Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

শক্তি পুরকাইতের ছোটগল্প

চরের মানুষ

সীতা বাউরি চিৎকার করতে করতে ছুটেছে— সনাতনদা, ও সনাতনদা, একটু চলো! নদীর চরে কে মরে পড়ে আছে গো!
সনাতন পিছন ফিরে তাকাতে দেখে সীতা চিৎকার করতে করতে তার দিকে আসছে। অনেকটা পথ ছুটে আসায় তার মুখ ঘামে ভিজে গেছে। কাপড়ও ভেজা ভেজা ভাব। সনাতন তার মুখের দিকে চেয়ে থাকে। চেয়ে থাকার পর বলে, ‘কে মরে পড়ে আছে রে সীতা?’
‘জানি না গো সনাতনদা! ঠিক দেখা গেল না। পেছন হয়ে পড়ে আছে, চিনতি পারিনি! এ গেরামের কেউ হবে হয় তো!’
‘ঠিক দেখেছিস তো!’
‘হ্যাঁ গো, আমি ঠিক দেখেছি, লোকটা পেছন হয়ে পড়ে আছে!’ সনাতন বিশ্বাস করে সীতাকে বলল, ‘তুই চল, আমি যাচ্ছি।’
সে লুঙ্গির ওপর গামছাটা বেঁধে নিয়ে নদীর চরের দিকে রওনা দিল। এ গ্রামে কারও কিছু বিপদ–আপদ হলে এমনই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষের কাজ করতে করতে নিজের বিয়ের কথাও ভুলে গেছে। সংসার বাঁধেনি। তাই সবার আগে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গোটা বাগদিপাড়া সনাতনকে দেবতার জ্ঞানে দেখে। সে তাদের একমাত্র দেবতা। গ্রামের বিচার-আচার সে একাই করে দেয়। রাতদুপুরেও সনাতনের ডাক পড়লে ছুটে যায়। নদীর ধার বরাবর বেশ কয়েকটা ঘর বাগদিদের বাস। বাগদিদের ছেলেপুলেরা ইস্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে খুব বেশি দূর যেতে পারে না। অল্প বয়সে ইস্কুল ছেড়ে কেউ ইটভাটার কাজ করে। আবার কেউ নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে চলে যায়। গ্রামের নিজস্ব প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও তেমন কেউ আসে না। তবে দুপুরে ভাত দেওয়ার সময় বাচ্চারা থালা নিয়ে ভিড় করে। খুব অল্প বয়সে এদের মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। তার ফলে ইস্কুল পিছনে পড়ে থাকে। তাদের স্বামীরা বেশিরভাগ সারাদিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে, রোজ মদ খেয়ে বাড়ি ফেরে। মদ খেয়ে বাড়ি ফিরলে যত বিপত্তি বউদের। নিত্যকলহ লেগে থাকে এদের মধ্যে।
সনাতন নদীর চরের দিকে এগোতে দেখে গ্রাম থেকে আরও কিছু লোক এসে ভিড় করে। সারারাত নাচানাচি করে গা-গতর বেশ ম্যাজ ম্যাজ করছে। নদীর জলে তখনও ভাসছে মাদুর্গার কাঠামো। গা থেকে সম্পূর্ণ মাটি ধুয়ে যায়নি। জলের উপর উঁচিয়ে রয়েছে দশটা হাত। সারারাত বিসর্জনের ঢাকের আওয়াজে মুখরিত ছিল এ গ্রাম। দূরে ভেসে যাওয়া কাঠামোর ওপর বসে এক ঝাঁক কাক ডেকে চলেছে কা-কা করে। নদীর জলে ডুব দিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তুলছে দুর্গা ঠাকুরের কাপড়-চোপড়গুলো। আবার কেউ সেই কাঠামোর ওপর বসে জলখেলা করছে। কাঠামোয় দাঁড়িয়ে ঝাঁপ দিচ্ছে কেউ কেউ। সনাতন সে দিকে তাকিয়ে থাকে।
লোকের ভিড় ঠেলে নদীর চরে এসে দাঁড়ায়। পড়ে থাকা লোকটাকে দেখে চমকে ওঠে! এ কাকে দেখছে! নদীর চরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে গঙ্গারাম। বউটা পাগলি হয়ে নিরুদ্দেশ হওয়ার পর গঙ্গারামের মাথাটাও খারাপ হয়ে যায়। কোথায় কখন আপনমনে নিজের খেয়ালে চলে যেত, গ্রামের লোক কিছু জানত না। প্রথম প্রথম এর-ওর বাড়িতে চেয়েচুয়ে চলে যেত। পরে আর কারও কাছে কিছু চাইত না। আপন খেয়ালে নদীর ধারে বসে বসে সারাদিনটা বিড়বিড় করে যেত। তার ভাষা কেবল সে একা বুঝতে পারত। আর কারও বোঝার ক্ষমতা ছিল না। একটা ফুলের মতো সংসার কীভাবে নষ্ট হয়ে গেল গ্রামের মানুষ দেখেছে।
সনাতন ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। মৃতদেহের সামনে এসে বসল। আস্তে করে ধরে মৃতদেহটা উল্টে দিল। মুখটা থেঁতলানো। মারের চোটে বিকৃতি হয়ে গেলে যেমন হয়। সারা মুখ কালশিটে হয়ে গেছে। চেনার উপায় নেই। সনাতন বুঝল, কেউ বা কারা তাকে মেরে ফেলে রেখে গেছে। নইলে এইভাবে কেউ মরতে পারে না। গোটা গ্রামের লোক দেখল কাদামাখা গঙ্গারামের মৃতদেহ। সারারাত মানুষের কোনও হুঁশ ছিল না। সবাই ব্যস্ত বিসর্জনের আনন্দে। সারা বছর ওই ক’টা দিনের অপেক্ষা করে থাকে গোটা বাগদিপাড়া। কবে পুজো আসবে। অভাব ভুলে আনন্দে মাতোয়ারা হবে সবাই। তারপর বিসর্জন। ছেলেবুড়ো নেশায় বুঁদ হবে। মেয়েরাও সিঁদুরখেলায় মেতে উঠবে। ছেলেমেয়েরা সবাই মিলে মা দুগ্গাকে জলে ভাসিয়ে দিতে যাবে। মাকে জলে ফেলতে গিয়ে তাদের চোখের কোণ জলে চিকচিক করবে। বাতাসে ভেসে উঠবে একটাই শব্দ, বলো দুগ্গা মাঈ কী জয়…!
সীতার কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়ে সনাতন ফিরে তাকায় তার দিকে। তার দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে জল। এ গ্রামে কারও কিছু হলে সেও ছুটে যায়। বাল্যবিধবা সীতা গোটা বাগদিপাড়ার বটবৃক্ষ। তার ছায়ায় সবাই এসে বসে। সেই কবে ভাইদের সংসারে এসে মাথা গুঁজেছে আর ফিরে যায়নি। কোথায় বা ফিরে যাবে। তার ফেরার কোনও আস্তানা নেই। ভাগের যা পেয়েছিল তা ভাইদের সব লিখে দিয়েছে। সে এইটুকু জানে, দু’চোখ বুজে চলে যেতে পারলেই শান্তি! সীতার দু’চোখে ভেসে ওঠে গঙ্গারামের মুখটা। ছোটবেলায় গঙ্গারাম কাকার কাঁধে চেপে মাঠে যেত। ছোট সীতা চুপটি করে মাঠের এক কোণে বসে বসে দেখত গঙ্গারামের হ্যাট হ্যাট করে গোরু তাড়িয়ে লাঙল দেওয়া। মাঠের লাঙল দেওয়া শেষ হলে আবার কাঁধে করে ঘরে নিয়ে ফিরত। গঙ্গারাম তাকে মেয়ের মতো সারা জীবন দেখে এসেছে। সেও বাবার মতো ভালবাসত। বাবা ছোটবেলায় মারা যাওয়ার পর তার কাছেই মানুষ।
সনাতন বলল, পুলিশকে একটা খবর দেওয়া ভাল।
গ্রামের সবাই তার কথায় সায় দিল, ‘ঠিক বলেছ। চলো, আমরা সবাই মিলে পুলিশকে একটা খবর দিই।’
