Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

রুহের কবিতাগুচ্ছ

বহুকাল দু’জনে…

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি
বহুকাল দু’জনে…
বলিনি কখনও।
তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও
গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।
মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো
একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।
আজ মিথ্যের নেই অবকাশ
তোমাকে কি পড়েনি মনে
কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে
ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—
এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ
পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে;
কটাক্ষ হেনেছি দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে।
বুঝিনি তখনও, ইঙ্গিত তোমার!
অবাক হলাম জেনে এই দুনিয়ায়
পাখিরাই আগাম পায় মৃত্যুর খবর!
আমার বিশ্বাস আছে পরজন্মে
যে কথা হল না বলা
চোখে চোখ রেখে
ভালবাসি, ভালবেসো।

**

উতল ঘৃণার ওপর

একটা শিরশিরানি ভর করেছে আমার ভিতর
না! ভয় নয়; কেমন যেন উতল ঘৃণার ওপর
ফেলে দেওয়া হয়েছে আমাকে।
আমি হাঁটছি, ছুটছি, প্রাণপণে বেরিয়ে আসার
চেষ্টা করছি, কিন্তু প্রান্তদেশ পাচ্ছি না খুঁজে।
তিন দশক আগে এমনই হয়েছিল;
হয়েছিলাম দিশেহারা, প্রশ্ন ছিল একটাই কেন?
তবে আসিনি সামনে আর, চাইনি উত্তর।
একরাশ অভিমান আর তোমার মানে
সরে গেছি দূরে।
নদী দিয়ে বয়ে গেছে জল, ফলন্ত গাছ বয়সের
ভারে ন্যুব্জ; তবুও বর্ষা এলে, এখনও সবুজ পাতা
ধরে ডালে। সেটাই কী অপরাধ আমার!
নিশ্চুপ রয়ে আরও একবার তোমার সাহচর্য থেকে
ঠেলে দিলে ফেলে।
আজও সেই একই প্রশ্ন কেন, কেন! কেন?
ঘন শীতের চাদরে মোড়া এ উপত্যকা
তোমার শহর থেকে দূরে, যেথা ব্যস্ত কোলাহল
জানি একাকিনী তুমি আমার মতোই
কোনও ব্যস্ততা খুঁজে পায় না মনের গভীর অতল।
ক্ষণস্থায়ী, তবু মনে পড়ে বারে বারে
যখন বন্ধ শার্সি ভেদ করে তির্যক
চাঁদের আলো এসে পড়ে ঘরে
মৃতবৎ চেয়ে থাকি উত্তরের আশায়!
মেঘ যায় ভেসে আলোর বিছানায়
টের পাই তোমার গন্ধ আর শীতল ছায়া।
মন চায় ওই ব্যস্ত কোলাহল থেকে
মেঘের সাথে উড়ে এসো তুমি
ঘরে নয় নাই এলে সঙ্গোপনে
থাকো বসে ওই পাহাড় চূড়ায়
শুধু তোমার পরশ মাখানো মেঘ
দিয়ো ছুড়ে এই কাঙালের গায়!
রক্তশূন্য শরীর, পাংশু মুখে
যে ছিল তোমার অপেক্ষায়।

***

অচেতন ভালবাসা

তুমি আমাকে ভুলে যাবে, আমি ভাবতেই পারি না
আমাকে মন থেকে মুছে ফেলে
তুমি
আছ এই সংসারে, হাঁটছ বারান্দায়, মুখ দেখছ
আয়নায়, আঙুলে জড়াচ্ছ চুল, দেখছ
তোমার সিঁথি দিয়ে বেরিয়ে গেছে অন্তহীন উদ্যানের পথ, দেখছ
তোমার হাতের তালুতে ঝলমল করছে রুপালি শহর,
আমাকে মন থেকে মুছে ফেলে
তুমি অস্তিত্বের ভূভাগে ফোটাচ্ছ ফুল
আমি ভাবতেই পারি না।
যখনই ভাবি, হঠাৎ কোনও একদিন তুমি
আমাকে ভুলে যেতে পারো,
যেমন ভুলে গেছ অনেকদিন আগে পড়া কোনও উপন্যাস,
তখন ভয় কালো কামিজ পরে হাজির হয় আমার সামনে,
পায়চারি করে ঘন ঘন, মগজের মেঝেতে,
তখন একটা বুনো ঘোড়া খুরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে আমাকে,
আর আমার আর্তনাদ ঘুরপাক খেতে খেতে
অবসন্ন হয়ে নিশ্চুপ এক সময়;
যেমন ভ্রষ্ট পথিকের চিৎকার হারিয়ে যায় বিশাল মরুভূমিতে।
বিদায়বেলায় সাজ আমি মানি না
আমি চাই ফিরে এসো তুমি
স্মৃতি-বিস্মৃতির প্রান্তর পেরিয়ে
শাড়ির ঢেউ তুলে, সব অশ্লীল চিৎকার
সব বর্বর বচসা স্তব্ধ করে
ফিরে এসো তুমি, ফিরে এসো
স্বপ্নের মতো চিলেকোঠায়
মিশে যাও স্পন্দনে আমার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 2 =

Recent Posts

রুহ

রুহের কবিতাগুচ্ছ

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

যুদ্ধ: বৈশ্বিক কসাইখানা, পুঁজির সংকট ও শ্রমের মুক্তি

অবিক্রীত পণ্যের পাহাড় যখন পুঁজির পুনরুৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন পুঁজিপতিরা তীব্র আতঙ্কে ভোগে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রতিযোগী পুঁজিপতির বাজার ও পণ্য ধ্বংস করতে চায়। আর এই ধ্বংসের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে তারা রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। অর্থাৎ, উদ্বৃত্ত পণ্য এবং অতিরিক্ত শ্রমকে ধ্বংস করে পুঁজির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই বুর্জোয়া যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। এই শোষণের প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে রাষ্ট্র একদল বুদ্ধিজীবী ও নীতিবিদ লালন করে, যারা কৃত্রিম ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’-এর আফিম খাইয়ে শ্রমিককে বিভ্রান্ত রাখে, যাতে তারা শোষক ও শোষিতের মধ্যকার মৌলিক শ্রেণি-পার্থক্য ভুলে যায়।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »
রাধাবল্লভ রায়

ধর্মযুদ্ধ

এই যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শতমুখে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, এই যে ফেসবুক জুড়ে বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে সম্মানীয় নেতা-মন্ত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, হিংসার প্রদর্শনী— এর প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে তাঁরা কি জানেন? পাড়ায় পাড়ায়, রকের আড্ডায়, ক্লাবের আড্ডায়— সর্বত্র বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্বোধ অসংযত উচ্চারণ কোন শিশুর হৃদয়ে কেমন ভাবে প্রোথিত হয় তাঁরা কি জানেন? ভেবে দেখেছেন কি এই বিদ্বেষিতার মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আগামী প্রজন্ম?

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

চেতনার বিবর্তন ও ঈশ্বরের নৃবিজ্ঞান

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »