বহুকাল দু’জনে…
একই আলোকমালায় কাটিয়েছি
বহুকাল দু’জনে…
বলিনি কখনও।
তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও
গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।
মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো
একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।
আজ মিথ্যের নেই অবকাশ
তোমাকে কি পড়েনি মনে
কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে
ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—
এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ
পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে;
কটাক্ষ হেনেছি দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে।
বুঝিনি তখনও, ইঙ্গিত তোমার!
অবাক হলাম জেনে এই দুনিয়ায়
পাখিরাই আগাম পায় মৃত্যুর খবর!
আমার বিশ্বাস আছে পরজন্মে
যে কথা হল না বলা
চোখে চোখ রেখে
ভালবাসি, ভালবেসো।
**
উতল ঘৃণার ওপর
একটা শিরশিরানি ভর করেছে আমার ভিতর
না! ভয় নয়; কেমন যেন উতল ঘৃণার ওপর
ফেলে দেওয়া হয়েছে আমাকে।
আমি হাঁটছি, ছুটছি, প্রাণপণে বেরিয়ে আসার
চেষ্টা করছি, কিন্তু প্রান্তদেশ পাচ্ছি না খুঁজে।
তিন দশক আগে এমনই হয়েছিল;
হয়েছিলাম দিশেহারা, প্রশ্ন ছিল একটাই কেন?
তবে আসিনি সামনে আর, চাইনি উত্তর।
একরাশ অভিমান আর তোমার মানে
সরে গেছি দূরে।
নদী দিয়ে বয়ে গেছে জল, ফলন্ত গাছ বয়সের
ভারে ন্যুব্জ; তবুও বর্ষা এলে, এখনও সবুজ পাতা
ধরে ডালে। সেটাই কী অপরাধ আমার!
নিশ্চুপ রয়ে আরও একবার তোমার সাহচর্য থেকে
ঠেলে দিলে ফেলে।
আজও সেই একই প্রশ্ন কেন, কেন! কেন?
ঘন শীতের চাদরে মোড়া এ উপত্যকা
তোমার শহর থেকে দূরে, যেথা ব্যস্ত কোলাহল
জানি একাকিনী তুমি আমার মতোই
কোনও ব্যস্ততা খুঁজে পায় না মনের গভীর অতল।
ক্ষণস্থায়ী, তবু মনে পড়ে বারে বারে
যখন বন্ধ শার্সি ভেদ করে তির্যক
চাঁদের আলো এসে পড়ে ঘরে
মৃতবৎ চেয়ে থাকি উত্তরের আশায়!
মেঘ যায় ভেসে আলোর বিছানায়
টের পাই তোমার গন্ধ আর শীতল ছায়া।
মন চায় ওই ব্যস্ত কোলাহল থেকে
মেঘের সাথে উড়ে এসো তুমি
ঘরে নয় নাই এলে সঙ্গোপনে
থাকো বসে ওই পাহাড় চূড়ায়
শুধু তোমার পরশ মাখানো মেঘ
দিয়ো ছুড়ে এই কাঙালের গায়!
রক্তশূন্য শরীর, পাংশু মুখে
যে ছিল তোমার অপেক্ষায়।
***
অচেতন ভালবাসা
তুমি আমাকে ভুলে যাবে, আমি ভাবতেই পারি না
আমাকে মন থেকে মুছে ফেলে
তুমি
আছ এই সংসারে, হাঁটছ বারান্দায়, মুখ দেখছ
আয়নায়, আঙুলে জড়াচ্ছ চুল, দেখছ
তোমার সিঁথি দিয়ে বেরিয়ে গেছে অন্তহীন উদ্যানের পথ, দেখছ
তোমার হাতের তালুতে ঝলমল করছে রুপালি শহর,
আমাকে মন থেকে মুছে ফেলে
তুমি অস্তিত্বের ভূভাগে ফোটাচ্ছ ফুল
আমি ভাবতেই পারি না।
যখনই ভাবি, হঠাৎ কোনও একদিন তুমি
আমাকে ভুলে যেতে পারো,
যেমন ভুলে গেছ অনেকদিন আগে পড়া কোনও উপন্যাস,
তখন ভয় কালো কামিজ পরে হাজির হয় আমার সামনে,
পায়চারি করে ঘন ঘন, মগজের মেঝেতে,
তখন একটা বুনো ঘোড়া খুরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে আমাকে,
আর আমার আর্তনাদ ঘুরপাক খেতে খেতে
অবসন্ন হয়ে নিশ্চুপ এক সময়;
যেমন ভ্রষ্ট পথিকের চিৎকার হারিয়ে যায় বিশাল মরুভূমিতে।
বিদায়বেলায় সাজ আমি মানি না
আমি চাই ফিরে এসো তুমি
স্মৃতি-বিস্মৃতির প্রান্তর পেরিয়ে
শাড়ির ঢেউ তুলে, সব অশ্লীল চিৎকার
সব বর্বর বচসা স্তব্ধ করে
ফিরে এসো তুমি, ফিরে এসো
স্বপ্নের মতো চিলেকোঠায়
মিশে যাও স্পন্দনে আমার।





