সুযশ বলে- ‘বাবাঃ, লিখেছেন তো অনেক। একেবারে তিনপাতা। একটু পড়ে নিই।’
‘আবার পড়ার কী দরকার? তুমি তো চলেই যাবে। আমার আর ম্যানেজার সাহেবের ওপর চাপ আছে। কেসটা দাঁড় করাতেই হবে। শেষটায় একটু হেল্প করে যাও আমাদের। ইনসিডেন্টটা তোমার জায়গায় অন্য কোনও সুপারভাইজারের সামনে হলে তাকে বলতেও হত না।’
‘একটু পড়েই নিই না!’
‘বেশ পড়ো। গণেশবাবুও বসুন।’ একটা চেয়ার টেনে বসতে যান তালুকদার। এমন সময় ‘আগুন আগুন’ চিৎকার। হাঁফাতে হাঁপাতে ঢোকে রোরুমের বীরেন। —’এক নম্বর লাইনের কার্সনার বিটারের মোটরের পাশে আগুন লেগেছে। পাশে অনেক তুলোর বস্তা। সব জ্বলছে। আমি ড্রাই পাওডার ফাটিয়েছিলাম দুটো, কাজ হয়নি। শিগগির ফায়ার ব্রিগেড কল করুন।’
মেমো ফেলে সুযশ গণেশ সাহাকে নিয়ে ব্লোকমের দিকে ছোটে। তালুকদার মেমোটা বগলে নিয়ে ফায়ার ব্রিগেডকে ফোন করতে দৌড়োন।
ফায়ার ব্রিগেড আসার আগেই অবশ্য আগুন নেভে কর্মীদের চেষ্টায়। শিফট শেষের ভোঁও পড়ে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে। তালুকদার সুযশের দিকে তাকান— ‘চলো মেমোটায় সইটা সেরে নেবে।’
‘কিন্তু গণেশবাবু?’
‘গনেশবাবুকে নিয়ে অসুবিধে হবে না। ওর ইউনিয়ানের চাপেই তো এসব করতে হচ্ছে। তুমি তোমারটা করে চলে যাও।’
‘মেমোটা পড়লামও না তো!’
‘পড়ার দরকার নেই। তোমাকে কে ধরবে?’
‘ধরাধরির প্রশ্ন নয়। চোদ্দো বছর কোনও পাপ কাজ করিনি। আজ শেষ বেলায়-‘
‘ও, তা হলে তুমি সই করবে না?’ সহসা তালুকদারের ভিন্ন মূর্তি।— ‘এই জন্যই তোমার এখানে কিছু হল না। একটুও আপস করবে না।’
‘তার জন্য আপনারাও তো কিছু কম করে দেননি। ন্যায্য প্রোমোশন আটকেছেন। একসঙ্গে তিনমাস নাইট শিফট করিয়েছেন। তিনবার সাসপেন্ড হয়েছি। আর শোকজ ওয়ার্নিংয়ের তো শেষ নেই।’
‘কিছুই হত না, যদি তাল মিলিয়ে চলতে। যাকগে, বড় ভাই হিসাবে বলছি— মেমোটায় সই করে দিয়ে যাও। না হলে আমাদের খুব অসুবিধে হয়ে যাবে। এবং হয়তো তোমারও।’
সুযশের আজ শেষদিন। আর অসুবিধের ভয় ওর নেই। ভয় থাকবেই বা কেন? যেখানে যাচ্ছে, ফ্রেশ অ্যাপয়েন্টমেন্ট। রিলিজ অর্ডার না পেলেও কিছু যাবে আসবে না। এখানে পিএফে কিছু টাকা আছে ঠিকই, তবে তার জন্য একজনকে বধ করে যেতে ও পারবে না। তালুকদারের কথায় কান না দিয়ে হনহন করে ও এসে ঢোকে অফিসে। তালুকদার ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে থাকেন। তারপর ওর পিছুপিছু কিছুটা এসে কোয়ার্টারের দিকে চলে যান।
সুযশ শিফট শেষের কাজগুলো সেরে নেয় দ্রুত। তারপর পরের শিফটকে চার্জ বুঝিয়ে দিয়ে কোয়ার্টারের দিকে পা বাড়ায়।

‘শেষ দিনটা দারুণ কাটল জানো!’ কোয়ার্টারে ফিরে সোফায় ধপ করে বসে তিতলিকে বলল সুযশ।
‘কী রকম?’
‘শেষদিন বলে একটুও অন্যরকম নয়— সেই টেনশন, আগুন। মিল বোধহয় এরকমই হয়। সব থেকে আশ্চর্যের কি জানো, এতদিন থেকে একটা লোক চলে যাচ্ছে— অথচ কারও কোনও হেলদোল নেই।’
‘অন্য জায়গা হলে ফেয়ারওয়েল পেতে।’
‘এখানেও একটা ফেয়ারওয়েল হয়েছে।’ অক্ষয় সরকারের একদমে ‘দধীচির তনুত্যাগ’ আবৃত্তির গল্পটা সুযশ বলে তিতলিকে।
তিতলি বাংলার ছাত্রী। তথ্য দেয়— ‘‘এটা আছে ‘বৃত্রসংহার’ কাব্যের ত্রয়োদশ সর্গে।’’ হঠাৎ-ই প্রসঙ্গ বদলে তিতলি বলে— ‘ফোন নিয়ে যাওনি, ওদিকে মেজদা ফোন করেছিল জানো। আবারও করবে।— আরে দ্যাখো বলতে বলতেই— নিশ্চয় মেজদা— যাও ধরোগে।’
সুযশ ছুটে যায়। টিভির টেবিল থেকে মোবাইলটা নিয়ে কানে ধরে।
‘তুই নাকি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছিস?’
‘দিচ্ছি নয়, দিয়েছি।’
‘এত এত পয়সা খরচ করে তোকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ালাম, এই জন্য?’
‘কেন শিক্ষকতা কি খারাপ?’
‘খারাপ-ভালর কথা নয়। কথাটা প্রেস্টিজের। লোককে কী বলব? সব্বাইকে কত গর্ব করে বলতাম, আমার একটা ভাই ইঞ্জিনিয়ার। আর এখন বলব, ভাই একটা স্কুলে ওয়ার্ক এডুকেশনের টিচার! আমাদের কথাটা একটু ভাবলি না?’ ঘট করে ফোন রাখার আওয়াজ হল।
তিতলি বলল— ‘ও তোমাকে বলা হয়নি, দুপুরে বড়দাও ফোন করেছিল। চাকরি ছাড়ার জন্য খুব তড়পাল।’
সুযশ খুব ঘন হয়ে এল তিতলির। বলল— ‘দাদাদের কথা তো শুনলাম। এবার তোমার কথা বলো, এই যে চাকরি ছাড়লাম, তোমার ফিলিংসটা কী?’
তিতলি বলল— ‘আমি তোমার স্ত্রী। তুমি যেখানে যাবে, আমিও সেখানে যাব। তবে বাবা ইঞ্জিনিয়ার পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। তখন স্কুল-শিক্ষক পাত্র অনেক এসেছিল, আমরা বাতিল করেছিলাম।’
‘তার মানে তুমিও খুশি নও!’ মাথায় আগুন জ্বলে উঠল সুযশের।—’বসো, একটু আসছি।’
বলে ঘর থেকে এক লাফে বেরিয়ে দ্রুতপায়ে হেঁটে তালুকদারের কোয়ার্টারের কলিংবেল বাজাল।
‘কী ব্যাপার?’ দরজা খুলে গম্ভীর তালুকদার।
‘যদি আমি না যাই?’
‘মানে!’ তালুকদারের চোখে বিস্ময়। ‘সত্যি যাবে না?’
‘সত্যি। রেজিগনেশন ক্যানসেল করা যাবে?’
‘যাবে না মানে, তবে তার পরিবর্তে তোমাকেও মেমোটায়—’
‘রাজি।’
‘ঠিক আছে আমি এক্ষুনি ব্যবস্থা করছি।’
তালুকদার ম্যানেজার সাহেবকে ফোনে ধরে— ‘স্যর অনুতোষের কেসটা দাঁড়াচ্ছে। সুযশ চাকরি ছাড়ছে না। ওর রেজিগনেশনটা ক্যানসেল করতে হবে। তার পরিবর্তে ও মেমোটায় সই দিয়ে দেবে। না মেমোটা তো অফিসে— হ্যাঁ, হ্যাঁ সই কাল সকালেই করিয়ে নেব। চিন্তা নেই।’
‘বাঁচালে আমাদের, যা চাপে পড়েছিলাম!’ সুযশের দিকে ফিরে বলে তালুকদার।
তালুকদারের কোয়ার্টার থেকে যখন নিজের কোয়ার্টারে ফিরল সুযশ, তখন ও আর সুযশ নয়, হয়ে গেছে দধীচি। তবে আসল দধীচি তাঁর হাড় ক’খানা কেবল বিপন্ন দেবতাদলের উদ্ধারকল্পে উৎসর্গ করেছিলেন। কিন্তু সুযশের সামনে বিপন্ন দল একটা নয়। অনেক।

Advertisement

চিত্রণ: মনিকা সাহা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 − five =

Recent Posts

প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর তিনটি কবিতা

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

Read More »
সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়

ছোটগল্প: ফাউ

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

Read More »