গ্রামের সবাই চলল, পুলিশকে খবর পাঠাতে। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ এল। পুলিশ এসে দেখল মৃতদেহ। মুখের ওপর মাছি ভনভন করছে। পুলিশও জানে, গোটা বাগদিপাড়ার একতা কাকে বলে। ওদের একটা কোনও ছেলের গায়ে হাত পড়লে এমনই মেয়েমদ্দরা কাটারি-বঁটি নিয়ে ছুটে আসবে। পুলিশেরও ভয় বাগদিপাড়াটাকে নিয়ে। কতবার পুলিশকে ওই বাগদিদের হাতে মার খেতে হয়েছে, তার কোনও হিসেব নেই। তাই বাগদিপাড়ায় এলে ভয়ে থাকে। তেমন কিছু কাউকে বলতে চায় না। মাথায় রক্ত উঠলে, কখন কী করে বসে, তার ঠিকঠিকানা নেই। পুলিশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করল, লোকটা কে, কোথায় থাকে, কী বৃত্তান্ত। জানল, ভবঘুরে গঙ্গারামকে বহুদিন এ তল্লাটে দেখা যায়নি। সনাতনকে আলাদা করে ডেকে কথা বলে পুলিশ থানার উদ্দেশে রওনা হল। লোকে দেখল, পুলিশের জিপ গ্রামের মেঠোপথের ধুলো ওড়াতে ওড়াতে ফিরে যাচ্ছে।
সনাতন গঙ্গারামের মৃতদেহের সামনে এসে হাঁটু মুড়ে বসল। গ্রামের ছেলেদের উদ্দেশে বলল, চরের গাছ কেটে সৎকার করা হবে। তার কথামতো ছেলেরা কুড়ুল নিয়ে গাছ কাটতে শুরু করে দিল। গাছ কাটার পর সবাই এসে সনাতনের কাছে দাঁড়াল। সে নির্দেশ দিল চিতা সাজানোর। সকালের রোদ গায়ে এসে পড়েছে গঙ্গারামের। সে হয়তো শুয়ে শুয়ে দেখছে তার প্রিয় গ্রামের মানুষদের। তাকে দেখবে বলে এত মানুষ এসেছে। সে যেন তাদের উদ্দেশে কিছু বলতে চায়। কী বলতে চায় সে! তার ঠোঁট এতটুকু কেঁপে ওঠেনি। হাত–পা শক্ত কাঠ হয়ে আছে। শুধু চোখদুটো খোলা আকাশের দিকে চেয়ে আছে। সে যেন সবাইকে চিৎকার করে বলছে, আমি ফিরেছি…!
গ্রামের ছেলেরা গাছের কাটা কাঠগুলো নিয়ে একটা একটা করে চিতা সাজিয়ে ফেলল। গঙ্গারামের মৃতদেহটি সেই চিতার ওপর শুইয়ে দিল। চরের মানুষ সে দিকে তাকিয়ে আছে। আচমকা তারা দেখল কিছু দূরে ধুলো উড়িয়ে কে যেন চরের দিকে হেঁটে আসছে। তাদের কারও চোখের পলক পড়ল না।
সীতা বাউরি চিৎকার করে উঠল, ‘ওই দেখো, গঙ্গারাম কাকার পাগলি বউ ফিরে এসেছে!’
তারা দেখল, পিচুটি পরা চোখ, ছেঁড়া ধুলোমাখা কাপড় পরে দাঁড়িয়ে এক পাগলি। সে দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল সব। চরের মানুষ তখনও দেখছে পুড়ে যাওয়া একটা মানুষ। একটা হারিয়ে যাওয়া সংসার। দাউ দাউ করে জ্বলছে তার সারা শরীর। কেউ এসে ডাকছে না। বলছে না, ওঠো গঙ্গারাম! দেখো, আমরা এসেছি, ওঠো গঙ্গারাম! সে কোনও কিছুতেই ভ্রূক্ষেপ করছে না। একলা একলা শুধু পুড়ে যাচ্ছে। গোটা শ্মশান জুড়ে ভেসে আসছে একটাই শব্দ ‘বলো হরি, হরি বোল’!
সনাতনের দু’চোখ ছলছল করে উঠল। দুঃখে নয়, শোকে নয়, একটা বিশ্বাসে। তার বিশ্বাস জুড়ে আছে না খেতে পাওয়া চরের মানুষগুলো। সনাতন আর একবার কেঁদে উঠল। আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষমাণ। চিতাকাঠ নিভে গেলে নাভিমূল নিয়ে যাবে গঙ্গার ঘাটে। সে দেখল বিসর্জনের বিষন্ন ছায়ার মাঝখান দিয়ে উড়ে চলেছে এক ঝাঁক প্রজাপতি। ভেসে যাওয়া প্রতিমার গা থেকে ধুয়ে যাচ্ছে মাটি। চরের মানুষ সেদিকে হাঁ করে তাকিয়ে।

চিত্রণ: মুনির হোসেন

Advertisement

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − 3 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর চারটি কবিতা

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »
সালমিন রহমান

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »