Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

পূর্ব কলকাতা জলাশয় : বাঁচাতেই হবে

কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীর পাশাপাশি স্বপ্ননগরীও। এই স্বপ্ননগরীর পূর্বদিকে একটা বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট জলাভূমি এলাকা যা পূর্ব কলকাতা জলাভূমি (East Kolkata Wetlands) নামে পরিচিত। এর ব্যাপ্তি কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মোট ১২৫ বর্গকিলোমিটার জুড়ে। লবণাক্ত জলের বিল, নোনা জমি, নিকাশি ফার্ম ও স্থায়ী পুকুর বেষ্টিত এলাকাটি মূলত কলকাতার নিকাশিক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এখানে বেশ কিছু ভেড়িও রয়েছে, যেখানে মাছ চাষ করা হয়। এছাড়াও রয়েছে বিস্তৃত জমি যেখানে শাক-সবজি চাষ করা হয়।
প্রচলিত আছে, ‘ময়দান’-কে যদি কলকাতার ফুসফুস বলা হয়, তাহলে পূর্ব কলকাতা জলাভূমির এই সুবিস্তৃত এলাকা হল কলকাতার কিডনি। কারণ স্থানীয় জেলে এবং কৃষকদের দ্বারা পরিকল্পিত এই জলাভূমিগুলি মূলত কলকাতা শহরের প্রাকৃতিক নিকাশি শোধনাগার হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও জলাভূমিটি প্রাকৃতিক জলশোষক হিসাবেও কাজ করে অর্থাৎ মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির জল শোষণ করে এবং শহরের দূষণ প্রতিরোধে সামান্য হলেও সহায়তা করে।

সমগ্র পূর্ব কলকাতা জলাভূমি এলাকাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে ঘিরে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

১৯৯১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক অনাবাসী ভারতীয়ের একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে একটি বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র নির্মাণের জন্য এবং সেই উদ্দেশ্যে ২২৭ একর জলাভূমি বরাদ্দ করে। ফলস্বরূপ, পিপল ইউনাইটেড ফর বেটার লিভিং ইন ক্যালকাটা (পাবলিক) এনজিও কলকাতা হাইকোর্টে জলাভূমিগুলির গুরুত্ব সম্পর্কিত বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে এই মর্মে যে, জলাভূমিগুলি যেমন ছিল তেমনি রেখে দেওয়া উচিত। এই বিষয়ে রায়কে যুগান্তকারী বলে মনে করা হয়। পূর্ব কলকাতা জলাভূমি শুধুমাত্র একটি জলাভূমির সংজ্ঞাই নয়, এর মাধ্যমে জলবায়ুর অবস্থান বজায় রাখা, দূষণ শোষণ করা, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা ইত্যাদিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মত দেশ যেখানে নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনার মধ্যেই যায়নি, সেখানে আমাদের গবেষণাকারীরা বার বার জোর দিয়েছেন জলাভূমি সংরক্ষণ ও এর কার্যকরী মানগুলির ওপর। ফলস্বরূপ, বিশ্ব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং কঠোর শর্তাবলি আরোপ করা হয় এবং জানানো হয়, ‘পরিবেশবিদদের মতের সঙ্গে একমত না হওয়ার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পাই না এই প্রেক্ষিতে যে, জলাভূমিগুলি সংরক্ষণ করার প্রয়োজন রয়েছে এবং কোনওরকম হস্তক্ষেপের বা পুনরুদ্ধারের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।’
১৯৯২ সালে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার মেনে নেয়। পূর্ব কলকাতা জলাভূমিকে রামসার কনভেনশনের অধীনে ‘আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি’ হিসাবে মনোনীত করার আবেদন জানানো হয় যা ২০০২ সালে প্রাপ্ত হয়। অবশেষে, ২০০৬ সালে রাজ্য এবং নাগরিক সমাজের অংশীদারিত্বের প্রতিফলন হিসাবে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি আইন পাস হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও, বছরের পর বছর ধরে এই জলাভূমিগুলি ক্রমাগত দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানেও কমবেশি দখল অব্যাহত থাকলেও পূর্ব কলকাতা জলাভূমি স্বহিমায় অবস্থান করছে।

প্রচুর পরিমাণে মরসুমি ফসল উৎপাদন হয় এখানে।

কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় শহুরে সংস্থাগুলির ওপর আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত এই পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা এবং জলাশয় দূষিত করার অভিযোগ রয়েছে। এই বর্জ্য নিষ্পত্তির বিষয়ে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের (এন জি টি) আদেশ অমান্য করার কারণে সংস্থাগুলিকে শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। জলাভূমিগুলির মধ্যে বিধি লঙ্ঘনের মূল্যায়নের জন্য এনজিটি দ্বারা গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি মোল্লার ভেড়ি সাইটে কঠিন বর্জ্য ফেলা বন্ধ করার জন্য সুপারিশ করেছিল। কমিটির তরফে জানানো হয়েছিল, ‘যেহেতু পূর্ব কলকাতা জলাভূমি একটি রামসার সাইট, সেহেতু মোল্লার ভেড়ি সাইটে কঠিন বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা উচিত। কঠিন বর্জ্য ফেলার জন্য কোনও বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করা উচিত।’
এই পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ‘পিপল ইউনাইটেড ফর বেটার লিভিং ইন কলকাতা’-র দায়ের করা একটি পিটিশনের ভিত্তিতে জলাভূমি এলাকার ১২ হাজার ৫০০ একরের মধ্যে কোনও ভূমির পরিবর্তন নিষিদ্ধ করে এবং এটিকে ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ হিসাবে ঘোষণা করে। বর্তমানে ফের বেআইনি জমি ভরাটের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই জলাভূমিটিকে আলাদা করে চিহ্নিত করা মুশকিল হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষিতে জাতীয় পরিবেশ আদালতে জলাভূমির সার্বিক দূষণ সম্পর্কিত একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে জলাভূমি এলাকাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার আবেদনও জানানো হয়। সেই মামলার রায়ে সম্প্রতি জাতীয় পরিবেশ আদালত উপযুক্ত সমীক্ষা করে পিলার বসিয়ে সমগ্র পূর্ব কলকাতা জলাভূমি এলাকাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে ঘিরে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে মোল্লার ভেড়ির দূষণ প্রসঙ্গে বিধাননগর পুরসভাকে দু’কোটি টাকা জরিমানা করেছিল আদালত। নির্দেশ অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা হিসাবে তিন বছরের মধ্যে মোট ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন বর্জ্য সরাতে হবে। কিন্তু, আদালতের অভিযোগ, গত মার্চ থেকে কত পরিমাণ বর্জ্য বায়োমাইনিং করে সরানো হয়েছে তার তথ্য পুরসভা দেয়নি। চার সপ্তাহের মধ্যে সেই তথ্য জানিয়ে হলফনামা দিতে হবে পুরসভাকে, এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের আরও নির্দেশ, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে এই এলাকার সম্পূর্ণ বর্জ্য সরাতে হবে। প্রয়োজনে পরিকাঠামো বাড়াতে হবে। সেইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দু’মাসের মধ্যে মোল্লার ভেড়িকে বেড়া দিয়ে ঘিরে দিতে হবে।
এই প্রসঙ্গে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি নিয়ে সার্বিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, এমনটাই হলফনামা আদালতে জমা দিয়েছে রাজ্য। তাদের বক্তব্য, সেই প্রকল্প কার্যকরী করতে ৪০ শতাংশ খরচ বহন করবে রাজ্য। প্রকল্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রের বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেই খবর পাওয়া গিয়েছে। মন্ত্রকের আইনজীবীকে আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাকি ৬০ শতাংশ অর্থের জন্য তাদের পরিকল্পনা ও প্রকল্পের ছাড়পত্র সম্পর্কিত বক্তব্য চার সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে। গত ৩০-এ অক্টোবর এরই পরিপ্রেক্ষিতে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। পূর্ব কলকাতার জলাশয়ের ওপর এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল, প্রচুর পরিমাণে মরসুমি ফসল উৎপাদন হয় এখানে। এই অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষদের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ এই চাষযোগ্য জমির ওপর নির্ভরশীল। কোনওভাবে পূর্ব কলকাতা জলাশয় বিপর্যয়ের মুখে পড়লে এই পিছিয়েপড়া মানুষদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি এই জলাশয়ের ওপর দাঁড়িয়ে এই বিশাল অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামো। এটি কোনওভাবে ভারসাম্য হারালে তো চূড়ান্ত ক্ষতি।

চিত্র : লেখক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »
সালমিন রহমান

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও দুই বিখ্যাত বাঙালি

কী অসাধারণ শিক্ষাই না আমরা পেতে পারি, উৎসাহিত হয়ে পারি খেলোয়াড়দের থেকে! একটি উদাহরণ: প্রথম বিশ্বকাপে সোনাজয়ী উরুগুয়ে দলে ছিলেন হেক্টর কাস্ত্রো। তেরো বছর বয়সে মেশিনে তাঁর ডানহাত কাটা পড়েছিল। অদম্য উৎসাহে তিনি ফুটবল খেলেছেন, জাতীয় দলে স্থান করে নিয়েছেন, আর ফাইনালে জয়সূচক গোলটিও তাঁর-ই করা! তাঁর স্বদেশবাসী তাঁকে ডাকতেন— ‘এল ডিভিনো মানকো’, অর্থাৎ একহাত-বিশিষ্ট ঈশ্বর।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »
রুহ

রুহের কবিতাগুচ্ছ

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

Read More »